খুঁজুন
বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানের শেষ দশকে কেন বেশি ইবাদত করতেন রাসুল (সা.)?

মুফতি মুহাম্মাদ জাকারিয়া
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৭:২০ এএম
রমজানের শেষ দশকে কেন বেশি ইবাদত করতেন রাসুল (সা.)?

রমজান মাসের শেষ দশক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ সময়। এই সময়টিতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিশেষভাবে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোযোগী হতেন। তিনি নিজে বেশি ইবাদত করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য উৎসাহিত করতেন। কোরআন ও সুন্নাহয় এ বিষয়ে স্পষ্ট বর্ণনা পাওয়া যায়।

রমজানের শেষ দশক শুরু হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইবাদতে অনেক বেশি মনোযোগ দিতেন। হাদিসে এসেছে, হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রমজানের শেষ দশক এলে রাসুলুল্লাহ (সা.) রাত জেগে ইবাদত করতেন, পরিবারকে জাগিয়ে দিতেন এবং ইবাদতের জন্য কোমর শক্ত করে নিতেন। (সহিহ বোখারি : ২০২৪)

এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, তিনি এই সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন এবং অধিক পরিমাণে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়া করতেন।

শেষ দশকে তিনি রাতের একটি বড় অংশ ইবাদতে কাটাতেন। এতে ছিল নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির এবং দোয়া। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি রাত জেগে আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন এবং এই সময়কে বিশেষভাবে মূল্য দিতেন। (সহিহ মুসলিম : ১১৭৪)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শুধু নিজে ইবাদত করতেন না, বরং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য জাগিয়ে দিতেন। এতে বোঝা যায় যে, পরিবারের সবাইকে ইবাদতের পরিবেশে রাখা তার সুন্নাহ ছিল। (সহিহ বোখারি : ২০২৪)

রমজানের শেষ দশকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো এতেকাফ। হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) রমজানের শেষ দশকে এতেকাফ করতেন, যতদিন না আল্লাহ তাঁকে মৃত্যু দান করেছেন। (সহিহ মুসলিম : ১১৭২)

এতেকাফের মাধ্যমে তিনি মসজিদে অবস্থান করে একাগ্রতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করতেন।

রমজানের শেষ দশকে রয়েছে মহিমান্বিত লাইলাতুল কদর, যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। পবিত্র কোরআন এ বলা হয়েছে, নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি লাইলাতুল কদরে। আর তুমি কী জানো লাইলাতুল কদর কী? লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। (সূরা কদর : ১-৩)

রাসুলুল্লাহ (সা.) শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে এই রাতের অনুসন্ধান করতে নির্দেশ দিয়েছেন। (সহিহ বোখারি : ২০১৭)

রমজানের শেষ দশক ছিল রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনে বিশেষ গুরুত্বের সময়। তিনি এই সময়টিতে বেশি বেশি নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া, জিকির ও এতেকাফের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করতেন এবং পরিবারের সদস্যদেরও ইবাদতের জন্য উৎসাহিত করতেন।

তাই একজন মুসলমানের উচিত এই সুন্নাহ অনুসরণ করে রমজানের শেষ দশককে ইবাদত-বন্দেগিতে কাটানো এবং লাইলাতুল কদরের সন্ধান করা।

লেখক : শিক্ষা-সচিব ও মুহাদ্দিস, জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া কলেজ রোড, বরিশাল।

ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৬:১০ পিএম
ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল আরোহীর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী কামাল শেখ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছে।

বুধবার (১১মার্চ) সকালে ঢাকা-ভাঙ্গা হাইওয়ে এক্সপ্রেসের ভাঙ্গা ধান গবেষণা অফিসের সামনে সার্ভিস লেনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

সে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্ৰামের রাজ্জাক শেখের পুত্র।

এবিষয়ে নিহতের আত্মীয় জাকারিয়া জানান, নিহত কামাল শেখ শিক্ষা বোর্ডে চাকরি শেষ করে ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। গত দুইদিন আগে সে সহধর্মিণীকে নিয়ে ওমরা হজ্ব করে দেশে ফিরেছেন। আজ সকালে মোটরসাইকেল করে ভাঙ্গা মাছের আড়তে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত আতাদী টোল ফাঁকি দিয়ে বাস, ট্রাক সহ যানবাহন চলাচল করে। টোল কর্তৃপক্ষ ও হাইওয়ে পুলিশের উদাসীনতার কারণে চালককেরা এই অবৈধ সুবিধা নিয়ে থাকে। যে কারণে প্রতিদিন একই স্থানে দুর্ঘটনা ঘটছে। অনতিবিলম্বে এই টোল ফাঁকির ব্যবস্থা বন্ধ করা হোক।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন জানান, সকালে ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সামনে মোটরসাইকেলটি আন্ডারপাস অতিক্রম করতে গেলে দ্রুতগামী একটি ট্রাক তাকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই সে মারা যায়। খবর পেয়ে আমরা লাশ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করি। এ বিষয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

চরভদ্রাসনে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ৫:০২ পিএম
চরভদ্রাসনে জামায়াতে ইসলামীর ইফতার মাহফিল

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে এক ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) উপজেলা সদরে অবস্থিত চরভদ্রাসন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ইনডোর মাঠে এ ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন স্থানীয় জামায়াতে ইসলামের নেতৃবৃন্দ।

চরভদ্রাসন উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মো. মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- ভাঙ্গা উপজেলা জামায়াতে ইসলামের আমীর মাওলানা মো. সরোয়ার হোসেন।

অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা যুব ও ক্রীড়া সেক্রেটারী মুহাম্মদ ফরিদুল হুদা, সদরপুর উপজেলা আমীর মো. দেলোয়ার হোসেন, মাওলানা মো. লুৎফর রহমান, মো. আমীর হোসেন ও মহব্বত হোসেন প্রমুখ।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারী মো. কাউছার খানের সঞ্চালনায় এ ইফতার মাহফিলে জামায়াতে ইসলামীর অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ এবং স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ,শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

সালথায় সার ডিলার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২:০৩ পিএম
সালথায় সার ডিলার বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন, প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের দৃষ্টি আকর্ষণ

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং নতুন করে নিয়োগের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ। একই সঙ্গে বিষয়টি আমলে নিতে সালথা-নগরকান্দা আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকুর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত সাধারণ মানুষ, কৃষক, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সচেতন নাগরিকরা অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের কাছে তাদের দাবিসংবলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি প্রদান করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা যুবদল নেতা এনায়েত হোসেন, সোনাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান, ছাত্রদল নেতা সাইফুল আলমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, সালথা উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি ইউনিয়নে তিনজন করে সার ডিলার থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে তারা দাবি করেন। এতে করে প্রকৃত কৃষকরা সময়মতো সার পাচ্ছেন না এবং বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

বক্তারা আরও বলেন, এক পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে সার ডিলার লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে, যা সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে সার ডিলারশিপ সমন্বয়ের নামে স্থানীয় ইউনিয়নের সাধারণ নাগরিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এতে করে সার বিতরণ ব্যবস্থায় অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

মানববন্ধন থেকে চার দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এক পরিবারের একাধিক সার ডিলার লাইসেন্স বাতিল করা, সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ নীতিমালা-২০২৫ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা, প্রতিটি ইউনিয়নের নাগরিকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সার ডিলার নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং কৃষকদের সার প্রাপ্তিতে ভোগান্তি দূর করা।

এছাড়া বক্তারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত সব সার ডিলার বাতিল করে নতুন করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিলার নিয়োগের দাবি জানান।
মানববন্ধনকারীরা দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।