খুঁজুন
, ,

মক্কা-মদিনায় রমজানের শেষ দশ দিন: আত্মার শান্তি খোঁজার এক সফর

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ
মক্কা-মদিনায় রমজানের শেষ দশ দিন: আত্মার শান্তি খোঁজার এক সফর

মক্কা, সৌদি আরব! পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশ দিন মক্কা নগরীতে কাটানোর সৌভাগ্য অর্জন আমার জীবনের এক অনন্য অভিজ্ঞতা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই সফর ছিল কেবল ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ছিল আত্মশুদ্ধি, ইমানের দৃঢ়তা এবং ইসলামের ইতিহাসকে গভীরভাবে উপলব্ধি করার এক বাস্তব পাঠ। পবিত্র এই সফরে আমার মাহরাম পুরুষ হিসেবে সাথে ছিলেন আমার জীবনসঙ্গী।

মদিনায় অবস্থান:

শান্তি ও শ্রদ্ধার নগরী মদিনা। রমজানের শেষের দশ দিন শুরু হওয়ার পূর্বে আমি মদিনা নগরীতে যাত্রা করি। সেখানে মসজিদে নববী-তে নামাজ আদায় এবং রওজা মোবারক-এ সালাম পেশ করার সৌভাগ্য অর্জন করি। এই অভিজ্ঞতা ছিল অত্যন্ত আবেগঘন ও হৃদয়স্পর্শী। মদিনার পরিবেশে এক ধরনের প্রশান্তি বিরাজ করে, যা মক্কার ব্যস্ততার তুলনায় ভিন্ন এক অনুভূতি প্রদান করে। মদিনায় অবস্থানকালে আমি উহুদ পাহাড়, কুবা মসজিদসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান জিয়ারত করি। এসব স্থান ইসলামের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্ন বহন করে, যা আমার জ্ঞান ও উপলব্ধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ওমরাহ আদায়:

সফর সূচী অনুযায়ী মদীনা থেকে মক্কা পৌঁছানোর পরপরই আমি পবিত্র ওমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে মসজিদুল হারাম-এ উপস্থিত হই। কাবা শরীফ-এর প্রথম দর্শনেই হৃদয়ে এক গভীর আবেগের সঞ্চার হয় যদিও এর পূর্বে আরো দুবার মহান রবের পবিত্র ঘরের মেহমান হওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিলো আমার কিন্তু প্রতিবারই প্রথম বার কাবা ঘর দেখার অনুমতি অন‍্যরকম।এরপর নিয়ম অনুযায়ী তাওয়াফ ও সাঈ সম্পন্ন করি। ইবাদতের প্রতিটি ধাপে ছিল এক ধরনের আত্মিক প্রশান্তি, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

শেষ দশকের ইবাদত ও লাইলাতুল কদরের সন্ধান রমজানের শেষ দশ দিনজুড়ে মসজিদুল হারাম-এ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের পাশাপাশি তাহাজ্জুদ, কুরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় অতিবাহিত করি। বিশেষ করে বেজোড় রাতগুলোতে লাইলাতুল কদর-এর সন্ধানে দীর্ঘ সময় ইবাদতে নিমগ্ন ছিলাম। লক্ষাধিক মুসল্লি একসাথে ইবাদতের দৃশ্য এক অপার্থিব পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলে। নিয়মিত ইবাদতের মাধ্যমে এক ব্যস্ত প্রশান্তিময় সময়সূচি পার করেছি।

চারপাশে লক্ষ লক্ষ মুসল্লির একসাথে ইবাদতে মগ্ন হওয়ার দৃশ্য ছিল অভূতপূর্ব। মনে হচ্ছিল, পুরো পৃথিবী যেন এক বিন্দুতে এসে আল্লাহর দরবারে নতজানু হয়েছে। আমি একাধিকবার তাওয়াফ সম্পন্ন করার সৌভাগ্য অর্জন করেছি। প্রতিবার কাবা শরীফকে কেন্দ্র করে প্রদক্ষিণ করার সময় হৃদয়ে এক অনন্য অনুভূতি জাগ্রত হয়েছে।

একই সাথে আমি সাঈ (সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মাঝে চলাচল) সম্পন্ন করেছি, যা হযরত হাজেরা (আ.)-এর ত্যাগ ও ধৈর্যের স্মৃতিকে নতুনভাবে উপলব্ধি করিয়েছে। এই সময়ে ইফতার ও সেহরির অভিজ্ঞতাও ছিল অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। মসজিদুল হারাম-এর প্রাঙ্গণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের সঙ্গে একসাথে ইফতার করা ছিল ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের এক অপূর্ব নিদর্শন। খেজুর, জমজমের পানি এবং সাধারণ খাবার দিয়েই ইফতার সম্পন্ন করলেও এর তৃপ্তি ছিল অসীম।

জিয়ারা ও ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন:

মক্কায় অবস্থানকালে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান জিয়ারত করার সুযোগ হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জিন পাহাড়, যেখানে ইসলামী ঐতিহ্যের নানা ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া আমি তায়েফ সফর করিÑযেখানে মহানবী মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে চরম প্রতিকূলতার সম্মুখীন হয়েছিলেন। ঐতিহাসিক সেই স্থানগুলো পরিদর্শনের মাধ্যমে তাঁর ত্যাগ ও ধৈর্যের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা অনুভব করি।

ঈদুল ফিতর:

মক্কায় ঈদুল ফিতর পালন করা এক বিশেষ অনুভূতি। পবিত্র কাবা ঘরে নামাজ পড়া, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, এবং মুসলিম ভাই-বোনদের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করা সত্যিই এক অনন্য অভিজ্ঞতা। রমজানের শেষ প্রান্তে এসে যখন ঈদের চাঁদ দেখা গেল, তখন আনন্দ ও বেদনার এক মিশ্র অনুভূতি হৃদয়ে জাগ্রত হয়। একদিকে পবিত্র মাসের বিদায়ের কষ্ট, অন্যদিকে ঈদুল ফিতর-এর আগমনের আনন্দ।

ঈদের দিন সকালে আমি মসজিদুল হারাম-এ ঈদের নামাজ আদায় করি। লক্ষ লক্ষ মুসল্লির সঙ্গে এক কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সেই দৃশ্য আজীবন স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ঈদের দিন কাবা শরীফ-এর পাশে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি এই মহান সুযোগ দান করার জন্য। চারপাশে মানুষের হাসিমাখা মুখ, শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আমাকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। ঈদের নামাজ শেষে, আমি কাবা ঘরের চারপাশে তাওয়াফ করি, এবং আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে,ক্ষমা প্রার্থনা করে দুআ করি।

সব মিলিয়ে, এই সফর ছিল ইবাদত, ইতিহাস ও আত্মিক উপলব্ধির এক অনন্য সমন্বয়। ওমরাহ আদায়, মক্কা ও মদিনায় ইবাদত, এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থানে জিয়ারত এসব অভিজ্ঞতা আমার জীবনে এক স্থায়ী প্রভাব ফেলেছে। এই যাত্রা আমাকে আত্মশুদ্ধির পথ দেখিয়েছে এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে। আল্লাহ আমাদের সকলকে মক্কায় ঈদুল ফিতর পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরে কবি, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের অংশগ্রহণে ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় শহরের আলিপুর এলাকার সোহাগ ভিলায় এ সাহিত্য আসরের আয়োজন করা হয়।

​গাঙচিল সাহিত্য আসরের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়ারাদ হোসেন রিয়াদ (বন্ধু রিয়াদ)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা। সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মোল্লার আমন্ত্রণে আয়োজিত এই আসরে জেলার প্রায় ৪১ জন কবি, সাহিত্যিক, শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমী অংশ নেন।

​দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, গান পরিবেশন এবং সাহিত্য বিষয়ক নানা আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন— মো. বাহারুল ইসলাম (বাহার), মো. ইকবাল হোসেন, অধ্যাপক রোকেয়া বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আমিনুর রহমান ফরিদ, শাহনাজ পারভিন, ডা. হাফিজুর রহমান হাফিজ, সালমা ইসলাম, পলাশ নন্দী, যুগল কুমার দাস মিলন, আফরোজ জাহান পপি, আবিদা সুলতানা, ডা. হাসিনা বেগম, বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুদ্দীন শেখ, সুস্মিতা দাস, ঋষিতা দাস, সুমা সাহা, সিথী সাহা, রেজা হক, মিরাজ-ই-কবির খোকন, ইফরাজ হোসেন সায়ান, ইকারাদ হোসেন, মো. আক্তার হোসেন রিয়াদ, মো. শাহজাহান সরদার, আবু জাফর, মো. আব্দুছ ছামাদ, অজয় দাস তালুকদার, পারভীন, বাবল সরকার, সজল সিকদার বিদ্যুৎ, ফরিদ আহমেদ, শালমান শরিফ, দেবাশীষ মৌলি ও রোকিয়া হকসহ স্থানীয় গুণীজনেরা।

​আয়োজকরা জানান, নিয়মিত সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে স্থানীয় কবি-সাহিত্যিকদের মেলবন্ধন সুদৃঢ় করা এবং সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করাই ‘গাঙচিল সাহিত্য আসর’-এর মূল লক্ষ্য।

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ৬ পরিবহনকে জরিমানা

শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে নিষিদ্ধ হাইড্রোলিক হর্ন ব্যবহারের দায়ে ছয়টি পরিবহনকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

​মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার ফরিদপুর-মাগুরা মহাসড়কের বদরপুর-সালথা রাস্তার মোড় এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

​‘শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্ব মূলক প্রকল্প’-এর আওতায় পরিচালিত এ অভিযানে ৬টি পরিবহনের বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা আদায়ের পাশাপাশি যানবাহনগুলো থেকে ১১টি হাইড্রোলিক হর্ন জব্দ করা হয়।

​ভ্রাম্যমাণ আদালতে বিচারিক দায়িত্ব পালন করেন ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইনসানা তানজীন ইকো। অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক মো. জিহাদ হোসেন। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন ফরিদপুর জেলার আনসার সদস্যরা।

​পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিবেশ সুরক্ষায় ও ক্ষতিকর শব্দদূষণ নিরসনে এ ধরনের অভিযান জেলা জুড়ে অব্যাহত থাকবে।

মন খারাপ? কয়েক মিনিটেই মন হবে ফুরফুরে

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ
মন খারাপ? কয়েক মিনিটেই মন হবে ফুরফুরে

নানা কারণে আমাদের প্রায়ই মন খারাপ থাকে, এর প্রভাব পড়ে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে আমাদের আচরণে। অনেক সময় কাজেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

তাহলে এই মন খারাপকে দ্রুত বিদায় জানাতে কী করা যেতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বলেন, কয়েকটি কাজ করলেই মাত্র কয়েক মিনিটে মন ভালো করা সম্ভব:
* ক্যাফেইন আমাদের মুড অনেকটাই ভালো করতে পারে।

* বন্ধুদের সঙ্গে মন খুলে কথা বলুন।

এতে মন হালকা হবে।
* গান শোনা মন ভালো করার অন্যতম কার্যকর উপায়।

* একটানা অনেকক্ষণ কাজ করলে মেজাজ খারাপ হতে পারে। তাই কিছুটা সময় বিরতি নিয়ে হাঁটাহাঁটি করে আসুন।

* কাছের কারও সঙ্গে নিজের সমস্যা ও অনুভূতিগুলো শেয়ার করুন।

* হাসির কোনো অনুষ্ঠান বা ওয়েব সিরিজ দেখতে পারেন। হাসতে হাসতেই মন ভালো হয়ে যাবে।

* সকালে যোগাসন ও নিয়মিত ব্যায়াম মুড ভালো রাখতে এবং মনকে প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে।