খুঁজুন
শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ৬ আষাঢ়, ১৪৩৩

বাড়ি ফিরছেন ঈদে? বের হওয়ার আগে করতেই হবে যে কাজগুলো

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬, ২:০০ অপরাহ্ণ
বাড়ি ফিরছেন ঈদে? বের হওয়ার আগে করতেই হবে যে কাজগুলো

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে আমরা অনেকেই নাড়ির টানে বাড়ি ফিরি। তবে বাড়ি ছাড়ার আগে আনন্দের আতিশয্যে অনেক সময় ছোটখাটো কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ আমরা ভুলে যাই।

সামান্য একটু অসতর্কতা আপনার অনুপস্থিতিতে বড় কোনো বিপদের কারণ হতে পারে। তাই নিরাপদ ও নিশ্চিন্তে ছুটি কাটাতে ঘর ছাড়ার আগে এই ৬টি কাজ করা অত্যন্ত জরুরি।

১. গ্যাস ও বৈদ্যুতিক সুইচ পরীক্ষা

ঈদের ছুটিতে ঘর ছাড়ার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো গ্যাস ও বিদ্যুতের মেইন সুইচ পরীক্ষা করা। রান্নার পর চুলা ভালোভাবে বন্ধ হয়েছে কি না তা নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলে সিলিন্ডারের রেগুলেটর বা গ্যাসের মেইন লাইন বন্ধ করে দিন। ফ্রিজ ছাড়া অন্য সব বৈদ্যুতিক যন্ত্র যেমন—এসি, ওভেন, কম্পিউটার ও গিজারের প্লাগ খুলে রাখুন। এতে শর্ট সার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি যেমন কমে, তেমনি বিদ্যুতও সাশ্রয় হয়।

২. পানির ট্যাপ ও মেইন ভালভ বন্ধ করা

বাসার ভেতরের পানির কলগুলো ঠিকমতো বন্ধ আছে কি না দেখে নিন। অনেক সময় কলের মুখ থেকে সামান্য পানি পড়লে কয়েক দিনের ছুটিতে পুরো ঘর পানিতে ভেসে যেতে পারে। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হলো বাসার পানির মেইন ভালভ বা চাবিটি বন্ধ করে দেওয়া। এছাড়া টয়লেটের কমোড বা বালতিতে জমানো পানি ফেলে দিন, যাতে সেখানে মশা বংশবিস্তার করতে না পারে।

৩. ঘরের সুরক্ষা ও তালা নিশ্চিত করা

ঘর ছাড়ার আগে প্রতিটি জানালার লক ভালোভাবে চেক করুন। বারান্দার গ্রিলের সঙ্গে কোনো পকেট গেট থাকলে তা তালাবদ্ধ করুন। বাসার মেইন গেটে অবশ্যই মজবুত তালা ব্যবহার করবেন। যদি সম্ভব হয়, বিশ্বস্ত কোনো প্রতিবেশী বা দারোয়ানকে আপনার অনুপস্থিতির কথা জানিয়ে যান, যেন তারা মাঝেমধ্যে আপনার বাসার দিকে নজর রাখতে পারেন।

৪. পচনশীল খাবার ও আবর্জনা পরিষ্কার

ছুটিতে যাওয়ার আগে ফ্রিজে রাখা পচনশীল খাবারগুলো হয় খেয়ে ফেলুন, নয়তো কাউকে দিয়ে দিন। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে ফ্রিজের খাবার পচে দুর্গন্ধ ছড়াতে পারে। এছাড়া ঘরের ময়লা ফেলার ঝুড়িতে কোনো আবর্জনা জমিয়ে রাখবেন না। জমে থাকা ময়লা থেকে ঘরে পোকামাকড় ও দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়, যা ফিরে আসার পর আপনার মেজাজ বিগড়ে দিতে পারে।

৫. ইনডোর প্ল্যান্ট ও পোষা প্রাণীর ব্যবস্থা

যাদের ঘরে গাছ আছে, তারা যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে যান অথবা এমন কোনো ব্যবস্থা করুন যাতে মাটি আর্দ্র থাকে। যদি বাসায় কোনো পোষা প্রাণী থাকে, তবে তাদের সঙ্গে নিয়ে যান অথবা কোনো বিশ্বস্ত ‘পেট কেয়ার’ বা আত্মীয়র বাসায় রেখে যান। বদ্ধ ঘরে খাবার ও পানি দিয়ে একা ফেলে যাওয়া তাদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

৬. মূল্যবান জিনিসপত্র ও চাবি সামলানো

নগদ টাকা বা গয়না বাসায় না রাখাই ভালো। তবে রাখতে হলে তা লকারে বা অত্যন্ত নিরাপদ স্থানে রাখুন। বাসার চাবি কখনোই দরজার ওপরের ফ্রেম বা পাপোশের নিচে রেখে যাবেন না, এটি চোরদের জন্য খুব সহজ সংকেত। আলমারি বা ড্রয়ারের চাবিগুলো গুছিয়ে নিজের সঙ্গেই রাখুন অথবা কোনো গোপন নিরাপদ স্থানে রেখে যান। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানার বাসার গুরুত্বপূর্ণ জিনিস জমা দিয়ে যেতে পারেন।

ছুটিতে যাওয়ার আগে এই ছোট ছোট প্রস্তুতিগুলো আপনার ঘরকে রাখবে নিরাপদ এবং আপনাকে দেবে মানসিকভাবে প্রশান্তি।

সূত্র : কালবেলা

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় মাদক ব্যবসা বন্ধে এক সপ্তাহের আলটিমেটাম, রাস্তায় নেমেছে গ্রামবাসী

মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা ও সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবার ফরিদপুরের সালথা উপজেলার রামকান্তপুর এলাকায় রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষ।

মাদক ব্যবসা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল থেকে স্থানীয়রা মাদক কারবারীদের এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দিয়েছেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে রামকান্তপুর বাজার স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত মাদকবিরোধী সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

সমাবেশে স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা কামরুল ইসলাম। তিনি বলেন, “মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। তাই এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মাদক ব্যবসায়ীদের এক সপ্তাহের সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মাদক ব্যবসা বন্ধ না হলে আরও কঠোর সামাজিক কর্মসূচি নেওয়া হবে।”

বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষেরও দায়িত্ব রয়েছে। তারা দাবি করেন, এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় মাদকের বিস্তার রোধ করা এখন সময়ের দাবি।

সমাবেশ থেকে রাত ১২টার পর অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে স্থানীয়দের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে যে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠছে, রামকান্তপুরবাসীও সেই আন্দোলনের অংশ হতে চায়। তারা আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় জনগণের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এলাকায় মাদক ব্যবসা প্রতিরোধে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ‘মাদকমুক্ত সমাজ চাই’, ‘তরুণদের বাঁচাতে মাদক রুখতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:৫৮ অপরাহ্ণ
পরিবারের কর্মসংস্থান চান ফরিদপুরের ভাইরাল লোকসংগীত শিল্পী লাইলী বাউল

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লোকসংগীত পরিবেশন করে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা জনপ্রিয় লোকশিল্পী লাইলী বাউল তাঁর দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনের স্বীকৃতি ও সফলতার জন্য গণমাধ্যমকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সর্বস্তরের মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।

শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে ফরিদপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন লাইলী বাউল। এ সময় তাঁর ছেলে আপন শেখসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় আবেগঘন বক্তব্যে লাইলী বাউল বলেন, “গান আমার সাধনা, আমার জীবন। ছোটবেলা থেকেই গান গেয়ে আসছি। মানুষের ভালোবাসা, গণমাধ্যমের সহযোগিতা এবং আপনাদের আন্তরিক সমর্থন না পেলে আজকের এই অবস্থানে পৌঁছাতে পারতাম না। আমার এই স্বীকৃতি মূলত সাধারণ মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।”

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকগান পরিবেশন করলেও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর গান ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশের মানুষের কাছ থেকে ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন। এই ভালোবাসা তাঁকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে লাইলী বাউল বলেন, “আমি মানুষের জন্য গান গেয়ে যেতে চাই। সুযোগ পেলে চলচ্চিত্রেও গান গাওয়ার ইচ্ছা আছে। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন সুস্থ থেকে গানকে সঙ্গে নিয়ে মানুষের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে পারি।”

এ সময় বক্তব্য দেন তাঁর ছেলে আপন শেখ। তিনি বলেন, “আমার মা পৃথিবীর সেরা মা। সারা বিশ্বের মানুষ আজ তাঁকে চিনছে, এটি আমাদের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তিনি অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন।”