খুঁজুন
, ,

কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি কোনটি? কেনার আগে জেনে নিন

বর্তমান যুগে স্মার্ট টিভি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অ্যান্ড্রয়েড টিভি, যা প্রযুক্তির সর্বোচ্চ সুবিধা প্রদান করে, তা দর্শকদের বিনোদন এবং কাজের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

এখন, সিনেমা দেখা, গেমিং, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রিয় শো উপভোগ করা—সবকিছুই সহজে সম্ভব।

তবে, বাংলাদেশে অনেকেই কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, যা একদিকে বাজেটের মধ্যে থাকবে, অন্যদিকে ভালো পারফরম্যান্সও দেবে।

এই নিবন্ধে আমরা কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি মডেল এবং তাদের তুলনা নিয়ে আলোচনা করবো।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কী এবং কীভাবে কাজ করে?

অ্যান্ড্রয়েড টিভি হলো এমন একটি স্মার্ট টিভি, যা গুগলের অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে।

এটি সাধারণ টিভির মতো দেখতে হলেও, এর মধ্যে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি এবং স্মার্ট ফিচার থাকে, যেমন ইন্টারনেট সংযোগ, গুগল প্লে স্টোর থেকে অ্যাপস ডাউনলোড, ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, প্রাইম ভিডিও, গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, এবং আরও অনেক কিছু।

এর মাধ্যমে আপনি শুধু টিভি দেখাই না, বরং গেম খেলতে, ভিডিও কল করতে, এবং ইন্টারনেট ব্রাউজ করতে পারেন।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত হয় Wi-Fi বা ইথারনেটের মাধ্যমে। এতে থাকা প্রসেসর এবং অপারেটিং সিস্টেম কনটেন্ট লোড করে, স্ক্রিনে প্রদর্শন করে এবং ব্যবহারকারীর নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে।

আধুনিক অ্যান্ড্রয়েড টিভি প্রযুক্তির মাধ্যমে ছবি এবং সাউন্ডের গুণমান উন্নত করা হয়, যেমন HDR, 4K বা 8K রেজোলিউশন এবং AI-ভিত্তিক ফিচার যা আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করে।

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে যা জানা জরুরি-

অ্যান্ড্রয়েড টিভি কেনার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা উচিত:

স্ক্রিন সাইজ: আপনার ঘরের আকার এবং দেখার দূরত্ব অনুযায়ী টিভির সাইজ নির্বাচন করুন। ছোট ঘরের জন্য ৩২ ইঞ্চি এবং বড় ঘরের জন্য ৫০ ইঞ্চির বেশি সাইজ উত্তম।

রেজোলিউশন: ৪কে UHD রেজোলিউশন আজকাল জনপ্রিয়, তবে কিছু সাধারন ৪কে মডেল এবং Full HD মডেলও ভালো পারফর্ম করে। ৪কে রেজোলিউশন বড় স্ক্রিনে বেশি কার্যকর।

অপারেটিং সিস্টেম (OS): অ্যান্ড্রয়েড টিভি সাধারণত গুগল প্লে স্টোর এবং স্মার্টফোনের মতো অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করে। তবে কিছু ব্র্যান্ডের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমও থাকে, যেমন Samsung-এর Tizen বা LG-এর WebOS।

কানেক্টিভিটি: Wi-Fi, Bluetooth, HDMI পোর্ট—এই কানেক্টিভিটি পোর্টগুলো নিশ্চিত করুন যাতে আপনি অন্যান্য ডিভাইস সংযোগ করতে পারেন।

ফিচার: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট, Dolby Vision, HDR, বা গেমিং মোডের মতো কিছু আধুনিক ফিচারও আপনার অ্যান্ড্রয়েড টিভির পারফরম্যান্স বাড়াতে সাহায্য করবে।

বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি এর জনপ্রিয়, উন্নত এবং সেরা ব্র্যান্ড ও মডেলসমূহ

বাংলাদেশের বাজারে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভির জন্য কয়েকটি জনপ্রিয় এবং উন্নত ব্র্যান্ডের মডেল পাওয়া যায়। নিচে সেরা কয়েকটি ব্র্যান্ড এবং তাদের মডেল সম্পর্কে আলোচনা করা হলো।

১. হায়ার H32K85FX ৩২ ইঞ্চি HD গুগল টিভি
মূল্য: ২০,০০০ – ২৬,৯০০ টাকা

বিশেষত্ব:

Google TV অপারেটিং সিস্টেম: সহজ ও স্মুথ ইউজার ইন্টারফেস, গুগল প্লে স্টোর সাপোর্ট।

৩২ ইঞ্চি HD ডিসপ্লে: ছোট ও মাঝারি রুমের জন্য উপযোগী।

Dolby Audio: পরিষ্কার ও শক্তিশালী সাউন্ড কোয়ালিটি।

Google Assistant ও Chromecast: ভয়েস কন্ট্রোল ও মোবাইল থেকে কনটেন্ট কাস্ট করার সুবিধা।

এই টিভিটি কম বাজেটে একটি পূর্ণাঙ্গ অ্যান্ড্রয়েড/গুগল টিভি অভিজ্ঞতা দেয়। যারা প্রথমবার স্মার্ট টিভি কিনতে চান বা বেডরুমের জন্য ভালো একটি টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি দারুণ একটি অপশন।

২. তোশিবা 32V35KP ৩২ ইঞ্চি HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ২৬,৯৯০ – ২৯,২৮০ টাকা

বিশেষত্ব:

Android TV: নেটফ্লিক্স, ইউটিউব, প্রাইম ভিডিও প্রি-ইনস্টল।

Dolby Digital সাউন্ড: উন্নত অডিও অভিজ্ঞতা।

Bluetooth 5.0 ও Wi-Fi 5: দ্রুত কানেক্টিভিটি।

অফিশিয়াল ওয়ারেন্টি: ৩ বছরের পার্টস, প্যানেল ও সার্ভিস ওয়ারেন্টি পাবেন রায়ান্সে।

তোশিবা একটি বিশ্বস্ত ব্র্যান্ড। অফিসিয়াল ওয়ারেন্টি এবং স্থিতিশীল পারফরম্যান্সের কারণে এটি নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য একটি স্মার্ট টিভি পছন্দ।

৩. হাইসেন্স 43A4F4 ৪৩ ইঞ্চি Full HD অ্যান্ড্রয়েড টিভি (অফিশিয়াল)
মূল্য: ৩২,০০০ – ৩৪,৭২০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪৩ ইঞ্চি Full HD ডিসপ্লে: বড় স্ক্রিনে পরিষ্কার ও শার্প ভিজ্যুয়াল।

Android TV: গুগল প্লে স্টোর ও জনপ্রিয় স্ট্রিমিং অ্যাপ সাপোর্ট।

Dolby Digital ও DTS Virtual X: শক্তিশালী সাউন্ড এক্সপেরিয়েন্স।

Game Mode ও Sports Mode: গেমিং ও স্পোর্টস দেখার জন্য উপযোগী।

যারা কম দামে বড় স্ক্রিনের অ্যান্ড্রয়েড টিভি খুঁজছেন, তাদের জন্য হাইসেন্স 43A4F4 একটি চমৎকার ভ্যালু-ফর-মানি অপশন।

৪. স্যামসাং BU8000 ৪৩ ইঞ্চি 4K স্মার্ট টিভি
মূল্য: ৩৫,০০০ – ৩৭,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD রেজোলিউশন: Crystal Clear ও ডিটেইলড ছবি।

Tizen OS: দ্রুত ও স্মুথ স্মার্ট টিভি পারফরম্যান্স।

HDR10+ ও Motion Xcelerator: উন্নত ভিজ্যুয়াল কোয়ালিটি।

Alexa, Google Assistant ও Bixby সাপোর্ট।

যদিও এটি অ্যান্ড্রয়েড টিভি নয়, তবে কম দামে ৪কে কোয়ালিটি ও প্রিমিয়াম স্মার্ট ফিচার চাওয়ার জন্য স্যামসাং BU8000 একটি শক্তিশালী অপশন।

৫. সনি ব্রাভিয়া KD-43X75K ৪৩ ইঞ্চি 4K অ্যান্ড্রয়েড টিভি (আনঅফিশিয়াল)
মূল্য: ৫১,৬০০ – ৬০,০০০ টাকা

বিশেষত্ব:

৪কে UHD ডিসপ্লে ও X1 প্রসেসর: অসাধারণ ছবি ও কালার একুরেসি।

TRILUMINOS PRO: জীবন্ত ও প্রাকৃতিক রঙ।

Android TV: গুগল অ্যাসিস্ট্যান্ট ও Chromecast বিল্ট-ইন।

Motionflow XR: স্মুথ ভিডিও ও স্পোর্টস ভিউইং।

সনি ব্রাভিয়া টিভি তার ছবি ও প্রসেসিং কোয়ালিটির জন্য বিখ্যাত। যারা প্রিমিয়াম অ্যান্ড্রয়েড টিভি চান এবং বাজেট একটু বেশি, তাদের জন্য এটি আদর্শ। বাংলাদেশে কম দামে ভালো অ্যান্ড্রয়েড টিভি নির্বাচন করতে হলে প্রথমেই আপনাকে আপনার বাজেট, স্ক্রিন সাইজ এবং ব্যবহার অনুযায়ী প্রয়োজন নির্ধারণ করতে হবে।

বর্তমানে হায়ার, তোশিবা, হাইসেন্স, সনি এবং স্যামসাং—এই ব্র্যান্ডগুলো কম বাজেট থেকে শুরু করে প্রিমিয়াম সেগমেন্ট পর্যন্ত ভালো মানের স্মার্ট ও অ্যান্ড্রয়েড টিভি অফার করছে। যারা কম বাজেটে স্মার্ট টিভি চান, তাদের জন্য Haier ও Toshiba ভালো অপশন। বড় স্ক্রিন ও ভ্যালু-ফর-মানি খুঁজলে Hisense একটি চমৎকার পছন্দ। আর উন্নত ছবি, স্মার্ট ফিচার ও প্রিমিয়াম অভিজ্ঞতার জন্য Sony Bravia এবং Samsung টিভি ব্যবহারকারীদের নিরাশ করবে না।

অ্যান্ড্রয়েড ও স্মার্ট টিভির আধুনিক সুবিধাগুলো ব্যবহার করে আপনি সহজেই অনলাইন স্ট্রিমিং, গেমিং এবং স্মার্ট কন্ট্রোলের মাধ্যমে আপনার বিনোদন অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ ও উপভোগ্য করে তুলতে পারবেন।

থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পূর্বাহ্ণ
থানা হেফাজতে থাকা ফরিদপুরের সেই হাতি আদালতের নির্দেশে ফিরছে মালিকের কাছে

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হয়ে এক সপ্তাহ ধরে থানা হেফাজতে থাকা হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে হাতিটি তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের নির্দেশ দেন।

এর আগে গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুতকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটকে রাখে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে উদ্ধার করে আটক করে এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে।

পরদিন পুলিশ আটক মাহুত জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের আনিসউদ্দিনের ছেলে বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। একই সঙ্গে জব্দকৃত হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে নাকি বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে-সে বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করে।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী হাতিটির মালিক হিসেবে নওগাঁ জেলার বাসিন্দা ব্যবসায়ী দুলাল দেওয়ানের কাছে প্রাণীটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত হয়েছে। জানা গেছে, তিনি নিজে সার্কাস পরিচালনা না করলেও বিভিন্ন সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়া দিয়ে থাকেন।

তবে আদালতের নির্দেশ এলেও এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনেই ছিল। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর সেটি মালিকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

গত সাত দিন ধরে হাতিটি সদরপুর থানা প্রাঙ্গনে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়। এ সময় হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিকের পক্ষ থেকে নাজমুল সরদার (১৭) নামে আরেক মাহুতকে সদরপুর থানায় পাঠানো হয়। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাবার খাওয়ানো, সকালে হাঁটানো এবং সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করেন।

এক সপ্তাহ ধরে থানায় হাতিটি রাখার ফলে খাদ্যের ব্যবস্থা করাই ছিল সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির জন্য প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। থানা প্রাঙ্গণে এমন কোনো স্থায়ী খাদ্যব্যবস্থা না থাকায় পুলিশ ও মাহুতকে প্রতিদিন বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাদ্যের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত ছিল না।

থানায় অবস্থানকালে বিশাল আকৃতির হাতিটি স্থানীয় মানুষেরও ব্যাপক কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। প্রতিদিন শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে সদরপুর থানায় এসে হাতিটিকে দেখতে ভিড় করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। দর্শনার্থীদের ভিড় নিয়ন্ত্রণে পুলিশকেও সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের আদেশ হাতে পেয়েছি। আদালত হাতিটিকে তার মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দ্রুতই হাতিটি মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৫৪ পূর্বাহ্ণ
ঘুম আসছে না? অনিদ্রা দূর করতে জেনে নিন ৭ কার্যকর উপায়

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে রাতে বিছানায় গেলেও অনেকের চোখে ঘুম আসে না। কেউ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এপাশ-ওপাশ করেন, আবার কারও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এমন সমস্যা এক-দুদিন হলে চিন্তার কারণ না হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা হতে পারে অনিদ্রা (ইনসমনিয়া)।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে শরীর ও মস্তিষ্ক ঠিকভাবে বিশ্রাম নিতে পারে না। ফলে পরদিন ক্লান্তি, কাজে অমনোযোগ, খিটখিটে মেজাজ, কর্মক্ষমতা কমে যাওয়া এমনকি দীর্ঘমেয়াদে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যাও দেখা দিতে পারে।

অনেকেই এ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে ঘুমের ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ঘুমের ওষুধ সেবন স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে প্রাকৃতিকভাবেই অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

কেন হয় অনিদ্রা?

অনিদ্রার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-

অতিরিক্ত মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা

বিষণ্নতা (ডিপ্রেশন)

আশপাশের অতিরিক্ত শব্দ

অস্বস্তিকর বিছানা বা ঘুমের পরিবেশ

মদ্যপানের অভ্যাস

অতিরিক্ত চা, কফি বা ক্যাফেইন গ্রহণ

রাতের শিফটে কাজ করার অভ্যাস

অনিদ্রা দূর করতে যা করবেন

১. নিয়মিত মেডিটেশন করুন

মাইন্ডফুলনেস মেডিটেশন মানসিক চাপ কমাতে এবং মনকে শান্ত রাখতে কার্যকর। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় ১০ থেকে ১৫ মিনিট মেডিটেশন করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে।

২. ল্যাভেন্ডার অয়েলের ব্যবহার

ল্যাভেন্ডার অয়েল দীর্ঘদিন ধরে অ্যারোমাথেরাপিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি মানসিক প্রশান্তি এনে ঘুমে সহায়তা করতে পারে। বালিশে সামান্য স্প্রে করা বা ঘাড় ও কাঁধে অল্প পরিমাণে ম্যাসাজ করেও ব্যবহার করা যায়।

৩. নির্দিষ্ট সময় ঘুমানোর অভ্যাস

প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া এবং একই সময়ে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস শরীরের ‘বডি ক্লক’ বা সার্কাডিয়ান রিদমকে স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এতে ধীরে ধীরে ঘুমের সমস্যা কমতে পারে।

৪. ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খান

ম্যাগনেসিয়াম পেশি শিথিল করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। ডার্ক চকলেট, বাদাম, অ্যাভোকাডোসহ ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোমল পানীয় ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা ভালো।

৫. মেলাটোনিন বাড়ায় এমন খাবার

মেলাটোনিন হলো ঘুম নিয়ন্ত্রণকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ হরমোন। ডিম, দুধ, মাছ, কলা, মাশরুম, বাদাম ও আখরোটের মতো খাবার শরীরে মেলাটোনিনের কার্যকারিতা বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি ঘুমানোর আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানোও জরুরি।

৬. নিয়মিত শরীরচর্চা

প্রতিদিন অন্তত ২০ মিনিট ব্যায়াম করলে ঘুমের মান উন্নত হতে পারে। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে ব্যায়াম না করে অন্তত তিন ঘণ্টা আগে শরীরচর্চা শেষ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

৭. ৪-৭-৮ শ্বাস-প্রশ্বাস পদ্ধতি

অনিদ্রা কমাতে ‘৪-৭-৮’ শ্বাস-প্রশ্বাস কৌশল বেশ জনপ্রিয়। এ পদ্ধতিতে চার সেকেন্ড শ্বাস নিতে হবে, সাত সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং আট সেকেন্ড ধরে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়তে হবে। কয়েকবার অনুশীলন করলে শরীর ও স্নায়ু শিথিল হতে পারে।

আরও কিছু অভ্যাস বদলাতে হবে

ঘুমানোর আগে এক গ্লাস হালকা গরম দুধ পান করা উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রাতে অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহার, ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ শান্ত ও আরামদায়ক রাখলে ভালো ঘুমের সম্ভাবনা বাড়ে।

তবে জীবনযাপনের পরিবর্তনের পরও যদি দীর্ঘদিন অনিদ্রা, বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দিনের বেলায় অতিরিক্ত ক্লান্তি থাকে, তাহলে অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, অনিদ্রা অনেক সময় অন্য কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার লক্ষণও হতে পারে।

সূত্র : কালবেলা

সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
সরকারি হচ্ছে ফরিদপুরের নগরকান্দার আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় জাতীয়করণের উদ্যোগে নতুন অগ্রগতি এসেছে। বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রটোকল অফিসার-১ ও সদস্য সচিব (মাননীয় সংসদ সদস্যগণের প্রতিশ্রুত ও প্রত্যাশিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন সমন্বয় সেল) মো. উজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত ২৭ জুলাই ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের মাধ্যমে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যালয়টির জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নারী শিক্ষার প্রসার এবং পিছিয়ে পড়া জনপদের মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে ১৯৮৮ সালে নগরকান্দায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা আকরামুন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিদ্যালয়টি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীকে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ করে দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ইউএনও রেজওয়ানা আফরিন বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের নির্দেশনা এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ করবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ হলে শিক্ষক সংকট দূর হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং দরিদ্র ও গ্রামীণ পরিবারের মেয়েদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এ উদ্যোগে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে। তাদের প্রত্যাশা, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বিদ্যালয়টি দ্রুত জাতীয়করণের আওতায় আনা হবে।