খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন, ১৪৩২

দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ এএম
দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

ভারতের দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গত শনিবার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরে আগামী শুক্রবার ২৩শে জানুয়ারি দলটির আরও দুজন সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। তবে দুটি অনুষ্ঠানের কোনোটিই বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না।

দুটি ভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে এসব সংবাদ সম্মেলনের।

গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আগামী শুক্রবারের আলোচনা সভায় আবারও মি. নওফেলের হাজির থাকার কথা আছে, সঙ্গে থাকার কথা আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফাতের।

দিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিই ছিল ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তবে দলটির অনেকে নেতাই ভারতীয় গণমাধ্যমকে নানা ভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গত দেড় বছরের বেশি সময়ে।

যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, মি. হাছান মাহমুদ এবং মি. চৌধুরী কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেননি।

“বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। মি. মাহমুদ আর মি. চৌধুরীরা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে আসেননি, ওই প্রতিবেদনটি যে একতরফা ভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই এসেছিলেন তারা,” বলছিলেন মি. মজুমদার।

তবে এই বিষয়ে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনটি প্রথম নয়। মি. মজুমদার জানাচ্ছিলেন যে, এ নিয়ে তারা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন জেনেভাতে। সেখানেই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন তারা।

ভলকার রিপোর্টের ‘জবাব’

দিল্লিতে গত শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সেটির আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা আইসিএফআর নামে একটি সংগঠন ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার একটি ‘রিব্যুটাল’ বা জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর নামে সংগঠনটি।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যারা, তাদের অন্যতম হলেন লন্ডনভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এ বিষয়ে আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেছিলাম জেনেভাতে। আমরা চাইছিলাম দিল্লির গণমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে। আওয়ামী লীগের যে দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তাদের নাম দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেই আমি জানি।

“এখানে যেহেতু জাতি সংঘের ব্যাপার আছে, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্বন্ধে যিনি অবগত, সেই হাছান মাহমুদ ছিলেন আর মি. নওফেল নিজে যেহেতু ব্যারিস্টার, তাই আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি হাজির ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা কিন্তু আওয়ামী লীগ হিসাবে আসেননি,” জানাচ্ছিলেন মি. মজুমদার।

ওই সংবাদ সম্মেলনে হাজির থাকা বাংলাদেশের অন্যতম সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতিবেদন যে একপেশে ছিল নিরপেক্ষতাবিহীন ছিল, সেটা খুঁজে বার করেছে আইনজীবীদের একটি টিম। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আমাদের সরকার পক্ষের বক্তব্যই তো ছিল না। অথচ তার ভিত্তিতে বিচার হয়ে গেল, মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হয়ে গেল।

“এই বিষয়গুলি গণমাধ্যমের সামনে আনার দরকার ছিল। জেনেভা, ব্রাসেলস আর লন্ডনে ইতোমধ্যেই সেখানকার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়। আমি আইনজীবী হিসাবে সেখানে হাজির ছিলাম,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে নির্বাচনের আগে তাদের দেশের মানুষের কাছে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই কি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বা এই সপ্তাহে আরও একবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তারা?

জবাবে তিনি বলেন, “এই যে নির্বাচন হতে চলেছে, এটা তো ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তবে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ওই তথাকথিত নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দুজন সাবেক মন্ত্রী সশরীরে ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন আসবেই, তাও আয়োজকরা জানতেন এবং এর জন্য প্রস্তুতও ছিলেন।

ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের গণমাধ্যমই সব থেকে উপযুক্ত, তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন?

আগামী শুক্রবার ২৩শে অগাস্ট দিল্লিতেই যে আরেকটি আলোচনা সভা হতে চলেছে, সেটির শীর্ষক ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ – বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ‘ফরেন করেসপেন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’। সেখানে সশরীরে হাজির থাকবেন অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফত।

ওই আলোচনা সভার যে দুটি পোস্টার বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে, তার একটিতে বড়ো করে শেখ হাসিনার ছবি দেওয়া আছে। এরকম শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনাও ওই আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি হাজির হতে পারেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেও শেখ হাসিনার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

তা যদি হয়, তাহলে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট ভারতে চলে আসার পরে এই প্রথমবার তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। যদিও ইংরেজি – বাংলা মিলিয়ে ভারতের অনেক সংবাদপত্র এবং সংবাদ পোর্টালকেই ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

বিবিসিও ইমেইলেই তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই শেখ হাসিনা নিয়মিত তার দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভাগুলিতে যোগ দেন। কিন্তু সবই শুধু অডিও মাধ্যমে – ভিডিওতে নয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে কেন গুরুত্ব?

গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় ‘ভলকার রিপোর্ট’ নিয়ে, তা যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদিও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, তবে তারা নিয়মিতই বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সেসব প্রচারে অবশ্য বিধি নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন একটা সময়ে ‘ভলকার রিপোর্ট’ কে সামনে রেখে বা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলে পক্ষান্তরে রাজনৈতিক প্রচারই করছে আওয়ামী লীগ।

এটা তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করছিলেন প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ী।

ঘটনাচক্রে তাদের ক্লাবেই গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও হাজির ছিলেন ওই সংবাদ সম্মেলনে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “গত শনিবারের ওই অনুষ্ঠানটি তো আওয়ামী লীগের নামে করা হয়নি, লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম এটার দায়িত্বে ছিল বলেই জানি। আবার সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টা সামনে রাখা হয়েছিল। জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে ভলকার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলি ভারতীয় গণমাধ্যমকে, বিশেষত ইংরেজি ভাষার পত্রপত্রিকাগুলির সামনে তারা তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রীদের রাজনৈতিক প্রশ্নও করা হয়েছে।”

তার কথায়, “বাংলাদেশের মানুষ তো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরাখবর প্রচুর পড়েন, তাই এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে আমার মনে হয়।”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একাধিক নেতাও এই একই কথা বলেছেন। তাদের কথায়, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীতে এর আগে ভলকার রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সেখানকার গণমাধ্যমের বাংলাদেশ নিয়ে অতটা আগ্রহ থাকবে না, যতটা আগ্রহ দেখাবে ভারতীয় গণমাধ্যম। আবার দিল্লির বদলে কলকাতায় হলে হয়ত আরও বেশি আগ্রহ দেখাত পত্রপত্রিকাগুলো।

কিন্তু গৌতম লাহিড়ী বলছিলেন যে সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের টার্গেট সম্ভবত ছিল ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম।

তিনি বলছিলেন যে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করতে ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটা তিনি জানেন না।

“আয়োজকরা আমাদের সরকারের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবে সরকার তো বাধা দেয় নি। যদি সরকার না চাইত তাহলে তো এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যেত না। আমার মনে আছে, চার-পাঁচ বছর আগে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল বিএনপির কোনো একটা বিষয়ে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। ফোন করে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে ওই আয়োজনটা না করতে দেওয়াই উচিত। পরে একটি হোটেলে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।”

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
রমজানের শিক্ষা ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের অনুপ্রেরণা: সালথায় জামায়াতের ইফতার মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সালথা উপজেলা শাখার উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।

সোমবার (৯ মার্চ) বিকেলে সালথা উপজেলা অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় মুসল্লি, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। রমজানের তাৎপর্য ও নৈতিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা এবং মিলনমেলার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. তরিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা আবুল ফজল মুরাদ।

আলোচনা সভায় প্রধান ও বিশেষ অতিথিরা মাহে রমজানের শিক্ষা, আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে বক্তব্য দেন। বক্তারা বলেন, রমজান কেবল রোজা পালনের মাসই নয়, এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, ত্যাগ ও নৈতিকতার অনুশীলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। রমজানের শিক্ষা ব্যক্তি জীবনকে শুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজে ন্যায়, ইনসাফ ও সহমর্মিতার পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

বক্তারা আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে ধারণ করে সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- ফরিদপুর জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা মিজানুর রহমান, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা সোহরাব হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বকুল মিয়া, নগরকান্দা উপজেলা জামায়াতের সুরা সদস্য ও তালমা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মো. এনায়েত হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মাওলানা মাহবুব হোসেন, ঢাকা মহানগরীর মুহাম্মদপুর থানা জামায়াতের সুরা সদস্য ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ সাইফুর রহমান হিটু।

এ ছাড়া উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি চৌধুরী মাহবুব আলী সিদ্দিকী নসরু, সালথা প্রেসক্লাবের সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা শেষে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সকলের অংশগ্রহণে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।