খুঁজুন
শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ, ১৪৩২

দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২০ এএম
দিল্লিতে একের পর এক সংবাদ সম্মেলন—কী বার্তা দিতে চাইছে আওয়ামী লীগ?

ভারতের দিল্লির প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ায় গত শনিবার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ দুই সাবেক মন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলনের পরে আগামী শুক্রবার ২৩শে জানুয়ারি দলটির আরও দুজন সাবেক মন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন। তবে দুটি অনুষ্ঠানের কোনোটিই বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের দলীয় অনুষ্ঠান ছিল না।

দুটি ভিন্ন সংগঠন আয়োজন করেছে এসব সংবাদ সম্মেলনের।

গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলনে হাজির ছিলেন সাবেক পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাছান মাহমুদ ও সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। আগামী শুক্রবারের আলোচনা সভায় আবারও মি. নওফেলের হাজির থাকার কথা আছে, সঙ্গে থাকার কথা আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফাতের।

দিল্লির প্রেস ক্লাবে আয়োজিত অনুষ্ঠানটিই ছিল ২০২৪ এর পাঁচই অগাস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পরে ভারতের মাটিতে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তবে দলটির অনেকে নেতাই ভারতীয় গণমাধ্যমকে নানা ভাবে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন গত দেড় বছরের বেশি সময়ে।

যদিও অনুষ্ঠানের অন্যতম আয়োজক লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে, মি. হাছান মাহমুদ এবং মি. চৌধুরী কেউই আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে ওই সংবাদ সম্মেলনে আসেননি।

“বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, সেটি যে নিরপেক্ষ নয়, সেটা তুলে ধরতেই ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিলাম। মি. মাহমুদ আর মি. চৌধুরীরা সেখানে আওয়ামী লীগের নেতা হিসাবে আসেননি, ওই প্রতিবেদনটি যে একতরফা ভাবে তৈরি করা হয়েছে, সেটার জবাব দিতেই এসেছিলেন তারা,” বলছিলেন মি. মজুমদার।

তবে এই বিষয়ে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনটি প্রথম নয়। মি. মজুমদার জানাচ্ছিলেন যে, এ নিয়ে তারা প্রথম সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন জেনেভাতে। সেখানেই প্রথম বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে হাজির হয়েছিলেন তারা।

ভলকার রিপোর্টের ‘জবাব’

দিল্লিতে গত শনিবার, ১৭ই জানুয়ারি যে সংবাদ সম্মেলন হয়, সেটির আয়োজক ছিল ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস রিসার্চ ফাউন্ডেশন বা আইসিএফআর নামে একটি সংগঠন ও লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয় বা ওএইচসিএইচআর জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে প্রতিবেদন করেছিল, তার একটি ‘রিব্যুটাল’ বা জবাবি প্রতিবেদন তৈরি করেছে আইসিএফআর নামে সংগঠনটি।

ওই প্রতিবেদন তৈরি করেছেন যারা, তাদের অন্যতম হলেন লন্ডনভিত্তিক ব্যারিস্টার নিঝুম মজুমদার।

তিনি বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “এ বিষয়ে আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনটি করেছিলাম জেনেভাতে। আমরা চাইছিলাম দিল্লির গণমাধ্যমের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরতে। আওয়ামী লীগের যে দুজন নেতা সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন, তাদের নাম দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল বলেই আমি জানি।

“এখানে যেহেতু জাতি সংঘের ব্যাপার আছে, তাই আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সম্বন্ধে যিনি অবগত, সেই হাছান মাহমুদ ছিলেন আর মি. নওফেল নিজে যেহেতু ব্যারিস্টার, তাই আইন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার জন্য তিনি হাজির ছিলেন সংবাদ সম্মেলনে। তারা কিন্তু আওয়ামী লীগ হিসাবে আসেননি,” জানাচ্ছিলেন মি. মজুমদার।

ওই সংবাদ সম্মেলনে হাজির থাকা বাংলাদেশের অন্যতম সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের প্রতিবেদন যে একপেশে ছিল নিরপেক্ষতাবিহীন ছিল, সেটা খুঁজে বার করেছে আইনজীবীদের একটি টিম। জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনে আমাদের সরকার পক্ষের বক্তব্যই তো ছিল না। অথচ তার ভিত্তিতে বিচার হয়ে গেল, মৃত্যুদন্ডও দেওয়া হয়ে গেল।

“এই বিষয়গুলি গণমাধ্যমের সামনে আনার দরকার ছিল। জেনেভা, ব্রাসেলস আর লন্ডনে ইতোমধ্যেই সেখানকার গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন হয়। আমি আইনজীবী হিসাবে সেখানে হাজির ছিলাম,” বলছিলেন মি. চৌধুরী।

তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম যে নির্বাচনের আগে তাদের দেশের মানুষের কাছে কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই কি সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে বা এই সপ্তাহে আরও একবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হবেন তারা?

জবাবে তিনি বলেন, “এই যে নির্বাচন হতে চলেছে, এটা তো ইলেকশন নয়, সিলেকশন। তবে দিল্লির সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে ওই তথাকথিত নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই।”

তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের দুজন সাবেক মন্ত্রী সশরীরে ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হলে যে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন আসবেই, তাও আয়োজকরা জানতেন এবং এর জন্য প্রস্তুতও ছিলেন।

ভারতের অবস্থানরত আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা বিবিসি বাংলাকে বলেছেন যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের রাজনৈতিক বক্তব্য পৌঁছিয়ে দেওয়ার জন্য ভারতের গণমাধ্যমই সব থেকে উপযুক্ত, তাই দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।

শেখ হাসিনা কি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন?

আগামী শুক্রবার ২৩শে অগাস্ট দিল্লিতেই যে আরেকটি আলোচনা সভা হতে চলেছে, সেটির শীর্ষক ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ – বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও।

অনুষ্ঠানটির আয়োজন করেছে দিল্লিতে অবস্থিত ‘ফরেন করেসপেন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’। সেখানে সশরীরে হাজির থাকবেন অন্যান্যদের মধ্যে সাবেক মন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেবেন আরেক সাবেক মন্ত্রী মুহাম্মদ আলী আরাফত।

ওই আলোচনা সভার যে দুটি পোস্টার বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে, তার একটিতে বড়ো করে শেখ হাসিনার ছবি দেওয়া আছে। এরকম শোনা যাচ্ছে যে শেখ হাসিনাও ওই আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি হাজির হতে পারেন।

কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেও শেখ হাসিনার যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়নি।

তা যদি হয়, তাহলে ২০২৪ সালের পাঁচই অগাস্ট ভারতে চলে আসার পরে এই প্রথমবার তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন। যদিও ইংরেজি – বাংলা মিলিয়ে ভারতের অনেক সংবাদপত্র এবং সংবাদ পোর্টালকেই ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি।

বিবিসিও ইমেইলেই তার সাক্ষাৎকার নিয়েছে।

আবার ভার্চুয়াল মাধ্যমেই শেখ হাসিনা নিয়মিত তার দলের নেতা-কর্মীদের আলোচনা সভাগুলিতে যোগ দেন। কিন্তু সবই শুধু অডিও মাধ্যমে – ভিডিওতে নয়।

ভারতীয় গণমাধ্যমকে কেন গুরুত্ব?

গত শনিবার যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় ‘ভলকার রিপোর্ট’ নিয়ে, তা যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কৌশলের অংশ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

যদিও বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না, তবে তারা নিয়মিতই বিভিন্ন মাধ্যমে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরছে। সেসব প্রচারে অবশ্য বিধি নিষেধ জারি করেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এমন একটা সময়ে ‘ভলকার রিপোর্ট’ কে সামনে রেখে বা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের কথা বলে পক্ষান্তরে রাজনৈতিক প্রচারই করছে আওয়ামী লীগ।

এটা তাদের একটা রাজনৈতিক কৌশল বলে মন্তব্য করছিলেন প্রেস ক্লাব অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট গৌতম লাহিড়ী।

ঘটনাচক্রে তাদের ক্লাবেই গত শনিবারের সংবাদ সম্মেলন আয়োজিত হয়েছিল এবং তিনি নিজেও হাজির ছিলেন ওই সংবাদ সম্মেলনে।

বিবিসি বাংলাকে তিনি বলছিলেন, “গত শনিবারের ওই অনুষ্ঠানটি তো আওয়ামী লীগের নামে করা হয়নি, লন্ডনভিত্তিক একটি ল-ফার্ম এটার দায়িত্বে ছিল বলেই জানি। আবার সেখানে মানবাধিকারের বিষয়টা সামনে রাখা হয়েছিল। জুলাই-অগাস্টের বিক্ষোভ নিয়ে যে ভলকার রিপোর্ট তৈরি হয়েছে, তার ত্রুটি বিচ্যুতিগুলি ভারতীয় গণমাধ্যমকে, বিশেষত ইংরেজি ভাষার পত্রপত্রিকাগুলির সামনে তারা তুলে ধরতে চেয়েছেন। তবে স্বাভাবিকভাবে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন মন্ত্রীদের রাজনৈতিক প্রশ্নও করা হয়েছে।”

তার কথায়, “বাংলাদেশের মানুষ তো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরাখবর প্রচুর পড়েন, তাই এদের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তারা বার্তা দিতে চেয়েছেন বলে আমার মনে হয়।”

বাংলাদেশে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ একাধিক নেতাও এই একই কথা বলেছেন। তাদের কথায়, “বিশ্বের অন্যান্য দেশের রাজধানীতে এর আগে ভলকার রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হলেও সেখানকার গণমাধ্যমের বাংলাদেশ নিয়ে অতটা আগ্রহ থাকবে না, যতটা আগ্রহ দেখাবে ভারতীয় গণমাধ্যম। আবার দিল্লির বদলে কলকাতায় হলে হয়ত আরও বেশি আগ্রহ দেখাত পত্রপত্রিকাগুলো।

কিন্তু গৌতম লাহিড়ী বলছিলেন যে সেদিনের সংবাদ সম্মেলনের আয়োজকদের টার্গেট সম্ভবত ছিল ভারতের জাতীয় গণমাধ্যম।

তিনি বলছিলেন যে আওয়ামী লীগের নেতাদের সংবাদ সম্মেলন করতে ভারত সরকারের কাছ থেকে কোনও অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটা তিনি জানেন না।

“আয়োজকরা আমাদের সরকারের অনুমোদন নিয়েছিলেন কি না জানা নেই। তবে সরকার তো বাধা দেয় নি। যদি সরকার না চাইত তাহলে তো এ ধরনের অনুষ্ঠান করা যেত না। আমার মনে আছে, চার-পাঁচ বছর আগে যুক্তরাজ্যের হাউস অব লর্ডসের সদস্য লর্ড অ্যালেক্স কার্লাইল বিএনপির কোনো একটা বিষয়ে প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করতে চেয়েছিলেন। ফোন করে সরকারের তরফে বলা হয়েছিল যে ওই আয়োজনটা না করতে দেওয়াই উচিত। পরে একটি হোটেলে তিনি ভার্চুয়াল মাধ্যমে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন।”

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৫ পিএম
ভাঙ্গায় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে যুবকের মৃত্যু, মালিকসহ সবাই পলাতক

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় একটি বেসরকারি মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে পিটুনিতে রাজ্জাক মাতুব্বর (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কেন্দ্রটির মালিক মিজানুর রহমানসহ সেখানে কর্মরত সবাই পালিয়ে গেছে। এ ঘটনার জেরে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা রোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার নওপাড়া গ্রামের ‘আলোর দিশা’ নামের ওই মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে ঘটনাটি ঘটে। নিহত রাজ্জাক মাতুব্বর ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া গ্রামের মৃত ছামাদ মাতুব্বরের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাজ্জাক দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। পরিবারের সিদ্ধান্তে গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে তাকে ওই নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্জাকের স্বজনদের ফোন করে জানানো হয়, তিনি গুরুতর অসুস্থ। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলা হয়। পরে স্বজনরা ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে রাজ্জাকের মরদেহ দেখতে পান।

খবর ছড়িয়ে পড়লে নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি থাকা প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন রোগী উত্তেজিত হয়ে ওঠে। তারা কেন্দ্রের ভেতরে জানালা, দরজা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং চিৎকার–চেঁচামেচি শুরু করে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস, রোগীদের স্বজন এবং সেনাবাহিনীর সহায়তায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, নিরাময় কেন্দ্রের কর্মীরা রাজ্জাককে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। তারা দাবি করেন, রাজ্জাক সুস্থই ছিলেন, কিন্তু শারীরিক নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর কেন্দ্রের মালিক ও কর্মীরা পালিয়ে যাওয়ায় সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ওসি (তদন্ত) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, পিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার নাক ও কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

তাফসীর বাবু
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৩:২১ পিএম
নির্বাচনের মাঠে জামায়াতসহ ১০ দলীয় জোট: প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কে?

বাংলাদেশে বরাবরই কোনো একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দল বা জোটকে নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে দেখা গেলেও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে গঠিত ১০ দলীয় জোটে এবার সেভাবে কাউকে সামনে রাখা হয়নি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা ২২শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে এবং দলগুলো ব্যস্ত সময় পার করছে।

এই নির্বাচনে প্রার্থী প্রায় দুই হাজার। তবে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে দুটি বড় রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে। একদিকে আছে বিএনপি এবং দলটি যাদের সঙ্গে আসন সমঝোতা করেছে তারা। অন্যদিকে জামায়াত ও ও তার সঙ্গে সমঝোতায় আসা দলগুলো।

বিএনপি, গণতন্ত্রমঞ্চ, গণঅধিকার পরিষদসহ যে জোট হয়েছে, সেখানে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিএনপি এবং এই জোটের নেতৃত্বেও আছেন তারেক রহমান।

বিপরীতে জামায়াতসহ ১০ দলের যে জোট হয়েছে, সেখানে একক কোনো নেতৃত্ব নেই। বরং জোটটি চলছে যৌথ নেতৃত্বে।

এই জোটে ১০ দলের মধ্যে জামায়াত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন––এই পাঁচটি দল ইসলামপন্থি।

বাকি পাঁচটি দল হলো–– জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি বা এলডিপি, আমার বাংলাদেশ বা এবি পার্টি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি।

বিভিন্ন ধরনের ১০টি দল একসঙ্গে এলেও কীসের ভিত্তিতে ঐক্য হলো সেটা স্পষ্ট নয়। এই ঐক্যের উদ্দেশ্য কী, আদর্শিক ভিত্তি কী সেটা নিয়েও কোনো রূপরেখা নেই, বক্তব্য নেই।

এছাড়া এই জোট নির্বাচনে জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন কিংবা নির্বাচনে বিরোধী দলে বসলে বিরোধী দলীয় নেতা কে হবেন, সেটাও নির্ধারিত হয়নি। ফলে অস্পষ্ট নেতৃত্ব এবং দলীয় রূপরেখা নিয়ে এই জোট নির্বাচনের মাঠে বিএনপির কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সংশয় আছে অনেকের মধ্যে।

নেতা সামনে রেখে প্রচারণার রীতি

বাংলাদেশের রাজনীতির দল বা জোটগুলো অনেকটা ঐতিহ্যগতভাবেই একজন শীর্ষ নেতাকে সামনে রেখেই ভোটের যুদ্ধে মাঠে নামে।

একসময় আওয়ামী লীগ সামনে রেখেছে শেখ মুজিবুর রহমানকে। পরে যখন শেখ হাসিনা দলের হাল ধরেন, তখন তার নেতৃত্বেই দল এগিয়েছে। জোট হলে সেই জোটের নেতৃত্বে থেকেছেন শেখ হাসিনা।

পরবর্তীকালে বিএনপির ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া পর্যন্ত একই চিত্র দেখা গেছে।

এমনকি জাতীয় পার্টির ক্ষেত্রেও দলটি নির্বাচনের সময় সামনে রেখেছিলো হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদকে।

এবারের নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সামনে রেখেছে তারেক রহমানকে। কিন্তু ১০ দলীয় ঐক্যে এভাবে একক কোনো নেতৃত্ব সামনে রাখা হচ্ছে না।

এতে করে যে প্রশ্ন উঠছে–– এই জোট যদি নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে প্রধানমন্ত্রী কে হবেন?

দশ দলের নির্বাচনী ঐক্য গঠনের আগেই অবশ্য এই প্রশ্ন উঠেছিলো। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে জোট গঠনের আগেই এর সুরাহা করার কথা তোলা হয়। যদিও সেটা নিয়ে পরে আর আলোচনা এগোয়নি।

পরবর্তীকালে ইসলামী আন্দোলন অবশ্য আদর্শিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও বেরিয়ে যায়

তবে ইসলামী আন্দোলন বেরিয়ে যাওয়ার পর জোটে জামায়াতের গুরুত্ব এবং প্রভাব আরো বেড়েছে। দলটি এককভাবে ২১৫টি আসন নেওয়ার পর এটা স্পষ্ট হয়েছে যে জোটের মূল শক্তি জামায়াত।

ফলে, ঘোষণা না হলেও এই জোটে জামায়াতই এখন অঘোষিত নেতৃত্বে, যেটা দলগুলোর বক্তব্যেও পরিষ্কার হয়।

তাহলে কি জামায়াতের শীর্ষ নেতাই প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী–– এমন প্রশ্নে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিবিসি বাংলাকে বলেন, শীর্ষ নেতা, প্রধানমন্ত্রী বা বিরোধী দলীয় নেতা -এসব নিয়ে দলগুলার মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি।

“এখানে এখন পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার বা এ ধরনের পদ পেলে সেখানে কে বসবেন তা নিয়ে আলোচনা হয়নি। সাধারণত, ধরে নেওয়া হয় যে দলের বেশি সংসদ সদস্য জয়ী হোন, তারাই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান,” তিনি বলেন।

এবারের নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে জামায়াত একাই লড়ছে ২১৫টি আসনে। এরপরেই আছে এনসিপি, দলটির প্রার্থী মাত্র ৩০টি আসনে।

১০ দলীয় ঐক্য প্রক্রিয়ায় শেষ সময়ে যুক্ত হয়েছে এনসিপি। নিজ আগ্রহে জোটে যুক্ত হওয়ার পর দলটি নেতৃত্ব কিংবা নির্বাচনে জিতলে কে কোন পদে বসবে, সেসব নিয়ে দরকষাকষির সুযোগ পায়নি। আবার এসব ইস্যুতে নিজেদের চাহিদা জানানোর মতো অবস্থাতেও নেই দলটি।

অন্য দলগুলোও বাস্তবতা দেখে জামায়াতের নেতৃত্বের কথাই বলছে।

“জামায়াত দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নির্বাচন করছে। কাজেই এখানে প্রধান্য বা মুখ্য ভূমিকা তাদেরই। যদি আপনি বিএনপি জোটে বড় দল হিসেবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে ধরেন, তাহলে আমাদের জোটেও বড় দল আছে। সেই দলের নেতাও তো একজনই আছে,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

কিন্তু জামায়াত এক্ষেত্রে কী বলছে?

দলটি অবশ্য নেতৃত্বের বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চায় না। বিশেষ করে জামায়াতের একক নেতৃত্ব বা প্রাধান্য নিয়ে এর আগে ইসলামী আন্দোলনের আপত্তির নজির থাকায় জামায়াত চায় নির্বাচনের পরই এর সুরাহা হবে।

“নির্বাচন হয়ে গেলে পরে যাদের সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে, তারা কে কতটি আসন পেয়েছে সেটা দেখা যাবে। তখন সেটার ভিত্তিতেই শীর্ষ নেতারা সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে দলের পক্ষ থেকে আমরা তো আমাদের শীর্ষ নেতাকেই সামনে রাখবো,” বলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

১০ দলের আদর্শিক ভিত্তি কী?

বাংলাদেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর নির্বাচনী জোটের প্রক্রিয়া শুরু হয় বছরখানেক আগে, মূলত এই দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা বলে।

শুরুতে ইসলামপন্থি পাঁচটি দল জোটের প্রক্রিয়া শুরু করলেও পরে সেখানে ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়।

শেষপর্যন্ত গত সপ্তাহে জানানো হয় ১০ দলের এই নির্বাচনী ঐক্যের কথা যেখানে ইসলামী আন্দোলন যোগ দেয়নি।

তবে নির্বাচনী ঐক্য হওয়ার পর গত একসপ্তাহে দলগুলো ব্যস্ত থেকেছে মূলত আসন ভাগাভাগি নিয়ে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, ইসলামপন্থি এবং ইসলামপন্থি নয় এরকম বিভিন্ন দল নিয়ে এই যে জোট গঠিত হলো, তার আদর্শিক ভিত্তি আসলে কী?

এক্ষেত্রে দলগুলো জুলাই স্পিরিটের কথা বলছে।

“আমাদের ঐক্যের সূচনাটা হয় মূলত ঐকমত্য কমিশন থেকে। সেই সময় এই দলগুলোর বক্তব্য ছিল অনেকটা একই রকম। আমরা সবাই সংস্কার চেয়েছি, বিচার চেয়েছি, আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান নিয়েছি। এই বিষয়গুলোতেই ঐক্যপ্রক্রিয়ায় থাকা সব দল একমত। কোনো ভেদাভেদ নেই,” বলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকও বলেন, এই জোটের ঐক্যে সূত্র হচ্ছে “জুলাই স্পিরিট ধারণ, ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রগঠন এবং আধিপত্যবাদবিরোধী অবস্থান”।

শরিয়া আইন নিয়ে অবস্থান কী?

ইসলামপন্থি দলগুলোর ভোট এক বাক্সে আনার কথা যখন উঠেছিল, তখন সেই দলগুলোর কোনো কোনো নেতা ইসলানি বা শরিয়া আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্রগঠনের কথাও বলেছেন।

কিন্তু পরবর্তীকালে এই জোটে এনসিপি, এবি পার্টির মতো ধর্মভিত্তিক নয়, এমন দলগুলোও যুক্ত হয়। ফলে জুলাই সনদে একমত থাকলেও এই জোট শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবে, নাকি প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থাকেই গ্রহণ করবে সেটা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

জানতে চাইলে জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব অবশ্য দাবি করেন, শরিয়া রাষ্ট্র গঠন করা হবে এমন কথা জামায়াত বা অন্য দলগুলো বলছে না।

তিনি বলেন, “ক্ষমতায় গেলে জামায়াত যে ইসলামি রাষ্ট্র করবে এমনটা তারা কিন্তু বলেনি। কারণ তারা সেই জায়গা থেকে বের হয়ে সবগুলো দল মিলে কিন্তু গণতান্ত্রিক জায়গায় এসেছে, জোট করেছে”।

কিন্তু তাহলে ধর্মভিত্তিক দলগুলো কি শরিয়া রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আদর্শ থেকে বের হয়ে এসেছে?

এই প্রশ্ন উঠছে, কারণ গত সপ্তাহে ঐক্য প্রক্রিয়া থেকে সরে যাওয়ার আগে এই কারণটিকেই সামনে এনেছিলো ইসলামী আন্দোলন।

যদিও জামায়াতসহ ইসলামী দলগুলো অবশ্য সেটা নাকচ করছে।

“যার যার আদর্শ, যার যার রাষ্ট্রকল্প, যার যার রাজনৈতিক দর্শন, তার তার কাছে অটুট আছে, অক্ষুণ্ন আছে। আমরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশটাকে সবার আগে ইনসাফের বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে চাই,” বলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

ইসলামপন্থি দলগুলো বলছে, তাদের শরিয়া বা ইসলামি আইনভিত্তিক রাষ্ট্রের ধারণা আছে। কিন্তু বাস্তবায়ন তারা হঠাৎ করে করতে চান না। “জনগণকে প্রস্তুত করে ধাপে ধাপে এটা হবে” বলেন মামুনুল হক।

একই রকম কথা বলছে জামায়াতও। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “এখন তো দেশে বিদ্যমান একটা আইন আছে। যে দলই জিতুক, কালকে গিয়েই তো সে সব আইন বদলাতে পারবে না। তার জন্য একটা প্রসিডিউর (প্রক্রিয়া) এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। সংসদ লাগবে।

“যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ হবে তাদের মধ্যে একটা মিউচুয়াল আন্ডারস্টান্ডিং দরকার হবে। মানুষের জন্য কল্যাণকর, মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয় -এমন সকল বিধান আমরা অ্যালাউ করবো। তো এটাতো ইসলামও অ্যালাউ করে” বলেন মি. পরওয়ার।

তথ্য সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ১২:৪২ পিএম
ফরিদপুরে সেনাবাহিনীর পরিচয়ে চাঁদাবাজি: ভুয়া সাংবাদিক গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকার কিষাণহাটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজির সময় মো. আরিফ শেখ (৩৯) নামে এক ভুয়া সাংবাদিককে হাতেনাতে আটক করেছে সেনাবাহিনী। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হলে বিশেষ আইনে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফরিদপুর সেনা ক্যাম্প।

সেনা ক্যাম্প সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ফরিদপুর আর্মি ক্যাম্পের নেতৃত্বে ১৫ রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন এবং স্থানীয় পুলিশের একটি যৌথ দল কিষাণহাট এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সেনাবাহিনীর পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে মো. আরিফ শেখকে আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তি নিজেকে ‘দৈনিক ঘোষণা’ পত্রিকার প্রতিনিধি দাবি করেন। তবে পরবর্তীতে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হেনস্তা ও চাঁদাবাজির বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি। আটক আরিফ শেখ গোয়ালচামট এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন জানান, সেনাবাহিনীর ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিশেষ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত বুধবার (২১ জানুয়ারি) ভোররাতে সেনাবাহিনীর অভিযানে মো. জহির মোল্যা (৪১) নামে আরেক ভুয়া সাংবাদিককে আগ্নেয়াস্ত্রসহ আটক করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।

সেনা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক জহির মোল্যা ও আরিফ শেখ ফরিদপুরের একটি ভূঁইফোড় সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত।