খুঁজুন
, ,

১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

🇧🇩 নির্বাচন ও গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন সূচনা। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা এ নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে।

তিনি বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে হার-জিতই সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনগণের আস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা জয়ী হননি তারাও উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছেন।”

⚖️ তিন অঙ্গীকার:

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত
তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।

🚨 আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার:

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একসময় থানাগুলো ছিল জনশূন্য, মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করত। এখন সেই অবস্থা বদলেছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

👩 নারী ও শিশুর সুরক্ষায় উদ্যোগ:

নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

💰 অর্থনীতি: সংকট থেকে উত্তরণ:

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অর্থপাচার ছিল ব্যাপক। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তিনি প্রবাসীদের অবদানকে “অর্থনীতির প্রাণশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

🌍 পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে না। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে এবং সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।

🛡️ প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি:

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

🚀 সম্ভাবনার বাংলাদেশ:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, “বাংলাদেশ এখন শুধু সংকট কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ।” তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

📜 জুলাই সনদ: বড় অর্জন:

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো “জুলাই সনদ”, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। তার মতে, “এই সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।”

🕊️ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা:

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

🏛️ গণভবন হবে স্মৃতি জাদুঘর:

তিনি ঘোষণা দেন, পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে “জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর” হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে।

🤝 ঐক্যের আহ্বান:

বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার যে চর্চা শুরু হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

🙏 বিদায়ের মুহূর্ত:

সবশেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।” এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন এবং নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান।

আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য ফেরাতে সালথার আষাঢ়ের বিলে নৌকা বাইচ শুক্রবার

আবহমান গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, উৎসব আর প্রাণের উচ্ছ্বাস ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের খোয়াড় গ্রামে আয়োজন করা হয়েছে জমজমাট নৌকা বাইচ। একই সঙ্গে বসবে গ্রামীণ মেলা। নৌকার বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের সুর আর দর্শকদের উল্লাসে মুখর হয়ে উঠবে মালঞ্চ নদীর মোহনা সংলগ্ন বটতলার আষাঢ়ের বিল।

আগামী শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেল ৩টায় খোয়াড় গ্রামের বটতলা সংলগ্ন আষাঢ়ের বিলে অনুষ্ঠিত হবে এ ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। খোয়াড় গ্রামবাসীর উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবকে ঘিরে ইতোমধ্যে এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। দূর-দূরান্ত থেকে নৌকা বাইচপ্রেমীরা এ প্রতিযোগিতা দেখতে আসবেন বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

নৌকা বাইচ শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, এটি বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও গ্রামীণ ঐতিহ্যের অন্যতম প্রাণবন্ত আয়োজন। একসময় বর্ষা মৌসুমে দেশের নদী-খাল ও বিলাঞ্চলে নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে বসত মানুষের মিলনমেলা। কালের পরিবর্তনে এবং নৌপথ সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় অনেক এলাকায় এ আয়োজন এখন আর তেমন দেখা যায় না। সেই হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতেই স্থানীয়দের এ উদ্যোগ।

নৌকা বাইচকে কেন্দ্র করে আয়োজিত গ্রামীণ মেলায়ও থাকবে উৎসবের আমেজ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হবে আনন্দের মিলনমেলায়। মেলায় বিভিন্ন গ্রামীণ পণ্য, খাবার ও ঐতিহ্যবাহী সামগ্রীর সমাহার ঘটবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

উপজেলার গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুল মতিন বাদশা মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দবির উদ্দিনের। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান।

এ ছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানা গেছে।

নৌকা বাইচ উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা পুরো আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধান করবেন। দর্শকদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা এবং উৎসবস্থলে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকদের আশা, নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার খোয়াড় গ্রামের আষাঢ়ের বিল কয়েক হাজার মানুষের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠবে। নৌকার বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ আর মাঝিদের প্রাণবন্ত স্লোগানে নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে আবহমান বাংলার চিরচেনা গ্রামীণ ঐতিহ্য।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

মিয়া রাকিবুল
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় আরিফুজ্জামান ও আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী পালিত

যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে।

​বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা আরিফুজ্জামান (মডেল) পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধান শিক্ষক আজাদুল ইসলাম সভাপতিত্ব করেন।

​অনুষ্ঠানে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ নিয়ে আলোচনা উপস্থাপন করেন আলফাডাঙ্গা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। তিনি তার বক্তব্যে বিশ্ব শান্তি, মানবকল্যাণ ও একটি নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

​পরবর্তীতে বেলা ১২টায় আলফাডাঙ্গা আসাদুজ্জামান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিবসটি উপলক্ষে আলোচনা সভা ও ছাত্রীদের অংশগ্রহণে হামদ-নাত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

​প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায়ও মূল আলোচক হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন মুন্সি বিল্লাল হুসাইন।

নারী শিক্ষার গুরুত্ব ও মহানবীর শিক্ষা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আমাদের জন্য মহানবী (সা.)-এর সুমহান আদর্শ ও মানবতাবাদী শিক্ষা গ্রহণের শ্রেষ্ঠ উপলক্ষ। রাসুল (সা.)-এর বাণী অনুযায়ী প্রতিটি নর-নারীর ওপর জ্ঞান অর্জন করা ফরজ। তাই সমাজে নারী শিক্ষার প্রসার ঘটানো এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে আদর্শ জীবন গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।”

আলোচনা ও দোয়া মাহফিল শেষে হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথি মুন্সি বিল্লাল হুসাইন। অনুষ্ঠানে উভয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
মহানবী (স.)-এর আদর্শ ধারণের আহ্বান, ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুলে মিলাদ মাহফিল

ফরিদপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ মাহফিল, দোয়া ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), ফরিদপুরের সভাপতি শায়লা শারমীন।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সরকারী সারদা সুন্দরী মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহিদ হাসান, পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর প্রতি দরুদ ও সালাম নিবেদনের মাধ্যমে মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে মহানবী (স.)-এর জীবন, কর্ম ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ আব্দুল কায়ূম শেখ মহানবী (স.)-এর আদর্শ ও তাঁর অনুপম চরিত্রের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মহানবী (স.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ, সততা ও শৃঙ্খলাবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে শিক্ষার্থীদের গড়ে উঠতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনা পর্বে বক্তারা মহানবী (স.)-এর আদর্শকে ব্যক্তি ও সামাজিক জীবনে ধারণ করার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, তাঁর শিক্ষা ও জীবনাদর্শ অনুসরণ করলে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ ও মানবিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে।

পরে ইসলামিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজীসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সকলের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করেন প্রতিষ্ঠানটির সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক কাজী দেলোয়ার হোসেন।