খুঁজুন
, ,

১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

🇧🇩 নির্বাচন ও গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন সূচনা। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা এ নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে।

তিনি বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে হার-জিতই সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনগণের আস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা জয়ী হননি তারাও উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছেন।”

⚖️ তিন অঙ্গীকার:

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত
তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।

🚨 আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার:

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একসময় থানাগুলো ছিল জনশূন্য, মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করত। এখন সেই অবস্থা বদলেছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

👩 নারী ও শিশুর সুরক্ষায় উদ্যোগ:

নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

💰 অর্থনীতি: সংকট থেকে উত্তরণ:

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অর্থপাচার ছিল ব্যাপক। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তিনি প্রবাসীদের অবদানকে “অর্থনীতির প্রাণশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

🌍 পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে না। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে এবং সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।

🛡️ প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি:

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

🚀 সম্ভাবনার বাংলাদেশ:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, “বাংলাদেশ এখন শুধু সংকট কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ।” তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

📜 জুলাই সনদ: বড় অর্জন:

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো “জুলাই সনদ”, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। তার মতে, “এই সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।”

🕊️ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা:

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

🏛️ গণভবন হবে স্মৃতি জাদুঘর:

তিনি ঘোষণা দেন, পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে “জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর” হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে।

🤝 ঐক্যের আহ্বান:

বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার যে চর্চা শুরু হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

🙏 বিদায়ের মুহূর্ত:

সবশেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।” এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন এবং নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান।

ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে হাসপাতালে চুরি: সিসিটিভিতে শনাক্ত বিএনপি নেতার ছেলে, ৬ মাসের জেল

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ১৫টি সিলিং ফ্যানসহ লোহার পাইপ ও অ্যাঙ্গেল চুরির ঘটনায় মো. মান্না শেখ (২৭) নামে এক যুবককে ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

​দণ্ডিত মান্না শেখ বোয়ালমারী পৌর বিএনপির সহ-কোষাধ্যক্ষ ও প্রস্তাবিত উপজেলা কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রিজাউল হক শেখের ছেলে।

​পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার ভোর চারটার দিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাঁচতলা ভবনের নিচতলায় অবস্থিত একটি অব্যবহৃত ক্যানটিনের তালা ভেঙে এসব মালামাল চুরি হয়। হাসপাতালটিতে কোনো নৈশপ্রহরী না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে চুরির বিষয়টি ধরা পড়েনি। পরদিন শনিবার সকালে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে।

​পরবর্তীতে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত মান্না শেখকে শনাক্ত করে বোয়ালমারী থানা পুলিশ। ঘটনা জানাজানি হলে তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করে।

​এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নাজমুল হাসান বোয়ালমারী থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। রোববার বিকেলে আসামিকে ফরিদপুরের ৩ নম্বর আমলি আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ১ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

​বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে চোর শনাক্তের পর মালামাল উদ্ধার ও আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাঁকে সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

​এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর আগেও একাধিকবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতাল এলাকায় অবস্থানকারী কিছু বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সচালক এসব চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ বিষয়ে পুলিশের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২১ অপরাহ্ণ
গোপন তথ্য ফাঁস করা কি গুনাহ?

মানুষের সম্মান, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও মর্যাদা রক্ষা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় অনুসন্ধান করা, গোপন দোষ প্রকাশ করা কিংবা একান্তে বলা কথা অনুমতি ছাড়া ছড়িয়ে দেওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দনীয় কাজ।

এতে শুধু ব্যক্তির সম্মানহানি হয় না, বরং পারিবারিক সম্পর্ক, সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক বিশ্বাসও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পবিত্র কোরআন ও হাদিসে মানুষের গোপনীয়তা রক্ষা, অন্যের দোষ অনুসন্ধান থেকে বিরত থাকা এবং গোপন কথা আমানত হিসেবে সংরক্ষণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এ যুগে ব্যক্তিগত বার্তা, ছবি ও কথোপকথনের স্ক্রিনশট ছড়িয়ে দেওয়ার প্রবণতা নতুন করে এ শিক্ষার গুরুত্ব সামনে এনেছে।

গোপনীয়তা অনুসন্ধানে কোরআনের নিষেধাজ্ঞা

পবিত্র কোরআনের সূরা আল-হুজুরাতের ১২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা মুমিনদের অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করতে নিষেধ করেছেন।

একই আয়াতে ভিত্তিহীন ধারণা ও পরনিন্দা থেকেও দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।

’ (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)

এ নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয়, অন্যের ব্যক্তিগত বিষয় জানার কৌতূহল মেটাতে তার গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। কারও ভুলত্রুটি খুঁজে বেড়ানো কিংবা তার ব্যক্তিগত দুর্বলতা নিয়ে আলোচনা করাও ইসলামের নৈতিক শিক্ষার পরিপন্থী।

এ ছাড়া সূরা আন-নূরের ১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়া পছন্দ করে, এমন ব্যক্তিদের জন্য দুনিয়া ও আখেরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তির কথা বলা হয়েছে। আয়াতটির শিক্ষা হলো, সমাজে অনৈতিকতা ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেওয়ার মানসিকতা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

অন্যের গোপন দোষ খুঁজলে কঠিন সতর্কবার্তা

অন্যের গোপন বিষয় অনুসন্ধান ও প্রচারের পরিণতি সম্পর্কে হাদিসেও কঠোর সতর্কবার্তা এসেছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা মুসলমানদের গিবত করো না এবং তাদের গোপন দোষ অনুসন্ধান করো না। যে ব্যক্তি তার মুসলিম ভাইয়ের গোপন দোষ অনুসন্ধান করে, আল্লাহ তার দোষ প্রকাশ করে দেন। আর আল্লাহ যার দোষ প্রকাশ করেন, তাকে তার ঘরের মধ্যেও অপদস্থ করেন।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৮০)

এ হাদিসে অন্যের গোপন দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং তা প্রকাশ করার পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে। একজন মুমিনের দায়িত্ব হলো অন্যের দুর্বলতা নিয়ে ব্যস্ত না থেকে নিজের চরিত্র ও আমল সংশোধনের দিকে মনোযোগ দেওয়া।

একান্ত কথাও আমানত

ইসলামে আমানতদারিতার পরিধি শুধু অর্থসম্পদ বা মূল্যবান বস্তুতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিস্থিতি ও কথার ধরন অনুযায়ী ব্যক্তিগত আলাপ এবং গোপন তথ্যও আমানতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ব্যক্তি কথা বলার পর চারদিকে তাকালে, তা আমানত।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ৪৮৬৮)

অর্থাৎ, কেউ কোনো কথা গোপন রাখার প্রত্যাশায় বললে তা অনুমতি ছাড়া অন্যের কাছে প্রকাশ করা আমানতের খেয়ানত হতে পারে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত সমস্যা, পারিবারিক বিষয় কিংবা আস্থার সম্পর্কের মধ্যে জানা তথ্য প্রকাশের আগে এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনা করা জরুরি।

অন্যের দোষ গোপন রাখার প্রতিদান

ইসলাম শুধু অন্যের গোপনীয়তা নষ্ট করতে নিষেধ করেনি; বরং মানুষের দোষত্রুটি গোপন রাখার জন্যও সুসংবাদ দিয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলিমের দোষ গোপন রাখবে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখেরাতে তার দোষ গোপন রাখবেন।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৬৯৯)

এ শিক্ষা মানুষকে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে উৎসাহিত করে। কেউ ভুল করলে তাকে অপমানিত করার পরিবর্তে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া এবং তার সম্মান রক্ষার চেষ্টা করা উত্তম আচরণ।

তবে কারও অপরাধের কারণে অন্যের জীবন, নিরাপত্তা বা অধিকার হুমকির মুখে পড়লে বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানো ভিন্ন বিষয়। অপরাধ আড়াল করা এবং অকারণে ব্যক্তিগত দোষ ছড়িয়ে বেড়ানো এক নয়।

ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা রক্ষার দায়িত্ব

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত বার্তা, ফোনালাপ, ছবি ও স্ক্রিনশট অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার ঘটনা দেখা যায়। কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ, প্রতিশোধ কিংবা কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে এসব তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ধরনের কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মানহানি, পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক কষ্ট তৈরি হতে পারে। একবার কোনো তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে পড়লে তা প্রত্যাহার করাও কঠিন হয়ে পড়ে। তাই কোনো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশের আগে তার সত্যতা, প্রয়োজনীয়তা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি এবং সম্ভাব্য ক্ষতি বিবেচনা করা উচিত।

ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, অন্যের সম্মান রক্ষা করা, গোপনীয়তার প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা এবং জিহ্বা ও আচরণ সংযত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ গুণ। নিজের ভুল সংশোধন এবং অন্যকে অপমানের হাত থেকে রক্ষা করার মানসিকতা ব্যক্তিগত জীবনের পাশাপাশি সমাজেও শান্তি ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখে।

মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সালথা গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে যুবদলের বিশাল আনন্দ মিছিল

ফরিদপুরের সালথায় মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির নেতাকর্মীরা। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নতুন কমিটি পাওয়ায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে।

​রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেলে সালথা উপজেলা পরিষদের সামনে থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সালথা বাজারে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাধারণ জনগণের পাশে থেকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গঠনে মাঠে থাকবে যুবদল। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন নেতারা।

​সম্প্রতি ৩৫ সদস্যবিশিষ্ট সালথা উপজেলা যুবদলের নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে মো. হাসান আশরাফকে আহ্বায়ক, কামরুল ইসলামকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এবং মো. এনায়েত হোসেনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর কমিটি গঠিত হওয়ায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও জোরদার হবে বলে মনে করছেন তাঁরা।

​সালথা উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব মো. এনায়েত হোসেনের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম, যুগ্ম আহ্বায়ক মিরান হোসেন, মাহফুজুর রহমান খান, সাফিকুল ইসলাম ও হাবিবুর রহমান হাবিবসহ দলের জেলা ও স্থানীয় নেতারা।

​এ সময় নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আনন্দ মিছিলের আগে নতুন কমিটির নেতাদের ফুলের মালা দিয়ে বরণ করে নেন আহ্বায়ক মো. হাসান আশরাফ।

​কর্মসূচি শেষে নবগঠিত কমিটির নেতারা বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের কবর জিয়ারত ও মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করেন।