খুঁজুন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র, ১৪৩২

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ২০২৬: যে চার কারণে ব্যর্থ ১১ দলীয় জোট?

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে সরকার গঠনে আশাবাদী ছিল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ডাকসু, জাকসু, রাকসুসহ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর জামায়াতে ইসলামী সংসদ নির্বাচনে বেশি আশাবাদী হয়েছিল।

তবে জামায়াত ও তার মিত্ররা ৮০টি আসনে (৭১টি এককভাবে জামায়াত) জয়লাভ করেছে। এতে জোটের ভেতরে-বাইরে অস্বস্তি ও ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। জামায়াত ও ১১ দলের নেতারা তাদের ত্রুটি চিহ্নিত করছেন। গতকাল রাতে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জামায়াতের আমিরের সভাপতিত্বে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখানে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক হয়।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জামায়াত জোটের এই চমকপ্রদ সাফল্য বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। তবে প্রধানত চারটি কারণে ১১ দলের প্রার্থীরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ শেষে ফল ঘোষণা ও প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি তোলে জামায়াতে ইসলামী। জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা জানান, এই কারণগুলো হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার থেকে প্রত্যাশিত ভোট না পাওয়া, আওয়ামী লীগের বিরাট অংশ বিএনপিকে সমর্থন দেওয়া, হেফাজতে ইসলামসহ আলেমদের একটি পক্ষ জামায়াতের বিরোধিতা করা এবং ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ ইস্যু। তার ওপর সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্টে একটি বিতর্কিত ‘পোস্ট’ নিয়েও ব্যাপক বিতর্ক ১১ দলীয় জোটকে অনেকটাই চাপে ফেলেছিল বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আপনাদের সবাইকে জানাই আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ। তবে নির্বাচনের ফল তৈরি ও ঘোষণার ধরন আমাদের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক জায়গায় আমাদের প্রার্থীরা অল্প ভোটে রহস্যজনকভাবে হেরে গেছেন। ফলাফলে বারবার গরমিল ও সাজানো দেখা যাচ্ছে এবং প্রশাসনও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করেনি বলে মনে হচ্ছে। এসব কারণে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আমাদের ন্যায়ের লড়াই চলবেই, ইনশাআল্লাহ।

নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফল অনুযায়ী, জামায়াতে ইসলামী তাদের আগের সব রেকর্ড ভেঙে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসনে জয়লাভ করেছে। দলটি এককভাবে ৭১টি আসনে জয় পেয়েছে। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট মোট ৮০টি আসনে জয়লাভ করেছে। তার মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস একটি আসনে বিজয়ী হয়েছে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলাগুলোতে দলটির প্রার্থীরা বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি আসনে ভালো ফল করেছেন জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থীরা। এক কথায়, গত কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে আসন সংখ্যা কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে জামায়াতের। অন্যদিকে, খুলনা-৫ আসনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ অন্তত ১০ জন হেভিওয়েট নেতা পরাজিত হয়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একক দল হিসেবে জামায়াতের প্রাপ্ত ভোটের শতাংশ আগের চেয়ে অনেক বেশি, যা মূলত নারী, তরুণ ও নতুন ভোটারদের সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রংপুর ও খুলনা বিভাগের কয়েকটি জেলায় জামায়াত সমর্থিত প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ আধিপত্য বিস্তার করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের এই অভাবনীয় সাফল্যের পেছনে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট কারণ কাজ করেছে। দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা এবং তৃণমূল পর্যায়ে কর্মীদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। ভোটারের একটি বড় অংশ বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে জামায়াতের কার্যক্রমের ওপর আস্থা রেখেছেন। সেইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জামায়াতে ইসলামীর জোর ক্যাম্পেইন এবং আধুনিক ও কর্মমুখী রাজনীতির প্রতিশ্রুতি তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পেরেছে। এ ছাড়া দেশের ইসলামপন্থি দলগুলোর মধ্যকার অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিরসন করে তাদের নিয়ে জোটবদ্ধ হওয়া এবং নিরপেক্ষ ভোটারদের সমর্থন নিজেদের বাক্সে টানতে সক্ষম হয়েছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন দায়িত্বশীল নেতা জানান, যেভাবেই হোক ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এখন আমরা না মানলে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি হবে। সুতরাং দেশ ও জাতির বৃহৎ স্বার্থে আমাদের ফল মেনে সংসদে গিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভাব-অভিযোগ সংসদে তুলে ধরতে হবে।

সূত্র বলছে, বহু বছর কোণঠাসা থাকা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতিতে পুনরুত্থান বা ফিরে আসা কেবল আকস্মিক নয়, বরং এটি ছিল দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির ফসল। জামায়াত এবার এককভাবে না লড়ে সমমনা ১১টি দলের সঙ্গে একটি শক্তিশালী নির্বাচনী ঐক্য গড়ে তোলে। শুরুর দিকে চরমোনাই পীর নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ জোটে থাকার কথা বললেও শেষ মুহূর্তে থাকেনি। ফলে নির্বাচনে ইসলামপন্থিদের ভোট একটি বাক্সে আনার বিষয়টি কিছুটা ধাক্কা খায়। যে কারণে জোটেও অস্বস্তি তৈরি হয়। কওমি ও আলিয়া ঘরানার ভোটের যে দীর্ঘদিনের বিভাজন ছিল, তা আরও স্পষ্ট হয়ে যায়। একপর্যায়ে জোটবদ্ধ হওয়ায় জামায়াত তার একক দলীয় পরিচয়ের বাইরে একটি ‘ইসলামী মোর্চা’ হিসেবে ভোটারদের কাছে হাজির হতে পেরেছে।

বিশ্লেষকরা বলেছেন, এবারের নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ডাকসু) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ (চাকসু) বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র শিবিরের বড় জয় দলটির জন্য ‘ক্যাটালিস্ট’ হিসেবে কাজ করেছে। ক্যাম্পাসে শিবিরের জয় সাধারণ তরুণ ও প্রথমবার ভোট দেওয়া ভোটারদের মধ্যে এ বার্তা দিয়েছে যে, জামায়াত এখন একটি ‘স্মার্ট’ ও ‘সুসংগঠিত’ শক্তি। শিবিরের দক্ষ ও সুশৃঙ্খল কর্মীবাহিনী নির্বাচনী মাঠ দখলে রাখতে এবং ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর যখন অনেক দলের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠছিল, তখন জামায়াত কৌশলগতভাবে নিজেকে এসব থেকে দূরে রেখেছে। তারা জনসভায় ‘বিএনপিও দুর্নীতির পুরোনো ধারায় ফিরছে’ এমন একটি বয়ান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।

১১ দলীয় জোটের শরিক খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব আব্দুল জলিল বলেন, দীর্ঘ আওয়ামী ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান ঘটিয়ে ২৪-এর গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে কাঙ্ক্ষিত জাতীয় নির্বাচন অবশেষে অনুষ্ঠিত হলো। বিচ্ছিন্ন কিছু সহিংস ঘটনা ছাড়া সারা দেশে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ফল ঘোষণায় বেশ কিছু অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। যা একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংশয় সৃষ্টি করে এবং গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে তা আর কাম্য নয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স ম আলী রেজা বলেন, আমি মনে করি, এ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলাম জোট ভালো করেছে। তাদের আসন ও ভোট অনেক বেড়েছে। তারা একটা বিকল্প ঢেউ তৈরি করতে পেরেছে। আমার ধারণা, এনসিপি তার স্বাতন্ত্র্য ধরে রাখতে পারলে আরও ভালো করতো। আশা করি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একটি দায়িত্বশীল সরকার ও গঠনমূলক বিরোধী দল উপহার দেবে।

আরেকজন বিশ্লেষক বলেন, এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। আগের বছরগুলোয় তাদের নেতাকর্মীরা ব্যাপক দমন-পীড়নের মুখে পড়েছিলেন। যুদ্ধাপরাধ সংশ্লিষ্ট মামলায় কয়েকজন শীর্ষ নেতার দণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাও দলটির সাংগঠনিক কাঠামোতে প্রভাব ফেলেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর তারা নিজেদের নতুনভাবে উপস্থাপন করে এবং দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানকে জোরালোভাবে প্রচার করে। এই কৌশল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠনের সক্রিয়তা তাদের ভোট বাড়াতে সহায়তা করেছে। এনসিপি একটি নবগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে সীমিত পরিসরে অংশ নিয়েও ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে। নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তাদের ফলাফল তাৎপর্যপূর্ণ। বৃহত্তর জোটভিত্তিক সমর্থন ও সাম্প্রতিক আন্দোলনকেন্দ্রিক পরিচিতি তাদের প্রাথমিক সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।

সূত্র : কালবেলা

‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি ডিজেল ব্যবহার হয়। তাই কৃষিখাতে তেলের সরবরাহ করার ক্ষেত্রে আমরা সচেষ্ট আছি। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বিক্রি করছে। অপরদিকে যারা দিনে একবার তেল নিতেন, এখন তারাই তেলের পাম্পে গিয়ে ৫ বার তেল নিচ্ছে। কারণ তারা ভাবছেন তেলের সংকট চলছে। কিন্তু তেলের কোনো সংকট নেই।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, এটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের চারপাশে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার, যে জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায় নাই। কৃষকসহ জনগণ যাতে বিপদের মুখে না পড়ে সেজন্য সরকার সচেষ্ট আছে। তবে আমাদেরও সাশ্রয়ী হতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে তেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। যে কারণে আমি ঘনঘন আমার নির্বাচনী এলাকায় আসছি। আজকে আমি সালথা ও নগরকান্দায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস পরিদর্শন করেছি। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিয়েছি। বিশেষ করে কারিগারি শিক্ষা নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। এটা কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সেজন্য আমি এসেছি। গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের সময় স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে কোন কাজ হয়নি। সেটা আমি দেখতে এসেছি।

এর আগে নগরকান্দা উপজেলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নগরকান্দা উপজেলা ভূমি অফিস, সালথা সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সালথা উপজেলা ভুমি অফিস ও সালথা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাটের গোডাউন পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ প্রমুখ।

নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা গ্রুপ এবং পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন বলে জানা গেছে, যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষে জড়িতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগেও কয়েকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের সংঘর্ষ তুলনামূলক বেশি সহিংস ছিল।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মোল্লা গ্রুপ ও তালুকদার গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। শনিবার বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী মোল্যা, রফিকুল ইসলাম মন্টুসহ তাদের সহযোগীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সদরপুর হামলার শিকার হন চ্যানেল এস-এর সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।

হামলার শিকার ওই দুই সাংবাদিক জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় তেলের ডিলার মোহাম্মদ আলী মোল্যা ও তার ছেলে সামী মোল্যার তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করলে তারা (সাংবাদিকরা) প্রথম দফা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তারা জানান, অভিযোগের পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে থানায় গেলে, অভিযোগের জের ধরে ওই তেলের ডিলার ও তার লোকজন থানার চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এ সময় থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে সাংবাদিকরা থানা চত্বরের সামনে সড়কে অবস্থান নিলে রফিকুল ইসলাম মন্টু এবং তার সহযোগী মোস্তাকি বাবু তৃতীয় দফায় তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত তেলের ডিলার সরাসরি হামলার বিষয় জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, হামলার বিষয়টি নিয়ে আমি এমপি মহাদয়ের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি আমারা খতিয়ে দেখছি।