খুঁজুন
বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২১ মাঘ, ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশেরই আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞদের অনেকে।

ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা এ সংক্রান্ত গেজেটটি প্রকাশ করে।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা আইনত বারিত (করা যাবে না) হবে।”

তবে, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি ছিলো; সরকারও আশ্বাস দিয়েছিল।

পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা কার্যকর করার পর আন্দোলনকারীরা অধ্যাদেশ জারির দাবি করলে তা রোববার জারি করা হয়।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কালকে সুনির্দিষ্ট না করা, ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসিতে তদন্তের স্থলে সংশোধনী না এনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের ভার দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এখতিয়ার না থাকলেও হত্যার মতো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের ভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ন্যস্ত করার সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

একইসাথে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সংসদ কার্যকর হওয়ার পরে এখন যেসব অধ্যাদেশ পাস করছে, সেগুলোর কোনো অর্থ থাকবে না বলে জানান মি. মালিক।

এদিকে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দাবি করেন, অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগই নাই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের এই অধ্যাদেশে কোনো অবস্থাতেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো বিচারের বিধান করা হয় নাই। এখানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কহীন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে যেমন, কোনো সম্পত্তির লোভে বা পূর্ব শত্রুতাবশত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে একদম সম্পর্কহীনভাবে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড করা হয় সেটার বিচারের কথা বলা হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নাই।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হত্যার অভিযোগ ও তদন্ত ভার দেওয়ার বিষয়ে মি. নজরুল বলেন, “আমরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে দিয়েছি যাতে মানুষের হয়রানি কম হয়।”

অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণ অভ্যুত্থানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।

এই অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণ অভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জুলাই গণ অভ্যুত্থান বলেও এতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৪৪ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপক সহিংসতায় প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪৪ জন্য সদস্যের মৃত্যুর তথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক এই অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি মনে করেন, “বিচার পাওয়ার অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ঢালাওভাবে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না।”

অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়ে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ-২০০৩, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মি. মালিক বলছেন, এইসব দায়মুক্তিগুলোকেই পরবর্তীতে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছিলো।

মি. মালিক জানান, যেদিন সংসদ অধিবেশন বসবে সেদিন সকল অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করতে হবে।

ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে আর যদি বাতিল না হয় তবে ৩০ দিনের মধ্যেই সকল অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে বলে জানান তিনি।

‘তদন্তের এখতিয়ার কই মানবাধিকার কমিশনের’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণ অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে।

কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না।

তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

এদিকে, আইনজীবীরা বলছেন, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যা মামলা দায়ের করার যে প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, “এই অধ্যাদেশে মামলা করার একটা এক্সেপশন দিচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে যদি কেউ হত্যা করে তবেই মামলা দায়ের করা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারে নিযুক্ত পিপি বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবীদের প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে।”

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে যারা বিভিন্ন রকমের ব্যক্তিগত কাজে এই ঘোলাটে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন তাদের বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হলেও “কিন্তু এই অবস্টেকলগুলা আবার রয়ে গেলো। এই অবস্টেকলগুলা না থাকলে বরং সরাসরি মামলা করার অপশন থাকলে ভালো হতো” বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় তদন্তের এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফৌজদারি মামলায় শুধুমাত্র সাব- ইন্সপেক্টরের নিম্নে নহে এমন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “মার্ডারের মতো সিরিয়াস অফেন্সের তদন্তের ক্ষমতা দিচ্ছে কাকে প্রাইমারিলি যার কথার ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হবে সেটা হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই এখতিয়ার কই? মূল আইনে সংশোধনী কই? ফলে পুরোটাই একটা জগাখিচুড়ি প্রসেস।”

ওই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং সরকার পতনের পরে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের ওই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানা যায়।

অভ্যুত্থানকারীদের ওপর চলা সহিংসতার জন্য তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ভবিষ্যতে এই পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন,”ইনডেমনিটি ব্যাপারটা অলওয়েজই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং হতে বাধ্য। ধরেন পুলিশের বিভিন্ন থানায় অ্যাটাক হইছে। অনেক পুলিশ হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশের পরিবাররা যদি কোনো কারণে ভবিষ্যতে ধরেন ২০ বছর পরে রেজিম চেঞ্জ হয় তাহলে ওরা ইনডেমনিটি বাতিল হয়ে আবার ট্রায়ালের চেষ্টা করবে। ওরা ক্ষতিগ্রস্তরা আসবে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৬ এএম
রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু এখন ফরিদপুর: আজ তারেক রহমানের জনসভা, প্রস্তুত বিএনপি

নির্বাচনী সফরের অংশ হিসেবে আজ বুধবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) ফরিদপুরে আসছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ উপলক্ষে ফরিদপুর শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। জনসভাকে ঘিরে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, এই প্রথম ফরিদপুর সফরে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুপুরে তাকে বহনকারী হেলিকপ্টার ফরিদপুর স্টেডিয়ামে অবতরণ করবে। সেখান থেকে একটি সুসজ্জিত গাড়িবহর নিয়ে তিনি সরাসরি শহরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনি জনসভাস্থলে যাবেন। আজ দুপুর ২টায় শুরু হতে যাওয়া এ জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি।

বিভাগীয় এ জনসভাকে কেন্দ্র করে রাজেন্দ্র কলেজ মাঠ ও আশপাশের এলাকায় তৈরি করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। মাঠজুড়ে বসানো হয়েছে ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেওয়া হয়েছে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি। বিএনপির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, ফরিদপুরসহ বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা—ফরিদপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুর থেকে নেতা–কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামবে এই জনসভায়। এতে লাখো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

ফরিদপুর জেলা যুবদলের সভাপতি মো. রাজিব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন,“তারেক রহমানের ফরিদপুর আগমন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক ও প্রেরণাদায়ক একটি ঘটনা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বিএনপির রাজনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এই জনসভা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। যুবদলসহ বিএনপির সব অঙ্গসংগঠনের নেতা–কর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করে জনসভা সফল করার জন্য কাজ করছে। আমরা আশা করছি, আজকের জনসভা ফরিদপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “এই জনসভা থেকে তারেক রহমান দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের অধিকার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেবেন। তরুণ সমাজ তার বক্তব্য থেকে নতুন অনুপ্রেরণা পাবে।”

ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি আজ নতুন উদ্যমে সংগঠিত হচ্ছে। ফরিদপুরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে তারেক রহমানকে সরাসরি দেখার অপেক্ষায় ছিল। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটছে আজ। আমরা বিশ্বাস করি, এই জনসভা থেকে জনগণ গণতন্ত্র, ভোটাধিকার ও একটি জবাবদিহিমূলক সরকারের পক্ষে আরও ঐক্যবদ্ধ হবে।”

তিনি বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্যগতভাবে গণতন্ত্রকামী মানুষের এলাকা। আজকের জনসভা প্রমাণ করবে, বিএনপি এখনো জনগণের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তি। আমরা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে জনসভা আয়োজনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি।”

উল্লেখ্য, তারেক রহমানের এই সফরকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জনসভা সফল করতে বিএনপির স্থানীয় ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করছে। সব মিলিয়ে আজকের জনসভাকে ঘিরে ফরিদপুরে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা।

‘ইনসাফের কথা’

মামুন সিকদার
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৩ এএম
‘ইনসাফের কথা’

মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল,
এক হাদি’কে গুলিবিদ্ধ করে
ক্ষান্ত করিতে পারিবে না বল।

মোরা শত শত হাদি আছি বাংলা জুড়ে
ক’টা গুলি আছে বল? হায়েনার দল,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

মোরা থামবো না, মোরা থামবো না
ইনসাফের পথে করিবো সংগ্রাম,
বাংলা জুড়ে যারা করে ছল
অপশক্তি বিনাশ করিবো, আমরা আছি যারা।

তবু থামবো না, তবু থামবো না
আসুক যত ঝড় ও তুফান,
মোরা ঊষার পথের তরুণের দল
ইনসাফের কথা বলিবো সচল।

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০১ এএম
হেপাটাইটিস বি ভাইরাস সম্পর্কে যা জানা জরুরি: ছড়ায় কীভাবে, লক্ষণ ও প্রতিকার?

হেপাটাইটিস বি একটি মারাত্মক কিন্তু প্রতিরোধযোগ্য লিভারজনিত ভাইরাস সংক্রমণ। হেপাটাইটিস বি ভাইরাস (HBV) থেকে এ রোগ হয়, যা স্বল্পমেয়াদি (একিউট) কিংবা দীর্ঘস্থায়ী (ক্রনিক) আকার ধারণ করতে পারে। উপসর্গ অনেক সময় দেরিতে প্রকাশ পাওয়ায় একে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘নীরব ঘাতক’ও বলা হয়। বাংলাদেশে এ রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলক বেশি।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ২০০ কোটি মানুষ জীবনের কোনো এক সময়ে হেপাটাইটিস বি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রায় ৩০ কোটি মানুষ দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ নিয়ে বসবাস করছেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় এ রোগের জটিলতায়।

কীভাবে ছড়ায় হেপাটাইটিস বি

হেপাটাইটিস বি ভাইরাস মূলত আক্রান্ত ব্যক্তির রক্ত ও শরীরের অন্যান্য তরলের মাধ্যমে ছড়ায়। যেমন—

সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শ

একই সুচ বা সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার (বিশেষ করে মাদক গ্রহণকারীদের মধ্যে)

অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক

প্রসবের সময় মা থেকে শিশুর মধ্যে সংক্রমণ

অনিরাপদ রক্ত সঞ্চালন (বর্তমানে অনেক কম)

ট্যাটু, বডি পিয়ার্সিং বা অনিরাপদ চিকিৎসা ও সার্জিক্যাল যন্ত্র ব্যবহার

টুথব্রাশ, রেজারসহ ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি

অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দান

স্বাস্থ্যসেবা কর্মীরাও সংক্রমিত রক্তের সংস্পর্শে এলে ঝুঁকিতে থাকেন।

হেপাটাইটিস বি-এর লক্ষণ

অনেক ক্ষেত্রেই সংক্রমণের পর প্রথম ১–৪ মাস কোনো লক্ষণ বোঝা যায় না। শিশুদের ক্ষেত্রে উপসর্গ একেবারেই নাও থাকতে পারে। তবে সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

অতিরিক্ত ক্লান্তি ও দুর্বলতা

জ্বর

ক্ষুধামান্দ্য

বমি বমি ভাব বা বমি

পেটে ব্যথা

গাঢ় রঙের প্রস্রাব

সন্ধি বা অস্থিসন্ধিতে ব্যথা

ত্বক ও চোখের সাদা অংশ হলুদ হয়ে যাওয়া (জন্ডিস)

রোগ গুরুতর হলে লিভার বিকল হলে মৃত্যুঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়

হেপাটাইটিস বি সনাক্ত করতে চিকিৎসকেরা কয়েকটি পরীক্ষার পরামর্শ দেন—

রক্ত পরীক্ষা (HBsAg, অ্যান্টিবডি)

লিভার ফাংশন টেস্ট

পিসিআর টেস্ট (ভাইরাসের পরিমাণ নির্ণয়)

আল্ট্রাসাউন্ড

প্রয়োজনে লিভার বায়োপসি

দ্রুত রোগ সনাক্ত হলে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

চিকিৎসা কীভাবে হয়

একিউট হেপাটাইটিস বি:

অধিকাংশ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট অ্যান্টিভাইরাল ওষুধের প্রয়োজন হয় না। বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত পানি গ্রহণই যথেষ্ট।

ক্রনিক হেপাটাইটিস বি:

অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ প্রয়োজন হয়। মুখে খাওয়ার ও ইনজেকশন—দুই ধরনের চিকিৎসাই রয়েছে। মুখে খাওয়ার ওষুধ সাধারণত দীর্ঘদিন বা আজীবন চালিয়ে যেতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে লিভারের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। বর্তমানে ব্যবহৃত ওষুধ ভাইরাস পুরোপুরি নির্মূল করতে না পারলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া তুলনামূলক কম।

চিকিৎসার পর সুস্থ থাকতে করণীয়

চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা

পুষ্টিকর ও ভারসাম্যপূর্ণ খাদ্য গ্রহণ

পর্যাপ্ত পানি পান

অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হালকা ব্যায়াম

পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রাম

উপসর্গ বাড়লে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

হেপাটাইটিস বি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়

হেপাটাইটিস বি একটি নিরাপদ ও কার্যকর টিকার মাধ্যমে প্রায় ১০০ শতাংশ প্রতিরোধযোগ্য।

বাংলাদেশে ২০০৩–২০০৫ সাল থেকে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্মের পর বিনামূল্যে এ টিকা দেওয়া হচ্ছে। পূর্ণবয়স্করাও যেকোনো বয়সে ০, ১ ও ৬ মাসে মোট ৩ ডোজ টিকা নিয়ে সুরক্ষা পেতে পারেন।

তবে টিকা নেওয়ার আগে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে হয়—আগে ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন কি না বা শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়েছে কি না। একবার সংক্রমিত হলে টিকা আর কার্যকর নয়।

সম্ভাব্য জটিলতা

দীর্ঘস্থায়ী লিভার রোগ

সিরোসিস

লিভার ক্যান্সার

লিভার ফেইলিওর

অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া

বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস বি ভয়ংকর হলেও সময়মতো সচেতনতা, টিকা ও চিকিৎসার মাধ্যমে একে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। নিয়মিত পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি মানাই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

সূত্র : যুগান্তর