খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ এএম
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশেরই আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞদের অনেকে।

ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা এ সংক্রান্ত গেজেটটি প্রকাশ করে।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা আইনত বারিত (করা যাবে না) হবে।”

তবে, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি ছিলো; সরকারও আশ্বাস দিয়েছিল।

পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা কার্যকর করার পর আন্দোলনকারীরা অধ্যাদেশ জারির দাবি করলে তা রোববার জারি করা হয়।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কালকে সুনির্দিষ্ট না করা, ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসিতে তদন্তের স্থলে সংশোধনী না এনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের ভার দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এখতিয়ার না থাকলেও হত্যার মতো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের ভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ন্যস্ত করার সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

একইসাথে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সংসদ কার্যকর হওয়ার পরে এখন যেসব অধ্যাদেশ পাস করছে, সেগুলোর কোনো অর্থ থাকবে না বলে জানান মি. মালিক।

এদিকে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দাবি করেন, অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগই নাই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের এই অধ্যাদেশে কোনো অবস্থাতেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো বিচারের বিধান করা হয় নাই। এখানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কহীন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে যেমন, কোনো সম্পত্তির লোভে বা পূর্ব শত্রুতাবশত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে একদম সম্পর্কহীনভাবে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড করা হয় সেটার বিচারের কথা বলা হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নাই।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হত্যার অভিযোগ ও তদন্ত ভার দেওয়ার বিষয়ে মি. নজরুল বলেন, “আমরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে দিয়েছি যাতে মানুষের হয়রানি কম হয়।”

অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণ অভ্যুত্থানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।

এই অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণ অভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জুলাই গণ অভ্যুত্থান বলেও এতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৪৪ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপক সহিংসতায় প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪৪ জন্য সদস্যের মৃত্যুর তথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক এই অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি মনে করেন, “বিচার পাওয়ার অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ঢালাওভাবে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না।”

অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়ে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ-২০০৩, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মি. মালিক বলছেন, এইসব দায়মুক্তিগুলোকেই পরবর্তীতে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছিলো।

মি. মালিক জানান, যেদিন সংসদ অধিবেশন বসবে সেদিন সকল অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করতে হবে।

ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে আর যদি বাতিল না হয় তবে ৩০ দিনের মধ্যেই সকল অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে বলে জানান তিনি।

‘তদন্তের এখতিয়ার কই মানবাধিকার কমিশনের’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণ অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে।

কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না।

তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

এদিকে, আইনজীবীরা বলছেন, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যা মামলা দায়ের করার যে প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, “এই অধ্যাদেশে মামলা করার একটা এক্সেপশন দিচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে যদি কেউ হত্যা করে তবেই মামলা দায়ের করা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারে নিযুক্ত পিপি বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবীদের প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে।”

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে যারা বিভিন্ন রকমের ব্যক্তিগত কাজে এই ঘোলাটে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন তাদের বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হলেও “কিন্তু এই অবস্টেকলগুলা আবার রয়ে গেলো। এই অবস্টেকলগুলা না থাকলে বরং সরাসরি মামলা করার অপশন থাকলে ভালো হতো” বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় তদন্তের এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফৌজদারি মামলায় শুধুমাত্র সাব- ইন্সপেক্টরের নিম্নে নহে এমন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “মার্ডারের মতো সিরিয়াস অফেন্সের তদন্তের ক্ষমতা দিচ্ছে কাকে প্রাইমারিলি যার কথার ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হবে সেটা হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই এখতিয়ার কই? মূল আইনে সংশোধনী কই? ফলে পুরোটাই একটা জগাখিচুড়ি প্রসেস।”

ওই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং সরকার পতনের পরে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের ওই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানা যায়।

অভ্যুত্থানকারীদের ওপর চলা সহিংসতার জন্য তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ভবিষ্যতে এই পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন,”ইনডেমনিটি ব্যাপারটা অলওয়েজই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং হতে বাধ্য। ধরেন পুলিশের বিভিন্ন থানায় অ্যাটাক হইছে। অনেক পুলিশ হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশের পরিবাররা যদি কোনো কারণে ভবিষ্যতে ধরেন ২০ বছর পরে রেজিম চেঞ্জ হয় তাহলে ওরা ইনডেমনিটি বাতিল হয়ে আবার ট্রায়ালের চেষ্টা করবে। ওরা ক্ষতিগ্রস্তরা আসবে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৭:১১ এএম
ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া: কী বলে ইসলাম?

পবিত্র ঈদুল ফিতর মানেই আনন্দ, ভালোবাসা আর পারস্পরিক সম্পর্কের বন্ধনকে নতুন করে দৃঢ় করার এক মহিমান্বিত উপলক্ষ। এদিন ছোটদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং আপনজনদের সঙ্গে হৃদ্যতার সম্পর্ক আরও গভীর করতে আমাদের সমাজে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়ার একটি সুন্দর প্রচলন রয়েছে।

তবে এই প্রথার ধর্মীয় অবস্থান কী, এটি কি ইবাদত, নাকি কেবল সামাজিক রীতি? শরিয়তের দৃষ্টিতে বিষয়টি বোঝা জরুরি, যেন আমরা আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি ইসলামের সঠিক নির্দেশনাও মেনে চলতে পারি।

রাজধানীর জামিয়াতুল ইসলামিয়া বায়তুস সালামের ফতোয়া বিভাগীয় প্রধান মুফতি আবদুর রহমান হোসাইনী বলেন, ইসলামের মূলনীতি হলো, যে কোনো কাজ ততক্ষণ বৈধ, যতক্ষণ না তা শরিয়তের কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞার মধ্যে পড়ে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে ঈদের দিনে কাউকে খুশি করার উদ্দেশে অর্থ বা উপহার দেওয়া নিঃসন্দেহে বৈধ। বরং হাদিসে উপহার আদান-প্রদানের মাধ্যমে ভালোবাসা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। তাই ছোটদের আনন্দ দেওয়া, আত্মীয়তার সম্পর্ক দৃঢ় করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর নিয়তে ঈদ সালামি দেওয়া-নেওয়া একটি সুন্দর ও প্রশংসনীয় আমল হতে পারে।

তবে একটি বিষয় পরিষ্কারভাবে মনে রাখতে হবে, ঈদ সালামি কোনো ইবাদত নয় এবং এটি ইসলামের নির্ধারিত কোনো বিধানও নয়। এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রথা মাত্র। সুতরাং একে বাধ্যতামূলক মনে করা বা না দিলে দোষারোপ করা ঠিক নয়।

আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ তার ইউটিউব চ্যানেলে এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘ইসলামে সালামের পরিভাষা রয়েছে। কোরআনে আছে, ‘তোমাদেরকে কেউ যদি কোনো অভিবাদন জানায় বা সালাম পেশ করে, তাহলে সে যে ভাষায় তোমাকে সালাম দিয়েছে, সে ভাষায় তুমি জবাব দাও। অথবা এর চেয়ে উত্তম শব্দ ব্যবহার করে সালাম দাও।’ হজরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদেরকে সালাম দিতে নির্দেশ করেছেন। মুখ দিয়ে উচ্চারণ করে পরস্পরের শান্তি কামনা করা হলো সালাম।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঈদের সালামি পেতে বাচ্চারা বড়দের সালাম দিলে তারা সালামের উত্তর দেবেন। সালামের জবাব দিয়ে তাদের কিছু হাদিয়া দেবেন, এটা আমাদের দেশের সংস্কৃতি। এতে কোনো অসুবিধা নেই। কোরআন-হাদিসের সঙ্গে এর কোনো সংঘর্ষ নেই। পা ছুঁয়ে সালাম করলে সালামি দিতে হবে, এটা থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। সে সালাম দিলে জবাব দিয়ে তাকে সালামি দিয়ে দেওয়া উচিত। পা ছুঁয়ে সালাম করতে তাকে বাধ্য করা উচিত নয়।’

সূত্র : কালবেলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।