খুঁজুন
, ,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশেরই আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞদের অনেকে।

ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা এ সংক্রান্ত গেজেটটি প্রকাশ করে।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা আইনত বারিত (করা যাবে না) হবে।”

তবে, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি ছিলো; সরকারও আশ্বাস দিয়েছিল।

পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা কার্যকর করার পর আন্দোলনকারীরা অধ্যাদেশ জারির দাবি করলে তা রোববার জারি করা হয়।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কালকে সুনির্দিষ্ট না করা, ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসিতে তদন্তের স্থলে সংশোধনী না এনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের ভার দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এখতিয়ার না থাকলেও হত্যার মতো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের ভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ন্যস্ত করার সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

একইসাথে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সংসদ কার্যকর হওয়ার পরে এখন যেসব অধ্যাদেশ পাস করছে, সেগুলোর কোনো অর্থ থাকবে না বলে জানান মি. মালিক।

এদিকে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দাবি করেন, অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগই নাই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের এই অধ্যাদেশে কোনো অবস্থাতেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো বিচারের বিধান করা হয় নাই। এখানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কহীন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে যেমন, কোনো সম্পত্তির লোভে বা পূর্ব শত্রুতাবশত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে একদম সম্পর্কহীনভাবে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড করা হয় সেটার বিচারের কথা বলা হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নাই।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হত্যার অভিযোগ ও তদন্ত ভার দেওয়ার বিষয়ে মি. নজরুল বলেন, “আমরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে দিয়েছি যাতে মানুষের হয়রানি কম হয়।”

অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণ অভ্যুত্থানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।

এই অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণ অভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জুলাই গণ অভ্যুত্থান বলেও এতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৪৪ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপক সহিংসতায় প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪৪ জন্য সদস্যের মৃত্যুর তথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক এই অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি মনে করেন, “বিচার পাওয়ার অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ঢালাওভাবে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না।”

অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়ে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ-২০০৩, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মি. মালিক বলছেন, এইসব দায়মুক্তিগুলোকেই পরবর্তীতে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছিলো।

মি. মালিক জানান, যেদিন সংসদ অধিবেশন বসবে সেদিন সকল অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করতে হবে।

ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে আর যদি বাতিল না হয় তবে ৩০ দিনের মধ্যেই সকল অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে বলে জানান তিনি।

‘তদন্তের এখতিয়ার কই মানবাধিকার কমিশনের’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণ অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে।

কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না।

তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

এদিকে, আইনজীবীরা বলছেন, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যা মামলা দায়ের করার যে প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, “এই অধ্যাদেশে মামলা করার একটা এক্সেপশন দিচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে যদি কেউ হত্যা করে তবেই মামলা দায়ের করা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারে নিযুক্ত পিপি বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবীদের প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে।”

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে যারা বিভিন্ন রকমের ব্যক্তিগত কাজে এই ঘোলাটে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন তাদের বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হলেও “কিন্তু এই অবস্টেকলগুলা আবার রয়ে গেলো। এই অবস্টেকলগুলা না থাকলে বরং সরাসরি মামলা করার অপশন থাকলে ভালো হতো” বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় তদন্তের এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফৌজদারি মামলায় শুধুমাত্র সাব- ইন্সপেক্টরের নিম্নে নহে এমন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “মার্ডারের মতো সিরিয়াস অফেন্সের তদন্তের ক্ষমতা দিচ্ছে কাকে প্রাইমারিলি যার কথার ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হবে সেটা হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই এখতিয়ার কই? মূল আইনে সংশোধনী কই? ফলে পুরোটাই একটা জগাখিচুড়ি প্রসেস।”

ওই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং সরকার পতনের পরে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের ওই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানা যায়।

অভ্যুত্থানকারীদের ওপর চলা সহিংসতার জন্য তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ভবিষ্যতে এই পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন,”ইনডেমনিটি ব্যাপারটা অলওয়েজই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং হতে বাধ্য। ধরেন পুলিশের বিভিন্ন থানায় অ্যাটাক হইছে। অনেক পুলিশ হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশের পরিবাররা যদি কোনো কারণে ভবিষ্যতে ধরেন ২০ বছর পরে রেজিম চেঞ্জ হয় তাহলে ওরা ইনডেমনিটি বাতিল হয়ে আবার ট্রায়ালের চেষ্টা করবে। ওরা ক্ষতিগ্রস্তরা আসবে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”