খুঁজুন
, ,

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জান্নাতুল তানভী
প্রকাশিত: বুধবার, ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৪ পূর্বাহ্ণ
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের আইনি ছাতা, ভবিষ্যতের পথে কী বার্তা?

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের সুরক্ষা দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। এই অধ্যাদেশেরই আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও আইনজ্ঞদের অনেকে।

ভবিষ্যতে এই অধ্যাদেশ আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।

রোববার আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখা এ সংক্রান্ত গেজেটটি প্রকাশ করে।

এই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, “জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার করা হবে এবং নতুন করে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা দায়ের করা আইনত বারিত (করা যাবে না) হবে।”

তবে, কোনো গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকলে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করা যাবে এবং কমিশন অভিযোগ তদন্তের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

অধ্যাদেশে এই হত্যাকাণ্ডের সংজ্ঞা হিসেবে ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে উল্লেখ করা হয়েছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে আন্দোলনকারীদের দায়মুক্তি দেওয়ার দাবি ছিলো; সরকারও আশ্বাস দিয়েছিল।

পরে বিভিন্ন পর্যায়ে তা কার্যকর করার পর আন্দোলনকারীরা অধ্যাদেশ জারির দাবি করলে তা রোববার জারি করা হয়।

কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময়কালকে সুনির্দিষ্ট না করা, ফৌজদারি কার্যবিধি বা সিআরপিসিতে তদন্তের স্থলে সংশোধনী না এনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের ভার দেওয়াসহ পুরো প্রক্রিয়াই ভবিষ্যতে আইনি প্রশ্নের মুখে পড়বে।

এখতিয়ার না থাকলেও হত্যার মতো ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের ভার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে ন্যস্ত করার সমালোচনা করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক।

একইসাথে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরে সংসদ কার্যকর হওয়ার পরে এখন যেসব অধ্যাদেশ পাস করছে, সেগুলোর কোনো অর্থ থাকবে না বলে জানান মি. মালিক।

এদিকে, এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি দাবি করেন, অধ্যাদেশ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগই নাই।

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমাদের এই অধ্যাদেশে কোনো অবস্থাতেই জুলাই গণ অভ্যুত্থানকারীদের হত্যাকাণ্ডের জন্য কোনো বিচারের বিধান করা হয় নাই। এখানে জুলাই গণ অভ্যুত্থানের সাথে সম্পর্কহীন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে যেমন, কোনো সম্পত্তির লোভে বা পূর্ব শত্রুতাবশত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সাথে একদম সম্পর্কহীনভাবে যদি কোনো হত্যাকাণ্ড করা হয় সেটার বিচারের কথা বলা হয়েছে। কাজেই এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কোনো সুযোগ নাই।”

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে হত্যার অভিযোগ ও তদন্ত ভার দেওয়ার বিষয়ে মি. নজরুল বলেন, “আমরা মানবাধিকার কমিশনের কাছে দিয়েছি যাতে মানুষের হয়রানি কম হয়।”

অধ্যাদেশে যা বলা হয়েছে

২০২৪ সালের জুলাই ও অগাস্ট মাসে ছাত্রজনতার সম্মিলিত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সংঘটিত গণ অভ্যুত্থানকে জুলাই গণঅভ্যুত্থান বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই অধ্যাদেশে।

এই অধ্যাদেশে ২০২৪ সালের পহেলা জুলাই থেকে শুরু হওয়া জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পক্ষে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতাকে ‘গণ অভ্যুত্থানকারী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

ফ্যাসিস্ট শাসকের পতন ঘটানোর মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে এই জুলাই গণ অভ্যুত্থান বলেও এতে বলা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই-অগাস্টে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে কয়েকশো মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সরকারি হিসাবে জুলাই অভ্যুত্থানে ৮৪৪ জন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে ব্যাপক সহিংসতায় প্রায় ১৪০০ মানুষ প্রাণহানির তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘ। পুলিশ, বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪৪ জন্য সদস্যের মৃত্যুর তথা রয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিক এই অধ্যাদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

তিনি মনে করেন, “বিচার পাওয়ার অধিকার নাগরিকের মৌলিক অধিকার। ঢালাওভাবে কাউকে দায়মুক্তি দেওয়া যায় না।”

অপারেশন ক্লিনহার্ট নিয়ে যৌথ অভিযান দায়মুক্তি অধ্যাদেশ-২০০৩, কুইক রেন্টাল প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে মি. মালিক বলছেন, এইসব দায়মুক্তিগুলোকেই পরবর্তীতে আদালত অবৈধ ঘোষণা করেছিলো।

মি. মালিক জানান, যেদিন সংসদ অধিবেশন বসবে সেদিন সকল অধ্যাদেশগুলো উত্থাপন করতে হবে।

ওই অধ্যাদেশ বাতিল করে সংসদ সিদ্ধান্ত নিবে আর যদি বাতিল না হয় তবে ৩০ দিনের মধ্যেই সকল অধ্যাদেশ কার্যকারিতা হারাবে বলে জানান তিনি।

‘তদন্তের এখতিয়ার কই মানবাধিকার কমিশনের’

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী, যদি কোনো গণ অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ড সংঘটনের অভিযোগ থাকে, তবে তা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে দাখিল করতে হবে।

কমিশন তদন্ত করে যদি দেখে যে সংশ্লিষ্ট কার্যটি ‘রাজনৈতিক প্রতিরোধের’ অংশ ছিল, তবে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কোনো মামলা চলবে না।

তবে কমিশন চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জন্য সরকারকে আদেশ দিতে পারবে।

এদিকে, আইনজীবীরা বলছেন, অধ্যাদেশ অনুযায়ী ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে হত্যা মামলা দায়ের করার যে প্রক্রিয়া উল্লেখ করা হয়েছে সেটিও ত্রুটিপূর্ণ।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলছেন, “এই অধ্যাদেশে মামলা করার একটা এক্সেপশন দিচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে যদি কেউ হত্যা করে তবেই মামলা দায়ের করা যাবে। সেক্ষেত্রে সরকারে নিযুক্ত পিপি বা অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের আইনজীবীদের প্রত্যয়ন পত্র লাগবে। এতে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে।”

তবে জুলাই অভ্যুত্থানের আড়ালে যারা বিভিন্ন রকমের ব্যক্তিগত কাজে এই ঘোলাটে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছে, সেটার পরিপ্রেক্ষিতে যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, ভিকটিম হয়েছেন তাদের বিচার পাওয়ার একটা সুযোগ তৈরি হলেও “কিন্তু এই অবস্টেকলগুলা আবার রয়ে গেলো। এই অবস্টেকলগুলা না থাকলে বরং সরাসরি মামলা করার অপশন থাকলে ভালো হতো” বলে মনে করেন এই আইনজীবী।

ফৌজদারি কার্যবিধি,১৮৯৮ অনুযায়ী, ফৌজদারি মামলায় তদন্তের এখতিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। ফৌজদারি মামলায় শুধুমাত্র সাব- ইন্সপেক্টরের নিম্নে নহে এমন কর্মকর্তা তদন্ত করবেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, “মার্ডারের মতো সিরিয়াস অফেন্সের তদন্তের ক্ষমতা দিচ্ছে কাকে প্রাইমারিলি যার কথার ভিত্তিতে মামলা নেওয়া হবে সেটা হচ্ছে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু মানবাধিকার কমিশনের এই এখতিয়ার কই? মূল আইনে সংশোধনী কই? ফলে পুরোটাই একটা জগাখিচুড়ি প্রসেস।”

ওই অভ্যুত্থানের মধ্যে এবং সরকার পতনের পরে বিক্ষোভকারীদের রোষের মুখে পড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

সরকারি বিভিন্ন স্থাপনায় ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সরকার পতনের ওই আন্দোলন ঘিরে সহিংসতায় ৪৪ পুলিশ সদস্য নিহত হওয়ার খবর জানা যায়।

অভ্যুত্থানকারীদের ওপর চলা সহিংসতার জন্য তৎকালীন সরকারের কর্তাব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিচার করছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।

ভবিষ্যতে এই পুরো প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হবে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন,”ইনডেমনিটি ব্যাপারটা অলওয়েজই প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং হতে বাধ্য। ধরেন পুলিশের বিভিন্ন থানায় অ্যাটাক হইছে। অনেক পুলিশ হত্যার শিকার হয়েছেন। পুলিশের পরিবাররা যদি কোনো কারণে ভবিষ্যতে ধরেন ২০ বছর পরে রেজিম চেঞ্জ হয় তাহলে ওরা ইনডেমনিটি বাতিল হয়ে আবার ট্রায়ালের চেষ্টা করবে। ওরা ক্ষতিগ্রস্তরা আসবে।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

‘যোগ্য গাইড, যোগ্য নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্প-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য ‘মহা তাঁবু জলসা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, তাঁর সহধর্মিনী ফারজানা খান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল, বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেহেনা জাহান রানি, উপজেলা কমিশনার মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

​এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁবু জলসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা গাইডিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, অনুশাসন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী গার্ল গাইডদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ পুরো গাইড ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।

​হালিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা রেহেনা প্রিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে ফরিদপুর সদরসহ জেলার ৯টি উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের মোট ১৭৫ জন গার্ল গাইড সদস্য অংশ নেয়।

মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা: বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

নিকোলাস বিশ্বাস
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩৩ অপরাহ্ণ
মানবতার নিঃশব্দ পদচারণা:  বাংলাদেশে ইতালীয়দের অবদান ও ঐতিহাসিক স্বীকৃতি

সীমানা, ভৌগোলিক দূরত্ব ও ধর্মীয় পরিচয়ের সংকীর্ণ গণ্ডি অতিক্রম করে নিঃস্বার্থ মানবসেবায় নিজেদের জীবন উৎসর্গ করার ইতিহাস এ পৃথিবীতে বিরল নয়, তবে স্বাধীন বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের দীর্ঘ কয়েক দশকের নীরব ত্যাগ ও আত্মনিবেদন সেই ইতিহাসকে এক অনন্য ও মহিমান্বিত উচ্চতায় উন্নীত করেছে।

দক্ষিণবঙ্গের ঝোড়ো উপকূলীয় অঞ্চলের কুষ্ঠ ও যক্ষ্মারোগী থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের সমতলের সাঁওতাল সম্প্রদায় কিংবা পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি উপত্যকার সুবিধাবঞ্চিত শিশু -এদেশের অবহেলিত, চরম শোষিত ও প্রান্তিক মানুষের পাশে এই ইতালীয় ধর্মযাজক ও সন্ন্যাসিনীরা দাঁড়িয়েছেন পরম মমতায় ও পরম অভিভাবকত্বে। সম্প্রতি ইতালীয় প্রজাতন্ত্রের মহামান্য প্রেসিডেন্ট সার্জিও মাত্তারেলা কর্তৃক দুই নিবেদিতপ্রাণ ইতালীয় মিশনারি – সিস্টার রবার্টা পিনিওনে (Sister Roberta Pignone) এবং ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (Father Pietro Luigi Lupi) -কে ইতালির অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় নাইট সম্মাননা ‘Cavaliere dell’Ordine della Stella d’Italia’ (অর্ডার অব দ্য স্টার অব ইতালি) -তে ভূষিত করা কেবল তাঁদের ব্যক্তিসত্তার অনন্য মূল্যায়ন নয়; বরং এটি বাংলাদেশে তাঁদের যুগের পর যুগ ধরে চলা পালকীয়, চিকিৎসাসেবা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের প্রতি এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি। এ স্বীকৃতি ক্যাথলিক মণ্ডলীর সেবাকে নতুন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছে এবং বাংলাদেশে বসবাসরত সমগ্র ইতালীয় সম্প্রদায়ের জন্য বয়ে এনেছে এক অনন্য গৌরব।

এটি ইতালির একটি অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্রীয় বেসামরিক সম্মাননা। বিদেশে ইতালির ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করা এবং অন্য দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তিদের এই ‘নাইট’ উপাধি দেওয়া হয়।

স্বাস্থ্যখাতে, বিশেষ করে দক্ষিণ বাংলাদেশের অবহেলিত চিকিৎসা ব্যবস্থায় সিস্টার রবার্টা পিনিওনের অবদান এক মহাকাব্যিক ও অবিশ্বাস্য দৃষ্টান্ত। ‘মিশনারি সিস্টার্স অব দি ইমাকুলেট’ (বাংলাদেশে এরা পিমে সিস্টার্স – PIME Sisters নামে পরিচিত) ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী সংঘের এই উৎসর্গীকৃতপ্রাণ পেশায় একজন দক্ষ চিকিৎসক। তিনি মূলত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয়, দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবায় নিজেকে পুরোপুরি বিলিয়ে দিয়েছেন। খুলনা ধর্মপ্রদেশের অন্তর্গত ঐতিহাসিক ড্যামিয়েন হাসপাতালের (Damien Hospital) প্রকল্প পরিচালক এবং একমাত্র সার্বক্ষণিক চিকিৎসক হিসেবে সিস্টার রবার্টা পিনিওন দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে কুষ্ঠ (Leprosy), যক্ষ্মা (TB) এবং এইচআইভি/এইডস (AIDS) আক্রান্ত চরম সামাজিক অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার রোগীদের জন্য এই ড্যামিয়েন হাসপাতালটিই হলো একমাত্র বিশেষায়িত চিকিৎসাকেন্দ্র। সিস্টার রবার্টা এখানে ৩৩ শয্যার মূল হাসপাতালটি দক্ষতার সাথে পরিচালনার পাশাপাশি আরো ৩টি গ্রামীণ ক্লিনিক এবং ১৫টি যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র তদারকি করেন। শুধু হাসপাতালের চার দেয়ালের মধ্যে নিজের সেবাকে সীমাবদ্ধ না রেখে, তিনি খুলনার ভয়াবহ ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলোতে এবং অত্যন্ত দরিদ্র পরিবারগুলোর দরজায় দরজায় ঘুরে প্রাথমিক স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও বিনামূল্যে মানসম্মত ওষুধ বিতরণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজে কুষ্ঠ ও যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীরা যেন সামাজিক কুসংস্কার, ছোঁয়াচে ভয় ও বৈষম্যের শিকার হয়ে পরিবারচ্যুত না হন, সেই লক্ষ্যে তাঁর নিরলস মানসিক ও সামাজিক সংগ্রাম চিকিৎসা খাতকে অতিক্রম করে এক মানবিক ও রূপান্তরকামী আন্দোলনে উন্নীত হয়েছে।

অন্যদিকে, শিক্ষা বিস্তার, সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সুরক্ষা এবং ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় ফাদার পিয়েত্রো লুইজি লুপি (যাঁকে এদেশের মানুষ ভালোবেসে ফাদার লুপি নামে ডাকেন) এক নীরব অথচ গভীর সামাজিক বিপ্লব ঘটিয়ে চলেছেন। ইতালীয় ক্যাথলিক সংঘ ‘জ্যভেরিয়ান ফাদার্স’ (Xaverian Fathers) -এর সম্মানিত পুরোহিত এবং বাংলাদেশে এই সংঘের সাবেক আঞ্চলিক সুপিরিয়র (Regional Superior) হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছেন। এদেশের দরিদ্র, অসহায় ও জাতিগত সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও তাঁদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয়। বিশেষ করে সাতক্ষীরা ও খুলনা অঞ্চলের চরম অবহেলিত ও প্রান্তিক ‘দলিত’ (Dalit) সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে ফাদার লুপির দূরদর্শী ভূমিকা অসাধারণ। তাঁর নিরবচ্ছিন্ন উৎসাহ, দিকনির্দেশনা ও প্রত্যক্ষ সহায়তায় স্থানীয় দলিত যুবকরা উচ্চশিক্ষা অর্জনের সুযোগ পেয়েছেন এবং নিজেদের আইনি ও সামাজিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘দলিত’ নামক শক্তিশালী এনজিও গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। কেবল গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীই নয়, ঢাকার তেজগাঁও রেলস্টেশন সংলগ্ন নোংরা ও বিপজ্জনক বস্তি এলাকার ছিন্নমূল শিশুরা যেন কঠোর শিশুশ্রম ও অপরাধের অন্ধকার জগতে না হারিয়ে শিক্ষার আলো পায়, তার জন্য তিনি সমন্বিত স্কুল ও ডে-কেয়ার সেন্টার পরিচালনা করেছেন। পাশাপাশি বান্দরবানের লামার মতো দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিশুদের শিক্ষাদানে তিনি নিজেকে যুক্ত রেখেছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া অমানবিক পরিস্থিতির শিকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা সুনিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তাঁদের আর্তপীড়িত কণ্ঠস্বর তুলে ধরতেও ফাদার লুপি নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্যেও তিনি আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশে ইতালীয় মিশনারিদের এই নিঃস্বার্থ সেবা এবং প্রেমের ইতিহাস কেবল সাম্প্রতিক দশকগুলোর ঘটনাবলী নয়; এর রক্তের ও আত্মার শক্ত শেকড় প্রোথিত রয়েছে আমাদের ১৯৭১ সালের গৌরবময় মহান মুক্তিযুদ্ধে। পাকিস্তানি বাহিনীর পাশবিক বর্বরতা ও গণহত্যার মুখে জ্যভেরিয়ান (Xaverian) এবং পিমে (PIME) Missions -এর ইতালীয় পুরোহিতগণ নিজেদের গির্জা, মিশন ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোকে চরম প্রাণভয় উপেক্ষা করে এলাকার ভীত-সন্ত্র্যস্থ আপামর জনসাধারণের জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থানে পরিণত করেছিলেন। তাঁরা স্বাধীনতাকামী মানুষের পাশে পরম বন্ধুর মতো দাঁড়িয়েছিলেন। বিশেষভাবে ফাদার মারিনো রিগন আমাদের বানিয়ারচর ধর্মপল্লীতে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপন আশ্রয়ে রেখে চিকিৎসা দিয়েছেন ও নিরাপত্তা নিশ্চিৎ করেছেন। এই বীরত্বপূর্ণ মানবিক অবদান ও অকৃত্রিম বন্ধুত্বের ঐতিহাসিক স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার জ্যভেরিয়ান মিশনারি ফাদার মারিনো রিগনকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ (Friends of Liberation War Honour) প্রদান করে।

ফাদার মারিনো রিগন ছিলেন এদেশের ইতালীয় মিশনারিদের মধ্যে এক উজ্জ্বলতম নক্ষত্র। দীর্ঘ ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে তিনি শিক্ষা বিস্তার ও মানবসেবার পাশাপাশি বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে ভালোবেসেছিলেন আপন হৃদয়ে। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কবি জসীমউদ্দীনের বিখ্যাত সাহিত্যকর্ম ইতালি ভাষায় অনুবাদ করে তিনি বিশ্ব দরবারে বাঙলা সাহিত্যকে নতুন করে তুলে ধরেছিলেন। এ অসামান্য অবদানের জন্য ২০০৯ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে অনন্য সম্মানসূচক নাগরিকত্ব (Honorary Citizenship) প্রদান করে। ২০১৭ সালে তিনি ইতালিতে মৃত্যুবরণ করলেও, তাঁর শেষ ইচ্ছা ছিল এই প্রিয় বাংলার মাটিতেই শায়িত হওয়ার। সেই আকুল ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ ও ঐতিহাসিক উদ্যোগে তাঁর মরদেহ ইতালির রোম থেকে মোংলার শেলাবুনিয়া গ্রামে নিয়ে আসা হয়। সেখানে বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং সম্পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে সমাহিত করা হয়।

এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের সাঁওতাল ও অন্যান্য ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন, ভূমি অধিকার ও শিক্ষার প্রসারে ফাদার পাওলো চিচেরি সহ বহু ইতালীয় পিমে (PIME) মিশনারির ঐতিহাসিক ভূমিকা স্থানীয় প্রশাসন ও জাতীয় পর্যায়ে সবসময় ভূয়সী প্রশংসা লাভ করেছে। এই মহান ত্যাগের বার্তা শুধু সেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এটি মূলত ধর্মীয় সম্প্রীতি ও মানবিক মেলবন্ধনের এক পরম শিক্ষা। বাংলাদেশের প্রথম কার্ডিনাল প্যাট্রিক ডি’রোজারিও সিএসসি যথার্থই মন্তব্য করেছেন যে, বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক অনাস্থা ও ভুল ধারণা দূর করতে খ্রিস্টানদের সম্প্রীতির সেতু হিসেবে কাজ করা অপরিহার্য। আন্তধর্মীয় সংলাপ ও প্রত্যক্ষ ভালোবাসার মাধ্যমে গড়ে ওঠা এই মানবিক সম্পর্কই সমাজকে সুন্দর ও শান্তিময় করে তুলতে পারে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে যখন বৈশ্বিক মেরুকরণ, অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা ও বর্ণবাদী অসহিষ্ণুতা বিস্তার লাভ করছে, ঠিক সেই সময়ে দাঁড়িয়ে এই ইতালীয় মিশনারিদের আত্মত্যাগী জীবন আমাদের নতুন করে শেখায় যে – প্রকৃত মানবধর্ম কোনো ভৌগোলিক সীমানা, জাতীয়তা বা প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ থাকে না। সিস্টার রবার্টা ও ফাদার লুপির মতো দূরদর্শী সাধকেরা এদেশের স্বাস্থ্য ও সামাজিক রূপান্তর সূচকে যে নীরব অবদান রেখে চলছেন, তা বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের মূল শক্তিস্বরূপ। এ সম্পর্ক কেবল ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনীতির ওপর ভিত্তি করে গঠিত নয়, বরং এটি গঠিত হয়েছে রক্তের, মমতার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার এক ইস্পাতকঠিন ভিতের ওপর। বাংলাদেশের এই নিভৃত আলো ছড়ানো বিদেশি বন্ধুদের প্রতি রাষ্ট্র, সমাজ ও এদেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের বিনম্র শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

নিকোলাস বিশ্বাস একজন মিডিয়া ফ্রিল্যান্সার এবং জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA) মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত লেখক। যোগাযোগ: gonomaddzam@gmail.com  

ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাত দফা দাবিতে দলিল লেখকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ফরিদপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে জেলা দলিল লেখক সমিতি।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা দলিল লেখকদের অংশগ্রহণে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে ঘণ্টাব্যাপী বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

​ফরিদপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, মো. শাহাদাত হোসেন, গোলাম মহিউদ্দিন, ফরিদ হোসেন, আব্দুল কুদ্দুস, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, ইলিয়াস খান ও আনিসুর রহমান। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এ বি মুস্তাফিজুর রহমান।

​সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের রাজস্ব আদায়ে দলিল লেখকরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চললেও তারা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে এই পেশা বন্ধের চক্রান্ত করা হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এর সঙ্গে জড়িত বিপুলসংখ্যক পরিবার চরম অর্থকষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বে।

​অবিলম্বে সাত দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তারা বলেন, দাবি না মানলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী ১০ অক্টোবর ফরিদপুরে বিভাগীয় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানানো হয়।

​দলিল লেখক সমিতির মূল দাবিগুলো হলো- রেজিস্ট্রেশন আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, ​প্রতি দলিলের জন্য ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা নির্ধারণ, ​লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কারও তৈরি দলিল দাখিলের সুযোগ বন্ধে প্রজ্ঞাপন জারি, ​বিভিন্ন কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞদের লাইসেন্স না দেওয়া, ​থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে বসার ব্যবস্থা ও প্রার্থনাকক্ষ নির্মাণ, ​পেশাগত কাজের কারণে দলিল লেখকদের আসামি না করা এবং দ্রুত ‘দলিল লেখক কাউন্সিল’ গঠনের অনুমতি প্রদান।