খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬, ২৪ বৈশাখ, ১৪৩৩

ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

সজল দাস
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
ভোটের মাঠে উত্তেজনার পারদ: কেন এতো ডিম, হাতাহাতি ও ভাঙচুর?

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে দলের শীর্ষ নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর বিভিন্ন জেলার তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় নির্বাচনের আগেই ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে কি না এমন প্রশ্ন সামনে আসছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন থাকবে–– এ নিয়ে বেশ আগে থেকেই উদ্বেগ জানিয়ে আসছিলেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিশেষ করে, নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর কদিন আগে দুর্বৃত্তের গুলিতে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর পর এই শঙ্কা বাড়তি মাত্রা পেয়েছিল।

বিভিন্ন জেলার সাংবাদিক ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে এবং গণমাধ্যমে আসা খবর থেকে জানা যাচ্ছে, অন্তত ১০টি জেলায় নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক সহিংসতা হয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে ডিম হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যা নিয়ে তিনি অভিযোগ তুলেছেন তার প্রতিপক্ষ বিএনপির দিকে।

বুধবার শেরপুরে ‘নির্বাচনি ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে’ চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সম্প্রতি সংঘর্ষে জড়ান শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াত কর্মী-সমর্থকরা।

ভোটের প্রচারণায় কথার লড়াই নতুন কিছু নয়। তবে সংঘাতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হতে পারে বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে যে আশঙ্কা-সাবধানবাণী উচ্চারণ করা হয়েছিল, নির্বাচনের মাঠে সেই পরিবেশই তৈরি হচ্ছে কি না সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে।

আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, সংঘাতের শঙ্কাও ততই বাড়ছে কি না এবং শেষ পর্যন্ত ভোটে তার প্রভাব পড়বে কি না সেই শঙ্কাও জানাচ্ছেন পর্যবেক্ষক-বিশ্লেষকরা।

প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতা কিংবা দলীয় প্রার্থীদের হুমকি-ধামকি ও বিশোদগারমূলক বক্তব্য নির্বাচনকে সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে বলেও মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে প্রচার-প্রচারণ কিংবা আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, শরীয়তপুর, সিরাজগঞ্জসহ অন্তত ১০ জেলায় বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘাত-সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব সংঘাতের বেশিরভাগই ঘটেছে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের সমর্থকদের মধ্যে।

ঢাকায় নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে সম্প্রতি ডিম হামলার শিকার হন ঢাকা- ৮ সংসদীয় আসনের জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এই ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তিনি।

অন্যদিকে জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর বিরুদ্ধে ‘উসকানিমূলক ও অশালীন’ বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিএনপি।

সব মিলিয়ে এই আসনে বিএনপি এবং জামায়াত-এনসিপি জোটের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে ভোটের মাঠে উত্তেজনা রয়েছে। সামাজিক মাধ্যমেও এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা।

চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী আমবাগান এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বুধবার বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

প্রচারণার সময় স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার এই ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। পরদিন দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘাতের ঘটনা ঘটে। প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে দুই দলই।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার নির্বাচনী প্রচারণার সময় মুখোমুখি হয়েছিল বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা। ওইদিন পুলিশের হস্তক্ষেপে উত্তেজনা না বাড়লেও পরদিন আবারও সংঘাতে জড়ায় তারা।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া পোস্টের জেরে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা।

নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাহার মিয়া বিবিসি বাংলাকে জানান, বিএনপি কর্মী গণভোটে ‘না’ এর পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন, এমন দাবি করে জামায়াতে ইসলামীর এক নারী কর্মীর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করেই সংঘাতে জড়াই দুই পক্ষ।

মি. বাহার বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। এই ঘটনায় পাল্টাপাল্টি মামলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে সিরাজগঞ্জ সদর সংসদীয় আসনে। এই ঘটনায় দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংঘাত যাতে আর না বাড়ে সেজন্য বিবাদমান দুই পক্ষের সঙ্গেই প্রশাসন কথা বলেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়া, নাটোর-১ লালপুর-বাগাতিপাড়া আসনে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নির্বাচনী ব্যানার পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীরা। নড়াইলে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগ করছেন একজন প্রার্থী।

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় গত রোববার বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন।

একই দিনে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় বিএনপি ও জামায়াতের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছেন।

ময়মনসিংহে বিএনপির প্রার্থী ও দলটির বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এখনো স্বাভাবিক, তবে শঙ্কা আছে

‘আর দোষারোপের রাজনীতিতে ফিরবেন না’ নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা অতীতে এমন কথা বললেও প্রচারণার শুরু থেকেই একে অন্যকে দোষারোপ এবং ইঙ্গিতপূর্ণ বক্তব্য দিচ্ছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা।

একে অন্যের বিরুদ্ধে প্রচারণায় বাধা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, হুমকিসহ নানা অভিযোগ যেমন আনছেন, তেমনি প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে অতীতের নানা বিষয়ও সামনে আনছেন কেউ কেউ।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই কথার লড়াইয়ে ছাড় দিচ্ছে না বিএনপি, জামায়াতসহ কোনো দলই।

এমন প্রেক্ষাপটে সব দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে আরও সহনশীল হতে বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষক ও রাজনীতি বিশ্লেষকরা। নির্বাচন কমিশনকেও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা।

নির্বাচন কমিশনকে যেকোনো ছোট ঘটনায়ও সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলছেন নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। তিনি বলছেন, নিরাপত্তা নিয়ে যে শঙ্কা বা নির্বাচন ব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে সেটিও কমিশনের জন্য চ্যালেঞ্জ।

“ছোট ছোট ঘটনাগুলোও কমিশনকে অ্যাড্রেস করতে হবে, যাতে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের শঙ্কাটা আস্থায় পরিণত হয়,” বলেন তিনি।

নির্বাচন সুষ্ঠু এবং সংঘাতমুক্ত রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার কথা বলছেন মি. আলীম।

“ইলেকশন কমিশন একা নির্বাচন করতে পারে না, সম্ভব না। প্রার্থীরা যদি নিয়ম না মানে তখন নির্বাচন কমিশন যদি সবাইকেও মাঠ থেকে বের করে দেয়, লাল কার্ড দেখায় তাহলে তো ইলেকশনই হবে না,” বলেন তিনি।

রাজনৈতিক দলের নেতাদেরকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংযত থাকার পরামর্শ বিশ্লেষকদের। মি. আলীম বলছেন, “কিছু কিছু ক্ষেত্রে তাদের বক্তব্যে উসকানির একটা আবহ আমি পাচ্ছি, তবে এটা পরিহার করা প্রয়োজন।”

প্রচারণা ঘিরে সংঘাত-সংঘর্ষের কিছু ঘটনা ঘটলেও নির্বাচনের আগে এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলেই মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক আসিফ মোহাম্মদ সাহান।

তিনি বলছেন, আচরণবিধি লঙ্ঘন, প্রচারণায় বাধাসহ যেসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশনের কাছে আসছে সেগুলো নজরে রাখা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলছেন, “আক্রমণাত্মক যে সমস্ত প্রচার-প্রচারণ চলছে সেটি যদি চলতে থাকে এবং ছোটখাটো যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলোতে যদি সরকার কোনো ধরনের উদাহরণ সৃষ্টি করতে না পারে, যদি মনে হয় যে এই ধরনের ঘটনা ঘটলে আপনি সহজে পার পেয়ে যাবেন, তাহলে পরিস্থিতি সামনের দিকে অনেক বেশি ভয়াবহ হবে,” বলেন মি. সাহান।

তবে নতুন ধারার রাজনীতির কথা বললেও ভোটের মাঠে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে রাজনৈতিক নেতারা আবারও পুরনো ধারাই অনুসরণ করছেন বলে মত এই বিশ্লেষকের।

অভ্যুত্থান পরবর্তী এই নির্বাচন নিয়ে অনেক কিছু পরিবর্তনের আশা থাকলেও “ট্রাডিশনালি ২০০১, ২০০৮ কিংবা ১৯৯৬ সালে যেমন হতো, এখনো প্রচারণা তেমনই হচ্ছে,” বিবিসি বাংলাকে বলেন তিনি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ
সালথায় যে কারণে থামছে না সংঘর্ষ? —কারণ ও প্রতিরোধের উপায়

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা মারামারি ও সংঘর্ষ প্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এখানকার স্থানীয় অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল কিংবা মাতুব্বররা এখানে লিড দিয়ে থাকেন। তারা তাদের দলে লোকজন ভিড়িয়ে আধিপত্য বিস্তার আর ক্ষমতার বলয় বৃদ্ধি করে থাকেন।

এরপর চলে এলাকায় আধিপত্য, দরবার-সালিশ, মামলা-হামলাসহ নানা কাহিনী। এভাবেই বৃদ্ধি পেয়েছে এ উপজেলার কাইজা, সংঘর্ষ আর বাড়ি-ঘর ভাংচুরের ঘটনা। এভাবেই কারো যাচ্ছে প্রাণ, কেউ হচ্ছেন বাড়ি হারা, কেউবা বরণ করছেন পঙ্গুত্ব।

যাহোক, এবার আসি কেন সালথা উপজেলায় মারামারি ও সংঘর্ষ বন্ধ হয় না—

এই উপজেলার মানুষ ধর্মপরায়ণ। তাইতো মাদ্রাসার সংখ্যাও বেশি, যেমন— বাহিরদিয়া মাদ্রাসা, পুরুরা মাদ্রাসা উল্লেখযোগ্য। মসজিদের সংখ্যাও অসংখ্য।

তবুও কেন থামছে না সংঘর্ষ—

‌> আধিপত্য বিস্তারের লড়াই:

মাতুব্বর তার আধিপত্য বিস্তার করতে এবং একক বলয় তৈরি করতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে সংঘর্ষ করে থাকেন। এরপর ঢাল, সরকি, রামদা, লাঠিসোঁটা আর ইটপাটকেল দিয়ে চলে সংঘর্ষ। এই সংঘর্ষে যদি নিজের পক্ষের কোনো লোকজন না যায় তবে তাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে থাকেন মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। এরপরও কাইজা বা সংঘর্ষে না গেলে যিনি কাইজায় না যান তার বাড়িতে হামলা-ভাংচুর করা, এছাড়া তাদের মারধর করা হয়। এ কারণে একজন নিরীহ মানুষ কাইজা বা সংঘর্ষে না যেতে চাইলেও বাধ্য করা হয়।

> জোর করে দলভুক্ত করা:

বিপীরত বা বিরোধী পক্ষের মাতুব্বরের লোকজনকে মারধর ও বাড়ি-ঘর ভাংচুর ও হুমকি-ধমকি দিয়ে নিজের পক্ষে নিয়ে নেন অপেক্ষাকৃত ক্ষমতাসীন মাতুব্বর কিংবা মোড়লরা। অতঃপর দলে ভিড়িয়ে তাদের দিয়েও কাইজা করান। না করলে হুমকি-ধামকি আর ভাংচুর চালায় তাদের বাড়িঘরেও।

> প্রতিবাদের পথ বন্ধ:

কেউ যদি মাতুব্বরের অপকর্ম নিয়ে কথা বলে কিংবা প্রতিবাদ করে তবে তাকে মারধর সহ মিথ্যা মামলায় জড়ান ওই মাতুব্বর ও তার অনুসারীরা। তাই ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনা।

> একপাক্ষিক সালিশ ব্যবস্থা:

এলাকায় কোনো ঘটনা ঘটলেই এই অশিক্ষিত ও অর্ধশিক্ষিত মোড়ল সালিশ ডেকে যে রায় দেন সেটাই মানতে হয়! ভয়ে কেউ সঠিক কথা বলতে পারেন না।

> সালিশকে আয়ের উৎস বানানো:

এরপর এই মোড়ল বা মাতুব্বররা এলাকায় যে কোনো ঘটনা মিমাংসার নামে সালিশ বসিয়ে উভয় পক্ষের কাছে থেকে বা যে কোনো এক পক্ষের কাছে থেকে টাকা বা জরিমানা আদায় করেন। অতঃপর সেখানে ভাগ বসানোর অভিযোগ রয়েছে অহঃরহ। কেউ প্রতিবাদ করলে হয়রানির শিকার হন সে ব্যক্তি।

> অসৎ যোগসাজশের অভিযোগ:

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ কর্মকর্তার সঙ্গে এই মাতুব্বররা যোগসাজশ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে বিধায় অনেক নিরীহ মানুষ থানা কিংবা প্রশাসনে অভিযোগ করলে উল্টো নিজেই অপরাধী ও মামলা হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তাইতো, ভয়ে কেউ কথা বলতে চায় না।

> শিক্ষিত সমাজের নীরবতা:

এ উপজেলার উচ্চ শিক্ষিত ও ভালো চাকরিজীবী, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিল্পপতি আর ব্যবসায়ীরা এলাকায় থাকেন না। হয়রানি ও সম্মানহানির ভয়ে এ এলাকার মোড়ল কিংবা মাতুব্বরের বিরুদ্ধে কিছু বলেন না। সামাজিক প্রতিরোধও গড়ে তুলতে দেখা যায় না। তারা মনে করেন মাতুব্বরদের কিছু বললে উল্টো তারা নাজেহাল হবেন, পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে। তাই অযথা ঝামেলায় জড়াতে চায় না।

এ উপজেলায় সংঘর্ষ ও মারামারি এড়াতে বা প্রতিরোধের উপায়-

> . ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ গঠন:

এ উপজেলায় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর প্রথা বিলুপ্তি করে এলাকার সুশীল সমাজের লোক— যেমন নিরপেক্ষ স্কুল-কলেজের শিক্ষক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমাম, চাকরিজীবী ও উচ্চ শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে কিংবা নিরপেক্ষ একজন মানুষকে প্রধান করে নিরপেক্ষভাবে গ্রামের যেকোনো বিরোধ কিংবা সমস্যা সমাধান কিংবা পরিচালনা করার জন্য ‘গ্রাম্য শান্তি কমিটি’ নামক একটি কমিটি করে দেওয়া যেতে পারে। তারা গ্রামের যেকোনো বিরোধ মিমাংসা করবেন। না পারলে আইনগত সহায়তা নিবেন বা সুপারিশ করবেন।

> মাদকবিরোধী কমিটি:

প্রতিটি এলাকার গ্রামে গ্রামে মাদক নির্মূল ও প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা এলাকার মাদক নির্মূল বা বন্ধে প্রশাসনের সহায়তা নিয়ে কাজ করবে।

> সংঘর্ষ প্রতিরোধ টিম:

এ ছাড়া প্রতিটি গ্রামে সুশীল সমাজের লোকজন দিয়ে কাইজ্যা কিংবা সংঘর্ষ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যারা সংঘর্ষ বন্ধে ভূমিকা পালন করবেন।

> নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ:

স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থেকে স্থানীয় মোড়ল কিংবা মাতুব্বর অথবা যারা মারামারিতে উস্কানি দেয় তাকে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কোনো পক্ষপাতিত্ব করা যাবেনা।

> প্রশাসন ও জনগণের সমন্বয়:

থানা পুলিশ ও প্রশাসন স্থানীয় প্রতিটি গ্রামে গঠন করা শান্তি কমিটির কিংবা সুশীল সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে আইনশৃঙ্খলা ভালো রাখতে কাজ করতে পারেন।

> জরুরি হেল্পলাইন চালু:

সংঘর্ষ ও কাইজা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করার জন্য থানা কিংবা উপজেলা প্রশাসনে হেল্পলাইন নম্বর চালু করা যেতে পারে। যাতে যেকোনো সহিংসতা বন্ধে দ্রুত রেসপন্স করতে পারে প্রশাসন।

> দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার অভিযান:

প্রশাসনের দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার নিয়মিত অভিযান পরিচালনা অব্যাহত রাখা। যাতে নতুন দেশীয় অস্ত্র তৈরি করতে না পারা ও মানুষের ভয় এবং আতঙ্ক তৈরি হয় কাইজের বিরুদ্ধে।

> সচেতনতামূলক কার্যক্রম:

প্রশাসনের সহযোগিতায় একটি উপজেলায় সংশ্লিষ্ট এমপি, ইউএনও কিংবা ওসিকে প্রধান করে সুশীল সমাজ, চাকরিজীবী, শিক্ষিত ছেলে-মেয়ে, সম্মানি ব্যক্তির দ্বারা কয়েকটি কমিটি গঠন করা যেতে পারে। যে কমিটির কাজ হবে একেকদিন এক একটি স্কুল-কলেজে গিয়ে এভাবে প্রতিটি স্কুল-কলেজে পৌঁছে কাইজা বা সংঘর্ষের কুফল ও খারাপ দিকগুলো বিস্তর আলোচনা করতে পারে শিক্ষার্থীদের মাঝে। যাতে নতুন প্রজন্ম এই কাইজা করতে নিরুৎসাহিত হয়।

> নিয়মিত গণসভার আয়োজন:

থানার ওসি ও ইউনওর অন্তত মাসে এলাকার লোকজন নিয়ে এক একটি ইউনিয়নে গিয়ে কাইজা বন্ধে সভা-সমাবেশ করতে পারেন।

এইভাবেই সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে সালথা উপজেলায় সংঘর্ষ ও সহিংসতা কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক:

হারুন-অর-রশীদ, বিবিএ (অনার্স), এমবিএ (ব্যবস্থাপনা)।

– ফরিদপুর প্রতিনিধি: বাংলানিউজ২৪ ও দৈনিক আজকালের খবর।

– সিনিয়র সহ-সভাপতি : সালথা প্রেসক্লাব

সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
সৌদিতে সড়ক দুর্ঘটনায় ভাঙ্গার প্রবাসী যুবকের মৃত্যু, ঈদের আগেই নিভে গেল স্বপ্ন

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার শাওন মির্জা নামে এক প্রবাসী যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নওপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং সাবেক পুলিশ সদস্য মরহুম জাহিদ মির্জার একমাত্র ছেলে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (০৩ মে) রাতে কাজ শেষে বাসায় ফেরার পথে মোটরসাইকেল চালানোর সময় দুর্ঘটনার শিকার হন শাওন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার করে তাকে একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

শাওন মির্জা তিন বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই ছিলেন। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন তিনি। আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে তার দেশে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু সেই প্রত্যাশা অপূর্ণ রেখেই তিনি চিরবিদায় নিলেন।
তার আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের মাঝে চলছে শোকের মাতম।

এদিকে, নিহতের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন পরিবার ও স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভাঙ্গা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কমিশনার জহুরুল হক মিঠু।

ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: বুধবার, ৬ মে, ২০২৬, ৭:২৫ পূর্বাহ্ণ
ভাঙ্গায় দুই অটোরিকশা সংঘর্ষে আহত যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় দুই অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত শাহ আলম ফকির (৩৫) অবশেষে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

দুর্ঘটনার তিনদিন পর মঙ্গলবার (৫ মে) রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত শাহ আলম ফকির ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের আজিমনগর গ্রামের বাসিন্দা এবং মৃত আব্দুর রব ফকিরের ছেলে। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ মে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে আজিমনগর বাজার এলাকায় দুইটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এতে অন্তত পাঁচজন যাত্রী আহত হন। আহতদের মধ্যে শাহ আলমের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় প্রথমে তাকে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তিনদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে তিনি না ফেরার দেশে চলে যান। তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে এসেছে আহাজারি, স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, সড়ক দুর্ঘটনার বিষয়টি পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।