খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:০৬ পূর্বাহ্ণ
১৮ মাসের দায়িত্বে টানলেন ইতি, বিদায়ী ভাষণে জাতির উদ্দেশে যা বললেন প্রধান উপদেষ্টা?

জাতির উদ্দেশে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, দীর্ঘ প্রায় ১৮ মাস দায়িত্ব পালনের পর একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় পর একটি অংশগ্রহণমূলক, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”

🇧🇩 নির্বাচন ও গণতন্ত্রে নতুন অধ্যায়:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, এবারের নির্বাচন শুধু ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন সূচনা। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ এবং সকল পক্ষের সহযোগিতা এ নির্বাচনকে ঐতিহাসিক করেছে।

তিনি বিজয়ী ও পরাজিত সকল প্রার্থীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “গণতন্ত্রে হার-জিতই সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা যেমন জনগণের আস্থা পেয়েছেন, তেমনি যারা জয়ী হননি তারাও উল্লেখযোগ্য সমর্থন অর্জন করেছেন।”

⚖️ তিন অঙ্গীকার:

সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের সংকটময় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকার তিনটি প্রধান লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছে—সংস্কার, বিচার এবং নির্বাচন।
তিনি বলেন, প্রায় ১৩০টি নতুন আইন ও সংশোধনী প্রণয়ন করা হয়েছে প্রায় ৬০০টি নির্বাহী আদেশ জারি হয়েছে যার ৮৪ শতাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত
তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপ নাগরিক অধিকার, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোকে শক্তিশালী করেছে।

🚨 আইনশৃঙ্খলা ও মানবাধিকার:

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুনর্গঠনের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “একসময় থানাগুলো ছিল জনশূন্য, মানুষের মধ্যে ভয় কাজ করত। এখন সেই অবস্থা বদলেছে।”
তিনি আরও বলেন, বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়েছে।

👩 নারী ও শিশুর সুরক্ষায় উদ্যোগ:

নারীর ক্ষমতায়ন ও সুরক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি জানান, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সংশোধন আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, “নারীর অগ্রযাত্রা ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।”

💰 অর্থনীতি: সংকট থেকে উত্তরণ:

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অর্থনীতি ছিল বিপর্যস্ত। ব্যাংকিং খাত দুর্বল হয়ে পড়েছিল এবং অর্থপাচার ছিল ব্যাপক। তিনি জানান, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে তিনি প্রবাসীদের অবদানকে “অর্থনীতির প্রাণশক্তি” হিসেবে উল্লেখ করেন।

🌍 পররাষ্ট্রনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক:

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন আর নতজানু পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে না। জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক পরিচালনা করা হচ্ছে। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে এবং সমাধানের প্রচেষ্টা চলছে।

🛡️ প্রতিরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি:

সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

🚀 সম্ভাবনার বাংলাদেশ:

প্রধান উপদেষ্টা তার ভাষণে বলেন, “বাংলাদেশ এখন শুধু সংকট কাটিয়ে ওঠার গল্প নয়, এটি সম্ভাবনার দেশ।” তিনি তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং সততার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

📜 জুলাই সনদ: বড় অর্জন:

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম বড় অর্জন হলো “জুলাই সনদ”, যা গণভোটের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছে। তার মতে, “এই সনদ বাস্তবায়িত হলে স্বৈরাচারের পথ চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।”

🕊️ আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা:

গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মরণ করে তিনি বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের কারণেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।

🏛️ গণভবন হবে স্মৃতি জাদুঘর:

তিনি ঘোষণা দেন, পলাতক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে “জাতীয় জুলাই স্মৃতি জাদুঘর” হিসেবে সংরক্ষণ করা হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ইতিহাস জানতে পারে।

🤝 ঐক্যের আহ্বান:

বিদায়ী ভাষণে তিনি বলেন, “গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার যে চর্চা শুরু হয়েছে তা যেন অব্যাহত থাকে।” তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

🙏 বিদায়ের মুহূর্ত:

সবশেষে দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমার জন্য দোয়া করবেন। মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।” এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে বিদায় নেন এবং নতুন সরকারের জন্য শুভকামনা জানান।

কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
কেন কিছু লোকের অল্প খেয়েও ওজন বেড়ে যায়?

শুধু অতিরিক্ত খাওয়ার ফলেই শরীরে মেদ জমে না। চিনি, হরমোন, ঘুম, মানসিক চাপ থেকে শুরু করে জীবনযাত্রা পর্যন্ত—এই সবকিছুই প্রতিদিন সূক্ষ্মভাবে ওজন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

শরীরে কেন সহজে চর্বি জমে এবং ওজন বাড়ে, তা বুঝতে হলে প্রথমে আমাদের দেখতে হবে শরীরে কীভাবে চর্বি তৈরি হয়। জাতীয় পুষ্টি ইনস্টিটিউটের প্রাপ্তবয়স্ক পুষ্টি পরীক্ষা ও পরামর্শ বিভাগের প্রধান ড. ত্রান চৌ কুয়েনের মতে, এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো ‘ব্যয়ের চেয়ে বেশি গ্রহণ’ করার পরিস্থিতি।

যখন খাবার ও পানীয় থেকে গৃহীত ক্যালোরির পরিমাণ শরীর দ্বারা ব্যয়িত শক্তির চেয়ে বেশি হয়ে যায়, তখন অতিরিক্ত ক্যালোরি বিপাকিত হয়ে চর্বি হিসেবে জমা হয়।

চর্বি জমার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আসল সত্য:

ডঃ কুয়েনের মতে, এই প্রক্রিয়ায় চিনির একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। গ্রহণ করা চিনি যখন তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, তখন শরীর সেটিকে ট্রাইগ্লিসারাইডে—যা চর্বির প্রাথমিক রূপ—রূপান্তরিত করে এবং ফ্যাট কোষে জমা রাখে। এ কারণেই অনেকে সুন্দর ত্বকের আশায় প্রচুর ফল খেলেও শেষ পর্যন্ত তাদের ওজন বেড়ে যায়। যদি ফলের মধ্যে থাকা চিনির পরিমাণ শরীরের প্রয়োজনের চেয়ে বেশি হয়, তবে সেই অতিরিক্ত অংশও চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

উচ্চ-ক্যালোরিযুক্ত খাবার, বিশেষ করে যেগুলোতে চিনি ও চর্বির পরিমাণ বেশি, তা শরীরে চর্বি জমাকে আরও বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং উচ্চ-চর্বিযুক্ত নাস্তা গ্রহণের ফলে সময়ের সাথে সাথে শরীরে ধীরে ধীরে অতিরিক্ত শক্তি জমা হতে থাকে।

এছাড়াও, সারাদিনে খাবার গ্রহণের ধরণও বিপাক ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত খাওয়া বা গভীর রাতে খাওয়া শরীরের স্বাভাবিক ছন্দকে ব্যাহত করতে পারে, বিপাকীয় দক্ষতা কমিয়ে দিতে পারে এবং শরীরে চর্বি জমার কারণ হতে পারে,” বিশেষজ্ঞ বলেছেন।

হরমোনগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি খাবারের পর, শরীর ইনসুলিন নিঃসরণ করে যা কোষগুলোকে গ্লুকোজ শোষণ করতে এবং তা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে। যখন কোষগুলো ইনসুলিনের প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে পড়ে, তখন গ্লুকোজ দক্ষতার সাথে শোষিত হয় না এবং এর পরিবর্তে তা চর্বিতে রূপান্তরিত হয়ে জমা হয়। এছাড়াও, লেপটিন এবং ঘ্রেলিনের মতো হরমোনগুলো ক্ষুধা এবং তৃপ্তির অনুভূতি নিয়ন্ত্রণ করে। যদি এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়, তবে খাদ্য গ্রহণ অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে যেতে পারে।

অলস জীবনযাপনও এর আরেকটি সাধারণ কারণ। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার ফলে শক্তি ব্যয় কমে যায়, অথচ ক্যালোরি গ্রহণ অপরিবর্তিত থাকে, যার ফলে শরীরে চর্বি জমতে থাকে।

এছাড়াও, ঘুম এবং মানসিক চাপও এই প্রক্রিয়াটিকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করে। অপর্যাপ্ত ঘুম ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনগুলোর ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, যার ফলে অনিয়ন্ত্রিতভাবে খাওয়া বেড়ে যায়। দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয় – এই হরমোনটি চর্বি জমার সাথে সম্পর্কিত, বিশেষ করে পেটের অংশে।

ডঃ চৌ কুয়েন মনে করেন যে আচরণগত এবং পরিবেশগত কারণগুলোও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আবেগপ্রবণ খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত খাওয়া, অথবা বৈজ্ঞানিক খাদ্যতালিকার উপর আস্থার অভাব সহজেই প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণের দিকে পরিচালিত করে। অন্যদিকে, সুবিধাজনক দোকান থেকে শুরু করে বাড়িতে ফাস্ট ফুড মজুত করার অভ্যাস পর্যন্ত অস্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যাপক সহজলভ্যতা স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস বেছে নেওয়াকে আরও কঠিন করে তোলে।

উপরে উল্লিখিত কারণগুলো ছাড়াও, জিনগত কারণও প্রত্যেক ব্যক্তির শরীরে মেদ জমার প্রবণতাকে প্রভাবিত করে। বিজ্ঞান বিপাকের হার, মেদ বণ্টন এবং ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত বেশ কিছু জিন শনাক্ত করেছে।

উদাহরণস্বরূপ, FTO জিনের বিভিন্ন রূপ উচ্চ বডি মাস ইনডেক্স (BMI) এবং স্থূলতার ঝুঁকি বৃদ্ধির সাথে সম্পর্কিত। এছাড়াও, খাদ্যাভ্যাস, মানসিক চাপ এবং পরিবেশগত কারণসমূহ জিনের প্রকাশকে প্রভাবিত করতে পারে, যার ফলে বিপাক এবং চর্বি সঞ্চয়ও প্রভাবিত হয়।

প্রতিদিন শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমা প্রতিরোধের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞরা যে পরামর্শ দিয়েছেন:

অতিরিক্ত চর্বি জমার ফলে শুধু ওজনই বাড়ে না, বরং এটি স্থূলতা, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং কিছু ধরণের ক্যান্সারের মতো অসংখ্য স্বাস্থ্য সমস্যার সাথেও জড়িত। তাই, এর প্রতিরোধে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রথমত, ডঃ কুয়েনের মতে, সমস্ত খাদ্য গোষ্ঠীর পর্যাপ্ত পরিমাণ সহ একটি সুষম খাদ্যতালিকা তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে সবুজ শাকসবজি, তাজা ফল, শস্যদানা এবং মাছ, শিম ও বাদাম থেকে প্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর প্রোটিনের উৎসকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সাথে, সম্পৃক্ত চর্বি, পরিশোধিত চিনি এবং ফাস্ট ফুড সীমিত করা উচিত। বিচক্ষণতার সাথে খাবার বেছে নিলে তা কেবল ক্যালোরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে না, বরং শরীরকে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজও সরবরাহ করে।

এর পাশাপাশি, একটি সক্রিয় জীবনধারা বজায় রাখা অপরিহার্য। হাঁটা, সাইকেল চালানো, নাচ বা যোগব্যায়ামের মতো কার্যকলাপ অতিরিক্ত শক্তি পোড়াতে, বিপাকক্রিয়া বাড়াতে এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।

“প্রত্যেকেরই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শারীরিক কার্যকলাপের জন্য বরাদ্দ রাখা উচিত এবং দৈনন্দিন জীবনে ব্যায়ামের সুযোগগুলো কাজে লাগানো উচিত, যেমন—সিঁড়ি ব্যবহার করা, কেনাকাটার সময় হাঁটা, অথবা কাজের বিরতিতে স্ট্রেচিং ও হালকা ব্যায়াম করা,” বলেছেন ড. কুয়েন।

ঘুমও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমালে তা হরমোন নিয়ন্ত্রণে, খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কমাতে এবং শক্তি বিপাকে সহায়তা করে। এছাড়াও, ধ্যান, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস বা অন্যান্য আরামদায়ক কার্যকলাপের মাধ্যমে মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ করলে আবেগপ্রবণ হয়ে খাওয়ার প্রবণতা কমে যেতে পারে।

সূত্র: https://znews.vn/vi-sao-an-it-van-beo-can-nang-tang-post1626550.html

ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৯:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে ৮ বছরের বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় ৮ বছর বয়সী এক বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (২৫ মে) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ব বিএস ডাঙ্গী অবস্থিত পরিত্যাক্ত জেলখানার একটি ভবনের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, শিশুটি প্রতি দিনের মতন বাড়ির পাশের পরিত্যাক্ত ওই জেলখানার উন্মুক্ত স্থানে খেলা করতে আসে। এ সময় শিশুটির সরলতার সুযোগ নিয়ে আলতাফ ওরফে আদু (৬৫) তাকে পাশেই পরিত্যাক্ত একটি ভবনের বারান্দায় ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। অভিযুক্ত আদু ওই ভবনের পাশেই একটি জরাজীর্ণ ছাপড়া ঘরে বসবাস করেন।

ঘটনাস্থলে গিয়ে জানা যায়, আদুর বর্তমান স্ত্রী প্রতিবন্ধী। সে পেশায় একজন ভ্যান চালক। শিশুটি মাঝে মধ্যেই আদুর মেয়েদের সাথে খেলা করতে আদুর বাড়ির সামনে আসত।

ঘটনার প্রত্যক্ষ্যদর্শী এক নারী জানান, তিনি ও তার বোন সকালে জেলখানার সামনের ওই স্থান দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ তিনি খারাপ কাজ করার দৃশ্য দেখতে পায়। প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন স্বামী স্ত্রী হতে পারে, পরে তিনি আবার তাকিয়ে শিশুটিকে দেখতে পেয়ে ওই স্থানে এগিয়ে যান।

তিনি বলেন, তাকে দেখে আদু শিশুকে প্যান্ট পরিয়ে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টো করে। তখন ওই নারী এগিয়ে গিয়ে আদুকে শাসালে আদু পালিয়ে যায়।পরে শিশুটির পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই ঘটনায় স্থানীয়রা নিজেদের সন্তান নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

এই ঘটনার বিষয়ে চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। এই ঘটনায় শিশুটির নানী বাদি হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ চেষ্টার মামলা করেছেন।

সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৭:০৪ অপরাহ্ণ
সদরপুরে অনুমতি ছাড়াই বসেছে পশুর হাট, লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই পশুর হাট বসিয়ে লাখ টাকার খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার ঢেউখালী ইউনিয়নের পিঁয়াজখালী বাজার এলাকায় এ পশুর হাট বসানো হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হান্নান চাকলাদার নামে এক ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা কোনো ধরনের সরকারি অনুমতি ছাড়াই কোরবানির পশুর হাট পরিচালনা করছেন। হাটে আগত ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের খাজনা আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘ সময় ধরে একটি চক্র প্রভাব খাটিয়ে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এতে সরকার যেমন রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ ব্যবসায়ীরাও অতিরিক্ত খাজনার চাপে পড়ছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হান্নান চাকলাদারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এ বিষয়ে সদরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন বলেন, ওই বাজারে পশুর হাট বসানোর কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে উনারা জেলা প্রশাসকের আবেদন করেছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।