খুঁজুন
রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬, ১৫ চৈত্র, ১৪৩২

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

রেহেনা ফেরদৌসী
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৯:৩৭ এএম
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারীর ভোট, দেশের ভবিষ্যৎ

ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক নারী, যার অর্থ তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক। নারীরা শিক্ষা, আইন, প্রশাসন ও নাগরিক আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। ভোট প্রদানে নারীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা জনসংখ্যার অর্ধেক অংশীদার এবং গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য অপরিহার্য। নারীর ভোট আইন প্রণয়ন, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ন, এবং নারীবান্ধব নীতি নির্ধারণে সরাসরি প্রভাব ফেলে।তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লিঙ্গবৈষম্য দূর করে এবং সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশ গড়ে তোলে।

বর্তমানে বাংলাদেশে ভোটার হিসেবে পিছিয়ে আছে নারী ভোটাররা। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তালিকানুসারে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৬৩ লাখ ৭ হাজার ৫০৪ জন। এর মধ্যে নারী ৬ কোটি ২২ লাখ ৫ হাজার ৮১৯ জন আর পুরুষ ৬ কোটি ৪১ লাখ ৪৫৫ জন। অর্থাৎ নারী ভোটারের চেয়ে পুরুষ ভোটার সংখ্যা বেশি , মাত্র ১৯ লাখ ৪ হাজার ৬৩৬ জন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনগণকে ভোটার হতে উৎসাহিত করতে ব্যপক প্রচারণাও চালানো হয়েছে। অন্যদিকে নারী নেতৃবৃন্দরা মনে করেন, নারীরা ভোটার হলে রাজনীতিতে তাদের অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। তবে ভোটার বাড়লেই ক্ষমতায়ন বাড়বে এই কথা কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তা সময়ই বলে দিবে।

সারাদেশে সর্বত্র নির্বাচনী প্রচারণায় সর্বস্তরেই পুরুষ ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে দেখা যাচ্ছে। প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার দৌড়ঝাঁপরত নেতারা, জনসভা, পথসভা, মিছিল, মিটিং ও কর্মীদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানমালাতে দল বদ্ধ ভাবে দাওয়াত এ অংশগ্রহণ ইত্যাদি চলছে। দলের নেতাদের সালাম দেওয়া ও শুভেচ্ছায় ছবি সম্বলিত পোস্টারে, ব্যানারে ছেয়ে গেছে পথ ঘাট, ওলি, গলি, সমগ্র দেশের আনাচে কানাচের দেওয়াল ও পিলার এমন কি গাছ গাছালী পর্যন্ত। সেখানে নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করার জন্য তেমন কোনো নজর কারা উদ্যোগ খুব একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন রাজনৈতিক ক্ষমতায়নে নারী এখনো অনেক পেছনে। সাম্প্রতিক বছর গুলোতে পরিলক্ষিত হয়েছে একজন প্রধানমন্ত্রী একজন বিরোধী দলের নেতৃত্ব দিয়ে নারীর সামগ্রিক রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন হয়েছে তা বলা যায় না। কারণ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী দলে প্রতি কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ ৩৩ শতাংশের এখনো পূরণে তেমন কোনো অগ্রগতি চক্ষুগোচর হয়নি।

৭১ সাল থেকে সংরক্ষিত আসনে নারীর সংখ্যা বেড়েছে তুলনামূলকভাবে তা অনেক কম। নারীকে মনোনয়ন দিতে নারীর ভোটার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন নারী নেতৃবৃন্দ। নারীরা ভোটার হলে এবং ভোট দিলে রাজনীতিতে অংশগ্রহণে আগ্রহ বাড়বে। সাধারণ আসনে নারীকে মনোনয়ন দিতে চায়না পুরুষতন্ত্র। সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন হয় না। তাই ভোটারদের সংখ্যা বাড়ালেও পুরো রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে।

প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে কাজ করা নারীদের নিবন্ধনজনিত কার্যক্রমের জন্য পুরুষের ওপর নির্ভরশীল করে রেখেছে সমাজ। ফলে তারা নিজেরা নিবন্ধন করে ভোটার হতে পারে না। আবার এক-দুই দিনে ছুটি নিয়ে বেতন কেটে গ্রামের বাড়ি গিয়ে ভোটার হওয়া তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় না। ফলে এই শ্রেণির অর্থাৎ গার্মেন্টস শ্রমিক নারীরা ভোটার হন কম। নির্বাচনে ভোটার করার দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের। ভোটার হতে উৎসাহিত করতে প্রচারণাও চালিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বস্তি এলাকাসহ ভাসমান ভোটারদের অন্তর্ভুক্ত করতে বেদে, যাযাবর গোষ্ঠীকেও ভোটার করার কার্যক্রমও নির্বাচন কমিশনের আছে। তবে কাউকে জোর করে নির্বাচন কমিশন ভোটার বানাতে পারে না। বাংলাদেশের নারীরা ১৯৪৬ সালে সীমিত ভোটাধিকার লাভ করে, কিন্তু ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে তারা প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন যদিও অবিভক্ত বাংলায় ১৯২১ সাল থেকে সীমিত ভোটাধিকার ছিল, পাকিস্তান সৃষ্টির পর এবং পরবর্তীকালে স্বাধীনতার পর প্রথম পূর্ণাঙ্গ ভোটাধিকারের সুযোগ আসে।
ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯৪৬ সালে নির্বাচিত এবং মনোনীত উভয় ধরনের সদস্য নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ গঠিত হয়।

কিন্তু সেখানে নারীদের মনোনয়নের ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট কোনো বিধান ছিল না। বস্তুত ১৯৫৬ সালে প্রথম বারের মতো নারীরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটাধিকার লাভ করে। তখন প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।স্বাধীনতার পরই এদেশের ইতিহাসে প্রথম স্থানীয় সরকারের সর্বনিম্ন স্তরে নারীরা প্রতিনিধিত্ব করার মর্যাদা লাভ করে।

এদেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল তাদের বিগত নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে নারীর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছে। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মূলধারায় নারী সমাজকে যুক্ত করার গতি ধীর, জটিল এবং প্রতিবন্ধকতাপূর্ণ। ক্ল্যাসিক্যাল গণতন্ত্র, সামাজিকভাবে পিতৃতান্ত্রিকতার প্রভাব ও সহজে অপরিবর্তনীয় রাষ্ট্রীয় বিধান রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণকে কঠিন করে তুলেছে। এমতাবস্থায় সকলের উচিত আসন্ন নির্বাচনে নারী ভোটারদের নিরাপদে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করা।

নারীর ভোটের গুরুত্ব:

– নারীরা জনসংখ্যার অর্ধেক, তাই তাদের ভোটের গুরুত্ব অনেক।

– নারীরা শিক্ষিত এবং সচেতন, যা তাদের ভোটকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে।

– নারীরা রাজনৈতিক দলগুলোর নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

– নারীরা এমন আইন প্রণয়নে ভূমিকা রাখে যা নারী ও শিশুসহ পরিবারের সবার জন্য সুবিধাজনক।

– পুরুষের সমান ভোটদানের অধিকার ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে, যা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে।

– রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য দূর করে, যা নারীর ক্ষমতায়নকে বৃদ্ধি করে।

– কর্মক্ষেত্রে নারী অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ জরুরি।

সমস্যা কোথায়?

– রাজনীতিতে নারীর অংশগ্রহণ সীমিত।

– নারী প্রার্থীদের জন্য নিরাপত্তা ও সমর্থনের অভাব।

– পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করে।

কি করা উচিত?

– রাজনৈতিক দলগুলোকে নারী প্রার্থীদের জন্য সমর্থন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

– নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণের জন্য প্রেরণা ও প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

– সমাজে নারীর প্রতি সম্মান ও সমর্থন বৃদ্ধি করতে হবে।

সামগ্রিকভাবে, নারী ভোটাররা কেবল ভোটই দেয় না, বরং রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়নে এবং সুশাসনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী হিসেবেও কাজ করে। তাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারীদের অংশগ্রহণ শতভাগ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে।

 

লেখক: সহ-সম্পাদক, সমাজকল্যাণ বিভাগ, কেন্দ্রীয় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)।

ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে।

এদিকে, নিহত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রাপথে মারা যাওয়া লোকদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে চরম ক্লান্তিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রাপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জন মারা গেছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৮৭।

অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে এবং ‘রিটার্ন হাব’ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে অমানবিক বলে সমালোচনা করেছে।

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

গরমের শুরুতেই মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভেতরে আর বাইরে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। ছোট এই পোকাটি শুধু বিরক্তিই করে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

মশা তাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন।

তবে অনেকে এসব জিনিস ব্যবহার করতে চান না। কীভাবে স্প্রে, কয়েল ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়াতে পারবেন, চলুন জেনে নিই-

ঘরের আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না:

মশা স্থির বা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই, ঘরের আশেপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। টব, বালতি, কুলার এবং নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

এতে মশার লার্ভা বা ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি হবে না।

রসুনের স্প্রে:

রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে খুব সহজেই একটি রসুনের স্প্রে তৈরি করে নিতে পারেন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে তা জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে দিন।

এটি মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এসেনশিয়াল অয়েল:

এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে। লেমনগ্রাস অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং টি-ট্রি অয়েলের গন্ধ পছন্দ করে না মশা। এই তেলগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার ঘরের ভেতরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার কাছাকাছি রেখে দিতে পারেন।

নিম পাতা:

প্রাচীনকালে মানুষ মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো নিম পাতা পোড়াতেন। কারণ মশা এই গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখতে বারান্দা, বারান্দার বাইরের অংশ কিংবা বাগানে নিম পাতা পোড়াতে পারেন।

জানালা ও দরজায় নেট লাগান:

ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করার একটি সহজ উপায় হলো জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগিয়ে নেওয়া। এতে ঘরের ভেতরে সতেজ বাতাস চলাচল করতে পারে এবং মশা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

মশা তাড়ানোর গাছ :

কিছু কিছু গাছের তীব্র গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। বাড়িতে রাখতে পারেন সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছগুলো। দরজা, জানালা কিংবা বারান্দার কাছাকাছি এই গাছগুলো লাগাতে পারেন। এই গাছগুলো যে কেবল মশাই তাড়াবে তা নয়, বরং আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলবে এবং বাতাসের গুণমানও উন্নত করবে।

পরিচ্ছন্নতা:

মশা তাড়াতে চাইলে ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা কিংবা ঘন ঝোপঝাড় মশা বংশবিস্তারের উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই, ঘর এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এভাবে মশার উপদ্রব বা সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মজুদে হাজার হাজার লিটার তেল, তবু বিক্রি বন্ধ—ফরিদপুরে পাম্পে হানা, জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম
মজুদে হাজার হাজার লিটার তেল, তবু বিক্রি বন্ধ—ফরিদপুরে পাম্পে হানা, জরিমানা

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় দুটি পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। অভিযানে মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে তেল বিক্রি না করার অভিযোগে একটি পাম্পকে জরিমানা করা হয় এবং অপরটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুদ রেখে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কানাইপুর বাজারের হোসেন ফিলিং স্টেশন ও ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়েল ফিলিং স্টেশনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

হোসেন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে। ভোক্তাদের কাছে তেল সরবরাহ না করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পাম্পের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পটি চালু করে বাস, ট্রাক, কৃষি যন্ত্র, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অপরদিকে, রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধুমাত্র ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ মেশিনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম না করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলা হলে এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।