খুঁজুন
, ,

তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৪৮ পূর্বাহ্ণ
তরুণ ভোট থেকে নৌকার সমর্থন—যে সমীকরণ বদলে দিতে পারে নির্বাচনের হিসাব?

“আমরা একটা সুরক্ষিত বাংলাদেশ চাই। নারী পুরুষ জনগণ সবার জন্য ভাল চাই। জামায়াত আসুক, এনসিপি আসুক, স্বতন্ত্র কেউ হোক বা বিএনপি আসুক যেটাই হোক- আমাদের সবগুলো অধিকার যাতে পুরণ হয়।”

এই মন্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারজানা আক্তারের। এবারই প্রথম জাতীয় নির্বাচনে ভোট দেবেন তিনি।

এই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী হবে, এ প্রশ্নে বিবিসি বাংলাকে ফারজানা বলেন, “নিরাপত্তা, দ্রব্যমূল্য এবং দেশের সংস্কার। এছাড়া আমাদের যে বাক স্বাধীনতা, ওইটা যেন এখনের মত ঠিক থাকে- এটাই আমরা চাই। আর আমাদের যাতে মেয়ে হিসেবে নিরাপত্তাটা নিশ্চিত করা হয়।”

এবার নির্বাচনে ফারজানার মতো ভোটার আছে মোট ভোটের তিনভাগের একভাগ। বিগত তিনটি নির্বাচনে অনিয়ম এবং একতরফা ভোটের কারণে এবার তরুণ ভোটারদের একটা বড় অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ফারাজানার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আড্ডায় ছিলেন ফারহানা খানম। তরুণদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু কী এ প্রশ্নে স্বল্প কথায় তার জবাব ছিল-

“যাতে নারীদেরকে সুন্দর চোখে দেখে, সেইফ থাকে, দুর্নীতি যাতে কম হয়, রেইপ যাতে কম হয়।”

দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্র বলছেন, “বেকার যারা আছে, তাদের চাকরির সুযোগ, যারা ব্যবসা করতে চায় তরুণ, তাদের উদ্বুদ্ধ করা, ঋণ দেয়া। সম্পূর্ণ দুর্নীতি মুক্ত চাইতেছে তরুণরা এরপর ঘুষ ছাড়া চাকরি।”

ভোটের আগে বাংলাদেশে এগুলোই মোটামুটি সার্বজনীন ইস্যু। শিক্ষার্থীদের কথায় দেশের আপামর মানুষের প্রত্যাশারই একটা প্রতিফলন রয়েছে। এই তরুণরাই চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

তরুণদের একটা আক্ষেপ দেখা গেল অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে। অনেকে বলছেন, এ সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারজানার কথায়, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের যে পদক্ষেপগুলা ওইটার মধ্যেও বেশি একটা পরিবর্তন দেখা গেল না। সবাই এমন একটা ভাব করতেছে যে আমলা, সচিব বা সামরিক বাহিনীর কারণে চেঞ্জগুলো হলো না। ইন দ্য এন্ড রাষ্ট্রের অবকাঠামো ভেতরের দিক থেকে আমাদের যে ন্যায্য দাবিটা ছিল, ভেতর থেকে সংস্কারটা হবে সেটা হলো না।”

তরুণ ভোট ফ্যাক্টর

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোট জয়-পরাজয়ে বড় ফ্যাক্টর হবে বলে অনেকেই মনে করছেন।

এই তরুণ ভোটারদের ভাবনায় কী আছে, সেটি নির্বাচন ছাড়া বোঝা অসম্ভব। কারণ বিগত তিনটি নির্বাচনে ভোটের প্রকৃত চিত্র সামনে আসেনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ তরুণ ভোট নিয়ে বলেন, এই ভোট নির্বাচনে জয় পরাজয়ে প্রধান নিয়ামক হবে।

“তারা বিপুল সংখ্যায়, তারা প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে এবং তাদের মনে কী আছে আমরা জানি না। বিএনপির মধ্যে অনেক তরুণ আছে, জামায়াতের মধ্যেও অনেক তরুণ আছে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনগুলিতে আমরা একধরনের প্রবণতা আমরা দেখেছি। মাদ্রাসাগুলিতে এক ধরনের প্রবণতা আছে। কাজে তরুণ ভোটাররা তাদের টার্ন আউটটা বেশি হবে।”

এ বিষয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বিবিসি বাংলাকে বলেন, তারাতো (তরুণ ভোটার) আগে ভোট দেন নাই অতএব তাদের ভোটিং প্যাটার্ন নিয়ে কোনো ধারণা কারো নেই।

“সেইজন্যই এইবারের নির্বাচনটা সবথেকে বেশি আনসার্টন সবার কাছে মনে হচ্ছে। কারণ তারা হচ্ছে থার্টি পার্সেন্ট অব ভোটারস, এবং তাদের ভোটিং পার্সেন্টেজ অনেক বেশি হবে, তাদের ভোটিং রেকর্ডজ কিছু নাই কোনদিকে তারা ভোট দিবে। এছাড়া তাদের খুবই হাই এক্সপেকটেশন আছে এবং তারা নতুন বাংলাদেশ করতে চান।”

নারী ও নিরাপত্তা

বাংলাদেশের ভোটারদের মধ্যে অর্ধেকই হলো নারী। এই ভোট বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তবে এর সঙ্গে নিরাপত্তা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিও বিশেষ গরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।

মহিউদ্দিন আহমদের কথায়, নারীরাও কিন্তু একটা সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে।

“তাদের বিপুল উপস্থিতি যদি হয় এবং সেভাবে যদি একটা অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা যায় তাহলে এটা নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। এখন নারীদের উপস্থিতি অনেকটা নির্ভর করবে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপরে। গোলমালের আশঙ্কা থাকলে তারা অনেকেই যাবেন না। হ্যারাসড হতে চান না কেউ।”

ভোটের দিন পরিস্থিতি কেমন হয়, সেটি নির্বাচনে প্রভাব ফেলে। ভোটার উপস্থিতিতেও নিরাপত্তার ইস্যুটি গুরুত্বপূর্ণ হবে। এরই মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী জোটের শীর্ষ নেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ভোট কেন্দ্র পাহারা দেয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যাচ্ছে যা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান।

” অলরেডি যেসব কথাবার্তা বলা হচ্ছে আপনারা সকালে গিয়ে ভোটকেন্দ্র পাহারা দেন। এখন যদি দুইটা বড় অ্যালায়েন্স তাদের দুই দলেরই কর্মী যদি গিয়ে ভোট কেন্দ্র পাহারা দিতে যায় চেষ্টা করে এবং করবে হয়তো বা তখন যে একটা মুখোমুখী সংঘর্ষ হবে না সেটাতো বলা যাচ্ছে না। আর যদি সকালের দিকে এরকম একটা সংঘর্ষ হয় তাহলে তো নারী ভোটাররা ভয়ের চোটে আসতে চাইবে না।”

বিভিন্ন স্থানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা দন্দ্বে জড়িয়ে পরছেন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহান মনে করেন, নির্বাচনে নিরাপত্তা নিয়ে এবং সহিংসতা নিয়ে দুটি গ্রুপের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি। প্রথমত নারী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়।

ফ্যাক্টর নৌকার ভোট

এবার নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তাদের ভোটব্যাংক নিয়ে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে একটা প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। নৌকার ভোটাররা অনেক আসনে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলেও বিশ্লেষণ রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ মনে করেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িতরা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তবে সমর্থকরা যাবেন সেক্ষেত্রে ভোট দেয়ার ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিবেচনাই কাজ করবে।

“আওয়ামী লীগকে আগে যারা ভোট দিত মনে করেন আওয়ামী লীগকে যারা ২০০৮ পর্যন্ত ভোট দিয়েছে এর পরেতো ভোট হয় নাই। তো তারা দেখবে অনেকে নানান বিবেচনা কাজ করবে, আমরা যদি ম্যাক্রো লেভেলে চিন্তা করি তাইলে হয়তো তারা চিন্তা করবে যে কম ক্ষতিকর তাকে হয়তো তারা ভোট দিবে। এখন তাদের চোখে যদি মন্দের ভালো হয় বিএনপি তাকে তারা ভোট দিবে যদি তারা যদি মনে করে মন্দের ভালো জামায়াতে ইসলামী তাকে তারা ভোট দেবে।”

এ ব্যাপারে রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রওনক জাহানের মত, নৌকার সমর্থক ভোটারদের ভোট কিছু কিছু আসনে জয় পরাজয়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তার মূল্যায়ন নৌকার সঙ্গে প্রবাসী ভোট ক্ষেত্র বিশেষে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

“যদি বিশ হাজার ভোটের মারফতে সিট এদিক সেদিক হতে পারে সেক্ষেত্রে প্রবাসী ভোট একটা ভূমিকা রাখতে পারে। সেরকমভাবে আমি বলবো আওয়ামী লীগ যে সাপোর্ট আছে ট্রেডিশনাল আওয়ামী লীগ সাপোর্ট সেগুলো কোনো কোনো আসনে ওইভোটগুলা মার্জিন-এই যে টেন পার্সেন্ট এডিশনাল ভোট যদি পড়ে সেটাই জয় পরাজয় নির্ধারণ করবে।”

রওনক জাহানের মতে, এবার নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহার প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার প্রচারণাও ভোটের দিনেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ হিসেবে তিনি বলছেন অতীতে কোনো নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ার রোল এতটা প্রাধান্য ছিল না।

“এখন সোশ্যাল মিডিয়া এআই জেনারেটেড অনেক মিথ্যা খবর ছড়িয়ে দেয়া হবে, আরো বেশি কাদা ছোড়াছুড়ি হবে এবং সেদিন যে আসলে সহিংসতা না হলেও সহিংসতা হচ্ছে- এরকম নানান কিছু প্রচার বা অপপ্রচার হবে। এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে কাউন্টার করার জন্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ইসি তাদের কী ধরনের প্রস্তুতি আছে- সেটা বলা যাচ্ছে না। এখন পর্যন্ত যেটা দেখা যাচ্ছে যে, কোঅর্ডিনেটেডভাবে কাজ হচ্ছে না।”

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

ফরিদপুর শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অভিযানে মো. রানা গাজী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর এলাকার রহিম গাজীর ছেলে।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার রানা গাজী একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও তিনি।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ ও জব্দকৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।

ফরিদপুরে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘হাঁস খেলা’

তামিম ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ‘হাঁস খেলা’

আধুনিক প্রযুক্তির যুগে যখন স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের দুনিয়ায় হারিয়ে যেতে বসেছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকজ খেলাধুলা, ঠিক তখনই সেই হারানো সংস্কৃতিকে ফিরিয়ে আনতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ফরিদপুরের একদল তরুণ ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের উদ্যোগে ফরিদপুর সদরে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যের অনন্য আয়োজন ‘হাঁস খেলা’। নতুন এই আয়োজনকে ঘিরে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ, আর পুকুরপাড়ে ভিড় করেন শত শত নারী-পুরুষ ও শিশু।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর পৌরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাইতুল আমান আদর্শ একাডেমি স্কুল সংলগ্ন একটি পুকুরে অনুষ্ঠিত হয় এই ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতা।

জানা গেছে, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের লোকজ খেলার আয়োজন দেখে অনুপ্রাণিত হন স্থানীয় বাসিন্দা শেখ আব্দুল গফুর প্রামাণিক (৫৭)। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতা ও উৎসাহে বাস্তবে রূপ নেয় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।

খেলায় অংশ নেন এলাকার তরুণ, যুবক ও প্রবীণসহ মোট ২১ জন প্রতিযোগী। সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতা পরিচালনার জন্য তাদের সাতজন করে তিনটি গ্রুপে ভাগ করা হয়। প্রতিটি রাউন্ডে একটি হাঁস পুকুরে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ২০ মিনিটের মধ্যে যে প্রতিযোগী হাঁসটিকে ধরে ফেলতে পারেন, তাকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। খেলার সময় হাঁসটি যদি নিজে থেকে পাড়ে উঠে আসে, তাহলে সেটিকে আবার পানিতে ছেড়ে দেওয়া হতো। ফলে হাঁস ও প্রতিযোগীদের দৌড়ঝাঁপ, পানিতে সাঁতার আর লুকোচুরির মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় দারুণ উত্তেজনাপূর্ণ পরিবেশ।

তিনটি গ্রুপ থেকে চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হন তিনজন। প্রথম স্থান অর্জন করেন স্থানীয় বাইতুল আমান আদর্শ একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. ইয়াসিন (১৫)। দ্বিতীয় হন কানাইপুর এলাকার সম্রাট মোল্লা (১৭), যিনি দর্জির কাজ শিখছেন। তৃতীয় স্থান অর্জন করেন বাইতুল আমান এলাকার স্যানিটারি মিস্ত্রি সিদ্দিক মোল্লা (৫৩)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আয়োজকেরা।

ফরিদপুর সদরে এ ধরনের আয়োজন এই প্রথম হওয়ায় সকাল থেকেই উৎসুক মানুষের ঢল নামে পুকুরপাড়ে। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—সব বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে প্রাণচঞ্চল। দর্শকদের করতালি, হাসি-আনন্দ ও উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

খেলা দেখতে আসা দর্শনার্থীরা বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে এমন লোকজ খেলাধুলা প্রায় অচেনা। এই আয়োজন শুধু বিনোদনই নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ সংস্কৃতি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

আয়োজনের অন্যতম উদ্যোক্তা শেখ রিপন বলেন, “এটি পুরো এলাকার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। প্রথম আয়োজনেই যে বিপুল সাড়া পেয়েছি, তা আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে। আগামী বছর আরও বড় পরিসরে হাঁস খেলার আয়োজন করতে চাই। প্রথম পুরস্কার হিসেবে একটি আস্ত খাসি দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।”

মূল উদ্যোক্তা শেখ আব্দুল গফুর প্রামাণিক বলেন, “অনেক দিন ধরেই এমন একটি আয়োজন করার স্বপ্ন ছিল। ইন্টারনেট ও টেলিভিশনে বিভিন্ন জায়গার লোকজ খেলা দেখে নিজের এলাকাতেও এমন কিছু করার ইচ্ছা জাগে। সবার সহযোগিতায় সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। মানুষের ভালোবাসা ও উপস্থিতি আমাদের মুগ্ধ করেছে। ভবিষ্যতে প্রতি বছর আরও বড় পরিসরে এই আয়োজন অব্যাহত রাখতে চাই।”

স্থানীয়দের মতে, এমন ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ফিরিয়ে আনতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৭:৩১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় পূর্ব শত্রুতা ও দীর্ঘদিনের গ্রাম্য বিরোধের জেরে সুমন শেখ (৩০) নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ।

শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় উকিল শেখের বাড়ির সামনে এ মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত সুমন শেখ বড়ভাগ গ্রামের আলাউদ্দিন শেখের ছেলে। তিনি এম এ খালেক কলেজের ডিগ্রি তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দুটি পক্ষের মধ্যে সামাজিক ও গ্রাম্য বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার সন্ধ্যায় সুমন শেখ মোটরসাইকেলে করে নিজ এলাকায় যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের লোকজন পূর্বপরিকল্পিতভাবে তার গতিরোধ করে। অভিযোগ রয়েছে, বড়ভাগ গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য কুদ্দুস শেখের ছেলে মো. হোসাইন শেখের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র ব্যক্তি দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে সুমনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় সুমনকে উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর পুরো বড়ভাগ এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত হোসাইন শেখসহ অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

আলফাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফকির তাইজুর রহমান বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।”