খুঁজুন
, ,

নির্বাচনে জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি কী বার্তা দিচ্ছে?

রাকিব হাসনাত
প্রকাশিত: রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
নির্বাচনে জাইমা রহমানকে সামনে এনে বিএনপি কী বার্তা দিচ্ছে?

তারেক রহমানের পর তার কন্যা জাইমা রহমান এখন বিশেষ মনোযোগ পাচ্ছেন বিএনপিতে এবং দলটির পক্ষ থেকে তাকে ধীরে ধীরে সামনে আনা হচ্ছে বলে ধারণা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকে।

দলীয় কোনো পদে না থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে পরিবারের সঙ্গে দেশে ফেরার পর থেকেই দলের ভেতরে ও বাইরে জাইমা রহমানের কার্যক্রম ঘিরে এক ধরনের আগ্রহ কিংবা কৌতূহলও তৈরি হয়েছে অনেকের মধ্যে। যদিও এখন পর্যন্ত সীমিত কিছু অনুষ্ঠানেই যোগ দিয়েছেন তিনি।

অনেকের ধারণা, জাইমা রহমানকে ধীরে ধীরে সামনে এনে বিএনপির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে এক ধরনের বার্তা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনিও দলীয় নেতৃত্বে আসবেন এটি ধরে নিয়েই তাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

আবার কারও ধারণা, সংসদ নির্বাচনকে বিবেচনায় নিয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা জাইমা রহমানকে বিভিন্ন কৌশলে সামনে আনছেন, যার মাধ্যমে ‘তরুণ ও নারীদের’ আকৃষ্ট করার একটি চেষ্টা থাকতে পারে।

বিশেষ করে বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ও অংশ নেওয়া তরুণ প্রজন্মকে মাথায় রেখেই বিএনপির দিক থেকে মিজ রহমানকে তুলে ধরা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

আবার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীকে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিবেচনা করে তার বিপরীতে বিএনপি নারীদের কীভাবে উপস্থাপন করতে চায় তারও একটি বহিঃপ্রকাশ জাইমা রহমানের মাধ্যমে করা হচ্ছে- এমন আলোচনাও আছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।

যদিও এবারের নির্বাচনী প্রচারে বিএনপির প্রধান তারেক রহমানের সাথে মাঝে মধ্যে তার স্ত্রী জুবাইদা রহমানকে কয়েকটি জায়গায় দেখা গেলেও জাইমা রহমান এখনো নির্বাচনী প্রচার মঞ্চে উঠেননি।

কতটা জানা যাচ্ছে জাইমা সম্পর্কে

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নাতনি হিসেবে তার সম্পর্কে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের, এমনকি সাধারণ মানুষের মধ্যেও আগ্রহ থাকার পরও বিএনপি কিংবা তার পরিবারের পক্ষ থেকে জাইমা রহমান সম্পর্কে কখনোই বিস্তারিত কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়নি।

দলীয় সূত্রগুলো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিজ রহমান ১৯৯৫ সালের অক্টোবরে ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তার শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল ঢাকার বারিধারায় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে।

পরে লন্ডনে যাওয়ার পর তিনি ম্যারি মাউন্ট গার্লস স্কুল এবং এরপর কুইন ম্যারি ইউনিভার্সিটিতে আইনে পড়ালেখা করেন। পরে যুক্তরাজ্যেই ইনার টেম্পল থেকে বার-অ্যাট ল সম্পন্ন করেন তিনি।

গত ২৩শে ডিসেম্বর নিজের ফেসবুক পাতায় প্রকাশ করা এক লেখায় তিনি আইন পেশায় কাজ করারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “আইন পেশায় কাজ করার সময় কাছ থেকে দেখা মানুষগুলোর গল্প, আর সেই গল্পগুলোর যৌক্তিক এবং আইনগত সমাধান খোঁজার দায়িত্ব আমাকে আলোড়িত করে”।

এর আগে বাংলাদেশে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে সপরিবারে লন্ডন চলে গিয়েছিলেন তারেক রহমান। সেই থেকে ১৭ বছর লন্ডনে থাকার পর গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ঢাকায় ফিরেছেন তিনি।

দেশে ফেরার এর আগ পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে খুব একটা সক্রিয় দেখা যায়নি জাইমাকে। এমনকি তার বাবা তারেক রহমান সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় থাকলেও জাইমা রহমানের তাতে তেমন কোনো উপস্থিতি চোখে পড়েনি।

বরং এখন তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পাতা যেটি রয়েছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে, পেজটি তৈরিই হয়েছে গত বছরের ২৪শে নভেম্বর।

ওই পাতায় তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে।

পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দেশের সংবাদ মাধ্যমগুলো তার বিভিন্ন অনুষ্ঠান-গতিবিধি কাভারের পাশাপাশি তার দেওয়া পোস্টগুলোও স্বতপ্রণোদিত হয়ে প্রচার করছে।

এখন তিনি যেসব কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন, সেগুলো সামাজিক মাধ্যমে বিএনপির দলীয় ভেরিফায়েড পাতাগুলো থেকে যেমন প্রচার হচ্ছে, তেমনি তিনি নিজেও তার ভেরিফায়েড পাতায় প্রকাশ করছেন।

দলীয় কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা

আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে এখনো কোনো পদ-পদবি নেই জাইমা রহমানের। কিন্তু তা সত্ত্বেও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসীদের নিয়ে দলের একটি সভায় ভার্চুয়ালি যোগ দেওয়ার ঘটনায়। মূলত ইউরোপের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে প্রবাসী ভোটারদের বিষয়ে ওই সভাটি হয়েছিল।

সভার বিষয়বস্তু বিএনপির দিক থেকে তখন প্রকাশ করা না হলেও ওই সভার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে এসেছিল। ওই ভিডিওতে ধন্যবাদ জানিয়ে কথা বলতে দেখা যায় জাইমা রহমানকে, যা পরে দেশের সংবাদ মাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।

এর আগে ওই বছরের শুরুতে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে তার বাবা তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে যোগ দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন।

জাইমা রহমান, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ওই অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষ থেকে যোগ দিয়েছিলেন।

তবে দেশে ফেরার আগে গত ২৩শে ডিসেম্বর তিনি তার ভেরিফায়েড পাতায় তার ‘নিজের গল্প’ প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি বলেছেন, “চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় এবং পাঁচই অগাস্টের আগে-পরের সময়টাতে আমি যতটুকু পেরেছি, নেপথ্যে থেকে সাধ্যমতো ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছি”।

তিনি লিখেছেন, “দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই”।

তার দাদি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া গত ৩০শে ডিসেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

ঢাকায় ফেরার পর গত ১৮ই জানুয়ারি ‘উইমেন শেপিং দ্য নেশন: পলিসি, পসিবিলিটি অ্যান্ড দ্য ফিউচার অব বাংলাদেশ’ (নারীর হাতে জাতির নির্মাণ: নীতি, সম্ভাবনা ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ) শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি প্রথমবারের মতো বক্তব্য দেন ও এ বিষয়ে প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।

সেখানে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, এটিই তার এ ধরনের প্রথম কোনো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া।

এরপর ২৫শে জানুয়ারি তিনি বিএনপি আয়োজিত ‘আমার ভাবনায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক রিল–মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে তারেক রহমানের একান্ত আলাপ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ঢাকার গুলশানের একটি পার্কে ওই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়েছিল।

সবশেষ ২৭শে জানুয়ারি তিনি দৃক গ্যালারিতে একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখতে গিয়েছিলেন এবং এ নিয়ে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে কিছু ছবিও শেয়ার করেছেন।

বিশ্লেষকরা যা বলছেন

জাইমা রহমানকে নিয়ে আলোচনায় অনেকেই বিশ্বজুড়ে বহু রাজনৈতিক দলে, বিশেষ করে উপমহাদেশের রাজনীতিতে পরিবারতন্ত্রের প্রসঙ্গটি তুলে আনছেন। বাংলাদেশেও বিএনপি ও আওয়ামী লীগে দীর্ঘকাল ধরেই নেতৃত্বের ক্ষেত্রে পরিবারতন্ত্রই প্রাধান্য পেয়েছে বলে আলোচনা আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও লেখক মহিউদ্দিন আহমদ বলছেন, ভারতে জওহরলাল নেহেরু নিজেই ইন্ধিরা গান্ধীকে রাজনীতিতে এনেছিলেন, তাছাড়া পাকিস্তানেও পারিবারিক রাজনীতির ইতিহাস আছে।

“বাংলাদেশেও যারা বিএনপির রাজনীতি সক্রিয়ভাবে সমর্থন করেন, তারা এ পরিবারকে ঘিরেই রাজনীতি করেন এবং সে কারণেই মনে হচ্ছে জাইমা রহমানকে তার দল ও পরিবারের পক্ষ থেকে গ্রুমিং (প্রস্তুত) করা হচ্ছে,” বলছিলেন তিনি।

মি. আহমদ বলেন, “এখন জনপরিসরে বিভিন্নভাবে জাইমা রহমানকে আনা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জনমনে দলটির নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা সম্পর্কেও ধারণা দেওয়ার একটি চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে”।

আরেকজন বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মজিবুর রহমান বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ, নারী এবং বিশেষভাবে জেন-জি হিসেবে যারা পরিচিত তাদের আকৃষ্ট করতেই জাইমা রহমানকে সামনে আনা হচ্ছে বলে মনে করেন তিনি।

“এর মধ্যে হয়তো বিএনপির পরবর্তী নেতৃত্ব কে হবে বা নেতৃত্ব কোন দিকে যেতে পারে, তার একটা দিকনির্দেশনা আছে। কিন্তু জাইমা রহমান-অবয়ব দিয়ে এই বার্তাও দেওয়া হচ্ছে যে ধর্মান্ধতা বা মৌলবাদের উল্টো দিকে বিএনপি নারীদের কীভাবে দেখাতে চায়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন তিনি।

মি. রহমান বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই জাইমা রহমানকে যেভাবে তুলে ধরছে, তা হলো পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত একজন তরুণ নারী, যিনি পরিবারকে উপস্থাপন করেন ও নিজেকে নেতৃত্বের জন্য তৈরি করছেন।

“তবে সময়ই বলে দেবে তিনি নেতা হিসেবে নিজেকে কতটা প্রস্তুত করতে পারেন কিংবা আদৌ করেন কি-না,” বলছিলেন বিশ্লেষক মজিবুর রহমান।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

মুস্তাফিজুর রহমান শিমুল, চরভদ্রাসন:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:২৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাপের কামড়ে ছটফট করছিল শিশু আব্দুল্লাহ, ফকিরের আশ্বাসেই হারিয়ে গেল প্রাণ

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় বিষাক্ত সাপের কামড়ে সেক আব্দুল্লাহ (৫) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (২০ জুন) দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত আব্দুল্লাহ উপজেলার গাজিরটেক ইউনিয়নের চর অমরাপুর গ্রামের সেক শাহেদের ছেলে। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল পরিবারের সবার ছোট এবং অত্যন্ত আদরের সন্তান।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির পেছনে খেলাধুলা করছিল আব্দুল্লাহ। এ সময় একটি কংক্রিটের স্ল্যাবের নিচে থাকা বিষাক্ত সাপ তার পায়ে কামড় দেয়। কামড় খাওয়ার পর শিশুটি বাড়িতে এসে মাকে জানায়, তাকে ‘ব্যাঙে কামড় দিয়েছে’। প্রথমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নেওয়ায় পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় এক ব্যক্তির কাছে নিয়ে যান, যিনি নিজেকে ঝাড়ফুঁক ও চিকিৎসাজ্ঞানসম্পন্ন বলে পরিচয় দেন।

শিশুটির চাচি আখি আক্তার জানান, স্থানীয় শহীদ ফকির নামে এক ব্যক্তির কাছে নেওয়ার পর তিনি কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বলেন, এটি সাপের কামড় নয়। তার কথায় আশ্বস্ত হয়ে কিছু সময় সেখানে কাটানো হয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই আব্দুল্লাহর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটতে শুরু করে।

পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালালেও দুপুরের দিকে শিশুটি মারা যায়।

গাজিরটেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “প্রথমে শিশুটিকে স্থানীয় এক ফকিরের কাছে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক।”

আব্দুল্লাহর অকাল মৃত্যুতে পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পুরো চর অমরাপুর গ্রাম। প্রতিবেশীরাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় স্ত্রীর তালাকের এক সপ্তাহ পর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলছিল জামাতার মরদেহ

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন আব্দুল কারিম মুন্সী (৪২) নামে এক ব্যক্তি।

শনিবার (২০ জুন) সকালে উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের আলগাদিয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত আব্দুল কারিম মুন্সী ভাঙ্গা উপজেলার কাপুড়িয়া সদরদী গ্রামের মৃত জালাল মুন্সীর ছেলে। তিনি নগরকান্দার আলগাদিয়া গ্রামের বাসিন্দা ওমর আলী শেখের জামাতা ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে আব্দুল কারিম ও তার স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন এবং কোনো স্থায়ী পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। এসব কারণে তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি লেগেই থাকত। একপর্যায়ে কোরবানির ঈদের প্রায় এক সপ্তাহ আগে তার স্ত্রী একতরফাভাবে তাকে তালাক দেন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের ধারণা, তালাকের পর থেকেই আব্দুল কারিম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। ঘটনার আগের রাতে তিনি শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরে শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় শ্বশুর ওমর আলী শেখের টিনশেড বসতঘরের সিঁড়ির আড়ার সঙ্গে দড়ি পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে। পরে খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানি আজাদ জানান, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তদন্ত শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬, ১২:১৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে রাতে স্বামীর সাথে ঝগড়া, ভোরে মিলল গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নে শ্বশুরের সেবাযত্নকে কেন্দ্র করে স্বামীর সঙ্গে বিরোধের জেরে রিমা আক্তার (৩৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২০ জুন) ভোরে সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ওয়াজউদ্দিন মুন্সির ডাঙ্গী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রিমা আক্তার ওই এলাকার শাহেদ আলীর স্ত্রী। তিনি দুই সন্তানের জননী ছিলেন। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রিমার শ্বশুর জহির উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছেন। তাকে দেখাশোনা ও সেবাযত্ন করার বিষয় নিয়ে প্রায়ই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ হতো।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় শ্বশুরের দেখভাল করা নিয়ে রিমা আক্তার ও তার স্বামী শাহেদ আলীর মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে রিমা আক্তার স্বামীকে বিভিন্ন কথা বলেন। পরে রাতের খাবার খেয়ে স্বামী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।

পরদিন শনিবার ভোরে শাহেদ আলী ঘুম থেকে উঠে ঘরের বাইরে গেলে ওই সুযোগে রিমা আক্তার ঘরের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।কিছুক্ষণ পর তার মেয়ে সাবিহা (৯) মাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে শাহেদ আলী ওড়না কেটে তাকে নিচে নামালেও ততক্ষণে তার মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে এসআই খায়রুল বাশার বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”