খুঁজুন
শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ১২ বৈশাখ, ১৪৩৩

জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫৯ পূর্বাহ্ণ
জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু, কী জানা গেল এখন পর্যন্ত?

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার সীতাকুণ্ডে ‘সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযানে চালিয়েছে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র‍্যাবসহ বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য।

সোমবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনভর চালানো এই অভিযানে ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করতে দেখা গেছে। অভিযানে ১৫ জনকে আটকের পাশাপাশি কিছু অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, এই অভিযানের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে পুলিশ প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে এই এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা হামলার শিকার হয়েছেন।

সবশেষ গত ১৯শে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া।

মূলত ওই ঘটনার কারণেই মাদক, অস্ত্র ও নানা বাহিনীর জন্য আলোচিত হয়ে ওঠা জঙ্গল সলিমপুরে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন।

যদিও পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য থেকে ধারণা পাওয়া গেছে যে, ব্যাপক আয়োজনে চালানো এই অভিযানের প্রস্তুতি সম্পর্কিত তথ্য আগেই ফাঁস হয়ে গেছে।

পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে এখন থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি স্থায়ী কেন্দ্রের কার্যক্রম চলবে।

“আমাদের মূল ফোকাস ছিল এই বিশাল অংশে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা এবং আমরা সেটি করতে পেরেছি৷ আজ থেকে পুলিশ ও র‍্যাবের দুটি ক্যাম্প এখানে কাজ করবে। ক্যাম্পের নিরাপত্তাবিধানে যদি এখানে কামান দেওয়া লাগে, আমরা কামান দেব,” সাংবাদিকদের বলেছেন তিনি।

অভিযানে যা যা হয়েছে

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে, লিংক রোডের উত্তর পাশে বিস্তৃত তিন হাজার ১০০ একর জায়গাজুড়ে জঙ্গল সলিমপুর নামক এলাকাটি অবস্থিত।

পাহাড় কেটে বানানো এই খাসজমির ওপর গড়ে ওঠা এলাকাটি কার্যত ‘সন্ত্রাসীদের’ কয়েকটি গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। সেখানে প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষ বাস করলেও তাদের জন্য রয়েছে আলাদা পরিচয়পত্র।

মূলত নিম্নআয়ের বিভিন্ন পেশার শ্রমজীবী মানুষরা কম খরচে বসবাসের জন্য এই এলাকায় বাস করেন। এর বাইরে রয়েছে বিপুল সংখ্যক ছিন্নমূল মানুষের উপস্থিতি।

আজ ভোরেই পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে সেনাবাহিনী, র‍্যাব, পুলিশসহ বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। র‍্যাবের গাড়ি বহরের সাথে একাধিক অ্যাম্বুলেন্সও ঢুকতে দেখা গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকরা জানিয়েছেন।

পুলিশ বলছে, বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়ে জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেই প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়েছে আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্যদের।

পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান সাংবাদিকদের জানিয়েছেন যে, ভেতরে ছোটো কালভার্ট ভেঙ্গে রাখার পাশাপাশি রাস্তায় ট্রাক আড়াআড়ি ফেলে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনেক স্পিড ব্রেকার দিয়ে রাখা হয়েছে।

“এগুলো সরিয়ে আমাদের যেতে হয়েছে,” বলেছেন তিনি।

এর আগে যৌথ বাহিনীর সদস্য একাধিক ভাগে ভাগ হয়ে ভোরে অভিযান শুরু করেন। একই সাথে ওই এলাকায় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে যাতায়াত নিয়ন্ত্রণ করতে বসানো হয় চেকপোস্ট।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার উদাহরণ থাকায় এবার সার্বক্ষণিক ড্রোন ব্যবহার করা হয় নজরদারির জন্য।

কিন্তু অভিযানে ওই এলাকায় সন্ত্রাসের জন্য যারা বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছিল, তাদের কাউকে গ্রেফতার বা আটক করা গেছে কি-না সে সম্পর্কে পুলিশের দিক থেকে কিছু জানানো হয়নি।

অতিরিক্ত ডিআইজি নাজমুল হাসান বলেছেন, পুলিশ ও র‍্যাবের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বিজিবি যৌথভাবে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে এই অভিযান পরিচালনা করছে।

জঙ্গল সলিমপুর আলোচনায় কেন

দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে কেটে তৈরি হওয়া এলাকাটিতে প্লট বাণিজ্য, অস্ত্র ও মাদক নিয়ে প্রায়ই বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এবার ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পরিবর্তনের পর দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

গত উনিশে জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে এবং এতে র‍্যাবের এক সদস্য নিহত হন।

এ ঘটনায় ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে ও আর দুশো জন অজ্ঞাত পরিচয়ধারীকে আসামি করে মামলা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যদের ওপর হামলা ও চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছিল। পরে তাদের সেনাবাহিনী ও পুলিশ উদ্ধার করে।

পুলিশ ও র‍্যাব তখন বলেছিল, এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করে বিভিন্ন গ্রুপ। এর মধ্যে রয়েছে ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ কিংবা রিদোয়ান গ্রুপ।

র‍্যাব-৭ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাফিজুর রহমান তখন র‍্যাবের ওপর হামলার জন্য ইয়াসিন গ্রুপকে অভিযুক্ত করেছিলেন।

স্থানীয় সাংবাদিকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ ছিল মশিউর-গফুর গ্রুপের হাতে এবং এরপর তা চলে যায় রোকন গ্রুপের হাতে।

অন্যদিকে আলীনগর নিয়ন্ত্রণ করতো ইয়াসিন গ্রুপ। কিন্তু এই ইয়াসিন গ্রুপ সম্প্রতি রোকন গ্রুপকে সরিয়ে সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণও নিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগ আমলে ২০২২ সালে একবার র‍্যাবের সাথে ‘সন্ত্রাসীদের’ গোলাগুলি হয় এবং ওই বছরই সলিমপুরে অবৈধ ঘরবাড়ি উচ্ছেদ অভিযান শেষে জেলা প্রশাসনের লোকদের বাধা দেওয়া হয়। একই বছর আলীনগরে অবৈধ বসতি ভাঙতে গেলে আলীনগরের ‘সন্ত্রাসীরা’ পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

ওই বছরই জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের শাখা, মডেল মসজিদ, স্পোর্টস ভিলেজ ও নভোথিয়েটারসহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু জঙ্গল সলিমপুরের নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনের হাতে না থাকায় প্রকল্পগুলোর কোনো অগ্রগতি হয়নি।

এখন পুলিশ কর্মকর্তারা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, আজকের যৌথ অভিযানের মূল উদ্দেশ্য ছিল জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ করে র‍্যাব ও পুলিশের দুটি স্থায়ী কেন্দ্র নিশ্চিত করা, যার মাধ্যমে ওই এলাকায় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ তৈরি হবে বলে তারা আশা করছেন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলছিল শিক্ষা কর্মকর্তার লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গা পৌর এলাকায় গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ রাজু ইসলাম (৩৬)-এর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ

শনিবার (২৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভাঙ্গা পৌরসভার পূর্ব হাসামদিয়া এলাকার মাতৃকুঞ্জ নামে একটি আবাসিক ভবনের চতুর্থ তলার ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শেখ রাজু ইসলাম গোপালগঞ্জ উপজেলা সদরে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার মউতলা গ্রামে। তিনি নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ভাঙ্গা পৌরসভার আতাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা হ্যাপি আক্তারের স্বামী। তাদের সংসারে দুই কন্যা সন্তান রয়েছে।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর আনুমানিক ১টা থেকে দেড়টার মধ্যে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। বিষয়টি বুঝতে পেরে দ্রুত স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে নিচে নামানো হয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের স্ত্রী হ্যাপি আক্তার জানান, দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তিনি বাসায় ফোন করেন। এ সময় তার মেয়েরা জানায়, তাদের বাবা ঘরের ভেতরে গলায় রশি দিয়েছেন। খবর পেয়ে তিনি দ্রুত বাসায় এসে স্বামীর ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান।

নিহতের জমজ ভাই শেখ আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মায়ের ফোন পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে আসেন। বাসায় পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর উপরের তলা থেকে চিৎকার শুনে দৌড়ে গিয়ে ভাইয়ের মরদেহ দেখতে পান। ঘটনাটি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।

এদিকে নিহতের ছোট মেয়ে আমেনা আক্তার (প্রায় ৪ বছর) জানায়, কিছুক্ষণ আগে তার বাবা তার পাশে শুয়ে ছিলেন। পরে তাকে পাশে না পেয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে বাবাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে তিনি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে—তা খতিয়ে দেখতে ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিহতের সহকর্মী ও স্বজনদের সঙ্গেও কথা বলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৪:২৯ অপরাহ্ণ
সংবাদ প্রকাশের পর: জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে পদক্ষেপের ঘোষণা দিলেন এমপি বাবুল

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বাইশরশি জমিদার বাড়ি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-৪ (সদরপুর, ভাঙ্গা ও চরভদ্রাসন) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল।

শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে। এরই প্রেক্ষিতে শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এমপি বাবুল সরেজমিনে জমিদার বাড়িটি পরিদর্শন করেন এবং সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, এই জমিদার বাড়িটি আমাদের এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন। এটিকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। ইতোমধ্যে আমরা এটি অধিদপ্তর-এর আওতায় এনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছি।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে থাকা এই জমিদার বাড়ির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি গুপ্তধনের আশায় বউঘাট খননের ঘটনাও এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শহিদুল ইসলাম বাবুলের এ ঘোষণায় এলাকাবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।

ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৩:৫০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫ প্রাণহানির পরও নিরাপত্তাহীন কাফুরা রেলক্রসিং, নেই গেট-গেটম্যান—ঝুঁকিতে মানুষ

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কাফুরা রেলক্রসিংটি দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ে নেই কোনো লেভেল ক্রসিং গেট, নেই গেটম্যান—ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বহুবার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৭ জানুয়ারি এই কাফুরা রেলক্রসিংয়েই ভয়াবহ এক দুর্ঘটনায় ট্রেন ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হন। আহত হন আরও কয়েকজন, যাদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকাগামী একটি ট্রেন রেলগেট অতিক্রম করার সময় একটি মাইক্রোবাস হঠাৎ লাইনের ওপর উঠে পড়লে এ সংঘর্ষ ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় মাইক্রোবাসটি প্রায় ৫০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।

দুর্ঘটনার সময় সেখানে কোনো গেট বা গেটম্যান না থাকাই বড় কারণ হিসেবে উঠে আসে। এরপর স্থানীয়দের ক্ষোভের মুখে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাফুরা রেলক্রসিংয়ে এখনো নেই কোনো স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ট্রেন আসার সময় সতর্কবার্তা বা ব্যারিয়ার না থাকায় হঠাৎ করেই যানবাহন লাইনে উঠে পড়ছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওহিদুল ফকির বলেন, “প্রতিদিনই ভয় নিয়ে রাস্তা পার হতে হয়। ট্রেন কখন আসবে, কোনো ধারণা থাকে না। দ্রুত এখানে গেটম্যান নিয়োগ জরুরি।”

অটোরিকশা চালক হামিদ শরীফ বলেন, “হঠাৎ ট্রেন চলে এলে দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হয়ে যায়। অনেক সময় অল্পের জন্য বেঁচে যাই।”

এলাকার চা দোকানদার হেলাল বেপারি জানান, “ট্রেন এলে আমরা নিজেরাই রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে গাড়ি থামানোর চেষ্টা করি।”

ঝালমুড়ি বিক্রেতা রফিক মোল্যা বলেন, “এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। এত মানুষ মারা গেলেও কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা নেই।”

চটপটি বিক্রেতা মো. হায়দার মন্ডল বলেন, “প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন চলাচল করে এই রাস্তা দিয়ে। ঝুঁকি থাকলেও যেন কারো নজর নেই—এটা খুবই দুঃখজনক।”

এ বিষয়ে ফরিদপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার প্রহলাদ বিশ্বাস ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “গেটম্যান নিয়োগ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন।”

এ ব্যাপারে রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহাবুব হাসান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, এ ব্যাপারে পাকশীতে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও এখনও এর কোনো সমাধান মিলেনি।

রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মোসা. হাসিনা খাতুন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “এটি সম্ভবত অননুমোদিত রেলগেট হওয়ায় গেটম্যান নেই। তবে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এদিকে, জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, বিষয়টি আমরা ইতোমধ্যে জেনেছি। আমরা এলাকাবাসী ও ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দ্রুতই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “জননিরাপত্তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাইতো সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে শ্রীঘ্রই সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”