খুঁজুন
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৮ মাঘ, ১৪৩২

প্রথমবার ভোট? এই তথ্যগুলো জানা জরুরি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৮ এএম
প্রথমবার ভোট? এই তথ্যগুলো জানা জরুরি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এসেছে। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে একটি নয়, দিতে হবে দুটি ভোট। সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার পাশাপাশি ভোটাররা দেবেন গণভোটও। নির্বাচনী ব্যালটে যেখানে বিভিন্ন দলের প্রতীক থাকে, সেখানে গণভোটে থাকবে দুটি অপশন। ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে ভোটাররা তাদের মত জানাবেন।

তাই নির্বাচনের পূর্বে প্রস্তুতিও নিতে হবে ভোটারদের। ভোট দেওয়া শুধু ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের বিষয় নয়; এটি দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। নতুন ভোটারদের কাছে এই অভিজ্ঞতা যেমন আনন্দের, তেমনি দায়িত্বেরও। নাগরিক অধিকার প্রয়োগের এই মুহূর্তকে অর্থবহ করতে হলে আগে থেকেই কিছু বিষয় সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা প্রয়োজন।

ভোটার আইডি নিশ্চিত করুন

ভোট দিতে হলে অবশ্যই ভোটার তালিকায় আপনার নাম থাকতে হবে এবং সঙ্গে রাখতে হবে জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার স্লিপ। তাই ভোটের দিন যাওয়ার আগে তালিকায় নাম আছে কি না, তা যাচাই করে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

প্রার্থীদের সম্পর্কে জানুন

ভোট দেওয়ার আগে প্রার্থীদের কর্মসূচি, নীতিমালা ও আগের কাজকর্ম সম্পর্কে ধারণা নেওয়া জরুরি। শুধু পরিচিতি বা জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর না করে নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম, সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রিন্টের তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়।

ভোট দিতে যা লাগবে

ভোটকেন্দ্রে যেতে অতিরিক্ত কিছু প্রয়োজন নেই। জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার স্লিপ থাকলেই যথেষ্ট। অপ্রয়োজনীয় জিনিস, বড় ব্যাগ বা স্মার্টফোন সঙ্গে না নেওয়াই ভালো।

ভোটের দিনের প্রস্তুতি

ভোটকেন্দ্র কোথায়, ভোটের সময়সূচি কী এবং কীভাবে সেখানে পৌঁছাবেন— এসব বিষয় আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখলে ঝামেলা কমে। লাইনে দাঁড়ানোর নিয়ম বা কেন্দ্রের ভেতরে কী নেওয়া যাবে, তা জানা থাকলে চাপও কম অনুভূত হবে।

ভোটকেন্দ্রে ছবি তোলা নিষেধ

ভোট দেওয়ার পর বাইরে সেলফি তোলা গেলেও ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ছবি তোলা, ভিডিও করা বা চেক-ইন দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। ফোন সঙ্গে থাকলে কেন্দ্রের ভেতরে ঢোকার আগে সেটি বন্ধ রাখতে হবে।

নিজের ভোটকেন্দ্র জেনে নিন

নির্ধারিত ভোটকেন্দ্রের অবস্থান আগে থেকেই নিশ্চিত করা জরুরি। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা স্থানীয় নির্বাচন অফিস থেকে কেন্দ্রের ঠিকানা ও সময়সূচি জেনে নেওয়া যায়। এতে অযথা দেরি বা বিভ্রান্তি এড়ানো সম্ভব।

ভোটের প্রক্রিয়া বুঝে নিন

ভোটার যাচাই থেকে শুরু করে ভোট দেওয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পর্কে ধারণা থাকলে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। নির্বাচনকর্মীদের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচয় নিশ্চিত করার পর ইভিএম বা ব্যালট ইউনিটে পছন্দের প্রতীকে ভোট দিতে হবে।

গোপনীয়তা রক্ষা করা

ভোট দেওয়ার সময় গোপনীয়তা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়।

ভোট মানে শুধু একটি বোতাম চাপা বা সিল দেওয়া নয়—এটি নিজের মত প্রকাশ এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। সচেতনতা ও প্রস্তুতি থাকলে প্রথম ভোটের অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠতে পারে আরও আত্মবিশ্বাসী ও অর্থবহ।

উপদেষ্টাদের সম্পদে চমক! কার কত বেড়েছে জানেন?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৫ এএম
উপদেষ্টাদের সম্পদে চমক! কার কত বেড়েছে জানেন?

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ মুহূর্তে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা এবং সমমর্যাদাসম্পন্ন ব্যাক্তি ও তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের বিরবণী প্রকাশ হয়েছে। যে বিবরণী অনুযায়ী বেশিরভাগ উপদেষ্টা এবং তাদের স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণই বেড়েছে।

অর্থবছর অনুযায়ী ৩০শে জুন ২০২৪ থেকে ৩০শে জুন ২০২৫ এই সময়ের সম্পদের হিসাব উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী প্রায় আট মাসের হিসেব এখানে দেওয়া হয়নি।

সম্পদের বিবরণীতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের মোট আর্থিক সম্পদ বেড়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার বেশি।

এছাড়া উপদেষ্টা আদিলুর রহমান এবং বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কমলেও বেশ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার মোট সম্পদও।

সঞ্চয়পত্র নগদায়ন, সঞ্চয়ী বা মেয়াদী আমানতে বৃদ্ধি এবং উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া শেয়ারের কারণে প্রধান উপদেষ্টার মোট সম্পদ বেড়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও তার স্ত্রী আফরোজী ইউনূসের নন ফাইনান্সিয়াল সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও মোট সম্পদের পরিমাণ কমেছে কোটি টাকার কাছাকাছি।

এছাড়া উপদেষ্টাদের মধ্যে বেশিরভাগেরই সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। মোট হিসেবে সব থেকে বেশি অর্থ-সম্পদের মালিক বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

তার পরেই রয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান।

মি. রহমান এবং স্ত্রীর সম্পদের হিসাব একসাথে উল্লেখ করা হয়েছে। বিবরণ অনুযায়ী তাদের বেশিরভাগ সম্পদই দেশের বাইরে।

শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে উপদেষ্টা পরিষদে যোগ দেওয়া সদস্যদের মধ্যে আসিফ মাহমুদ এবং মাহফুজ আলমের সম্পদের হিসাব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া শিক্ষার্থী প্রতিনিধি থেকে উপদেষ্টা হওয়া নাহিদ ইসলামের তথ্য, দায়িত্ব থেকে সরে দাড়ানোর সময় তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন।

সম্পদের বিবরণে যা রয়েছে

মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা মোট ২৭ জন এবং তাদের স্ত্রী বা স্বামীর সম্পদের হিসেব উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্পদের বিবরণ অনুযায়ী, উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর সম্পদ কিছু কমলেও দেড় কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশার। তার কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায়ও দেখানো হয়েছে।

মিজ তিশার মোট সম্পদ এক কোটি ৪০ লক্ষ ৮১ হাজার ৮৬০ টাকা থেকে দুই কোটি ৯৯ লক্ষ ৮৯ হাজার ৫০১ টাকা হয়েছে।

মোট সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা আদিলুর রহমানের। যা ৯৮ লক্ষ ২২ হাজার সাত টাকা থেকে বেড়ে দুই কোটি ৫২ লাখ ৯৯ হাজার ২৬৯ টাকা হয়েছে।

অর্থাৎ দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে মি. রহমানের। তার স্ত্রীর সম্পদও ৬৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি বেড়েছে।

প্রায় দেড় কোটি টাকার সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের। চার কোটি ৪৬ লক্ষ টাকা থেকে তার মোট সম্পদ হয়েছে পাঁচ কোটি ৮৩ লক্ষ টাকা। তার স্ত্রী সম্পদও বেড়েছে ২৫ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।

অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মোট সম্পদের পরিমাণ ছয় লাখ টাকার কাছাকাছি বাড়লেও তার স্ত্রী মিজ পারভীন আহমেদ এর মোট সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে প্রায় ৭৫ লক্ষ টাকার কাছাকাছি। এই এক বছরে তার ব্যক্তিগত এবং ব্যবসায়িক দায়ও বেড়েছে।

কোটি টাকার বেশি সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদের। ব্যাংক আমানত থেকে পাওয়া মুনাফা, ডেভেলপার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি থেকে আয়- এসব কারণে তার সম্পদের পরিমাণ বৃদ্ধি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এর এই এক বছরে প্রায় বারো লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রী শীলা আহমেদ এর বেড়েছে ৪৩ লক্ষ টাকার সম্পদ।

প্রায় সাড়ে ছয় লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের।

তবে তার স্ত্রীর সম্পদ কমেছে। আর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মোট সম্পদের পরিমাণ ষোল লক্ষ টাকার মতো বাড়লেও তার স্ত্রীর সম্পদ বেড়েছে দুই লক্ষ টাকার কিছু বেশি।

শিক্ষা উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এর ৫৫ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে। আর তার স্ত্রীর প্রায় বেড়েছে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার সম্পদ।

উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এর মোট সম্পদের পরিমাণ ২৫ লক্ষ টাকার মতো বেড়েছে। তার স্ত্রীর বেড়েছে ১০ লক্ষ টাকার কিছু বেশি।

এই সময়ে উপদেষ্টাদের মধ্যে সম্পদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের। কোটি টাকার বেশি সম্পদ কমেছে তার।

আর্থিক বিবরণের শুরুতে তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ২৫ লক্ষ ৬৫ হাজার ৫৫ টাকা হলেও সবশেষ হিসেবে এক কোটি ১২ লক্ষ ৭২ হাজার ৯২৪ টাকার উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার স্বামীর মোট সম্পদের পরিমাণ কিছুটা বেড়েছে।

উপদেষ্টা ফারুক ই আজম এর সম্পদ এক কোটি ৭৬ লক্ষ থেকে দুই কোটি দুই লক্ষ হয়েছে। তার স্ত্রীরও তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে।

উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের সম্পদ বাড়লেও কমেছে তার স্ত্রীর। মি. হোসেনের ২৬ লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে।

একইভাবে নিজের সম্পদ কিছু বাড়লেও কমেছে উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম এর স্বামীর মোট সম্পদ। বিবরণ অনুযায়ী, দেড় কোটি টাকার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে তার স্বামীর।

সম্পদ বেড়েছে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার এবং তার স্বামীর। মিজ আখতারের মোট সম্পদ ৮১ লক্ষ থেকে এক কোটি দুই লক্ষ হয়েছে বলে বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ এর মোট সম্পদ প্রায় ত্রিশ লক্ষ টাকা বাড়লেও তার স্বামী হুমায়ুন কাদের চৌধুরির মোট সম্পদ কোটি টাকা বেড়েছে। যদিও তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় কোটি টাকা দেখানো হয়েছে।

মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৮ লাখ টাকা থেকে এক কোটি ১৩ লাখ টাকা হয়েছে উপদেষ্টা আ ফ ম খালিদ হোসেনের। তার স্ত্রী সম্পদও কিছু বেড়েছে। উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা এবং তার স্ত্রী উভয়ের মোট সম্পদ কমেছে।

টাকার হিসেবে উপদেষ্টাদের মধ্যে সবথেকে ধনী বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তার মোট সম্পদ ৯১ কোটি ১০ লক্ষ ৯৮ হাজার ৮৪২ টাকা থেকে ৯১ কোটি ৬৫ লক্ষ ১০ হাজার ৮৯৫ টাকা হয়েছে। প্রায় তিন লক্ষ টাকার সম্পদ বেড়েছে তার স্ত্রীরও।

প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ সহকারী, দূত এবং উপদেষ্টাদের অনেকের আর্থিক বিবরণও দেওয়া হয়েছে। যেখানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকীর সম্পদের হিসেব বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি।

এক্ষেত্রে অধ্যাপক আলী রীয়াজ ২০২৫ সালের নভেম্বরে উপদেষ্টার পদমর্যাদায় যোগদান করেছেন। এতে করে এই বিবরণীর মধ্যে তার সম্পদের হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

আর প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয় সংক্রান্ত বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী অবৈতনিক হওয়ায় তিনি সরকারের কাছ থেকে কোনো সুবিধা নেননি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমানের সম্পদের পরিমাণও বেড়েছে। যদিও তার মোট সম্পদের বেশিরভাগই দেশের বাইরে।

বিবরণ অনুযায়ী মি. রহমান এবং তার স্ত্রীর দেশে থাকা সম্পদের পরিমাণ ২২ লক্ষ টাকা। আর ৪৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৫০ মার্কিন ডলারের মোট সম্পদ রয়েঝে দেশের বাইরে। এছাড়া ১২ লক্ষ মার্কিন ডলারের ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক দায় রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

শিক্ষার্থী উপদেষ্টাদের বিষয়ে যা জানা গেল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে তিনজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধিকেও যুক্ত করা হয়েছিল।

উপদেষ্টাদের সম্পদের যে বিবরণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সেখানে উপদেষ্টা পরিষদে থাকা ছাত্র উপদেষ্টাদের সম্পদের বিবরণও দেওয়া হয়েছে।

সম্পদের বিবরণ অনুয়ায়ী, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার মোট সম্পদের পরিমাণ ১৫ লক্ষ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে তার ট্যাক্স আইডেনটিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন না থাকায় আগে তার সম্পদের পরিমাণ কত ছিল সে বিয়ষে উল্লেখ করা হয়নি।

আরেক শিক্ষার্থী উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলমের সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে। বিবরণী অনুযায়ী চার লক্ষ ২০ হাজার টাকা থেকে এক বছরে তার সম্পদ হয়েছে ১২ লক্ষ ৭৬ হাজার ৮৭৯ টাকা।

উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সম্পদের হিসেব এই বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়নি। উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করার পর গত ২৬শে ফেব্রুয়ারি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সম্পদের বিবরণী প্রকাশ করেছিলেন তিনি।

ওই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, “উপদেষ্টা পদে যোগদানের আগে আমার কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ছিল না। ২১শে অগাস্ট উপদেষ্টা পদে দায়িত্ব পালনের জন্য সম্মানী গ্রহণের লক্ষ্যে সরকারিভাবে সোনালী ব্যাংকে একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলি।”

ওই অ্যাকাউন্টে ২১শে অগাস্ট ২০২৪ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত হিসাবে দশ লক্ষ ছয় হাজার ৮৮৬ টাকা জমা হয়েছে এবং নয় লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার ১৮০ টাকা উত্তোলিত হয়েছে বলে জানান তিনি।

সোনালী ব্যাংকের এই অ্যাকাউন্ট ছাড়া তার অন্য কোনো অ্যাকাউন্ট নেই বলেও ওই সময় জানিয়েছিলেন মি. ইসলাম।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: যে কারণে দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:২৭ এএম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: যে কারণে দেশজুড়ে মোটরসাইকেল চলাচলে নিষেধাজ্ঞা?

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে যানবাহন চলাচলের ওপর ইতোমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এরই অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাত থেকে ৭২ ঘণ্টার জন্য সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের বিআরটিএ সংস্থাপন শাখার উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে সম্প্রতি এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠাতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট গ্রহণের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত (৭২ ঘণ্টা) মোটরসাইকেল চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

একইসঙ্গে ১১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত মধ্যরাত ১২টা থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত (২৪ ঘণ্টা) ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।

তবে, উল্লিখিত নিষেধাজ্ঞা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন ও অনুমতিপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক; জরুরি সেবা কাজে নিয়োজিত যানবাহন, ঔষধ, স্বাস্থ্য-চিকিৎসা ও অনুরূপ কাজে ব্যবহৃত দ্রব্যাদি এবং সংবাদপত্র বহনকারী সব ধরনের যানবাহন; আত্মীয়স্বজনের জন্য বিমানবন্দরে যাওয়া, বিমানবন্দর হতে যাত্রী বা আত্মীয়স্বজনসহ নিজ বাসস্থানে অথবা আত্মীয়স্বজনের বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য ব্যবহৃত যানবাহন (টিকিট বা অনুরূপ প্রমাণ প্রদর্শন সাপেক্ষে) এবং দূরপাল্লার যাত্রী বহনকারী অথবা দূরপাল্লার যাত্রী হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত যেকোনও যানবাহন নিষেধাজ্ঞার শিথিলযোগ্য হবে।

অন্যদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি ছোট আকৃতির যানবাহন (যথাযথ নিয়োগপত্র বা পরিচয়পত্র থাকা সাপেক্ষে) রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শন সাপেক্ষে; সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক অথবা জরুরি কোনো কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে; নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা অন্য কোনো ব্যক্তির জন্য মোটরসাইকেল; টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনায় নিয়ে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি থেকে লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানসমূহের যানবাহন; পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা বা মহানগর থেকে বাইরে যাওয়া বা প্রবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মহাসড়ক ও প্রধান সড়কের সংযোগ সড়কসহ সংশ্লিষ্ট সব রাস্তায় নিষেধাজ্ঞা শিথিলের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষেত্রে শিথিলযোগ্য হবে।

এ ছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে উল্লিখিত যানবাহনগুলো ছাড়া অন্যান্য যানবাহনের ওপরও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিলের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে ক্ষমতা অর্পণ করা হলো।

খালি পেটে আনারস খাওয়া কি ক্ষতিকর? জানুন সত্য

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ এএম
খালি পেটে আনারস খাওয়া কি ক্ষতিকর? জানুন সত্য

প্রাচীনকাল থেকেই রোগ নিরাময়ে কার্যকর ফল হিসেবে আনারসের ব্যবহার চলে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালে খালি পেটে আনারস খেলে শরীরের জন্য নানাভাবে উপকার হতে পারে। আনারসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ এনজাইম ব্রমেলেইন এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ‌‘সি’ রোগ প্রতিরোধ ও সুস্বাস্থ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

স্বাস্থ্যবিষয়ক একাধিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিয়মিত আনারস খেলে শরীরের প্রদাহ কমে এবং বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

প্রদাহের সঙ্গে লড়াই করে

আনারসে থাকা ব্রমেলেইন একটি শক্তিশালী প্রদাহরোধী উপাদান। এটি শরীরের বিষাক্ত পদার্থ দূর করতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমায়। নিয়মিত আনারস গ্রহণ করলে আরথ্রাইটিসের ব্যথা কমতে পারে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

লিভার ও অন্ত্রের উপকারে আসে

ব্রমেলেইন অ্যান্টি-প্যারাসাইটিক গুণসম্পন্ন।

ফলে আনারস নিয়মিত খেলে লিভার ও অন্ত্র সুস্থ রাখতে সহায়তা করে এবং হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয়।

ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখে

আনারসে থাকা পটাশিয়াম শরীরকে শক্তিশালী রাখে এবং শরীরের ইলেকট্রলাইটের ভারসাম্য রক্ষা করে, যা হৃদযন্ত্র ও পেশির জন্য অত্যন্ত জরুরি।

দাঁত ও মুখের যত্নে কার্যকর

গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসের ব্রমেলেইন দাঁত ভালো রাখতে সহায়তা করে এবং মুখের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কমাতে সাহায্য করে।

দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

আনারসে থাকা বেটা ক্যারোটিন চোখের জন্য উপকারী।

নিয়মিত আনারস খেলে বয়সজনিত চোখের সমস্যা কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।

ক্যানসার প্রতিরোধেও ভূমিকা

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, ব্রমেলেইন বিভিন্ন ধরনের ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

যেভাবে তৈরি করবেন আনারস জুস

আনারস জুস তৈরি করা খুবই সহজ। প্রথমে আনারসের খোসা ফেলে ছোট ছোট টুকরো করে কাটুন। এরপর একটি গ্লাস পানিতে কয়েক টুকরো আনারস দিয়ে সকালে খালি পেটে পান করুন।

তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যাদের গ্যাস্ট্রিক, আলসার বা অন্য কোনো শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে আনারস পানি ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণের আগে শরীরের অবস্থা বুঝে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।