খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮ বৈশাখ, ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যে কথা হলো ববিতার?

বিনোদন ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬, ২:৫২ পূর্বাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে যে কথা হলো ববিতার?

দশ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয়ে নেই ফরিদা আক্তার ববিতা। তাই সিনেমাসংশ্লিষ্ট কোনো আড্ডায় দেখা যায় না তাঁকে। গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে একুশে পদক গ্রহণ করতে ববিতা গিয়েছিলেন ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে।

পুরস্কার গ্রহণের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সামান্য কথা হয় দেশবরেণ্য চলচ্চিত্র অভিনয়শিল্পী ববিতার। মুহূর্তটা চমৎকার ছিল বলে জানালেন এই অভিনয়শিল্পী।

এ মাসের শুরুতে সরকার একুশে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের নাম ঘোষণা করে। গতকাল তাঁদের হাতে একুশে পদক তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পুরস্কার গ্রহণ শেষে বাসায় ফেরার পর বিকেল চারটায় প্রথম আলোর সঙ্গে কথা হয় ববিতার। কী কথা হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে? এই প্রশ্নে ববিতা বলেন, ‘দেখা হতেই প্রধানমন্ত্রী আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কেমন আছেন?” আমি বললাম, ভালো। তারপর আমি বললাম, আমার খুব ভালো লাগছে, আপনার কাছ থেকে পুরস্কার নিচ্ছি। এর আগে আপনার বাবার হাত থেকেও পুরস্কার নিয়েছি।’

এদিকে পুরস্কার গ্রহণের পর সেখানে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীদের আবদার মেটাতে সবার সঙ্গে হাসিমুখে ছবি তোলেন ববিতা। তিনি মজা করে বলেন, ‘ছবি তুলতে তুলতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। অনেক দিন পর এত মানুষের সঙ্গে ছবি তুললাম। ক্লান্ত হলেও মুহূর্তটা ছিল খুবই আনন্দের।’

ববিতা তাঁর পাওয়া একুশে পদক উৎসর্গ করেছেন বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানকে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্রজগতে এসেছি ১৩ বছর বয়সে। জহির রায়হান আমাকে নিয়ে এসেছেন। তখন আমাদের মধ্যে টাকাপয়সা প্রধান বিবেচ্য বিষয় ছিল না। প্রধান লক্ষ্য ছিল, মনোযোগ দিয়ে কাজ করতে হবে, ওপরে উঠতে হবে, শিল্পের ক্ষুধা ছিল—এগুলো করতে পেরেছি বলেই তো দর্শক আমাকে সম্মান করেছে, নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়েছে। তাদের ভালোবাসা পেয়ে একজন ববিতা হয়েছি। সেসবের কারণেও এই পুরস্কার। শ্রদ্ধেয় জহির রায়হান সাহেব আমাকে চলচ্চিত্রের জগতে এনেছেন, তিনি না আনলে আমি এত দূর আসতে পারতাম না। তাই আমার একুশে পদক জহির রায়হানকে উৎসর্গ করছি।’

সূত্র : প্রথম আলো

সাতসকালে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০২ পূর্বাহ্ণ
সাতসকালে দেশে ভূমিকম্প অনুভূত

ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে আঘাত হেনেছে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প। এতে রাজধানী ঢাকায় অনুভূত হয়েছে মৃদু কম্পন।

বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে এ ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়।

আর্থকোয়াক ট্র্যাক-এর তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ৫ দশমিক ১ মাত্রার এই ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় সকাল ৬টা ২৯ মিনিটে আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকায়, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে। অধিক গভীরতার কারণে ভূপৃষ্ঠে এর তীব্রতা কিছুটা কম ছিল, ফলে মাঝারি মাত্রার হওয়া সত্ত্বেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে।

এর ফলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা কয়েক সেকেন্ডের হালকা কম্পন অনুভূত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সরাসরি কোনো প্রধান চ্যুতিরেখার ওপর অবস্থিত না হলেও, মিয়ানমার ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সক্রিয় টেকটনিক প্লেটের কারণে মাঝেমধ্যেই এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের প্রভাব বাংলাদেশেও অনুভূত হয়।

চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৫৫ পূর্বাহ্ণ
চিনি খাওয়ার ৩০ মিনিট পর আপনার শরীরে আসলে কী ঘটে?

এক টুকরো মিষ্টি, দুপুরে এক গ্লাস কোমল পানীয় কিংবা ভাত-রুটি ভরা একটি প্লেট; দেখতে খুবই সাধারণ খাদ্যাভ্যাস। অনেকের কাছে এগুলো নিছক স্বাদের ব্যাপার। কিন্তু শরীরের ভেতরে এই ‘সাধারণ’ খাবারগুলোই শুরু করে এক জটিল প্রতিক্রিয়া। মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মনের অবস্থাতেও প্রভাব পড়ে।

এই ছোট সময়ের ভেতরে শরীরে ঠিক কী ঘটে, তা জানা থাকলে প্রতিদিনের খাবার নির্বাচনে বদল আনাও সহজ হতে পারে।

প্রথম ৩০ মিনিট: হঠাৎ বাড়ে রক্তে শর্করা

চিনি বা মিষ্টিজাতীয় খাবার মুখে দেওয়ার পরই হজম প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হয়। অন্ত্র থেকে গ্লুকোজ শোষিত হয়ে সরাসরি রক্তে চলে যায়। ফলে খুব অল্প সময়েই রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশেষ করে পরিশোধিত চিনি বা প্রসেসড খাবার খেলে এই বৃদ্ধি খুব দ্রুত ও তীব্র হয়। অর্থাৎ, শরীরের জন্য এটি এক ধরনের ‘হঠাৎ ধাক্কা’।

ইনসুলিনের কাজ: শরীরের ভারসাম্য রক্ষা

রক্তে শর্করা বেড়ে গেলে অগ্ন্যাশয় থেকে ইনসুলিন নিঃসৃত হয়। এই হরমোন রক্ত থেকে গ্লুকোজ কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি উৎপাদনে সাহায্য করে। স্বাভাবিক অবস্থায় এটি শরীরকে ভারসাম্যে রাখে। তবে নিয়মিত বেশি চিনি খেলে শরীরকে অতিরিক্ত পরিশ্রম করতে হয়। দীর্ঘমেয়াদে এতে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হতে পারে, যা ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়।

ডোপামিনের প্রভাব: কেন মিষ্টি এত ভালো লাগে

চিনি শুধু শরীরেই নয়, মস্তিষ্কেও প্রভাব ফেলে। মিষ্টি খাবার খেলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক ‘ফিল-গুড’ হরমোন সক্রিয় হয়।

এ কারণে মিষ্টি খাওয়ার পর ভালো লাগে, মনটা হালকা হয়। কিন্তু এই অনুভূতিই বারবার মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছা তৈরি করে, যা এক ধরনের অভ্যাসে পরিণত হতে পারে।

শক্তি হ্রাস: হঠাৎ ক্লান্তি কেন আসে

শুরুতে শক্তি বাড়লেও তা বেশিক্ষণ থাকে না। ইনসুলিন গ্লুকোজ কোষে নিয়ে যাওয়ার পর রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যেতে পারে।

ফলে দেখা দেয় ক্লান্তি, দুর্বলতা বা ঝিমুনি। অনেকেই এই সময় আবার চা বা মিষ্টি কিছু খেতে চান, এভাবেই শুরু হয় এক চক্র।

শুধু মিষ্টি নয়, লুকানো চিনি

আমরা অনেক সময় ভাবি শুধু মিষ্টি খেলেই সমস্যা হয়। কিন্তু সাদা ভাত, ময়দার রুটি, পাউরুটি, আলু বা বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারও শরীরে প্রায় একই প্রভাব ফেলে।

অতিরিক্ত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণও রক্তে শর্করার দ্রুত ওঠানামা ঘটায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর।

কী করবেন?

চিনি একেবারে বাদ দেওয়া নয়, বরং নিয়ন্ত্রণই মূল কথা-

১. কোমল পানীয় ও অতিরিক্ত মিষ্টি যতটা সম্ভব কমানো

২. কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার (ডাল, শাকসবজি, বাদাম) যোগ করা

৩. খাবারের পর ১০-১৫ মিনিট হাঁটা

বিশেষজ্ঞরা বলেন, খাবারের পর অল্প হাঁটাহাঁটি করলে পেশি গ্লুকোজ ব্যবহার করতে পারে, ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ছোট সময়, বড় প্রভাব

মাত্র ৩০ মিনিট, শুনতে খুব কম সময়। কিন্তু এই সময়ের মধ্যেই শরীরে ঘটে যায় বড় পরিবর্তন। রক্তে শর্করার ওঠানামা, শক্তির পরিবর্তন, এমনকি মুডেও প্রভাব পড়ে।

এই চক্র যদি প্রতিদিন চলতে থাকে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলে। তাই চিনি নিয়ে ভয় নয়, বরং সচেতনতা জরুরি। কারণ, শরীরের ভেতরের এই পরিবর্তনগুলো বোঝা গেলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও সহজ হয়ে যায়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুরে গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ

এন কে বি নয়ন, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:৩৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে নির্যাতনের অভিযোগ

ফরিদপুরের নগরকান্দায় রিতু আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূকে শিকলবন্দি করে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করেছে।

সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে। পরে তাকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. জালাল কাজী তার মেয়ে রিতু আক্তারকে প্রায় দুই বছর আগে সাকরাইল গ্রামের খোরশেদ মাতুব্বরের ছেলে শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে বিয়ে দেন। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ভুক্তভোগী নারী রিতু আক্তারের বাবা-মা মেয়ের খোঁজ নিতে শ্বশুরবাড়িতে গেলে তাকে ঘরের ভেতর শিকল দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। এ সময় তারা মেয়েকে উদ্ধারের চেষ্টা করলে রিতু আক্তারের স্বামী শামুন মাতুব্বর (২৮), লিপি আক্তার (৪০), নিপা আক্তার (৩২), খোরশেদ মাতুব্বর (৫৮) তাদের ওপর হামলা চালায় এবং মারধর করে আহত করে। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে নগরকান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে। সে সময় ছেলের বাবা খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়।

রিতু আক্তারের চাচা সৈয়দ আলী বলেন, এর আগেও বেশ কয়েকবার শালিস-বৈঠক হয়েছে। গতকাল রবিবার ছেলের বাবা আমাদের বাড়িতে এসে জানান, আপনাদের মেয়েকে জ্বিনে ধরছে তাকে আপনারা নিয়ে আসেন। খবর পেয়ে আমার ভাই-ভাবীসহ কয়েক জন তাকে আনতে গিয়ে দেখে তাকে তিন দিন ধরে খাবার না দিয়ে শিকলবন্দী করে রাখা হয়েছে। এ সময় তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আমরা এর বিচার চাই।

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, মারধর করে তাদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং রিতু আক্তার (২০), জালাল কাজি (৪৩), লাইজু আক্তারকে (৩৩) মারধর করা হয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে রিতু আক্তারের স্বামী শামুন মাতুব্বরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। মোবাইল নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে নগরকান্দা থানার ডিউটি অফিসার ও উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এ ঘটনায় থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ছেলের বাবা খোরশেদ মাতুব্বরকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পক্রিয়াধীন।