খুঁজুন
, ,

ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:১৫ পূর্বাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ডের টাকা—সরকারের তহবিল নাকি ঋণ?

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার আগামী ১০ই মার্চ থেকেই দেশে পরীক্ষামুলক ভাবে ফ্যামিলি কার্ড চালুর ঘোষণা দিয়েছে, যা এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে দলটির অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এবার প্রাথমিকভাবে যেসব ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হচ্ছে তার বিপরীতে কার্ডধারী আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি উপজেলায় গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বলে সরকারের দিক থেকে জানানো হয়েছে।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, এখন আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে থোক বরাদ্দ নেওয়া হবে। তবে আগামী বাজেট থেকে এ খাতে নিয়মিত অর্থ বরাদ্দ থাকবে বলে জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের আগে দলীয় ইশতেহারে বিএনপি নয়টি প্রধান প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেছিলেন তার শুরুতেই ছিল এই ফ্যামিলি কার্ড।

এতে বলা হয়েছিল ‘প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের পরিবারকে সুরক্ষা দিতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করে প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অর্থ সেবার এই পরিমাণ পর্যায়ক্রমে বাড়ানো হবে’।

প্রসঙ্গত, এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিসিবির মাধ্যমে স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হয়েছিল যার মাধ্যমে কার্ড গ্রহীতা বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে টিসিবি থেকে নিত্য প্রয়োজনীয় কয়েকটি পণ্য কিনতে পারতেন।

কারা পাবেন, কিভাবে বাছাই হবেন তারা

সমাজকল্যানমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, সচিবালয়ে আজ প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে হওয়া এক বৈঠকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কর্মসূচি শুরুর প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ওই বৈঠকেই বলা হয়েছে, এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় ১৪টি উপজেলা থেকে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডকে বাছাই করা হচ্ছে এবং সেই ওয়ার্ডের প্রতি পরিবারের একজন নারী এই কার্ড পাবেন।

“এই কার্ডের সুবিধা পাবেন পরিবারের মা বা নারী প্রধান। এর মাধ্যমে নারীরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হবে এবং পুরো পরিবার ও আগামী প্রজন্ম এর সুফল পাবে। আগামী চার মাসে পাইলটিং কাজ শেষ হবে। এরপর প্রতিটি উপজেলায় এর আওতায় আসবে,” বৈঠকের পর ব্রিফিংয়ে বলেছেন মি. হোসেন।

সরকারের এখনকার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, একটি ওয়ার্ডে যে কতজন এই কার্ড পাওয়ার উপযুক্ত হবেন তাদের সবাইকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। এজন্য মাঠপর্যায় থেকে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

মূলত হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের মায়েরা এই সুবিধা পাবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সারাদেশে যাচাই বাছাই করে এ তিন ধরনের পরিবার থেকে কার্ড গ্রহীতাদের নাম নিশ্চিত করা হবে।

মন্ত্রী বলেছেন, “এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীকে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার কাজ হবে। বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার। তারেক রহমান দীর্ঘদিন ধরে এটা নিয়ে কাজ করেছেন। ওনার সভাপতিত্বেই আজ এটি অনুমোদিত হয়েছে”।

কত দেওয়া হবে, টাকার সংস্থান কিভাবে হবে

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যারা ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার জন্য বিবেচিত হবে তারা কার্ড পাওয়ার পর প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। অনুদানের এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানিয়েছেন, আপাতত অর্থ মন্ত্রণালয় এ জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ থোক বরাদ্দ হিসেবে দিবে। পরবর্তীতে আগামী জুনে জাতীয় বাজেট ঘোষণার সময় সেখানে এ খাতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ সরকার দেবে বলে সরকারের দিক থেকে বলা হয়েছে।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, একটি ফ্যামিলি কার্ডে প্রতি পরিবারের সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য বিবেচনায় নেওয়া হবে। তবে একান্নবর্তী পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশি হলে প্রতি পাঁচজনের জন্য আলাদা কার্ড দেওয়া হবে।

এছাড়া একই ব্যক্তি একাধিক ভাতা পাবেন না, তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উপজেলা পর্যায়ে ইউএনও’র নেতৃত্বে এবং ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সরকারি কর্মচারীদের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটি এই কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

“তদারকির জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একজন প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়া ভুলত্রুটি এড়াতে ‘দ্বিস্তর বিশিষ্ট’ চেকিং ও রি-চেকিং ব্যবস্থা থাকবে,” ব্রিফিংয়ে বলেছেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন।

ফ্যামিলি কার্ড প্রথম দফায় যাদের দেওয়া হবে তাদের কীভাবে বাছাই করা হচ্ছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, “বাছাই করা হচ্ছে না। ইনফরমেশন কালেক্ট করা হচ্ছে প্রতিটি ডোর-টু-ডোর স্টেপস অ্যাপ্রোচের মাধ্যমে। কোনো অবস্থাতেই ঘরে বসে কোনো বাছাই হবে না”।

আবেদন করা যাবে যেভাবে

নির্বাচনের আগে ২২শে জানুয়ারি সিলেট এক অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন যে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে।

তিনি তখন বলেছিলেন যে এই ফ্যামিলি কার্ডটি মূলত পরিবারের প্রধান নারীর নামে দেওয়া হবে।

সরকার জানিয়েছে এখন মাঠপর্যায়ে নির্ধারিত উপজেলার নির্ধারিত ওয়ার্ডে ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এখনকার পাইলট প্রকল্প আগামী চার মাসে শেষ হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে সারাদেশের প্রতিটি উপজেলাকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে সরকার।

কর্মকর্তারা বলছেন, এই কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনতে এবং অনিয়ম রোধে জাতীয় পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেস তৈরি করছে সরকার। তবে আগ্রহীরা কিভাবে আবেদন করবেন তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।

পাইলট প্রকল্পে যাদের বাছাই করা হচ্ছে তাদের জাতীয় পরিচয়পত্র, রঙ্গিন ছবি ও একটি সচল মোবাইল নম্বর বা ব্যাংক নম্বর থাকে সেটি নিজেদের কাছে রাখতে বলা হয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, পরে একটি নির্দিষ্ট আবেদন ফরম থাকবে যা আগ্রহীরা স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান বা সরকারের একটি অনলাইন পোর্টাল থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, নির্বাচনের পর ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করে। এরপর ১৯শে ফেব্রুয়ারি আন্ত:মন্ত্রণালয় বৈঠকে অর্থমন্ত্রীকে প্রধান করে ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়ে একটি মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

ওই কমিটিকে ঈদের আগেই যাতে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করা হয় সেজন্য আজ মঙ্গলবারের মধ্যে‌ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

আজ সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই ১০ই মার্চ থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে সরকারের অন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর সমন্বয় করা হবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৭:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদ্রাসার শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে বৃদ্ধের ৭ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের মধুখালীতে মাদ্রাসার আবাসিক ১১ বছর বয়সী এক শিশুছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে মো. সাহেদ আলী (৭৭) নামে এক বৃদ্ধকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রায়ে জরিমানার অর্থ আদায় করে ভুক্তভোগী ওই শিশুকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে পুলিশ পাহারায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২৮ জুন রাত ১টার দিকে মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রীদের কক্ষে ঢুকে ঘুমন্ত শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন সাহেদ আলী। তিনি ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও এক শিক্ষকের বাবা। এ সময় শিশুটির চিৎকারে তিনি স্থান ত্যাগ করেন।

​ঘটনার কয়েক দিন পর শিশুটি তার মাকে বিষয়টি জানালে, ৭ জুলাই শিশুটির মা বাদী হয়ে সাহেদ আলীকে একমাত্র আসামি করে মধুখালী থানায় একটি মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৬ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) নাজিম উদ্দীন ফকির।

​আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “দরিদ্র পরিবারের অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে শিশুটির সঙ্গে আসামি যে অপরাধ করেছেন, তা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। এ রায়ে আমরা সন্তোষ প্রকাশ করছি। অপরাধ করে কেউ পার পাবে না—এ রায়ে সেই বার্তাই ফুটে উঠেছে।”

আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

মো. ইকবাল হোসেন, আলফাডাঙ্গা:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব নির্বাচনে সভাপতি আচ্চু, সম্পাদক তামিম

Oplus_131072

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের দ্বি-বার্ষিক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনে সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন নির্বাচিত হয়েছেন।

​বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনা শেষে ফল ঘোষণা করেন উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার ও নির্বাচনের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান।

​ঘোষিত ফলাফলে জানা যায়, ২১ জন ভোটারের মধ্যে ১৮ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। সভাপতি পদে সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সেকেন্দার শেখ পেয়েছেন ৮ ভোট (১৮টি ভোটের মধ্যে ১৭টি বৈধ)।

​সহ-সভাপতি পদে ১টি ভোটে তাজমিনউর রহমান তুহিন নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আজিজুর রহমান দুলাল পেয়েছেন ৭ ভোট।

​সাধারণ সম্পাদক পদে তামিম আহমেদ মিলন ১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী গোলাম আজম মনি পেয়েছেন ৫ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ তিনটি পদের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তামিম আহমেদ মিলন। বাকি পদগুলোতে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

​নির্বাচন শেষে আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সদ্য সাবেক সভাপতি এনায়েত হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেন সন্তোষ প্রকাশ করেন।

​নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ আমিনুর রহমান আচ্চু ও সাধারণ সম্পাদক তামিম আহমেদ মিলন প্রেসক্লাবের উন্নয়ন, সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা রক্ষায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

​প্রিসাইডিং কর্মকর্তা আশরাফুর রহমান জানান, সুশৃঙ্খল ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে।

ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২৬, ৪:১০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে সাড়ে ৩ কোটি টাকার সড়ক নির্মাণ ৪ বছরেও শেষ হয়নি, দুর্ভোগে এলাকাবাসী

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে নির্মিতব্য একটি এইচবিবি (হেরিংবোন বন্ড) সড়কের কাজ সাড়ে চার বছরেও শেষ হয়নি। প্রায় চার কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পের সামান্য কিছু অংশ করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিল তুলে নিয়েছে প্রায় অর্ধেক টাকা। দীর্ঘসূত্রতায় চরম ভোগান্তিতে পড়া স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

​দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ২০২২ সালের ২৬ এপ্রিল সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কাজটি পায় ‘এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশন’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ইউনিয়নের নন্দলালপুর ঘাট থেকে ওয়াহেদ মোল্যার কান্দি (কালা মিয়া শিকদারের দোকান) পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার (৪,৭১২ মিটার) দীর্ঘ সড়কটি নির্মাণে ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

​উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অধিদপ্তর সূত্র জানায়, নির্ধারিত মেয়াদের দীর্ঘ সময় পার হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ৭০০ মিটার কাজ সম্পন্ন করেছে। অথচ এরই মধ্যে তারা তুলে নিয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ টাকা। বাকি কাজ ফেলে রাখায় থমকে আছে পুরো প্রকল্পের অগ্রগতি।

​পদ্মাবেষ্টিত এই ইউনিয়নটি যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত দিক থেকে এমনিতেই পিছিয়ে রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। স্থানীয়দের আশা ছিল, সড়কটি নির্মিত হলে এলাকার যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং কৃষিপণ্য পরিবহন ও শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ হবে। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় সেই আশা ম্লান হয়ে গেছে।

​বিশ্বনাথপুর আকন গ্রামের বাসিন্দা আমিন শেখ বলেন, ‘সড়কটির কাজ শুরু হওয়ায় আমরা অনেক আশাবাদী হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম, আমাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার অবসান হবে। কিন্তু সাড়ে চার বছর পার হলেও কাজ শেষ হয়নি। সামান্য কিছু কাজ করে ফেলে রাখা হয়েছে। বর্ষার সময় আমাদের দুর্ভোগের শেষ থাকে না।’

​দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘সড়কটি এই ইউনিয়নের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কাজটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। দ্রুত কাজ শেষ করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

​এ বিষয়ে জানতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম এস মোল্যা কনস্ট্রাকশনের মালিক মো. কামরুজ্জামান টিটুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

​তৎকালীন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবু এহসান মিয়া বলেন, ‘আমার দায়িত্ব পালনকালে প্রকল্পটির কাজ শুরু হয়েছিল। প্রকল্পের অগ্রগতি ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দেখে বিস্তারিত বলা যাবে।’

​বর্তমান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনাহার বেগম জানান, ‘প্রকল্পটির বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। কাজের অগ্রগতি, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ এবং বাকি কাজের বিষয়ে নথিপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি সড়কটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’