খুঁজুন
, ,

বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৭:০৬ অপরাহ্ণ
বোয়ালমারীতে নৌকার চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতারা

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলার একমাত্র নৌকা প্রতীকে নির্বাচিত চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, নির্যাতন, দখলবাজি ও বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান নেতা।

শনিবার (৯ মে) বিকেল ৩টার দিকে বোয়ালমারী পৌরসভার মাদ্রাসা মার্কেটে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বোয়ালমারী সরকারি কলেজের সাবেক জিএস ও বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর আলম মুকুল। এসময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান বাবু, বিএনপি নেতা মফিজুল কাদের খান মিল্টন, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম কালা মিয়া এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মনির হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগপন্থি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ বর্তমানে প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করছেন। তার বিরুদ্ধে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ তোলা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, সম্প্রতি মোড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও সাকিবুর রহমানকে জিম্মি করে ৫ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং একটি নির্যাতনকেন্দ্রে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে বলে অভিযোগ করেন বক্তারা।

এছাড়া শেখর গ্রামের একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও বানোয়াট’ মামলা দায়েরেরও অভিযোগ তোলা হয়। ওই মামলায় উপজেলা বিএনপির সদস্য আনোয়ার হোসেন, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি রইসুল ইসলাম পলাশসহ কয়েকজন নেতাকে আসামি করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

বক্তারা আরও অভিযোগ করেন, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী কাটাগড় মেলাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঁদাবাজি হয়েছে। মেলায় দোকান বরাদ্দ ও অবৈধ নিলামের মাধ্যমে প্রায় ৩৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও তোলা হয় চেয়ারম্যান কামাল আহমেদ ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। মেলার আয়-ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাব দেওয়া হয়নি বলেও দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, বাগডাঙ্গা গ্রামের ফাহমিদা ইসলাম নামে এক নারীকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, প্রাণনাশের হুমকি এবং তার বসতভিটার গাছ কেটে নেওয়ার ঘটনায় চেয়ারম্যানের অনুসারীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীর জমি দখলের চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

বক্তারা দাবি করেন, শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নে একটি ‘নব্য বিএনপি চক্র’ প্রভাব বিস্তার করে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ মানুষের কাছে বিএনপির জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়ছেন।

সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান বিএনপি নেতারা।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে চেয়ারম্যান কামাল আহমেদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

ডিগ্রির পরীক্ষার আগেই কফিনে ফিরল সুমন, কৃষক বাবার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ পূর্বাহ্ণ
ডিগ্রির পরীক্ষার আগেই কফিনে ফিরল সুমন, কৃষক বাবার স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

“আমার তিন বছরের ছোট ভাইটা আর কোনোদিন ফিরে আসবে না। অথচ আজ আমার বৃদ্ধ বাবাকে নিজের সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে হবে। এর চেয়ে কষ্টের দৃশ্য আর কী হতে পারে! ভাইয়ের ডিগ্রি পরীক্ষা দেওয়া আর হলো না। বাবা একজন কৃষক, কত কষ্ট করে আমাদের লেখাপড়া করিয়েছেন। আমার ভাইটার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল ওরা।”

কথাগুলো বলতে বলতেই কান্নায় বারবার ভেঙে পড়ছিলেন ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নিহত কলেজছাত্র সুমন শেখের বড় বোন সরজনা। কখনো মাটিতে বসে পড়ছেন, কখনো স্বজনদের জড়িয়ে ধরে বিলাপ করছেন। তাঁর আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। উঠানজুড়ে স্বজন, প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসা মানুষের ভিড়। কেউ শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ নীরবে চোখের জল মুছছেন। পুরো বাড়িজুড়ে শুধু কান্না আর আহাজারির শব্দ।

এর আগে শুক্রবার (২৬ জুন) সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে যাওয়ার পথে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় কাশিয়ানী এম.এ. খালেক ডিগ্রি কলেজের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সুমন শেখকে (২৪)। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পূর্বশত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

নিহতের মা শেফালী বেগম ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে বারবার বিলাপ করছিলেন। শোকে তিনি কয়েক দফা জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। তাঁর আর্তনাদ, “আমার সুমনকে ফিরিয়ে দাও। আমার ছোট ছেলেটাকে আমি আর একবার দেখতে চাই”—উপস্থিত সবার হৃদয় ভারাক্রান্ত করে তোলে।

অন্যদিকে সত্তরোর্ধ্ব বাবা শেখ আলাউদ্দিন, যিনি একজন সাধারণ কৃষক, ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। বয়সের ভারে ন্যুব্জ এই মানুষটি শুধু একবার ছেলের নাম ধরে ডাকছেন, আবার নির্বাক হয়ে বসে থাকছেন। স্বজনরা তাঁকে সামলানোর চেষ্টা করলেও তিনি বারবার বলছিলেন, “আমার সুমন কোথায়?”

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শেখ আলাউদ্দিন অভাব-অনটনের মধ্যেও দুই ছেলে ও দুই মেয়েকে লেখাপড়া করিয়েছেন। সুমন ছিল পরিবারের সবচেয়ে ছোট এবং সবার আদরের সন্তান। উচ্চশিক্ষা নিয়ে পরিবারের হাল ধরার স্বপ্ন ছিল তার। সামনে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষার ফরমও পূরণ করা হয়েছিল। কিন্তু পরীক্ষার হলে বসার আগেই তাকে চলে যেতে হলো চিরবিদায়ের পথে।

ছোট বোন সরজনা বলেন, “আমার ভাই কারও ক্ষতি করেনি। সে শুধু পড়াশোনা করত। বাবা কৃষক হলেও আমাদের শিক্ষিত করতে জীবনের সব কষ্ট সহ্য করেছেন। ভাইটাও বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে চেয়েছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন নির্মমভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। আমরা শুধু এই হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই।”

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, সুমন শান্ত, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের ছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি পরিবারের কাজেও সহযোগিতা করতেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না গ্রামের কেউ।

নিহতের মরদেহ শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নিজ গ্রাম বড়ভাগে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পরে স্থানীয় বড়ভাগ ঈদগাহ ময়দানে বাদ মাগরিব জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে। শেষবারের মতো প্রিয় মুখটি দেখতে সকাল থেকেই গ্রামের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন তাঁর বাড়িতে।

একদিকে উঠানে পড়ে আছে সুমনের ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, অন্যদিকে ঘরের ভেতরে বুক চাপড়ে কাঁদছেন মা। বৃদ্ধ বাবা নির্বাক, ভাই-বোনেরা শোকে স্তব্ধ। যে ঘরে কয়েকদিন আগেও ডিগ্রি পরীক্ষার প্রস্তুতি চলছিল, সেই ঘরেই আজ শুধু কান্নার প্রতিধ্বনি। এক কৃষক পরিবারের বহু বছরের স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।

স্বজনদের একটাই দাবি—সুমন হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে আর কোনো কৃষক বাবাকে এভাবে সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়।

দিনের বেলা কত মিনিট ঘুমানো সবচেয়ে ভালো? এক পলকে দেখে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দিনের বেলা কত মিনিট ঘুমানো সবচেয়ে ভালো? এক পলকে দেখে নিন

ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে দুপুরের দিকে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। গবেষকরা বলছেন, দিনের বেলার এই ছোট্ট ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয় রোধে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। তবে এই ঘুমের সুফল পেতে হলে এর সঠিক সময়সীমা জানা জরুরি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা মাত্র ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ আমাদের সতর্কতা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১০ থেকে ৬০ মিনিটের ছোট ঘুম দ্রুত মেজাজ ভালো করতে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ছোট ন্যাপ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শারীরিক সক্ষমতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।

কেন দীর্ঘ সময় ঘুমানো ক্ষতিকর?

দিনের বেলা বেশিক্ষণ ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। অধিকাংশ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মিনিটের কম সময় ঘুমানো সবচেয়ে বেশি উপকারী। এর কারণ হলো:

স্লিপ ইনারশিয়া: ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে চলে যেতে পারে। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর এক ধরণের জড়তা, অস্বস্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়।

রাতের ঘুমের ব্যাঘাত: বিশেষজ্ঞ ড. ইশান ঝু-এর মতে, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো অনেকটা ‘রাতের খাবারের আগে কেক খাওয়ার মতো।’ এটি রাতের স্বাভাবিক ঘুমের চাহিদা কমিয়ে দেয় এবং অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন যে, দিনের বেলা ন্যাপ যেন কোনোভাবেই ৪০ মিনিটের বেশি না হয়।

অতিরিক্ত ঘুমের স্বাস্থ্যঝুঁকি

দিনের বেলা ৬০ মিনিটের বেশি সময় ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় দিনের বেলা ঘুমানোর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মস্তিষ্কের বয়স কমাতে ন্যাপ

একটি গবেষণায় ৩৫,০৮০ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত অল্প সময় ঘুমান তাদের মস্তিষ্কের আয়তন বা ভলিউম বেশি থাকে। নিয়মিত ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের বয়স, ন্যাপ না নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ২.৬ থেকে ৬.৫ বছর কম বলে প্রতীয়মান হয়। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়, আর দিনের বেলার পরিমিত ঘুম এই প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।

কিছু জরুরি টিপস

দিনের বেলার ঘুমকে আরও কার্যকর করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:

অ্যালার্ম সেট করুন: দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়া এড়াতে অবশ্যই অ্যালার্ম ব্যবহার করুন।

হাঁটাচলা করুন: যদি ক্লান্তি বোধ করেন কিন্তু রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ঘুমানোর বদলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করতে পারেন। অনেক সময় কেবল অবসাদ বা পুষ্টির অভাবেও ক্লান্তি লাগে, সেক্ষেত্রে ঘুমানোর চেয়ে সক্রিয় থাকা বেশি উপকারী।

সূত্র : কালবেলা

কাঁঠালের বিচি ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন কীভাবে খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
কাঁঠালের বিচি ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন কীভাবে খাবেন

গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফল কাঁঠাল। বাজারজুড়ে এখন মিলছে এই রসালো ফলের সমারোহ। অনেকেই মজা করে কাঁঠাল খেলেও এর বিচিগুলো বেশিরভাগ সময়ই ফেলে দেন। অথচ পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠালের এই  বিচির মধ্যেই লুকিয়ে আছে দারুণ সব পুষ্টিগুণ।

কাঁঠালের বিচি শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিমানেও বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে রিবোফ্ল্যাবিন ও থায়ামাইন। আরো রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও আঁশ। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াস, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এসব উপাদান চোখের দৃষ্টি, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে কাজ করে।

শুধু পুষ্টিগুণ নয়, নানা উপায়ে কাঁঠালের বিচি খাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের বিচি যেভাবে খাবেন।

– সাধারণত কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে ভর্তা করে এবং ভাজি করেও খাওয়া যায়।

– নিরামিষ সবজিতে কাঁঠালের বিচি যোগ করতে পারেন, মসলা দিয়ে ভুনা করলেও মুখরোচক হয়।

– কাঁঠালের বিচি বেটে সুস্বাদু হালুয়া বানানো যায়।

–কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে গুঁড়া করে রুটি, বিস্কুট বা পিঠায় ব্যবহার করা যায়।

–কাঁঠালের বিচির গুঁড়া স্মুদিতে ব্যবহার করতে পারেন।

–কাঁঠালের বিচি ভেজে খেতেও বেশ লাগে।

কাঁচা কাঁঠালের বিচি খাবেন না

কাঁঠালের কাঁচা বিচিতে থাকে ট্যানিন ও ট্রিপসিন ইনহিবিটর, যা শরীরের পুষ্টি শোষণে বাধা দেয় এবং হজমে সমস্যা করে। তবে কাঁঠালের বিচি সেদ্ধ করে বা ভেজে খেলে এসব ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।

সূত্র: বোল্ডস্কাই, হেলথলাইন