খুঁজুন
সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৬ মাঘ, ১৪৩২

মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় গণমাধ্যমকে আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস ইসির

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৪ পিএম
মোবাইল ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞায় গণমাধ্যমকে আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস ইসির

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রে গণমাধ্যমকর্মীদের আওতামুক্ত রাখার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে এ তথ্য জানান রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসির (আরএফইডি) সভাপতি কাজী জাবেল।

তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরএফইডি। ইসিকে জানানো হয়েছে, এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বাধা সৃষ্টি করবে।

সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে মোবাইল ফোন একটি অপরিহার্য উপকরণ।
কাজী জাবেল আরও জানান, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন তাদের আশ্বাস দিয়েছে এবং সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিষয়টি শিগগিরই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে বলেও ইসি কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে।

এর আগে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানায়, ভোটকেন্দ্রের চারশ (৪০০) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে সাধারণ ভোটারসহ কোনো ব্যক্তি মোবাইল ফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন: ইসি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ পিএম
সাংবাদিক-পর্যবেক্ষকরা ভোট কেন্দ্রে মোবাইল ব্যবহার করতে পারবেন: ইসি

আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন সাংবাদিক ও নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রের ভেতরে মোবাইল ফোন নিতে পারবেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে ফলাফল বুথ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা মোবাইল ফোন নিয়ে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করলে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বেন না।

এর আগে নির্বাচন কমিশন ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে একটি নির্দেশনা জারি করে। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলামের স্বাক্ষরে রোববার এ সংক্রান্ত চিঠি রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে কেবল তিন শ্রেণির কর্মকর্তা মোবাইল ফোন বহনের অনুমতি পাবেন। তারা হলেন— সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, কেন্দ্রের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ কর্মকর্তা এবং ‘ইলেকশন সিকিউরিটি ২০২৬’ অ্যাপ ব্যবহারের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত দুইজন আনসার সদস্য (এম্বডিড আনসার/জেনারেল আনসার/ভিডিপি)।

চিঠির মাধ্যমে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার, দেশের ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনার আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাসহ মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তাকে নির্দেশনাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্তের ফলে ভোটগ্রহণের দিন ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে প্রার্থী ও সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন বহন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ হওয়ায় সাংবাদিক সমাজে উদ্বেগ তৈরি হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) সোমবার নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সাংবাদিকদের জন্য মোবাইল ফোন বহনে নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানায়।

 

আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বন্ধ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৯ পিএম
আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বন্ধ হচ্ছে নির্বাচনী প্রচারণা

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শেষ হচ্ছে আগামীকাল ১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল সাড়ে ৭টায়। গত ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া নির্বাচনী প্রচারণা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে শেষ হচ্ছে।

ইসির রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫-এর ১৮ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল কিংবা তাদের মনোনীত প্রার্থী বা স্বতন্ত্র প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটগ্রহণের জন্য নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ সময়ের পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচার শুরু করতে পারবেন না। আর ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচনী প্রচারণা সমাপ্ত করতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের জরুরি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ৭৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ শুরুর পূর্ববর্তী ৪৮ ঘণ্টা এবং ভোটগ্রহণ সমাপ্তির পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা অর্থাৎ ১০ ফেব্রুয়ারি-২০২৬ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনি এলাকায় কোনো জনসভা, মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না।

উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট পেপারের মাধ্যমে সারা দেশে ২৯৯ সংসদীয় আসনে একযোগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা, ফরিদপুরে ফিতা টেনে ৪০০ গজ মেপে প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

ফরিদপুর ও সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩১ পিএম
ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিষেধাজ্ঞা, ফরিদপুরে ফিতা টেনে ৪০০ গজ মেপে প্রতিবাদ সাংবাদিকদের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অভিনব কর্মসূচি পালন করেছেন মফস্বল এলাকার সাংবাদিকরা।

সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রের সামনে এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে সাংবাদিকরা ফিতা হাতে নিয়ে ভোটকেন্দ্রের চারপাশে ৪০০ গজ এলাকা সরেজমিনে মেপে দেখান। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার বাস্তবতা ও মাঠপর্যায়ে এর প্রভাব দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরেন। সাংবাদিকদের ভাষ্য, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হলে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়বে।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া সাংবাদিক তানভীর তুহিন বলেন, “মফস্বল এলাকার সাংবাদিকরা পুরোপুরি মোবাইল ফোননির্ভর। সংবাদ সংগ্রহ, ছবি তোলা, ভিডিও ধারণ, তথ্য যাচাই, লাইভ আপডেট দেওয়া এবং দ্রুত অফিসে সংবাদ পাঠানো—সবকিছুই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করতে হয়। মোবাইল ছাড়া আধুনিক সাংবাদিকতা কল্পনাই করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধা দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের সঠিক ও নিরপেক্ষ তথ্য জানার অধিকার ক্ষুণ্ন হবে।

আরেক সাংবাদিক রাকিবুল ইসলাম বলেন, “বর্তমান বাস্তবতায় মোবাইল ফোনই মফস্বল সাংবাদিকদের প্রধান কর্মযন্ত্র। এই যন্ত্র কেড়ে নেওয়া মানে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতাকে অচল করে দেওয়া। এতে শুধু সাংবাদিক নয়, পুরো গণমাধ্যম ব্যবস্থাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সাংবাদিকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের এ ধরনের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং স্বচ্ছ নির্বাচন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তারা মনে করেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার সহযোগী শক্তি হিসেবে কাজ করেন। অথচ তাদের ওপর অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে নির্বাচন সম্পর্কে জনগণের কাছে সঠিক চিত্র পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হবে।

কর্মসূচি চলাকালে সাংবাদিকরা শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবি উপস্থাপন করেন এবং নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান—সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের স্বার্থে ভোটকেন্দ্রের আশপাশে মোবাইল ফোন ব্যবহারের নিষেধাজ্ঞা অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করতে হবে।

সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, তাদের যৌক্তিক দাবির প্রতি কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব দেবে এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।