খুঁজুন
বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬, ১৪ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

চুক্তির প্রয়োজন নেই, ২-৩ সপ্তাহে শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬, ১০:১৯ পূর্বাহ্ণ
চুক্তির প্রয়োজন নেই, ২-৩ সপ্তাহে শেষ হতে পারে ইরান যুদ্ধ: ট্রাম্প

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা বন্ধ করতে পারে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত করা এবং বিশ্ব অর্থনীতিকে কাঁপিয়ে দেওয়া এই যুদ্ধ শেষ করার জন্য কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই।

তার এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মঙ্গলবার আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি এবং পরোক্ষভাবে বার্তা আদান-প্রদান চললেও কোনো ধরনের আলোচনা বা সমঝোতা হচ্ছে না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার প্রায় পাঁচ সপ্তাহ পার হয়েছে।

এর আগে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে ইরান আলোচনার টেবিলে আছে এবং তারা একটি চুক্তির জন্য ‘ভিক্ষা’ করছে। তবে মঙ্গলবার তথাকথিত এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার বিষয়ে তার সুর কিছুটা বদলে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেন, যুদ্ধ বন্ধ করার জন্য সফল কূটনীতি কোনো পূর্বশর্ত কি না– তখন তিনি বলেন, ‘ইরানকে কোনো চুক্তি করতে হবে না, না।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই সেখান থেকে চলে আসবে— ‘হয়ত দুই সপ্তাহ, বড়জোর তিন সপ্তাহ।


ট্রাম্প বলেন, ‘যখন আমাদের মনে হবে যে তারা দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রস্তর যুগে ফিরে গেছে এবং তারা আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না, তখনই আমরা চলে আসব।’

যদিও ইরান সব সময়ই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করেনি।

কুইন্সি ইনস্টিটিউটের ইরান বিষয়ক পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ত্রিতা পারসি আল জাজিরাকে বলেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যগুলোকে সতর্কতার সঙ্গে দেখা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এবং হাজার হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই সংঘাত থেকে ট্রাম্পের পক্ষে হুট করে ‘বেরিয়ে আসা’ এত সহজ হবে না।

এই যুদ্ধে ইরান ও লেবাননে—যেখানে ইসরায়েল বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালাচ্ছে—প্রচুর বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
পারসি বলেন, ‘মনে করে দেখুন, শুরুতে তারা বলেছিল এই যুদ্ধ চার দিনে শেষ হবে। তারপর তিন সপ্তাহ আগে তারা বলেছিল এতে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে। এখন তিন সপ্তাহ পার হয়ে যাওয়ার পর আমরা আবার শুনছি যে এটি শেষ হতে আরও দুই-তিন সপ্তাহ লাগবে।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘সময়সীমা কেবল পেছানোই হচ্ছে।

কারণ দিনশেষে এই যুদ্ধের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ তিনি এই পরিস্থিতিকে একটি ‘বিপর্যয়’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
পারসি মনে করেন, ‘প্রকৃত আলোচনার মাধ্যমে ট্রাম্পের জন্য যত দ্রুত সম্ভব এটি শেষ করা অনেক ভালো হতো। এ পর্যন্ত যেসব দমনমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা দিয়ে কাজ হবে না। অন্যথায়, তিন সপ্তাহ পরে আমরা আবারও শুনব যে এটি শেষ হতে আরও তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।’

‘নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করো’

ট্রাম্পের এ মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন ইরানে হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে ঘরোয়া বাজারে পেট্রোলের গড় দাম গ্যালন প্রতি ৪ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে যাতায়াত করে।

তবে যুদ্ধের তীব্রতা বাড়তে থাকায় ট্রাম্প সেইসব মিত্র দেশগুলোর ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যারা হরমুজ প্রণালীতে নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোকে লক্ষ্য করে বলেন, যারা ‘ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার কাজে অংশ নিতে অস্বীকার করেছে’, তারা যেন হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে জ্বালানি কেনে অথবা এই দ্রুত বাড়তে থাকা যুদ্ধে যোগ দেয়।

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিজেদের জন্য লড়াই করা শিখতে হবে। আমেরিকা আর আপনাদের সাহায্য করতে আসবে না, ঠিক যেমন আপনারা আমাদের পাশে দাঁড়াননি। ইরান মূলত ধ্বংস হয়ে গেছে। কঠিন কাজ শেষ। এখন নিজেদের তেল নিজেরাই জোগাড় করে নিন।’

এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রধান পিট হেগসেথ যুদ্ধে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের অনিচ্ছার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি শেষবার যখন খোঁজ নিয়েছিলাম, তখন জানতাম একটি শক্তিশালী রয়্যাল নেভি আছে যারা এ ধরনের কাজ করার জন্য প্রস্তুত থাকার কথা।’

যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা সচিব জন হিলি এ সমালোচনার জবাব দিয়েছেন। কাতার সফরকালে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রধান মিত্র হিসেবেই আছে।

অন্য একটি পোস্টে ট্রাম্প ফ্রান্সের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ ঝাড়েন এবং দেশটিকে ‘খুবই অসহযোগিতামূলক’ বলে অভিহিত করেন। বিশেষ করে ইসরায়েলগামী সামরিক সরঞ্জামবাহী বিমানগুলোকে ফ্রান্সের আকাশসীমা ব্যবহার করতে না দেওয়ার কারণে তিনি বিরক্ত।

প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ইরানে হামলার জন্য ফরাসি ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।

তারা বলেছে, ‘আমরা এই টুইট দেখে অবাক হয়েছি। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই ফ্রান্স তার অবস্থানে অনড় আছে এবং আমরা আমাদের এই সিদ্ধান্তের কথা আবারও নিশ্চিত করছি।’

বিশেষজ্ঞ পারসি বলেন, ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করাকে মার্কিন যুদ্ধের লক্ষ্য নয় বলে দাবি করে আসলে একটি ‘সাফল্যের গল্প’ তৈরি করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু একইসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইউরোপীয় দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ খুলে দিতে সহায়তা না করায় হতাশা প্রকাশ করছেন।

পারসি প্রশ্ন তোলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও শক্তিশালী নৌবাহিনী আছে। যুক্তরাষ্ট্র যদি এটি করতে না পারে, তবে ফরাসি বা অন্য ইউরোপীয়রা এসে কী পার্থক্য গড়ে দেবে?’ তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন, ইরান হরমুজ প্রণালী নিয়ন্ত্রণ করতে থাকবে এবং সম্ভবত সেখানে হামলাও চালিয়ে যাবে।

পারসি আরও উল্লেখ করেন, ইরানকে ‘প্রস্তর যুগে’ পাঠিয়ে দেওয়ার ট্রাম্পের এই দাবি আসলে আমেরিকার যুদ্ধের লক্ষ্যগুলোকে ‘ইসরায়েলীকরণ’ করার নামান্তর।

তিনি বলেন, ‘সরায়েলিরা ঠিক এভাবেই যুদ্ধ চালায়। তাদের কোনো দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লক্ষ্য নেই; তারা কেবল চায় তাদের প্রতিবেশীরা যেন যতটা সম্ভব দুর্বল থাকে। তাই প্রতি দুই-তিন বছর অন্তর তারা তাদের ওপর বোমা ফেলে।’ ফিলিস্তিনিদের ওপর গত কয়েক দশকের ইসরায়েলি হামলার কথা উল্লেখ করে তিনি একে ‘ঘাস কাটার কৌশল’ (mowing the lawn strategy) হিসেবে অভিহিত করেন।

সোমবার একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ‘মিশনের দিক থেকে অর্ধেকের বেশি পথ পাড়ি দিয়েছে, যদিও সময়ের দিক থেকে সেটা নাও হতে পারে।’ উল্লেখ্য, গাজায় গণহত্যার দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে।

নেতানিয়াহু আরও বলেন, ‘তবে আমি এর শেষ হওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে চাই না।’

সূত্র: আল জাজিরা

ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৪:০০ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ভাইরাল হওয়া সেই লাইলীর পাশে দাঁড়াল জেলা প্রশাসন, দিলেন আর্থিক সহায়তা 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া লোকসংগীত শিল্পী লাইলী আক্তারের পাশে দাঁড়িয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। মানবিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের ব্যবহার অনুপযোগী বসতবাড়ি পুনর্নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম। 

বুধবার (২৭ মে) দুপুরে জেলা প্রশাসকের বাংলোবাড়িতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে লাইলী আক্তারের হাতে আর্থিক সহায়তার টাকা তুলে দেন জেলা প্রশাসক।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মিন্টু বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( সার্বিক) সোহরাব হোসাইন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহাসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ।

জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম বলেন, “লাইলী আক্তার আমাদের জেলার গর্ব। তার কণ্ঠে গ্রামীণ সংস্কৃতির যে আবেগ ও ঐতিহ্য ফুটে উঠেছে, তা ইতোমধ্যে মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছে। একজন শিল্পীর জীবনমান উন্নয়নে সমাজের সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, লাইলী আক্তারের বসতবাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ও বসবাসের অনুপযোগী। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার বাড়ি পুনর্নির্মাণে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

এসময় জেলা প্রশাসক জানান, লাইলীর বিষয়টি সরকারের সংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দুষ্টিগোচর হয়েছে। ঈদের পরে যে কোন সময়ে তার জন্য সরকারিভাবে সহযোগিতা করা হবে।

সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত লাইলী আক্তার জেলা প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আমি কখনও ভাবিনি আমার গান এত মানুষের ভালোবাসা পাবে। জেলা প্রশাসন আমার পাশে দাঁড়ানোয় আমি অনেক খুশি।”

এদিকে স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনের ব্যক্তিরা জেলা প্রশাসনের এ মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ শিল্পীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ৩:২৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে তাবুর নিচে আশ্রয়, শেষ রক্ষা হলো না শ্রমিক নেতার

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তীব্র ঝড় থেকে বাঁচতে একটি তাবুর নিচে আশ্রয় নিতে গিয়ে গাছচাপায় জিয়াউর রহমান বাঘা (৫০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি শরিয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার পূর্ব মহিষা গ্রামের আমির হোসেন বাঘার ছেলে।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলা সদর ইউনিয়নের বাইশরশি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত জিয়াউর রহমান বাঘা জাকের পার্টির সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা গেছে।

নিহতের সঙ্গে থাকা হাজী মো. মনির হোসেন জানান, সকালে তারা দুজন একসঙ্গে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বেড়ে গেলে সড়কের পাশে একটি অস্থায়ী তাবুর নিচে আশ্রয় নেন। একপর্যায়ে প্রবল বাতাসে পাশের একটি কৃষ্ণচূড়া গাছ ভেঙে তাবুর ওপর পড়ে। এতে জিয়াউর রহমান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় পথচারীদের সহায়তায় দ্রুত তাকে বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহ্ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১০:২০ পূর্বাহ্ণ
সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের ১০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে ঈদ

সারা দেশে বৃহস্পতিবার পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হলেও সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আযহার নামাজ আদায় করেছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা।

দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতির ধারাবাহিকতায় জেলার বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ উপলক্ষে বুধবার সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ, রাখালতলি ও মাইটকুমরা মসজিদে চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমরা, রাখালতলি, গঙ্গানন্দপুরসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফের অনুসারী হিসেবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ পালন করেন। প্রতিবছরের মতো এবারও এসব এলাকায় ঈদের প্রস্তুতি সম্পন্ন শেষে ঈদ উদযাপন করছেন।

সহস্রাইল দায়রা শরীফে নামাজ শেষে মুসল্লিদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন মসজিদ কমিটি। সেখানে জামায়াতে ইমামতি করেন ধলেরচর দরবার শরীফের পীর সাহেব মুফতি মোহাম্মদ রাকিবুল হাসান।

আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও বোয়ালমারীর কাঁটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মো. মাহিদুল হক বলেন, “চট্টগ্রামের মির্জাখিল শরীফ ও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বোয়ালমারীর শেখর ও রুপাপাত ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে একদিন আগে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এবারও চারটি জামায়াতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।”

তিনি আরো বলেন, বোয়ালমারীর পাশাপাশি আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের কিছু মানুষও এ জামায়াতে অংশ নেন।

আলফাডাঙ্গা উপজেলার ধলেরচর গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কার জানান, আগে ধলেরচর মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠে আলাদা জামায়াত হতো। কিন্তু ইমাম অধ্যক্ষ আব্দুর রহমানের মৃত্যুর পর সেখানে আর জামায়াত হচ্ছে না। এখন ধলেরচরের কয়েকজন মুসল্লি সহস্রাইল দায়রা শরীফে গিয়ে ঈদের নামাজ আদায় করেন।

স্থানীয়রা জানান, এ অঞ্চলে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপনের প্রথা বহু বছরের পুরোনো। সংখ্যায় কম হলেও নিজেদের ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসরণ করেই তারা প্রতি বছর আলাদা দিনে ঈদ পালন করে থাকেন।