খুঁজুন
বুধবার, ২৭ মে, ২০২৬, ১৩ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

মাথার বালিশে হলুদ দাগ কেন হয়, এটা কি কোনও রোগের সংকেত?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ পূর্বাহ্ণ
মাথার বালিশে হলুদ দাগ কেন হয়, এটা কি কোনও রোগের সংকেত?

ঘুম থেকে উঠে বালিশে চোখ পড়তেই যদি হলুদ দাগ নজরে আসে, তখন অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। কেউ ভাবেন, এটা হয়তো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাব, আবার কেউ ভয় পান; এটা কি শরীরের কোনো সমস্যার ইঙ্গিত?

বাস্তবতা হলো, বালিশে হলুদ দাগ খুবই সাধারণ একটি বিষয়। তবে এটিকে একেবারে অবহেলা করাও ঠিক নয়। কারণ, এই দাগ আপনার স্বাস্থ্য ও ঘুমের অভ্যাস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে।

কেন হয় বালিশে হলুদ দাগ?

বালিশে হলুদ দাগ মূলত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জমে থাকা বিভিন্ন উপাদানের কারণে তৈরি হয়। বালিশের কাভার কিছুটা সুরক্ষা দিলেও, ভেতরের বালিশ এসব শোষণ করে নেয়। ফলে ধীরে ধীরে দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

শুধু দাগই নয়, এই জমে থাকা উপাদানগুলো বালিশে আর্দ্র ও উষ্ণ পরিবেশ তৈরি করে, যেখানে সহজেই ব্যাকটেরিয়া ও ডাস্ট মাইটস জন্মাতে পারে।

এটা কি কোনো রোগের সংকেত?

সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট রোগের লক্ষণ না হলেও, হলুদ দাগ একটি ‘হাইজিন ও স্বাস্থ্য সতর্ক সংকেত’ বলা যেতে পারে।

কারণ আর্দ্র পরিবেশে জীবাণু দ্রুত বাড়ে। পাশাপাশি ডাস্ট মাইটস অ্যালার্জি বাড়াতে পারে, শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমার সমস্যা বাড়তে পারে এবং ত্বকে ব্রণ বা জ্বালাপোড়া দেখা দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যবহৃত বালিশে বিভিন্ন ধরনের ফাঙ্গাসও থাকতে পারে, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

ঘুমের সময় কী কী কারণে দাগ হয়?

রাতে ঘুমানোর সময় কয়েকটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করে—

১. ঘাম: শরীরের ঘাম বালিশে জমে

২. বডি অয়েল: ত্বকের তেল ঘামের সঙ্গে মিশে দাগ তৈরি করে

৩. মৃত ত্বক: প্রতিদিন ঝরে পড়া কোষ বালিশে জমে

৪. চুল ও ত্বকের পণ্য: ব্যবহৃত কেমিক্যাল বালিশে লেগে থাকে

৫. লালা: অনেকের অজান্তেই ঘুমের সময় বের হয়

৬. আর্দ্রতা: সবকিছু মিলে ভেজা পরিবেশ তৈরি করে

কীভাবে দাগ প্রতিরোধ করবেন?

কিছু সহজ অভ্যাসেই বালিশ পরিষ্কার রাখা সম্ভব—

১. বালিশে প্রটেক্টর বা ওয়াটারপ্রুফ কভার ব্যবহার করুন

২. সপ্তাহে অন্তত একবার বালিশের কভার ধুয়ে ফেলুন

৩. প্রতিদিন বালিশ রোদে বা বাতাসে রাখুন

৪. নিয়মিত ঝেড়ে নিন

এই অভ্যাসগুলো শুধু দাগ কমায় না, বরং ঘুমের মানও উন্নত করে।

দাগ পড়ে গেলে কী করবেন?

বালিশে দাগ পড়ে গেলে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। কেয়ার লেবেল দেখে বালিশ ধুয়ে ফেলুন। তবে, হালকা দাগে সাধারণ ওয়াশই যথেষ্ট।

আর বেশি দাগ হলে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড (১:৫ অনুপাতে পানি মিশিয়ে) অথবা ভিনেগার (১:৩ অনুপাতে পানি মিশিয়ে) ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়া রোদে শুকালে প্রাকৃতিকভাবে জীবাণুও কমে।

শেষ কথা

বালিশে হলুদ দাগ দেখলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই, তবে অবহেলা করাও ঠিক নয়। এটি আপনার শরীর, ঘুমের অভ্যাস ও পরিচ্ছন্নতার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, সঠিক ব্যবহার ও সময়মতো পরিবর্তন; এই তিনটি অভ্যাসই আপনাকে দেবে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও আরামদায়ক ঘুম।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।