খুঁজুন
শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২৭ চৈত্র, ১৪৩২

ইউরোপে ক্যারিয়ার : বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৫:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ইউরোপে ক্যারিয়ার : বাংলাদেশিদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

বিগত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানির প্রধান বাজার ছিল মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব শ্রমবাজারের সমীকরণেও এসেছে বড় পরিবর্তন। বর্তমানে দক্ষ ও আধা-দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য নতুন স্বপ্নের গন্তব্য হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে ইউরোপ।

বিশেষ করে সেনজেনভুক্ত দেশগুলোতে কর্মসংস্থান ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ তৈরি হওয়ায় বিপুল সংখ্যক তরুণ এখন ইউরোপমুখী হচ্ছেন। এই যাত্রায় সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র মাল্টা।

কেন ইউরোপ এখন আকর্ষণের কেন্দ্রে?

ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে বয়স্ক জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং তরুণ শ্রমিকের ঘাটতি থাকায় তারা এশিয়ার দেশগুলো থেকে কর্মী নিতে আগ্রহী হচ্ছে। জার্মানি, ইতালি, রোমানিয়া ও মাল্টার মতো দেশগুলো বিভিন্ন খাতে বিদেশি কর্মীদের জন্য ভিসানীতি শিথিল করেছে। ইউরোপে কাজ করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো উন্নত কর্মপরিবেশ, ন্যায্য মজুরি, সামাজিক নিরাপত্তা এবং সেনজেনভুক্ত ২৮টি দেশে অবাধে যাতায়াতের সুযোগ।

মাল্টা : বাংলাদেশিদের জন্য সহজ ও বাস্তবসম্মত গন্তব্য

ইউরোপের অনেক দেশে ভাষার জটিলতা এবং কঠোর ভিসা প্রক্রিয়া থাকলেও মাল্টা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম। সম্প্রতি (১ এপ্রিল) ঢাকায় মাল্টার ভিসা সার্ভিস সেন্টার চালুর উদ্যোগ এবং কূটনৈতিক সম্পর্কের উন্নয়ন এই পথকে আরও সুগম করেছে।

১. হসপিটালিটি খাতে ব্যাপক চাহিদা : মাল্টার পর্যটন ও হোটেল খাতে বর্তমানে জনবলের ব্যাপক সংকট চলছে। বিশেষ করে ওয়েটার, বারটেন্ডার, হাউসকিপিং স্টাফ, বারিস্তা, রিসেপশনিস্ট, ক্লিনার, ডিশওয়াশার এবং শেফ পদে প্রচুর নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসব পদের জন্য খুব উচ্চশিক্ষার চেয়ে কাজের অভিজ্ঞতা এবং মৌলিক ইংরেজি দক্ষতা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

২. আকর্ষণীয় বেতন ও সুযোগ-সুবিধা : মাল্টায় চাকরির ধরন অনুযায়ী মাসিক আয় ১৪০০ ইউরো থেকে শুরু করে ২৩০০ ইউরো (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা) পর্যন্ত হতে পারে। এর বাইরে ওভারটাইম করার সুযোগ তো থাকছেই। ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় মাল্টার জীবনযাত্রার খরচও কিছুটা কম, যা সঞ্চয়ে সহায়ক।

৩. ভাষা ও পরিবেশ : ইউরোপের অনেক দেশে স্থানীয় ভাষা (যেমন- জার্মান বা ইতালিয়ান) না জানলে কাজ পাওয়া কঠিন। কিন্তু মাল্টায় ইংরেজি দাপ্তরিক ভাষা হওয়ায় বাংলাদেশিরা সহজেই কর্মক্ষেত্রে মানিয়ে নিতে পারেন।

ঢাকা থেকেই ভিসা প্রক্রিয়ার সুবিধা

একটা সময় ছিল যখন মাল্টার ভিসার জন্য বাংলাদেশিদের ভারতের দিল্লিতে যেতে হতো। কিন্তু বর্তমানে ঢাকার বনানীতে অবস্থিত ভিএফএস গ্লোবাল (ভিএফএস গ্লোবাল) থেকেই ভিসা আবেদন ও ইন্টারভিউ সম্পন্ন করা যাচ্ছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলে এই সুবিধা নিশ্চিত হয়েছে, যা সাধারণ কর্মীদের সময় ও অর্থ উভয়ই সাশ্রয় করছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি তথ্যে জানা গেছে, আবেদন করার পরবর্তী প্রায় ছয় মাসের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া সম্ভব।

কূটনৈতিক ইতিবাচক প্রভাব

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, মাল্টার সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এখন নতুন উচ্চতায়। সম্প্রতি ঢাকায় নিযুক্ত মাল্টার হাইকমিশনারের সাথে বৈঠকে দুদেশের বাণিজ্য, শিক্ষা ও অভিবাসন খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনাও তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

সচেতনতা ও সতর্কতা

ইউরোপে যাওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য জানা এবং বৈধ পথ অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। দালালের খপ্পরে না পড়ে সরাসরি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বা নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের সাহায্যে আবেদন করা উচিত। যেকোনো চুক্তিতে স্বাক্ষর করার আগে বেতন, কাজের সময়, থাকার ব্যবস্থা এবং ভিসার ধরন যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

সঠিক নির্দেশনার জন্য গাইডলাইন

ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়া অনেকেরই স্বপ্ন, কিন্তু সঠিক তথ্যের অভাবে অনেকেই পিছিয়ে পড়েন কিংবা ভুল পথে পা বাড়ান। আপনি যদি মাল্টাসহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে কাজের সুযোগ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, এবং আবেদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত ও স্বচ্ছ গাইডলাইন পেতে চান, তবে একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্মের সহায়তা নিতে পারেন। ইউরোপ যাত্রার প্রতিটি ধাপ এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ পেতে ভিজিট করতে পারেন https://www.swiftfly.site ঠিকানায়। এই ওয়েবসাইটটি আপনাকে সঠিক তথ্যের মাধ্যমে আপনার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। ইউরোপের শ্রমবাজার এখন বাংলাদেশের জন্য এক বিশাল সম্ভাবনার নাম। সঠিক প্রস্তুতি আর সঠিক তথ্যই পারে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে।

মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২২ পূর্বাহ্ণ
মায়ের কাছ থেকে যে ৮ বৈশিষ্ট্য পায় সন্তান?

প্রতিটি শিশুর জন্মই এক নতুন জগতের সূচনা। তবে শুধু পিতামাতার ভালোবাসা, যত্ন বা পরিবেশ নয়, শিশুর শরীর ও মনও এক ধরনের জৈবিক উত্তরাধিকার বহন করে।

বিশেষ করে মায়ের জিনের প্রভাব সন্তানের ওপর আলাদা এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বৈজ্ঞানিক গবেষণা দেখিয়েছে, মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিন এবং বৈশিষ্ট্য শিশুর শারীরিক গঠন, মানসিক সক্ষমতা, স্বাস্থ্যের ঝুঁকি এবং এমনকি আচরণেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশের পরিবারে মা ও সন্তানের সম্পর্ক প্রাথমিক পরিচর্যার মাধ্যমে বোঝা যায়, কিন্তু এই সম্পর্ক জিনগতভাবে অনেক গভীর। শুধু দেখায় যে বাচ্চা মায়ের মতো হাসে বা মূখাবয়ব নেয়, বরং মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনগুলো শিশুর জীবনের নানা দিককে প্রভাবিত করে।

চলুন জেনে নিই, মায়ের কাছ থেকে সন্তানের মধ্যে কোন কোন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য আসে:

১. মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ

কোষের শক্তিকেন্দ্র মাইটোকন্ড্রিয়া শুধু মায়ের কাছ থেকেই আসে। এটি শিশুর শরীরের শক্তি উৎপাদন, বিপাকক্রিয়া এবং বার্ধক্যের গতিতে প্রভাব ফেলে।

২. বুদ্ধিমত্তা

গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত কিছু জিন মায়ের দিক থেকে বেশি প্রভাব ফেলে। ফলে মায়ের শিক্ষার অভ্যাস, চিন্তাভাবনার ধরন ও জিনগত বৈশিষ্ট্য শিশুর মানসিক বিকাশে সাহায্য করতে পারে।

৩. শারীরিক বৈশিষ্ট্য

চুলের রং ও গঠন, হেয়ারলাইন, ত্বকের রং এবং ভ্যারিকোজ ভেইনের প্রবণতা; এসব শিশুর মধ্যে প্রাথমিকভাবে মায়ের দিক থেকে আসে। ভ্যারিকোজ ভেইন হলো এমন এক অবস্থা, যেখানে শিরাগুলো ফুলে যায় বা বাঁকানো দেখা যায়, সাধারণত ত্বকের ওপর নীল বা বেগুনি দাগের মতো প্রকাশ পায়।

৪. বিপাকক্রিয়া ও ওজন

শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরন এবং সহজে ওজন বাড়ার প্রবণতা; এসবে মায়ের জিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশুর বিপাক ও ওজন নিয়ন্ত্রণে মায়ের দিক থেকে প্রাপ্ত জিনের প্রভাব চোখে পড়ে।

৫. মেজাজ ও ঘুমের ধরন

অনিদ্রা, ঘুমের সমস্যা বা কিছু মুড-সম্পর্কিত প্রবণতা, যেমন বিষণ্নতা—মায়ের কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে আসতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর মানসিক স্বাস্থ্য ও আচরণে প্রভাব পড়ে।

৬. কিছু রোগের ঝুঁকি

মায়োপিয়া (কাছের জিনিস স্পষ্ট ও দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা), গ্লুকোমা, ছানি ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মায়ের দিক থেকে আসতে পারে। ফলে স্বাস্থ্য সচেতনতা এবং প্রাথমিক নজরদারি শিশুর জন্য জরুরি।

৭. X-লিংকড বৈশিষ্ট্য (বিশেষ করে ছেলেদের ক্ষেত্রে)

ছেলেসন্তান মায়ের কাছ থেকে একমাত্র X ক্রোমোজোম পায়। তাই বর্ণান্ধের মতো বৈশিষ্ট্য সরাসরি মায়ের দিক থেকে আসার সম্ভাবনা বেশি।

৮. প্রজনন (মেয়েদের ক্ষেত্রে)

মেয়েদের প্রথম মাসিক ও মেনোপজের সময় অনেক ক্ষেত্রে মায়ের সময়সূচির সঙ্গে মিল দেখা যায়। অর্থাৎ মেয়েদের প্রজনন সংক্রান্ত কিছু বৈশিষ্ট্যও মায়ের জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেষ কথা

মনে রাখতে হবে, সব শিশুর ক্ষেত্রে এসব ভূমিকা এক রকম নয়। জিনের পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস, পরিবেশ এবং জীবনধারার প্রভাব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই মা ও সন্তানের সম্পর্ক শুধুমাত্র জেনেটিক নয়, বরং প্রতিদিনের যত্ন, পরিচর্যা ও অভ্যাসের মিশ্রণে শিশুর ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে।

সূত্র: ফ্যামিলি এডুকেশন

কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:১৩ পূর্বাহ্ণ
কারা বেশি কাজে ফাঁকি দেয়, ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

দুপুর গড়িয়েছে, অফিসের ফাইল টেবিলে জমে উঠছে। কেউ চুপচাপ কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, আবার কেউ একটু পরপর মোবাইল স্ক্রল করছে কিংবা চা-আড্ডায় ব্যস্ত। তাই প্রশ্নটা প্রায়ই ওঠে, আসলে কে বেশি কাজে ফাঁকি দেয়? ছেলেরা নাকি মেয়েরা?

এই প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এতটা সরল নয়। বরং এর পেছনে আছে সামাজিক বাস্তবতা, কর্মসংস্কৃতি, এবং ব্যক্তিগত মনস্তত্ত্বের জটিল মিশেল।

গবেষণা কী বলছে?

বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন কর্মসংস্থান ও আচরণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, কাজ ফাঁকি দেওয়া বা কাজ পেছানো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই রয়েছে; তবে এর ধরন ভিন্ন।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন-এর কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষরা তুলনামূলকভাবে বেশি সময় ‘non-work activities’-এ ব্যয় করেন। সেটা হতে পারে অপ্রয়োজনীয় ইন্টারনেট ব্রাউজিং বা আড্ডা।

অন্যদিকে, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ-এ প্রকাশিত একাধিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, নারীরা কাজ ফাঁকি কম দিলেও অনেক সময় অতিরিক্ত দায়িত্বের চাপে ‘burnout’ বা মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন, যা তাদের কাজের গতি কমিয়ে দেয়।

মনস্তত্ত্বের দিক থেকে পার্থক্য

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, ছেলেদের মধ্যে ‘risk-taking behavior’ বা ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। ফলে তারা অনেক সময় কাজ শেষ মুহূর্তে করার ঝুঁকি নেয়।

অন্যদিকে, মেয়েদের মধ্যে দায়িত্ববোধ ও পারফেকশনিজম বেশি থাকায় তারা কাজ ফেলে রাখার প্রবণতা কম দেখায়, তবে অতিরিক্ত নিখুঁত করতে গিয়ে সময় বেশি নেয়।

বাংলাদেশি বাস্তবতায় চিত্রটা কেমন?

বাংলাদেশের অফিস-সংস্কৃতি, বিশেষ করে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে, এই প্রশ্নের উত্তর আরও ভিন্ন হতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, পুরুষ কর্মীরা অফিস সময়ের মধ্যে বাইরে যাওয়া, ধূমপান বিরতি, কিংবা আড্ডায় বেশি সময় দেন। আবার নারী কর্মীরা অফিসের পাশাপাশি ঘরের কাজ, রান্না, সন্তান দেখাশোনা; সব সামলাতে গিয়ে অফিসে তুলনামূলকভাবে বেশি ফোকাসড থাকতে বাধ্য হন।

ঢাকার মিরপুরের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এইচআর কর্মকর্তা মামুন আব্দুল্লাহ বলেন, আমরা দেখেছি, নারী কর্মীরা সাধারণত সময় মেনে কাজ শেষ করতে বেশি সচেতন। তবে চাপ বেশি হলে তারা চুপচাপ ক্লান্ত হয়ে পড়েন। পুরুষরা আবার কাজের ফাঁকে একটু বেশি ‘breather’ বা সংক্ষিপ্ত বিরতি নেয়।

সিলেটের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মারূফ জাকির বলেন, কোনো ক্ষেত্রে নারীকর্মীরা বেশি ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ খুঁজেন, আবার কোনো ক্ষেত্রে পুরুষকর্মীরাও এই সুযোগের আশায় থাকেন। তাই বিষয়টি একদম নির্ধারণ করে বলা মুশকিল। তবে এটা সত্য যে, নারীদের তুলনায় পুরুষরা বেশি ভারী কাজ করতে পারেন।

ডিজিটাল যুগে নতুন ফাঁকি

বর্তমানে কাজ ফাঁকি দেওয়ার সবচেয়ে বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে স্মার্টফোন। সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রল করা, ইউটিউব দেখা এবং অপ্রয়োজনীয় চ্যাটে লিপ্ত হওয়া। এই অভ্যাসগুলো নারী-পুরুষ উভয়ের মধ্যেই সমানভাবে বাড়ছে। ফলে ‘কে বেশি ফাঁকি দেয়’, এই প্রশ্ন এখন অনেকটাই প্রযুক্তিনির্ভর আচরণের ওপর নির্ভর করছে।

তাহলে আসল সত্যটা কী?

সব গবেষণা ও বাস্তবতা মিলিয়ে একটা বিষয় পরিষ্কার, কাজ ফাঁকি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিঙ্গ নয়, বরং ব্যক্তিগত অভ্যাস, কাজের পরিবেশ ও মানসিক অবস্থা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কেউ দায়িত্বশীল হলে সে ছেলে হোক বা মেয়ে, ফাঁকি কম দেবে। আর কেউ যদি অনুপ্রেরণাহীন বা চাপগ্রস্ত হয়, তাহলে ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা বাড়বেই।

শেষ কথা

‘ছেলেরা বেশি ফাঁকি দেয়’ বা ‘মেয়েরা বেশি সিরিয়াস’; এমন একপাক্ষিক ধারণা আসলে পুরো সত্যকে তুলে ধরে না। বরং কাজের সংস্কৃতি, পারিবারিক চাপ, এবং ব্যক্তিগত মানসিকতা; এই তিনের সমন্বয়েই তৈরি হয় একজন কর্মীর কাজের ধরন।

মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:০৪ পূর্বাহ্ণ
মানুষ কেন অন্যের ফোনে উঁকি দেয়?

স্মার্টফোন এখন মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে বাড়ছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ঝুঁকি। অর্ধেকেরও বেশি মানুষ অপরিচিতদের ফোনের স্ক্রিনে উঁকি দিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য দেখেন বলে উঠে এসেছে স্যামসাংয়ের সাম্প্রতিক এক জরিপে।

যেখানে ৫৬ শতাংশ ইউরোপীয় বলেছেন, জনসমক্ষে অপরিচিত মানুষের ফোনের স্ক্রিনে অনিচ্ছাকৃতভাবে তাদের নজর পড়ে যায়। ২৪ শতাংশ মানুষ বলেছেন, তারা কৌতূহলবশত ইচ্ছা করেই অন্যের ফোনে উঁকি দেন। ৫৭ শতাংশের মতে, গণপরিবহনে এ ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটে। ৩৩ শতাংশ বলছেন, তারা অপরিচিত মানুষের ফোনের খুব সংবেদনশীল তথ্য দেখে ফেলেছেন।

২৮ শতাংশ মানুষ অন্যের ফোনে ব্যক্তিগত কিছু দেখলে তা উপেক্ষা করেন এবং ২৭ শতাংশ বলছেন, এমন কিছু চোখে পড়লে তারা সঙ্গে সঙ্গেই চোখ সরিয়ে নেন। সাত শতাংশ মানুষ বলছেন, তারা সুযোগ বুঝে বেশ কৌশলে অন্যের ফোনের দিকে তাকিয়ে থাকেন।

অন্যের ফোনে সাধারণত যা যা দেখা যায়, তার মধ্যে রয়েছে ৩৮ শতাংশ ব্যক্তিগত ছবি, ৩২ শতাংশ ভিডিও কল, ২৯ শতাংশ মেসেজ, ২৭ শতাংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, ১৭ শতাংশ অনলাইন কেনাকাটা, ১২ শতাংশ ডেটিং অ্যাপের নোটিফিকেশন এবং ১১ শতাংশ ব্যাংকিং তথ্য।

স্যামসাং বলছে, অন্য কেউ ফোনের দিকে তাকিয়ে আছেন বুঝলে ৪২ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের ফোনটির ব্যবহার বন্ধ করে দেন। শুধু ১০ শতাংশ মানুষ বিষয়টির প্রতিবাদ করেন।

এ সমস্যার সমাধানে স্যামসাংয়ের লক্ষ্য ‘প্রাইভেসি ডিসপ্লে’ ফিচারটির ব্যবহার, এতে নির্দিষ্ট কোণ থেকে তাকালে স্ক্রিনটি অন্ধকার দেখায়। তাদের এ ফিচারটি নিজের প্রয়োজনমতো সেট ও যে কোনো সময় চালু বা বন্ধ করা যায়, যা এই সমস্যার সমাধানে কার্যকর উপায়।

সূত্র: স্যামমোবাইল