খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ৫০০ একর ফসলি জমি পানিবন্দি, ক্ষতিপূরণ ও সমাধান চান কৃষকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬, ৬:৫৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৫০০ একর ফসলি জমি পানিবন্দি, ক্ষতিপূরণ ও সমাধান চান কৃষকরা

ফরিদপুর পৌরসভার গোয়ালচামট এলাকার দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন স্থানীয় কৃষক ও এলাকাবাসী। বছরের পর বছর জলাবদ্ধতার কারণে শত শত একর কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুর সদর উপজেলা কমপ্লেক্স চত্বরে বাংলাদেশ কৃষক সমিতি, ফরিদপুর সদর উপজেলা শাখার উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ফরিদপুর পৌরসভার ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের গোয়ালচামট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্রিজ ও কালভার্ট ব্যক্তিগত স্বার্থে বন্ধ করে দেওয়া এবং পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

কৃষক সমিতির নেতারা জানান, একসময় এ অঞ্চলের পানি ফরিদপুর টেক্সটাইল কলেজ সংলগ্ন ব্রিজের নিচ দিয়ে কবিরপুর মাঠের দিকে প্রবাহিত হতো। কিন্তু কয়েক বছর আগে ব্রিজের নিচে বাঁধসদৃশ প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে একটি পাথর ভাঙার কারখানা স্থাপন করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই গোয়ালচামটের বিস্তীর্ণ এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

তারা আরও বলেন, গত ৭ থেকে ৮ বছর ধরে প্রায় ৫০০ একরের বেশি তিন ফসলি জমিতে নিয়মিত চাষাবাদ সম্ভব হচ্ছে না। বছরের অধিকাংশ সময় জমি পানির নিচে নিমজ্জিত থাকায় কৃষকরা ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে এলাকার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং অনেক কৃষক আর্থিক সংকটে পড়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতার কারণে শুধু কৃষিজমিই নয়, বাড়িঘর, রান্নাঘর, গোয়ালঘর ও গ্রামীণ সড়কও প্রায়শই পানিতে তলিয়ে যায়। বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দেয়, বাড়ে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি। দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় শিশু-কিশোরদের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশও হুমকির মুখে পড়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, এলাকার মানুষ নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন কর ও অন্যান্য সরকারি রাজস্ব পরিশোধ করলেও প্রয়োজনীয় নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ অবস্থায় কৃষক সমিতির পক্ষ থেকে কয়েকটি দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— গোয়ালচামট এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, পানি প্রবাহের সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ, প্রয়োজনীয় খাল পুনঃখনন, টেক্সটাইল কলেজ সংলগ্ন ব্রিজের নিচে সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা তদন্তপূর্বক অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন করে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং এলাকার জনগণের জন্য প্রাপ্য পৌরসেবা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ কৃষক সমিতি ফরিদপুর সদর উপজেলা শাখার সভাপতি জলিল মিয়া। এ সময় বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট মানিক মজুমদার, আব্দুর রহমান লালটু, অজিত বিশ্বাস, অধ্যাপক নুর আব্দুল্লাহ সাঈদ দারা, আতিকুর রহমান ও মাওলানা আমজাদ হোসেন। কর্মসূচিতে স্থানীয় শতাধিক কৃষক, শ্রমজীবী মানুষ ও বাসিন্দা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার আবেদন জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ফরিদপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৯:৫২ অপরাহ্ণ
মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার দায়ে ফরিদপুরে মাদ্রাসা পরিচালকের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড

ফরিদপুরে এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসার পরিচালক মো. আশরাফ আলীকে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মো. আশরাফ আলী (৪৬) আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তিনি ফরিদপুর শহরের দক্ষিণ গোয়ালচামট এলাকার রওজাতুন-নেছা মহিলা মাদ্রাসার পরিচালক। একই মাদ্রাসার একটি কক্ষে তিনি স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্রী ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল। ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আশরাফ আলী তাকে হেফজখানার শ্রেণিকক্ষ থেকে নিজের বাসায় ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী-সন্তান বাড়িতে ছিলেন না।

অভিযোগ অনুযায়ী, বাসা ফাঁকা থাকার সুযোগে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন আশরাফ আলী। একপর্যায়ে কিশোরীটি নিজেকে রক্ষা করতে দৌড়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি বাবা-মাকে জানায়।

পরিবারটি প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করলেও ব্যর্থ হয়। পরে তারা আইনের আশ্রয় নেয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলার পর পুলিশ আশরাফ আলীকে গ্রেপ্তার করলেও পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে মামলার বিচারিক কার্যক্রম ও যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন।
তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নূর হোসেন আদালতে আশরাফ আলীকে একমাত্র অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এ রায় প্রদান করেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া জানান, আদালত দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন। পাশাপাশি জরিমানার ৭০ হাজার টাকা তার সম্পত্তি বিক্রি করে আদায় করে ভুক্তভোগী পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। তারা দ্রুত আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানান।

সোনালি আঁশের গৌরব ফেরাতে ফরিদপুরে বিএডিসির মাঠ দিবস

হাসানউজ্জামান, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৯:১০ অপরাহ্ণ
সোনালি আঁশের গৌরব ফেরাতে ফরিদপুরে বিএডিসির মাঠ দিবস

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অর্থকরী ফসল পাটের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং দেশীয় পাট বীজের ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ফরিদপুরে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) আয়োজিত পাট ফসলের মাঠ দিবস ও বীজ ডিলার কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে ফরিদপুর সদর উপজেলার তেঁতুলতলা এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে পাট চাষ, উন্নতমানের দেশীয় বীজের ব্যবহার এবং বীজ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির যুগ্ম সচিব ও বীজ ও উদ্যান উইংয়ের সদস্য পরিচালক মো. মজিবুর রহমান।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ বিভাগের অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক মোসাব্বের হোসেন, পাট বীজ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক দেবদাস সাহা, বীজ উৎপাদন উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. হুমায়ুন কবির, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুরের উপ-পরিচালক মো. শাহাদুজ্জামান এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া।

এছাড়া কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জেলার পাটচাষি, পাট বীজ ডিলার এবং স্থানীয় কৃষকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ফরিদপুর বিএডিসি বীজ বিভাগের উপ-পরিচালক মো. কামরুল হক।

বক্তারা বলেন, পাট বাংলাদেশের কৃষি অর্থনীতি, পরিবেশ এবং রপ্তানি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফসল। বিশ্বব্যাপী পরিবেশবান্ধব প্রাকৃতিক তন্তুর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় পাটের সম্ভাবনাও দিন দিন বাড়ছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে উন্নতমানের দেশীয় পাট বীজ ব্যবহারের বিকল্প নেই।

তারা কৃষকদের বিএডিসি উৎপাদিত জেআরও-৫২৪ (JRO-524) জাতের পাট বীজ ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বক্তাদের মতে, সরকারিভাবে ভর্তুকি মূল্যে প্রতি কেজি বীজ মাত্র ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এ বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা ৯০ শতাংশের বেশি হওয়ায় উৎপাদন খরচ কমে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়।

কর্মশালায় জানানো হয়, বর্তমানে দেশে ব্যবহৃত পাট বীজের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ভারত থেকে আমদানি করা হয়। এ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয়ভাবে উন্নতমানের পাট বীজ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএডিসি ব্যাপক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

বক্তারা জানান, ‘মাদার সিড’ উৎপাদন ও সম্প্রসারণ কার্যক্রমের মাধ্যমে ২০২৯-৩০ সালের মধ্যে দেশে পাট বীজ উৎপাদনে শতভাগ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে প্রতিবছর প্রায় ৮০ থেকে ১০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে এবং কৃষকরা সহজে মানসম্পন্ন বীজ পেতে সক্ষম হবেন।

আলোচনা শেষে বিএডিসির কর্মকর্তা, কৃষক ও বীজ ডিলাররা জেআরও-৫২৪ জাতের পাটের প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন করেন। মাঠ পর্যায়ে বীজের গুণগত মান, গাছের বৃদ্ধি এবং ফলনের সম্ভাবনা সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের অবহিত করা হয়।

কৃষি সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, উন্নতমানের দেশীয় বীজের ব্যবহার বাড়লে পাট উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে এবং একসময় ‘সোনালি আঁশ’ খ্যাত পাট আবারও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।

ফরিদপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দিল জনতা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মাদক সেবনের অভিযোগে দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দিল জনতা

ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলায় মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে গ্রাম পুলিশসহ দুই যুবককে প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় জনতার হাতে দুই যুবকের মাথার চুল কেটে দেওয়ার দুটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। ভিডিওতে স্থানীয় এক বিএনপি নেতাকেও ঘটনাস্থলে উপস্থিত দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর থেকে ১ মিনিট ৫২ সেকেন্ড ও ২ মিনিট ৩৪ সেকেন্ড দৈর্ঘ্যের দুটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। জানা যায়, ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে চরভদ্রাসন উপজেলার চর হরিরামপুর ইউনিয়নের সালেপুর পশ্চিম গ্রামে।

যাদের চুল কেটে দেওয়া হয়েছে তারা হলেন চর হরিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ মো. লালন খান (২৬) এবং একই গ্রামের বাসিন্দা শেখ রিয়াজুল (২২)। স্থানীয়দের অভিযোগ, তারা মাদক সেবন ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। তবে এ বিষয়ে কোনো আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাদের প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া হয়।

ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান ও স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোকা মৃধার মাঝখানে বসে আছেন গ্রাম পুলিশ লালন খান। এ সময় লালনের হাতে দুটি সিগারেট দেখা যায়। ভিডিওতে বিএনপি নেতা মঞ্জুরুল হক খানকে লালনকে উদ্দেশ করে মাদক সেবন ও মাদক কেনাবেচা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে দেখা যায়। তিনি জানতে চান, কোথা থেকে মাদক সংগ্রহ করা হয় এবং কারা তাকে সহযোগিতা করে। জবাবে লালন খানকে নিচু স্বরে কিছু বলতে শোনা যায়।

অপর ভিডিওতে দেখা যায়, লালন খান ও শেখ রিয়াজুলকে বসিয়ে একটি ট্রিমার দিয়ে তাদের মাথার চুল কেটে দেওয়া হচ্ছে। লালনের মাথায় ‘প্লাস’ (+) চিহ্নের মতো আকৃতি রেখে বাকিটা ন্যাড়া করা হয়। অন্যদিকে রিয়াজুলের কপাল থেকে মাথার ওপরের অংশ পর্যন্ত চুল কেটে অপদস্থ করা হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজনকে এ সময় হাসাহাসি ও মন্তব্য করতে শোনা যায়।

ঘটনার বিষয়ে চর হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল হক খান বলেন, “এলাকার কয়েকজন যুবক গ্রাম পুলিশ লালনকে গাঁজা সেবনের অভিযোগে ধরে বাজারে নিয়ে আসে। আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম এবং তাকে সতর্ক করে কিছু কথা বলেছি। তবে তাদের চুল কেটে দেওয়ার সময় আমি সেখানে ছিলাম না।”

এদিকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পুলিশ। চরভদ্রাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “কারও বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ থাকলেই তাকে হেনস্তা বা অপদস্থ করার অধিকার কারও নেই। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। ভিডিওগুলো আমরা দেখেছি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

তিনি আরও জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মাদকবিরোধী অবস্থান অবশ্যই প্রয়োজন; তবে আইনের শাসন উপেক্ষা করে কাউকে প্রকাশ্যে শাস্তি দেওয়া মানবাধিকার ও আইনের পরিপন্থী। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।