খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

ফরিদপুর-৪ : আলোচিত রায়হান জামিলের হাতে আছে ১০ লাখ টাকা, নেই বাড়ি-গাড়ি

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:০৭ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর-৪ : আলোচিত রায়হান জামিলের হাতে আছে ১০ লাখ টাকা, নেই বাড়ি-গাড়ি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ফরিদপুর-৪ আসন (ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা) থেকে জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন কমিশনে হলফনামা জমা দিয়েছেন মুফতি রায়হান জামিল। তরুণ এই প্রার্থী তাঁর ব্যতিক্রমী সমাজসেবা, মানবিক কার্যক্রম এবং স্বচ্ছ ব্যক্তিগত তথ্যের কারণে ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।

নির্বাচনী হলফনামা অনুযায়ী, মুফতি রায়হান জামিলের জন্ম ১৯৯৬ সালের ১০ জুন। তাঁর পিতা মৃত খবির উদ্দিন এবং মাতা নুরজাহান। বাড়ি ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার মফিজউদ্দিন খালাসীর ডাঙ্গী গ্রামে। পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে তিনি পরিচিত একজন ধর্মভিত্তিক শিক্ষিত তরুণ হিসেবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে তিনি ‘তাকমিল’ সম্পন্ন করেছেন। পেশায় তিনি একজন বেসরকারি শিক্ষক এবং তাঁর স্ত্রী একজন গৃহিণী।

হলফনামায় উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, মুফতি রায়হান জামিলের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা নেই। ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক জীবনে তিনি এখন পর্যন্ত কোনো মামলার সঙ্গে জড়িত নন বলে হলফনামায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাজনৈতিক স্বচ্ছতা ও পরিচ্ছন্ন ইমেজ ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিষয়টি তাঁর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়ের বিবরণীতে দেখা যায়, মুফতি রায়হান জামিলের বার্ষিক আয় মূলত শিক্ষকতা পেশা থেকেই আসে। তাঁর শিক্ষকতা থেকে বছরে আয় ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা। কৃষি জমি, ফ্ল্যাট, শেয়ার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র কিংবা ফিক্সড ডিপোজিটের মতো কোনো খাতে তাঁর আয় বা বিনিয়োগ নেই বলে হলফনামায় উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ তাঁর আয়ের উৎস সীমিত এবং নির্দিষ্ট।

অস্থাবর সম্পদের ক্ষেত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর কাছে বর্তমানে নগদ অর্থ রয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৭ টাকা। এছাড়া বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে জমা রয়েছে ৫ লাখ ১০ হাজার ১৩৩ টাকা। তবে স্থাবর সম্পদের ঘরে তিনি কোনো কৃষি জমি, বাড়ি-গাড়ি কিংবা ভবনের মালিকানা নেই বলে হলফনামায় ঘোষণা দিয়েছেন। একজন সংসদ প্রার্থীর হলফনামায় স্থাবর সম্পদ না থাকার বিষয়টি ভোটারদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও সরল জীবনযাপনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে মুফতি রায়হান জামিল মূলত আলোচনায় এসেছেন তাঁর ব্যতিক্রমী মানবিক ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে। ফরিদপুর-৪ আসনে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছেন। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মাত্র ১০ টাকায় ইলিশ মাছ বিতরণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হন। নিত্যপ্রয়োজনীয় একটি ব্যয়বহুল খাদ্যসামগ্রী সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে এনে দেওয়ার এই উদ্যোগ ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ৩০ নভেম্বর ১ টাকা দরে গরুর মাংস বিতরণ করেন তিনি। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সময় এমন উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ও আশার সঞ্চার করে। এর আগে ১১ জুলাই মাত্র ২ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ করে তিনি দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। এসব উদ্যোগ তাঁকে ‘মানবিক প্রার্থী’ হিসেবে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।

এছাড়াও নির্বাচনী প্রচারণার সময় গেট ও ব্যানার ভাঙচুরের প্রতিবাদে ঝাড়ু হাতে মিছিল করে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে ভিন্নমাত্রার প্রতিবাদ জানান, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই এটিকে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি ও অহিংস প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। গভীর রাতে দরিদ্র মানুষের ঘরে ঘরে এক বস্তা করে চাল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাও স্থানীয়দের কাছে তাঁকে জনপ্রিয় করে তোলে।

স্থানীয় ভোটারদের একটি অংশ মনে করছেন, মুফতি রায়হান জামিলের এই কর্মকাণ্ড কেবল নির্বাচনী কৌশল নয়, বরং দীর্ঘদিনের সামাজিক দায়বদ্ধতারই বহিঃপ্রকাশ। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ বয়স, স্বচ্ছ হলফনামা, মামলা-মোকদ্দমাহীন জীবন এবং আলোচিত মানবিক উদ্যোগ তাঁকে ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী লড়াইয়ে একটি ব্যতিক্রমী অবস্থানে নিয়ে গেছে।

সব মিলিয়ে জাতীয় পার্টির এই প্রার্থীর হলফনামা ও জীবনবৃত্তান্তে অর্থবিত্তের চেয়ে সমাজসেবা ও মানবিক কার্যক্রমই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। নির্বাচনের মাঠে ভোটাররা শেষ পর্যন্ত কোন বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়। তবে আলোচিত উদ্যোগ ও স্বচ্ছ হলফনামার কারণে মুফতি রায়হান জামিল যে ফরিদপুর-৪ আসনের নির্বাচনী আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম হয়ে উঠেছেন, তা নিঃসন্দেহে বলা যায়।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি