খুঁজুন
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ১২ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

দৈনিক অগ্নিপ্রহরের ‘ওয়ান কে’ ছোঁয়া: ঘরোয়া আয়োজনে তারুণ্যের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার উদযাপন

হারুন আনসারী রুদ্র
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৫০ অপরাহ্ণ
দৈনিক অগ্নিপ্রহরের ‘ওয়ান কে’ ছোঁয়া: ঘরোয়া আয়োজনে তারুণ্যের স্বপ্ন, সাহস ও সম্ভাবনার উদযাপন

স্বল্প পরিসর, সীমিত আয়োজন—তবুও আবেগ, ভালোবাসা আর স্বপ্নে ভরপুর এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হলো অগ্নিপ্রহর নিউজরুম। অল্প সময়ের পথচলায় ‘ওয়ান কে’ মাইলফলক স্পর্শ করার আনন্দে ঘরোয়া পরিবেশে কেক কেটে উদযাপন করলেন দৈনিক অগ্নিপ্রহরের তরুণ সংবাদকর্মীরা।

শুক্রবার (০২ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রতিদিনের মতোই ব্যস্ত সময় কাটছিল নিউজরুমে। চলছিলো সংবাদ সংগ্রহ, সম্পাদনা ও প্রকাশনার নানা কাজ। এর মধ্যেই সহকর্মী মুন্নী সুলতানা প্রস্তাব দেন—এই অর্জনটুকু উদযাপন করা উচিত। তার কথায় সাড়া দেন সহকর্মীরা। শরীফ খানও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত একটি ছোট আয়োজন করার আহ্বান জানান।

অল্প সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত হয়, কাছের একটি বেকারি থেকে কেক এনে ছোট্ট করে উদযাপন করা হবে। কেউ ব্যস্ত হয়ে পড়ে কেক আনার কাজে, কেউ আবার নিউজরুম গোছানো ও ছবি তোলার প্রস্তুতিতে। মুহূর্তেই অফিসের পরিবেশ বদলে যায়—কাজের চাপের মাঝে যুক্ত হয় উৎসবের আমেজ।

এক এক করে যোগ দিতে থাকেন টিমের অন্য সদস্যরাও। রাসেল, রইছ উদ্দিন, দোহা সহ আরও কয়েকজন এসে উপস্থিত হন। সিদ্ধান্ত হয়, ব্যানার লেখা দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে গ্রুপ ছবি তোলা হবে। সবাই যখন কেক কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ঠিক তখনই ঘটে এক চমকপ্রদ ঘটনা।

হঠাৎ করেই হিমুর সঙ্গে নিউজরুমে উপস্থিত হন সবার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক অধ্যাপক আলতাফ হোসেন। তার আগমনে মুহূর্তেই পুরো পরিবেশ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এমন একটি আনন্দঘন মুহূর্তে প্রিয় শিক্ষকের উপস্থিতি যেন আয়োজনটিকে আরও বিশেষ করে তোলে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুন্নী সুলতানা সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে অগ্নিপ্রহরের অল্প সময়ের পথচলা এবং অর্জনের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমরা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ‘ওয়ান কে’ বন্ধুর ঘরে পৌঁছাতে পেরেছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা। এই অর্জন আমাদের আরও ভালো কাজ করার সাহস জোগাবে।”

এরপর শরীফ খান অধ্যাপক আলতাফ হোসেনকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানান। অধ্যাপক আলতাফ হোসেন তার বক্তব্যে তরুণদের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “এই অগ্নিপ্রহরের ব্যাপারে আমাকে জানিয়েছে হিমু। এখানে এসে আমি সত্যিই আনন্দিত। তরুণদের এই উদ্যোগ আমাকে আশাবাদী করে তুলেছে। আমি বিশ্বাস করি, তারা প্রত্যেকে একেকটি সম্ভাবনার নাম।”

তিনি আরও বলেন, আড্ডা, আলোচনা এবং সৃজনশীল চিন্তার মধ্য দিয়েই একটি ভালো সংবাদমাধ্যম গড়ে ওঠে। এ সময় তিনি পত্রিকা পরিচালনার নানা দিকনির্দেশনাও দেন, যা উপস্থিত সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হিসেবে বিবেচিত হয়।

বক্তব্য শেষে সবাই মিলে কেক কাটেন এবং একে অপরকে শুভেচ্ছা জানান। হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসে ভরে ওঠে পুরো নিউজরুম। এটি ছিল অগ্নিপ্রহর পরিবারের প্রথম কোনো আনুষ্ঠানিক উদযাপন, যা ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অগ্নিপ্রহর টিমের সদস্যরা জানান, এই পথচলায় তাদের পাশে রয়েছেন অসংখ্য পাঠক, ফলোয়ার ও শুভানুধ্যায়ী। তাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই অল্প সময়ের মধ্যে এমন একটি মাইলফলক অর্জনে সহায়ক হয়েছে।

বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা জানানো হয় দৈনিক অগ্নিপ্রহরের প্রকাশক এম এম শহিদুল ইসলাম শাহীনের প্রতি। তার দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতার ফলে এই উদ্যোগ বাস্তব রূপ পেয়েছে বলে জানান তারা। পাশাপাশি তার সহধর্মিণীর উৎসাহ ও প্রেরণাও এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এছাড়াও অগ্নিপ্রহরের সূচনালগ্ন থেকে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করেছেন—সহকর্মী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সম্ভাবনাময় সংবাদমাধ্যম ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অগ্নিপ্রহর পরিবারের সদস্যরা বিশ্বাস করেন, স্রষ্টার প্রতি আস্থা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং নিরলস পরিশ্রমই তাদের এগিয়ে নেবে আরও বড় সাফল্যের দিকে। তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে পাঠকদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন।

এই ক্ষুদ্র আয়োজন তাই শুধু একটি উদযাপন নয়—এটি ছিল স্বপ্ন দেখার, সাহস সঞ্চয়ের এবং একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারের এক অনন্য মুহূর্ত।

ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

আব্দুল মান্নান মুন্নু, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৯:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে চুরি করতে গিয়ে ধরা, খুঁটিতে বেঁধে ন্যাড়া করে চোরকে রাস্তায় ঘোরালো গ্রামবাসী

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় প্রবাসীর বাড়িতে পানির মটর চুরি করতে গিয়ে গ্রামবাসীর হাতে আটক হয়েছেন এক যুবক। পরে তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে মাথা ন্যাড়া করে এলাকায় ঘোরানো হয়।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে উপজেলার ঘারুয়া ইউনিয়নের খামিনারবাগ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত যুবকের নাম ফয়েজ শিকদার (৩০)। তিনি ওই গ্রামের হাবি শিকদারের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে সাইপ্রাস প্রবাসী রিপন মোল্লার বাড়িতে থাকা পানির মটর চুরির চেষ্টা করেন ফয়েজ। এসময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে এসে তাকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে উত্তেজিত গ্রামবাসী তাকে বিদ্যুতের খুঁটিতে বেঁধে রাখে। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গ্রামের বিভিন্ন সড়কে ঘুরানো হয়।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে উৎসুক মানুষ সেখানে ভিড় জমায়। অনেকেই মোবাইল ফোনে ঘটনার ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

গ্রামবাসীর দাবি, ফয়েজ শিকদার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চুরির সঙ্গে জড়িত। এর আগেও একাধিকবার বিভিন্ন বাড়িতে চুরি করতে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়েছিলেন। বিশেষ করে গভীর রাতে বাড়িঘরে ঢুকে পানির মটর, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল চুরির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৬:১৫ অপরাহ্ণ
ভ্যানচালককে মারধরের জেরে সালথায় দু’পক্ষের সংঘর্ষ: আহত ১০, বাড়িঘর ভাংচুর

ফরিদপুরের সালথায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাংচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার সিংহপ্রতাপ এলাকার বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমানের পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা ও রফিক মাতুব্বর সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এসময় বেশ কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাংচুর চালানো হয়। এসময় একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালান।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালক বাবু তালুকদারকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।”

তিনি আরও জানান, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
‘যেখানে পাখির গান থামে না, ছায়া দেয় শত বছরের বটগাছ’

ফরিদপুরের সালথা উপজেলা-এর আটঘর ইউনিয়নের নিভৃত এক জনপদ খোয়াড় গ্রাম। ব্যস্ত শহরের কোলাহল থেকে অনেক দূরে, সবুজে ঘেরা এই গ্রাম যেন প্রকৃতির এক শান্ত আশ্রয়স্থল। গ্রামের প্রবেশমুখেই চোখে পড়ে শতবর্ষী এক বিশাল বটগাছ, যা শুধু একটি গাছ নয়—এলাকার মানুষের ইতিহাস, ঐতিহ্য আর আবেগের জীবন্ত সাক্ষী। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এই বটগাছ যেন সময়ের নীরব গল্পকথক হয়ে আজও মাথা উঁচু করে আছে।

বটগাছটির বিশাল ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ছাতার মতো। ঝুলে থাকা অসংখ্য শিকড় মাটির সঙ্গে মিশে তৈরি করেছে এক অপূর্ব প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। দূর থেকে দেখলে মনে হয়, প্রকৃতি নিজের হাতে যেন একটি জীবন্ত ভাস্কর্য তৈরি করেছে। গাছটির নিচে দাঁড়ালেই মন ভরে যায় শীতল ছায়া আর নির্মল বাতাসে। দিনের প্রখর রোদেও এখানে পাওয়া যায় এক অন্যরকম প্রশান্তি।

ভোর হতেই বটগাছের চারপাশ মুখর হয়ে ওঠে পাখির কলকাকলিতে। শালিক, দোয়েল, কোকিল আর নানা নাম না জানা পাখির ডাকে গ্রামের সকাল যেন আরও জীবন্ত হয়ে ওঠে। গাছের ডালে ডালে পাখিদের ছোটাছুটি আর কিচিরমিচির শব্দ প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক অপার মুগ্ধতা তৈরি করে। সন্ধ্যা নামলে আবার পাখিরা ফিরে আসে তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে। তখন পুরো পরিবেশজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম আবেগঘন দৃশ্য।

এই বটগাছ শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, গ্রামের মানুষের দৈনন্দিন জীবনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। মাঠে কাজ করতে যাওয়া কৃষকরা দুপুরের ক্লান্ত সময়ে এসে বসেন গাছটির ছায়ায়। কেউ বিশ্রাম নেন, কেউ গল্পে মেতে ওঠেন, আবার কেউ একটু জিরিয়ে নিয়ে নতুন উদ্যমে কাজে ফিরে যান। গ্রামের প্রবীণদের কাছেও এটি স্মৃতির এক অমূল্য জায়গা। অনেকে বলেন, ছোটবেলায় তারা এই গাছের নিচেই খেলাধুলা করেছেন, আড্ডা দিয়েছেন, এমনকি গ্রামের নানা সামাজিক বিচার-আচারও একসময় এই গাছতলাতেই বসত।

বর্ষাকালে বটগাছটির চারপাশ আরও মনোমুগ্ধকর হয়ে ওঠে। বৃষ্টিতে ধুয়ে যাওয়া সবুজ পাতাগুলো তখন আরও সতেজ দেখায়। শীতের কুয়াশামাখা সকালেও গাছটি যেন রহস্যময় সৌন্দর্যে দাঁড়িয়ে থাকে গ্রামের বুকজুড়ে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের যে নিবিড় সম্পর্ক, এই বটগাছ তারই এক উজ্জ্বল প্রতীক।

স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই শতবর্ষী বটগাছ খোয়াড় গ্রামের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ হয়ে গেছে। তাই গাছটিকে ঘিরে রয়েছে মানুষের গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। আধুনিকতার ছোঁয়ায় যখন গ্রামবাংলার অনেক পুরোনো নিদর্শন হারিয়ে যাচ্ছে, তখনও খোয়াড় গ্রামের এই বটগাছ অতীত ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখে নতুন প্রজন্মকে শেকড়ের গল্প শোনাচ্ছে নীরবে।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।