খুঁজুন
, ,

অসময়ে আলফাডাঙ্গার মধুমতি নদীতে ভাঙন, বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা বাসিন্দারা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬, ৭:৫০ অপরাহ্ণ
অসময়ে আলফাডাঙ্গার মধুমতি নদীতে ভাঙন, বাড়িঘর হারিয়ে দিশেহারা বাসিন্দারা

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামে মধুমতি নদীর হঠাৎ ভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। অসময়ের এ ভাঙনে ইতোমধ্যে দুইটি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর টগরবন্দ ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে শুক্রবার (৬ মার্চ) দিনগত রাতে মধুমতি নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনের কবলে পড়ে গ্রামের বাসিন্দা মো. সোহাগ শেখ ও মো. মনা মিয়া শেখের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। রাতারাতি বসতভিটা হারিয়ে দুই পরিবার এখন কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।

ভুক্তভোগী সোহাগ শেখ জানান, বহু কষ্টে গড়ে তোলা তার একমাত্র বসতভিটা মুহূর্তের মধ্যেই নদীর গর্ভে চলে গেছে। এখন তিনি পরিবার নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। তিনি বলেন, “এই ভিটাটাই ছিল আমার সব। নদী সেটাও নিয়ে গেল। এখন থাকার মতো কোনো জায়গা নেই। সরকার যদি আমাদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবো।”

আরেক ভুক্তভোগী মনা মিয়া শেখের স্ত্রী নিহার বেগম বলেন, তাদের কোনো ছেলে সন্তান নেই, তিন মেয়ে রয়েছে—যারা সবাই বিয়ের পর নিজ নিজ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করেন। তিনি একাই এই বাড়িতে বসবাস করতেন। হঠাৎ শুক্রবার মাগরিবের সময় নদীর ভাঙন শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যায়। তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার তাদের বসতভিটা ভাঙনের মুখে পড়েছিল, তবে এবার পুরোপুরি বিলীন হয়ে যাওয়ায় তারা সম্পূর্ণভাবে সর্বস্বান্ত হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়রা জানান, মধুমতি নদীর ভাঙন নতুন নয়। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই নদীর তীরবর্তী বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে চলতি সময়ে আকস্মিক ভাঙনে গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে আরও কয়েকটি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

এদিকে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, নদীর তীরে দ্রুত জিও ব্যাগ বা প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ নির্মাণ করা হলে ভাঙন কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত নূর মৌসুমী বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হয়েছেন। খুব শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করা হবে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে বলেও জানান তিনি।

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবি, স্মারকলিপি প্রদান

ফরিদপুরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়া কার্যকরের দাবিতে জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কাছে এ স্মারকলিপি হস্তান্তর করেন। এ সময় ফরিদপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে শিক্ষার্থীদের জন্য গণপরিবহনে হাফ ভাড়ার সুবিধা চালু থাকলেও ফরিদপুরে তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পূর্ণ ভাড়া পরিশোধ করতে হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া শুধু একটি সুবিধা নয়, বরং শিক্ষাবান্ধব ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ। এই সুবিধা নিশ্চিত হলে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ সহজ হবে এবং তাদের আর্থিক দুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে।

স্মারকলিপিতে ফরিদপুর জেলার সব ধরনের গণপরিবহনে শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়া কার্যকর করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা দেওয়ার দাবিও জানানো হয়।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে ছাত্রদলের নেতারা জানান।

ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হলে যে ৮ কাজ করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
ব্যক্তিগত ভিডিও ফাঁস হলে যে ৮ কাজ করবেন

অনেকে রাগ বা আতঙ্কে ভিডিওটি ডাউনলোড করে পরিচিতদের কাছে পাঠান বা বিভিন্ন জায়গায় শেয়ার করে জানান যে, এটি মুছে ফেলতে হবে। এতে উল্টো ভিডিওটি আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই নিজেও ভিডিওটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন।

সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে দ্রুত অভিযোগ করুন

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইউটিউবসহ প্রায় সব বড় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই ব্যক্তিগত বা সম্মতি ছাড়া প্রকাশিত অন্তরঙ্গ কনটেন্ট অপসারণের ব্যবস্থা রয়েছে। নির্ধারিত রিপোর্টিং অপশন ব্যবহার করে দ্রুত অভিযোগ জানান। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়।

আইনি সহায়তা নিন

অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও প্রকাশ করা অনেক দেশেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশেও তথ্যপ্রযুক্তি ও সাইবার অপরাধসংক্রান্ত প্রচলিত আইনের আওতায় অভিযোগ করার সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে নিকটস্থ থানার পাশাপাশি পুলিশের সাইবার ইউনিট বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিন।

পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন

ভিডিওটি যদি হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ফাঁস হয়ে থাকে, তাহলে অবিলম্বে ইমেইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ক্লাউড স্টোরেজ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) চালু করুন।

পরিচিতদের আগেই জানিয়ে দিন

ঘনিষ্ঠ পরিবার, বন্ধু বা কর্মস্থলের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের সত্য ঘটনা সংক্ষেপে জানিয়ে রাখলে ভুল বোঝাবুঝি কমে। এতে কেউ ভিডিওটি পেলে বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কমে যায়।

মানসিক চাপকে অবহেলা করবেন না

ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই লজ্জা, ভয়, উদ্বেগ কিংবা বিষণ্নতায় ভুগতে পারেন। এ সময় নিজেকে একা না রেখে বিশ্বস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলা এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের জন্য সতর্কতা

এ ধরনের ঘটনার ঝুঁকি কমাতে কিছু অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি:

  • – ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ক্লাউডে সংরক্ষণ করলে শক্তিশালী নিরাপত্তা ব্যবস্থা ব্যবহার করুন।
    – অপরিচিত লিঙ্ক বা ফাইল খুলবেন না।
    – সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাইভেসি সেটিংস নিয়মিত পর্যালোচনা করুন।
    – মোবাইল ও কম্পিউটারে নিরাপত্তা হালনাগাদ রাখুন।
    – কাউকে ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও পাঠানোর আগে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনা করুন।
    – এআই প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও (ডিপফেক) সম্পর্কেও সচেতন থাকুন।
    – ভুক্তভোগীকে দোষারোপ নয়

বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, অনুমতি ছাড়া কারও ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া গোপনীয়তার গুরুতর লঙ্ঘন। এমন ঘটনার শিকার ব্যক্তিকে দোষারোপ বা উপহাস না করে সহানুভূতিশীল হওয়া এবং আইনি ও মানসিক সহায়তা পেতে সহযোগিতা করা সমাজের দায়িত্ব।

ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরাল হওয়া নিঃসন্দেহে একটি কঠিন অভিজ্ঞতা। তবে আতঙ্ক নয়, সচেতনতা, দ্রুত পদক্ষেপ এবং প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তাই এমন পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

ফেডারেল ট্রেড কমিশন (এফটিসি) কনজিউমার অ্যাডভাইস ও বাংলাদেশ পুলিশ সাইবার সাপোর্ট ফর উইমেন অবলম্বনে

ফরিদপুরে ফুটপাত দখলে নাকাল পথচারী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে হাঁটছেন নগরবাসী

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ফুটপাত দখলে নাকাল পথচারী, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়কে হাঁটছেন নগরবাসী

ফরিদপুর পৌর এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ফুটপাত দখল করে দোকানপাট, ভাসমান ব্যবসা ও অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারীরা। হাঁটার জন্য নির্মিত ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, শিক্ষার্থী, নারী, বৃদ্ধসহ সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ব্যস্ত সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে যেমন দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে, তেমনি সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চললেও কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নগরবাসী।

সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, জনতা ব্যাংক মোড়, হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজারসংলগ্ন সড়ক, থানা মোড়, গোয়ালচামট, রাজবাড়ী রাস্তার মোড়, টেপাখোলা সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ফুটপাতের বড় অংশ দখল করে বসেছে ভাসমান দোকান। কোথাও ফলের দোকান, কোথাও চা-স্টল, আবার কোথাও পোশাক, জুতা কিংবা সবজির অস্থায়ী দোকান। অনেক স্থায়ী দোকানদারও তাদের পণ্য ফুটপাতে সাজিয়ে রেখেছেন। ফলে পথচারীদের জন্য ফুটপাত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

শহরের আলীপুর এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “ফুটপাত দিয়ে হাঁটার কোনো সুযোগই নেই। বাধ্য হয়ে সড়ক দিয়ে হাঁটতে হয়। মোটরসাইকেল, অটোরিকশা ও বাসের ভিড়ে প্রতিদিন ভয় নিয়ে চলাচল করতে হয়। ছোট ছেলেমেয়েদের নিয়ে বের হলে আরও বেশি আতঙ্কে থাকতে হয়।”

সরকারি রাজেন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলেন, “কলেজে যাতায়াতের সময় ফুটপাত ব্যবহার করতে পারি না। দোকান আর ক্রেতাদের ভিড়ে রাস্তা বন্ধ হয়ে থাকে। বাধ্য হয়ে গাড়ির পাশ দিয়ে হাঁটতে হয়। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখোমুখি হতে হয়।”

গোয়ালচামট এলাকার গৃহিণী নাসরিন বেগম বলেন, “বাজার করতে গেলে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়। শিশুদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কষ্টকর। ফুটপাত সাধারণ মানুষের জন্য, কিন্তু এখন সেটি ব্যবসার জায়গায় পরিণত হয়েছে।”

রিকশাচালক আব্দুল কাদের বলেন, “ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ রাস্তায় হাঁটে। এতে যানবাহনের গতি কমে যায় এবং প্রায়ই যানজট সৃষ্টি হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটছে।”

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজনের দাবি, জীবিকার তাগিদেই তারা ফুটপাতে ব্যবসা করছেন। তাদের ভাষ্য, বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা না থাকায় বাধ্য হয়ে তারা এখানে বসছেন। তবে তারা স্বীকার করেন, এতে সাধারণ মানুষের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে।

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য সাংবাদিক হাসানউজ্জামান বলেন, ফুটপাত মূলত পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলের কারণে এর উদ্দেশ্যই ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান পরিচালনা না করায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝেমধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও কয়েকদিন কিংবা কয়েকঘন্টার পর আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে।

ফরিদপুর নাগরিক মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রবীর কান্তি বালা বলেন, শুধু উচ্ছেদ অভিযান চালালেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। ফুটপাত দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি ভাসমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে নগরবাসী নিরাপদে ফুটপাত ব্যবহার করতে পারবেন।

তিনি আরও, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফুটপাত পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত করবে। অন্যথায় প্রতিদিনের এই ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়বে।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের সভাপতি আবরাব নাদিম ইতু বলেন, “ফুটপাত কোনোভাবেই ব্যবসা করার জায়গা নয়। এটি পথচারীদের নিরাপদ চলাচলের জন্য নির্মিত। ফুটপাত দখল হয়ে যাওয়ায় মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটছে, যা দুর্ঘটনার বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তার স্বার্থে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। একই সঙ্গে ভাসমান ব্যবসায়ীদের জন্য বিকল্প স্থান নির্ধারণ করাও প্রয়োজন।”

ফরিদপুর পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “পৌরসভা নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করছে। তবে উচ্ছেদের পর অনেকেই আবার ফুটপাত দখল করে বসে। আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। খুব শিগগিরই প্রশাসনের সহযোগিতায় সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি যেসব ভাসমান ব্যবসায়ী জীবিকার জন্য ফুটপাতে বসেন, তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেটিও বিবেচনা করা হচ্ছে।”