খুঁজুন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র, ১৪৩২

ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের পাশে পড়েছিল অজ্ঞাত নারীর লাশ

ফরিদপুর ও ভাঙ্গা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:২৪ অপরাহ্ণ
ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের পাশে পড়েছিল অজ্ঞাত নারীর লাশ

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় এক্সপ্রেসওয়ের পাশ থেকে অজ্ঞাত এক নারীর (৪৫) লাশ উদ্ধার করেছে ভাঙ্গা থানা পুলিশ।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার আজিমনগর ইউনিয়নের মধ্য ব্রাহ্মণপাড়া গ্রামে ভাঙ্গা-ঢাকা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের পাশ থেকে লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।

স্থানীয়দের ধারণা, মঙ্গলবার গভীর রাতে কে বা কারা আনুমানিক ৪৫ বছর বয়সী ওই নারীকে হত্যা করে মহাসড়কের পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। বুধবার সকালে পথচারীরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।

খবর পেয়ে বুধবার সকাল দশটার দিকে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মোশারফ হোসেন জানান, নিহত নারীর গলা ও হাতে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তিনি বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

নিজামুল ইসলাম
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১৪ পূর্বাহ্ণ
পরকালে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?

মানুষ দুনিয়ার জীবনে নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধনসম্পদ, পদমর্যাদা, চাকরি-বাকরি কিংবা প্রিয়জনকে হারিয়ে মানুষ সাময়িক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মানুষের এসব ক্ষতি চিরস্থায়ী নয়, সাময়িক। মানুষের স্থায়ী ক্ষতি হচ্ছে পরকালীন ক্ষতি। পরকালীন জীবনে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে বিভিন্ন স্তর রয়েছে। কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পরে শান্তি পাবে; জান্নাতে যেতে পারবে। কিন্তু কেউ কেউ তার ক্ষতির পরিণাম ফল ভোগ করবে অনন্তকাল।

পরকালীন ক্ষতি ও ধ্বংসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সম্পর্কে কোরআনের অনেক আয়াত নাজিল হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, এক. ‘ধ্বংস প্রত্যেক মিথ্যাবাদী পাপাচারীর জন্য।’ (সুরা জাসিয়াহ : ৭)। দুই. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে মানুষের পেছনে অপবাদ রটায় এবং মানুষকে অপমানিত করে।’ (সুরা হুমাযাহ : ১)। তিন. ‘ধ্বংস তার জন্য, যে (জাকাত দেওয়া ব্যতীত) সম্পদ জমা করে এবং তা গণনা করতে থাকে।’ (সুরা হুমাযা : ২)। চার. ‘ধ্বংস সে সব নামাজির, যারা তাদের নামাজ সম্পর্কে উদাসীন থাকে।’ (সুরা মাউন : ৪)। পাঁচ. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা ক্রয়-বিক্রয়ের সময়ে ওজনে কম দেয়।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১)। ছয়. ‘ধ্বংস ওইসব মিথ্যারোপকারীর জন্য, যারা কেয়ামত দিবসকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মুতাফফিফিন : ১০-১১)। সাত. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা নিজ হাতে (আসমানি) কিতাব রচনা করে এবং সামান্য মূল্য লাভের জন্য বলেÑ এটা আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ।’ (সুরা বাকারা : ৭৯)। আট. ‘ধ্বংস ও কঠিন শাস্তি ওইসব কাফেরের জন্য, যারা পরকালের তুলনায় দুনিয়াকে অগ্রাধিকার দেয় এবং আল্লাহর পথ হতে লোকদের বাধা প্রদান করে।’ (সুরা ইবরাহিম : ২-৩)। নয়. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা মহান দিবসের উপস্থিতিকে অস্বীকার করে।’ (সুরা মারইয়াম : ৩৮)। দশ. ‘ধ্বংস ওইসব লোকের, যারা আল্লাহ সম্পর্কে অযথা মিথ্যা কথা বানায়।’ (সুরা আম্বিয়া : ১৮)। এগারো. ‘ধ্বংস ওইসব কাফেরের জন্য, যারা ধারণা করে আসমান, জমিন ও এর মাঝে যা কিছু আছে আল্লাহ সেগুলো অনর্থক সৃষ্টি করেছেন।’ (সুরা সোয়াদ : ২৭)। বারো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যাদের অন্তর আল্লাহর স্মরণ থেকে কঠোর হয়ে গেছে।’ (সুরা যুমার : ২২)। তেরো. ‘ধ্বংস তাদের জন্য, যারা আল্লাহর সঙ্গে শরিক করে।’ (সুরা হামিম সাজদা : ৬)

এই শ্রেণির লোকজন ধ্বংসপ্রাপ্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত। এদের মধ্যে মুনাফেকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কারণ, তারা বাহ্যিকভাবে মুসলমানদের সঙ্গে মিশে নামাজ-রোজা করলেও জাহান্নামের সবচেয়ে নিচের স্তরে থাকবে তারা। এসব ব্যক্তি চিরকালের জন্য জাহান্নামি হবে। আরেক শ্রেণির লোক আছে, যারা আল্লাহর ক্ষমা ও দয়া এবং অনুগ্রহ থেকে বঞ্চিত। ওই সব লোক হলো—যারা বিভিন্ন অন্যায়-অপরাধের মধ্যে ডুবে থাকে, অন্যের প্রতি জুলুম-অত্যাচার করে, আর ভাবে, অপরাধী ও জালেমদের যে ভয়াবহ পরিণতির কথা কোরআন ও হাদিসে বর্ণনা করা হয়েছে, তা কোথায়? আমরা তো অনেক অন্যায়-অপরাধ ও জুলুম-অত্যাচার করে বেড়াচ্ছি, কিন্তু আমাদের তো কিছুই হচ্ছে না! এ শ্রেণির লোকদের সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘তারা কি আল্লাহর পাকড়াওয়ের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে গেছে? বস্তুত আল্লাহর পাকড়াও থেকে তারাই নিশ্চিন্ত হয়, যাদের ধ্বংস ঘনিয়ে আসে।’ (সুরা আরাফ : ৯৯)

আরেক শ্রেণির ক্ষতিগ্রস্ত লোক আছে, যারা ইমান এনেছে বলে দাবি করে, সেইসঙ্গে তারা ইবাদত-বন্দেগিও করে। কিন্তু তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বের সঙ্গে ইবাদত-বন্দেগি করে, যদি তাদের কোনো কল্যাণ অর্জিত হয়, তাহলে তারা ইবাদত-বন্দেগি করে, আর যদি তাদের কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে তারা দ্বীন ইসলামের সত্যতার ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে পড়ে। তারা ভাবে, দ্বীন ইসলাম যদি সত্য হয়; তাহলে আমরা কেন এসব বিপদাপদে আক্রান্ত হচ্ছি? তাদের সম্পর্কে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের মধ্যে কেউ কেউ দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে আল্লাহর ইবাদত-বন্দেগি করে। যদি তার কোনো কল্যাণ লাভ হয়, তাহলে সে ইবাদত-বন্দেগির ওপর কায়েম থাকে। আর যদি তাকে কোনো বিপদ আক্রান্ত করে, তাহলে সে পূর্বাবস্থায় কুফরির দিকে ফিরে যায়। সে ইহকালে ও পরকালে ক্ষতিগ্রস্ত। এটাই প্রকাশ্য ক্ষতি।’ (সুরা হজ : ১১)

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

তরমুজের বীজ গিলে ফেলছেন? এতে কী হতে পারে জেনে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:০০ পূর্বাহ্ণ
তরমুজের বীজ গিলে ফেলছেন? এতে কী হতে পারে জেনে নিন

গরমের দিনে ঠান্ডা তরমুজের এক টুকরো মুখে তুলেছেন, আর অসাবধানতাবশত একটি কালো বীজ গিলে ফেললেন—এ অভিজ্ঞতা কমবেশি সবারই আছে। অনেকেই তখন চিন্তায় পড়ে যান, শরীরে কোনো ক্ষতি হবে কি না!

কারণ ছোটবেলা থেকেই প্রচলিত একটি ধারণা, তরমুজের বীজ গিলে ফেললে বিপদ হতে পারে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। পুষ্টিবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বীজ মোটেই ক্ষতিকর নয়; বরং সঠিকভাবে খেলে এটি হতে পারে পুষ্টির এক সমৃদ্ধ উৎস। গরমের এই সময়ে তরমুজের বীজ নিয়ে ভুল ধারণা ভেঙে সঠিক তথ্য জানা জরুরি।

তরমুজের বীজ : মিথ থেকে সুপারফুড

তরমুজের বীজ খাওয়া সম্পূর্ণ নিরাপদ। কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে এটি মূলত আঁশ হিসেবে কাজ করে এবং পরিপাকতন্ত্র দিয়ে প্রায় অপরিবর্তিত অবস্থায় বের হয়ে যায়। তবে আসল উপকার পেতে হলে বীজকে সঠিকভাবে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

ভারতীয় উপমহাদেশে বিভিন্ন মিষ্টান্ন ও রান্নায় তরমুজসহ অন্যান্য ফলের বীজ ব্যবহারের দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে। গবেষণাতেও দেখা গেছে, উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে প্রোটিন ও খনিজের বৈচিত্র্য বাড়াতে এই বীজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

পুষ্টিগুণে ভরপুর

ছোট দেখতে হলেও তরমুজের বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর, যা আধুনিক খাদ্যাভ্যাসে অনেক সময় ঘাটতি থেকে যায়।

১. প্রোটিনের ভালো উৎস

তরমুজের বীজে প্রায় ৩০ শতাংশ প্রোটিন থাকে। এতে রয়েছে আর্জিনিন নামের অ্যামিনো অ্যাসিড, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।

২. উপকারী চর্বি (ফ্যাট)

এতে রয়েছে মনোআনস্যাচুরেটেড ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড, যা খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমাতে ও শরীরের প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

৩. খনিজ উপাদানের ভাণ্ডার

ম্যাগনেসিয়াম : স্নায়ুর কার্যক্রম ও হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে

জিংক : রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ

আয়রন : রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক, শক্তি বাড়ায়

স্বাস্থ্য উপকারিতা

গরমকালে শরীরের পানিশূন্যতা, ক্লান্তি ও ত্বকের সমস্যা বাড়ে। এ সময় তরমুজের বীজ উপকারী হতে পারে।

ত্বক ও আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়ক : বীজে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফ্যাটি অ্যাসিড ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। জিংক ও ম্যাগনেসিয়াম ত্বকের সমস্যা কমাতে ভূমিকা রাখে।

হৃদ্‌স্বাস্থ্যে উপকারী : গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে হৃদ্‌যন্ত্রকে বেশি কাজ করতে হয়। তরমুজের বীজে থাকা ম্যাগনেসিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করে।

শক্তি ও বিপাকক্রিয়া বাড়ায় : এতে থাকা বি-ভিটামিন (যেমন নায়াসিন ও ফলেট) খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। ফলে ক্লান্তি কমে।

কীভাবে খাবেন তরমুজের বীজ : কাঁচা অবস্থায় গিলে ফেললে ক্ষতি নেই, তবে পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পেতে হলে বীজ ভেঙে বা প্রক্রিয়াজাত করে খাওয়া ভালো।

ভেজানো, অঙ্কুরিত বা ভাজা : বীজ ভিজিয়ে অঙ্কুরিত করলে খনিজ শোষণে বাধা দেওয়া উপাদান কমে যায়। এরপর রোদে শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়।

সহজ ভাজা রেসিপি

তরমুজের বীজ ধুয়ে শুকিয়ে নিন। সামান্য ঘি বা তেলে হালকা ভেজে নিন। চাইলে লবণ, শুকনা আমচুর বা মরিচ গুঁড়া ছিটিয়ে স্বাদ বাড়াতে পারেন। এতে বাদামের মতো মচমচে স্বাদ পাওয়া যায়।

খাবারে ব্যবহার

১. সকালের নাস্তায় পোহা বা উপমার সঙ্গে

২. স্মুদি বা লাচ্ছিতে ব্লেন্ড করে

৩. সালাদে টপিং হিসেবে

সতর্কতা

সবকিছুর মতো এটিও পরিমিত খাওয়া জরুরি।

হজমের সমস্যা : কাঁচা বীজ বেশি খেলে পেটে গ্যাস বা অস্বস্তি হতে পারে

ক্যালরি বেশি : অল্প পরিমাণ (২৫–৩০ গ্রাম) যথেষ্ট

শেষ কথা

তরমুজের বীজ কোনো ভয় পাওয়ার বিষয় নয়। বরং এটি প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া একটি পুষ্টিকর উপাদান। তাই পরেরবার তরমুজ খাওয়ার সময় বীজকে ফেলে না দিয়ে সচেতনভাবে খাবারের অংশ করে তুলতে পারেন। ছোট এই বীজই হতে পারে আপনার শরীরের জন্য বড় উপকারের উৎস।

সূত্র : এনডিটিভি

এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত? জানুন সঠিক সময়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ
এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করা উচিত? জানুন সঠিক সময়

জুতা পুরোনো হয়ে গেলে আমরা বুঝি নতুন কিনতে হবে, পোশাকের রঙ ফিকে হলে সেটাও বদলাই। কিন্তু টুথব্রাশ? প্রতিদিন ব্যবহার করলেও অনেকেই জানেন না, কখন সময় হয় পুরোনো টুথব্রাশ বদলে নতুনটি ব্যবহার করার। বিষয়টি নির্ভর করে ব্যবহার, স্বাস্থ্য ও ব্যক্তিগত অভ্যাসের ওপর। তাই পরেরবার দাঁত মাজার আগে ভেবে দেখুন, আপনার টুথব্রাশ বদলানোর সময় কি এসে গেছে?

এক টুথব্রাশ কতদিন ব্যবহার করবেন?

দাঁতের বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, প্রতি ৩ থেকে ৪ মাস পর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে কেউ সম্প্রতি অসুস্থ থাকলে বা একাধিক টুথব্রাশ একসঙ্গে রাখলে আরও আগে পরিবর্তন করাই ভালো। ব্রাশের ব্রিসল বা কাঁটা যদি ছেঁড়া বা বেঁকে যায়, সেটি আর ঠিকভাবে পরিষ্কার করতে পারে না, তখনই বুঝতে হবে, সময় হয়েছে নতুন টুথব্রাশ নেওয়ার। শিশুরা সাধারণত বেশি জোরে ব্রাশ করে, তাই তাদের টুথব্রাশ বড়দের তুলনায় বেশি ঘনঘন বদলানো প্রয়োজন।

টুথব্রাশের ধরন

মূলত দুই ধরনের টুথব্রাশ ব্যবহৃত হয়। একটি ম্যানুয়াল (হাতে চালানো) ও অন্যটি ইলেকট্রিক (বিদ্যুৎচালিত)। এর মধ্যে যেটি ব্যবহার করে আপনার আরাম লাগে এবং নিয়মিত দাঁত মাজতে উৎসাহ পান, সেটিই বেছে নেওয়া সবচেয়ে ভালো।

ম্যানুয়াল টুথব্রাশ সহজে বহনযোগ্য, শব্দহীন এবং ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছেমতো চাপ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। অন্যদিকে, ইলেকট্রিক টুথব্রাশে ঘূর্ণায়মান ব্রিসল দাঁতের ফাঁক ও মাড়ির কাছের ময়লা সহজে দূর করে। অনেক ইলেকট্রিক ব্রাশে টাইমার ও প্রেসার সেন্সর থাকে, যা নির্দিষ্ট সময় ধরে সঠিকভাবে ব্রাশ করতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত চাপ পড়া থেকে মাড়িকে রক্ষা করে।

টুথব্রাশের যত্ন

যে ধরনের টুথব্রাশই ব্যবহার করুন, পরিষ্কার রাখা সবচেয়ে জরুরি। আমেরিকান ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন (ADA)-এর পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিবার ব্যবহারের পর টুথব্রাশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে, যেন পেস্ট বা ময়লার কোনো অংশ আটকে না থাকে। ব্যবহারের পর টুথব্রাশ সোজা করে দাঁড়ানো অবস্থায় শুকাতে দিন। ভেজা অবস্থায় ঢাকনা দেওয়া বা বন্ধ কনটেইনারে রাখলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

ভ্রমণে গেলে ব্রাশ আর্দ্র থেকে ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, তাই চাইলে ডিসপোজেবল টুথব্রাশ ব্যবহার করতে পারেন।

নিয়মিত অভ্যাসে আনুন পরিবর্তন

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারের সবার জন্য বছরে কয়েকবার নতুন টুথব্রাশ কেনার অভ্যাস গড়ে তুলুন। ব্রাশ পরিবর্তনের সময় নির্ভর করে ব্যবহার, বয়স ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার ওপর; তবে সবচেয়ে ভালো হয় যদি বাথরুম ক্যাবিনেটে সব সময় বাড়তি একটি নতুন টুথব্রাশ মজুত থাকে, প্রয়োজনে যেন সঙ্গে সঙ্গে বদলানো যায়।

সূত্র : মায়ো ক্লিনিক ও কোলগেট