খুঁজুন
, ,

কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

হারুন-অর-রশীদ ও মো. শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ অপরাহ্ণ
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:

ফরিদপুর জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৫৭টি। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাভিত্তিক ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের জন্য চারজন সিভিল জজ নিয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী ইনকোয়ারি টিম। জেলায় সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

আসনভিত্তিক তথ্য ও প্রার্থী সংখ্যা:

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আসনগুলো হলো—

ফরিদপুর-১: মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা

ফরিদপুর-৩: ফরিদপুর সদর উপজেলা

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা

এই চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হলো

ফরিদপুর-১: ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৪০ জন

ফরিদপুর-২: ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৩: ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৪: ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন

জেলার চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ৮ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৬ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৬ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ:

ফরিদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বিশেষ নজর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায়:

জেলার চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধা ও অতীতের কিছু নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব এলাকায় নৌ-পেট্রোলিং, মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের আগেভাগেই পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের সুবিধার্থে আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে।

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, বিচারিক তদারকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ফলে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এখন অপেক্ষা ভোটারদের রায়ের। জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের জনপ্রতিনিধি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক চর্চার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

দিনের বেলা কত মিনিট ঘুমানো সবচেয়ে ভালো? এক পলকে দেখে নিন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:৫৩ পূর্বাহ্ণ
দিনের বেলা কত মিনিট ঘুমানো সবচেয়ে ভালো? এক পলকে দেখে নিন

ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে দুপুরের দিকে একটু ঘুমিয়ে নেওয়া বা ‘পাওয়ার ন্যাপ’ আমাদের অনেকেরই অভ্যাস। গবেষকরা বলছেন, দিনের বেলার এই ছোট্ট ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং বার্ধক্যজনিত ক্ষয় রোধে অত্যন্ত সহায়ক হতে পারে। তবে এই ঘুমের সুফল পেতে হলে এর সঠিক সময়সীমা জানা জরুরি।

গবেষণায় দেখা গেছে, দিনের বেলা মাত্র ১০ মিনিটের একটি ন্যাপ আমাদের সতর্কতা এবং কর্মক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ১০ থেকে ৬০ মিনিটের ছোট ঘুম দ্রুত মেজাজ ভালো করতে এবং ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া ২০২১ সালের একটি মেটা-অ্যানালাইসিস অনুযায়ী, ছোট ন্যাপ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এবং শারীরিক সক্ষমতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে।

কেন দীর্ঘ সময় ঘুমানো ক্ষতিকর?

দিনের বেলা বেশিক্ষণ ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য হিতে বিপরীত হতে পারে। অধিকাংশ গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ৩০ মিনিটের কম সময় ঘুমানো সবচেয়ে বেশি উপকারী। এর কারণ হলো:

স্লিপ ইনারশিয়া: ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমালে শরীর গভীর ঘুমের স্তরে চলে যেতে পারে। এর ফলে ঘুম থেকে ওঠার পর এক ধরণের জড়তা, অস্বস্তি বা মাথা ঘোরার অনুভূতি হয়, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় ‘স্লিপ ইনারশিয়া’ বলা হয়।

রাতের ঘুমের ব্যাঘাত: বিশেষজ্ঞ ড. ইশান ঝু-এর মতে, দিনের বেলা দীর্ঘ সময় ঘুমানো অনেকটা ‘রাতের খাবারের আগে কেক খাওয়ার মতো।’ এটি রাতের স্বাভাবিক ঘুমের চাহিদা কমিয়ে দেয় এবং অনিদ্রার কারণ হতে পারে। তিনি পরামর্শ দেন যে, দিনের বেলা ন্যাপ যেন কোনোভাবেই ৪০ মিনিটের বেশি না হয়।

অতিরিক্ত ঘুমের স্বাস্থ্যঝুঁকি

দিনের বেলা ৬০ মিনিটের বেশি সময় ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় দিনের বেলা ঘুমানোর ফলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

মস্তিষ্কের বয়স কমাতে ন্যাপ

একটি গবেষণায় ৩৫,০৮০ জন অংশগ্রহণকারীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে যে, যারা নিয়মিত অল্প সময় ঘুমান তাদের মস্তিষ্কের আয়তন বা ভলিউম বেশি থাকে। নিয়মিত ন্যাপ নেওয়া ব্যক্তিদের মস্তিষ্কের বয়স, ন্যাপ না নেওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় প্রায় ২.৬ থেকে ৬.৫ বছর কম বলে প্রতীয়মান হয়। আমাদের বয়স বাড়ার সাথে সাথে মস্তিষ্ক স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়, আর দিনের বেলার পরিমিত ঘুম এই প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে।

কিছু জরুরি টিপস

দিনের বেলার ঘুমকে আরও কার্যকর করতে নিচের বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে পারেন:

অ্যালার্ম সেট করুন: দীর্ঘ সময় ঘুমিয়ে পড়া এড়াতে অবশ্যই অ্যালার্ম ব্যবহার করুন।

হাঁটাচলা করুন: যদি ক্লান্তি বোধ করেন কিন্তু রাতে ভালো ঘুম না হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে ঘুমানোর বদলে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি বা শারীরিক পরিশ্রম করতে পারেন। অনেক সময় কেবল অবসাদ বা পুষ্টির অভাবেও ক্লান্তি লাগে, সেক্ষেত্রে ঘুমানোর চেয়ে সক্রিয় থাকা বেশি উপকারী।

সূত্র : কালবেলা

কাঁঠালের বিচি ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন কীভাবে খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩২ পূর্বাহ্ণ
কাঁঠালের বিচি ফেলে দিচ্ছেন? জেনে নিন কীভাবে খাবেন

গ্রীষ্মের অন্যতম জনপ্রিয় ফল কাঁঠাল। বাজারজুড়ে এখন মিলছে এই রসালো ফলের সমারোহ। অনেকেই মজা করে কাঁঠাল খেলেও এর বিচিগুলো বেশিরভাগ সময়ই ফেলে দেন। অথচ পুষ্টিবিদরা বলছেন, কাঁঠালের এই  বিচির মধ্যেই লুকিয়ে আছে দারুণ সব পুষ্টিগুণ।

কাঁঠালের বিচি শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিমানেও বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে রিবোফ্ল্যাবিন ও থায়ামাইন। আরো রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও আঁশ। এ ছাড়া রয়েছে ভিটামিন বি, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াস, জিংক, ম্যাঙ্গানিজ, আয়রন ও কপারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এসব উপাদান চোখের দৃষ্টি, ত্বক ও চুল ভালো রাখতে কাজ করে।

শুধু পুষ্টিগুণ নয়, নানা উপায়ে কাঁঠালের বিচি খাওয়া যায়। চলুন জেনে নেওয়া যাক কাঁঠালের বিচি যেভাবে খাবেন।

– সাধারণত কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে ভর্তা করে এবং ভাজি করেও খাওয়া যায়।

– নিরামিষ সবজিতে কাঁঠালের বিচি যোগ করতে পারেন, মসলা দিয়ে ভুনা করলেও মুখরোচক হয়।

– কাঁঠালের বিচি বেটে সুস্বাদু হালুয়া বানানো যায়।

–কাঁঠালের বিচি শুকিয়ে গুঁড়া করে রুটি, বিস্কুট বা পিঠায় ব্যবহার করা যায়।

–কাঁঠালের বিচির গুঁড়া স্মুদিতে ব্যবহার করতে পারেন।

–কাঁঠালের বিচি ভেজে খেতেও বেশ লাগে।

কাঁচা কাঁঠালের বিচি খাবেন না

কাঁঠালের কাঁচা বিচিতে থাকে ট্যানিন ও ট্রিপসিন ইনহিবিটর, যা শরীরের পুষ্টি শোষণে বাধা দেয় এবং হজমে সমস্যা করে। তবে কাঁঠালের বিচি সেদ্ধ করে বা ভেজে খেলে এসব ক্ষতিকর উপাদান নষ্ট হয়ে যায়।

সূত্র: বোল্ডস্কাই, হেলথলাইন

ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৭ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মহাসড়কে র‌্যাবের চেকপোস্ট, প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ

ফরিদপুর শহরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপসহ এক পেশাদার মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১০। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়েছে।

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ফরিদপুর শহরের রাজবাড়ী রাস্তার মোড় এলাকায় সাতক্ষীরা-ঢাকাগামী মহাসড়কে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সন্দেহজনক একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ৮৮০ বোতল স্কাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৬ লাখ ৪০ হাজার টাকা।
অভিযানে মো. রানা গাজী (৩২) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সখিপুর এলাকার রহিম গাজীর ছেলে।

র‌্যাবের দাবি, গ্রেপ্তার রানা গাজী একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে অবৈধভাবে স্কাফ সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করে আসছিলেন। এছাড়া সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার এজাহারভুক্ত আসামিও তিনি।

র‌্যাব-১০, সিপিসি-৩ ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা বলেন, উদ্ধার হওয়া স্কাফ সিরাপ ও জব্দকৃত প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।