খুঁজুন
শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১৪ চৈত্র, ১৪৩২

কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

হারুন-অর-রশীদ ও মো. শরিফুল ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৫৮ পিএম
কড়া নিরাপত্তায় প্রস্তুত ফরিদপুর: ৬৫৭ কেন্দ্রে ভোট, ঝুঁকিপূর্ণ ২৫০

আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সারা দেশের মতো ফরিদপুর জেলাতেও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে জেলার প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।

কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মোতায়েন এবং ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারির মধ্য দিয়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

কেন্দ্র ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি:

ফরিদপুর জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬৫৭টি। এর মধ্যে ২৫০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাভিত্তিক ২৪টি কেন্দ্রকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে প্রশাসন। এসব কেন্দ্রে বাড়তি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

নির্বাচন উপলক্ষে মাঠে রয়েছে বিজিবির ১৩ প্লাটুন। প্রতিটি প্লাটুনের সঙ্গে একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া জেলার ৯টি উপজেলায় ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন। নির্বাচনী অনিয়ম ও সহিংসতার অভিযোগ দ্রুত তদন্তের জন্য চারজন সিভিল জজ নিয়ে গঠিত হয়েছে নির্বাচনী ইনকোয়ারি টিম। জেলায় সার্বিক তদারকির জন্য দায়িত্ব পালন করছেন ৩৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানিয়েছেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশ ব্যাপক নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। পুরো জেলায় প্রায় ১,৮০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া র‌্যাব, বিজিবি, আনসার ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

তিনি বলেন, জেলার সব ভোটকেন্দ্রকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘সাধারণ’—এই দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে। অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং সাধারণ কেন্দ্রে একজন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি উপজেলায় ২০ সদস্যের একটি বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে, যাতে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।

আসনভিত্তিক তথ্য ও প্রার্থী সংখ্যা:

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর জেলায় মোট চারটি সংসদীয় আসন রয়েছে। আসনগুলো হলো—

ফরিদপুর-১: মধুখালী, বোয়ালমারী ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা

ফরিদপুর-২: নগরকান্দা ও সালথা উপজেলা

ফরিদপুর-৩: ফরিদপুর সদর উপজেলা

ফরিদপুর-৪: ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসন উপজেলা

এই চারটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ১৭ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৯ লাখ ২ হাজার ৯১০ জন, মহিলা ভোটার ৮ লাখ ৬৮ হাজার ৯৯০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৮ জন।

আসনভিত্তিক ভোটার সংখ্যা হলো

ফরিদপুর-১: ৫ লাখ ১০ হাজার ৫৪০ জন

ফরিদপুর-২: ৩ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৩: ৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১ জন

ফরিদপুর-৪: ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৭০৬ জন

জেলার চারটি আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ৮ জন, ফরিদপুর-২ আসনে ৬ জন, ফরিদপুর-৩ আসনে ৬ জন এবং ফরিদপুর-৪ আসনে ৮ জন প্রার্থী নির্বাচনী লড়াইয়ে রয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ব্যাপক প্রচারণায় ইতোমধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।

নির্বাচনী সরঞ্জাম বিতরণ:

ফরিদপুরের জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে জানিয়েছেন, বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নির্বাচনী সরঞ্জাম সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোতে পাঠানো শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সন্ধ্যার আগেই সব কেন্দ্রে ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, সিল, স্ট্যাম্পসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে।

তিনি বলেন, “নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে আমাদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রয়েছে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

বিশেষ নজর চরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকায়:

জেলার চরাঞ্চল ও নদীবেষ্টিত কিছু এলাকায় যাতায়াতের অসুবিধা ও অতীতের কিছু নির্বাচনে সহিংসতার ঘটনার কারণে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, এসব এলাকায় নৌ-পেট্রোলিং, মোবাইল টিম ও অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন থাকবে।

দুর্গম এলাকার কেন্দ্রগুলোতে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্যদের আগেভাগেই পাঠানো হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিলম্ব না হয়। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল জোরদার থাকবে।

ভোটারদের প্রত্যাশা:

নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে চান। বিশেষ করে নতুন ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ভোটারদের লাইনে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নারী ভোটারদের সুবিধার্থে আলাদা লাইন ও পর্যাপ্ত নারী পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে।

কঠোর অবস্থানে প্রশাসন:

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন চলাকালীন কোনো ধরনের অনিয়ম, জাল ভোট, কেন্দ্র দখল বা সহিংসতা সহ্য করা হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই ভোটাররা নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে ভোটাধিকার প্রয়োগ করুন। যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আমাদের টিম প্রস্তুত রয়েছে।”

শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশা:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর জেলায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নিরাপত্তা, বিচারিক তদারকি, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি এবং বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ফলে একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।

এখন অপেক্ষা ভোটারদের রায়ের। জেলার প্রায় ১৮ লাখ ভোটার আগামীকাল তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন আগামী পাঁচ বছরের জন্য তাদের জনপ্রতিনিধি। শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলে ফরিদপুরে গণতান্ত্রিক চর্চার আরেকটি অধ্যায় যুক্ত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা।

ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫৪ পিএম
ইউরোপ যাওয়ার পথে ১৮ বাংলাদেশিসহ ২২ অভিবাসীর মৃত্যু

উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যাওয়ার পথে গ্রিসের উপকূলে একটি রাবারের নৌকায় অন্তত ২২ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। ওই নৌকা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা এ তথ্য জানিয়েছেন। জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই বাংলাদেশি।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) গ্রিসের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত ও উপকূলীয় রক্ষা বাহিনী ফ্রন্টেক্সের একটি জাহাজ গ্রিসের বৃহত্তম এবং ভূমধ্যসাগরের পঞ্চম বৃহত্তম দ্বীপ ক্রিটের কাছ থেকে ২৬ জনকে উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও এক শিশুও রয়েছে।

এদিকে, নিহত হওয়া বাংলাদেশিদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে, তারা হলেন- সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার রনারচরের মুজিবুর রহমান (৪৫), একই উপজেলার তারাপাশা এলাকার মো. নুরুজ্জামান সর্দার ময়না (৩০) এবং মো. সাহান (২৫)।

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, জীবিতদের মধ্যে ২১ জন বাংলাদেশি, চারজন দক্ষিণ সুদানের নাগরিক এবং একজন চাদের নাগরিক।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা জানান, যাত্রাপথে মারা যাওয়া লোকদের মরদেহ পাচারকারীদের নির্দেশে ভূমধ্যসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, নৌকাটি ২১ মার্চ পূর্ব লিবিয়ার তোবরুক বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল এবং গ্রিসের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। ছয় দিন ধরে খাবার ও পানীয় ছাড়াই সমুদ্রে ভাসতে থাকায় যাত্রীরা দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। প্রতিকূল আবহাওয়া, খাদ্য ও পানির সংকট—সব মিলিয়ে চরম ক্লান্তিতে ২২ জনের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় দুই সন্দেহভাজন দক্ষিণ সুদানের দুই পাচারকারীকে গ্রাপ্তার করেছে গ্রিক কর্তৃপক্ষ। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৯ ও ২২ বছর। তাদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে দেশে প্রবেশ ও অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, নৌকাটি ক্রিটের দক্ষিণাঞ্চলের ইয়েরাপেত্রা শহর থেকে প্রায় ৫৩ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল।

পরিসংখ্যান বলছে, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই ইউরোপে পৌঁছানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ভূমধ্যসাগরে ৫৫৯ জন মারা গেছেন, যেখানে গত বছর একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ২৮৭।

অভিবাসী প্রবাহ ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্প্রতি অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা বাড়িয়েছে এবং ‘রিটার্ন হাব’ চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই পদক্ষেপকে অমানবিক বলে সমালোচনা করেছে।

কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কয়েল বা স্প্রে ছাড়াই ঘরোয়া উপায়েই যেভাবে তাড়াবেন মশা?

গরমের শুরুতেই মশার উপদ্রব বাড়তে থাকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই ঘরের ভেতরে আর বাইরে বেড়ে যায় মশার উৎপাত। ছোট এই পোকাটি শুধু বিরক্তিই করে না, বরং ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো রোগের ঝুঁকিও বাড়ায়।

মশা তাড়ানোর জন্য বেশিরভাগ মানুষ রাসায়নিক স্প্রে বা কয়েল ব্যবহার করেন।

তবে অনেকে এসব জিনিস ব্যবহার করতে চান না। কীভাবে স্প্রে, কয়েল ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়াতে পারবেন, চলুন জেনে নিই-

ঘরের আশেপাশে পানি জমতে দেবেন না:

মশা স্থির বা জমে থাকা পানিতে বংশবিস্তার করে। তাই, ঘরের আশেপাশে কোথাও পানি জমতে দেবেন না। টব, বালতি, কুলার এবং নর্দমায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করুন।

এতে মশার লার্ভা বা ডিম থেকে বংশবৃদ্ধি হবে না।

রসুনের স্প্রে:

রসুনে এমন কিছু প্রাকৃতিক উপাদান থাকে, যার গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। পানিতে রসুন ফুটিয়ে খুব সহজেই একটি রসুনের স্প্রে তৈরি করে নিতে পারেন। পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে তা জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন জায়গায় ছিটিয়ে দিন।

এটি মশাকে দূরে রাখতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

এসেনশিয়াল অয়েল:

এসেনশিয়াল অয়েল বা সুগন্ধি তেলও মশা তাড়াতে সাহায্য করে। লেমনগ্রাস অয়েল, ইউক্যালিপটাস অয়েল এবং টি-ট্রি অয়েলের গন্ধ পছন্দ করে না মশা। এই তেলগুলো পানির সঙ্গে মিশিয়ে আপনার ঘরের ভেতরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে, এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার কাছাকাছি রেখে দিতে পারেন।

নিম পাতা:

প্রাচীনকালে মানুষ মশা তাড়ানোর জন্য শুকনো নিম পাতা পোড়াতেন। কারণ মশা এই গন্ধ একদমই সহ্য করতে পারে না। মশা দূরে রাখতে বারান্দা, বারান্দার বাইরের অংশ কিংবা বাগানে নিম পাতা পোড়াতে পারেন।

জানালা ও দরজায় নেট লাগান:

ঘরে মশা প্রবেশ রোধ করার একটি সহজ উপায় হলো জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগিয়ে নেওয়া। এতে ঘরের ভেতরে সতেজ বাতাস চলাচল করতে পারে এবং মশা ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না।

মশা তাড়ানোর গাছ :

কিছু কিছু গাছের তীব্র গন্ধ মশা একদমই পছন্দ করে না। বাড়িতে রাখতে পারেন সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছগুলো। দরজা, জানালা কিংবা বারান্দার কাছাকাছি এই গাছগুলো লাগাতে পারেন। এই গাছগুলো যে কেবল মশাই তাড়াবে তা নয়, বরং আপনার ঘরের চারপাশের পরিবেশকে আরও সবুজ করে তুলবে এবং বাতাসের গুণমানও উন্নত করবে।

পরিচ্ছন্নতা:

মশা তাড়াতে চাইলে ঘরের ভেতরে এবং আশেপাশে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা কিংবা ঘন ঝোপঝাড় মশা বংশবিস্তারের উপযুক্ত ক্ষেত্র হয়ে উঠতে পারে। তাই, ঘর এবং চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখুন। এভাবে মশার উপদ্রব বা সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

মজুদে হাজার হাজার লিটার তেল, তবু বিক্রি বন্ধ—ফরিদপুরে পাম্পে হানা, জরিমানা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৭:২৮ পিএম
মজুদে হাজার হাজার লিটার তেল, তবু বিক্রি বন্ধ—ফরিদপুরে পাম্পে হানা, জরিমানা

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজার এলাকায় দুটি পেট্রোল পাম্পে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জ্বালানি তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। অভিযানে মজুদ থাকা সত্ত্বেও ভোক্তাদের কাছে তেল বিক্রি না করার অভিযোগে একটি পাম্পকে জরিমানা করা হয় এবং অপরটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুর সদর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম এবং এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব রহমান আকাশ।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুদ রেখে খুচরা পর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রাখার একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে কানাইপুর বাজারের হোসেন ফিলিং স্টেশন ও ফরিদপুর-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত রয়েল ফিলিং স্টেশনে এই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

হোসেন ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল মজুদ রয়েছে। ভোক্তাদের কাছে তেল সরবরাহ না করার অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় পাম্পের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে পাম্পটি চালু করে বাস, ট্রাক, কৃষি যন্ত্র, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ তাদের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

অপরদিকে, রয়েল ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে শুধুমাত্র ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছিল, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ ছিল। মজুদ যাচাই করে দেখা যায়, পাম্পে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন এবং ১৯ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ মেশিনের ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ চালু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ক্ষেত্রে কোনো জরিমানা করা হয়নি, তবে ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম না করার জন্য কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

অভিযান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে ভোক্তাদের ভোগান্তিতে ফেলা হলে এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।