খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদরে ফরিদপুর, ব্যাহত সড়ক ও নৌ চলাচল

মাহমুদুল হাসান আরিফ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ জানুয়ারি, ২০২৬, ১০:০৬ এএম
হঠাৎ ঘন কুয়াশার চাদরে ফরিদপুর, ব্যাহত সড়ক ও নৌ চলাচল

ফরিদপুরে হঠাৎ করেই ঘন কুয়াশার দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (০২ জানুয়ারি) ভোর থেকে জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। বেলা বাড়লেও কুয়াশার ঘনত্ব কমেনি, ফলে সড়ক, নৌপথ ও রেলপথে চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা–দৌলদিয়া–খুলনা মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহন চলাচল রয়েছে অত্যন্ত ধীরগতির।

সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত দৃশ্যমানতা নেমে আসে ২০ থেকে ৫০ মিটারের মধ্যে। অনেক স্থানে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়েও সামনে কিছু দেখা যাচ্ছিল না। এতে করে বাস, ট্রাক, ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হয়। কোথাও কোথাও যানজটেরও সৃষ্টি হয়। তবে বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরের সদর, বোয়ালমারী, নগরকান্দা, ভাঙ্গা, সালথা, মধুখালী ও সদরপুর উপজেলার গ্রামীণ সড়কগুলোতে কুয়াশার প্রভাব ছিল বেশি। গ্রামাঞ্চলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। অনেক শিক্ষার্থী সময়মতো স্কুলে পৌঁছাতে পারেনি। কিছু এলাকায় অভিভাবকরা শিশুদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে স্কুলে পাঠাননি।

কুয়াশার কারণে নদীপথেও প্রভাব পড়ে। ফরিদপুরের পদ্মা ও মধুমতী নদীর বিভিন্ন ঘাট থেকে ছোট নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে সীমিত করা হয়। ঘাট সংশ্লিষ্টরা জানান, কুয়াশা কেটে যাওয়ার আগে যাত্রী ও নৌযানের নিরাপত্তার স্বার্থে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, শীতকালীন মৌসুমে উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে হালকা থেকে ঘন কুয়াশা স্বাভাবিক ঘটনা। ফরিদপুরে রাতের তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসের গতি কম থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন ভোর ও সকালে এমন কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোদ উঠলে কুয়াশা কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

কুয়াশার প্রভাবে কৃষিক্ষেত্রেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ জানায়, শীতকালীন ফসল যেমন বোরো ধান, গম ও শাকসবজির জন্য হালকা কুয়াশা উপকারী হলেও দীর্ঘ সময় ঘন কুয়াশা থাকলে রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এজন্য কৃষকদের নিয়মিত ক্ষেত পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চিকিৎসকরা কুয়াশা ও শীতজনিত কারণে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছেন। শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি ও ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে গরম পোশাক ব্যবহার এবং সকালবেলা অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে হঠাৎ ঘন কুয়াশা ফরিদপুরের জনজীবনে সাময়িক ভোগান্তি সৃষ্টি করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।