খুঁজুন
মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬, ৩ চৈত্র, ১৪৩২

ফরিদপুর মেডিকেলে ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার মেশিন অকেজো, ভোগান্তিতে পাঁচ জেলার রোগী

হারুন-অর-রশীদ ও আবরাব নাদিম ইতু, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১২:১৫ পিএম
ফরিদপুর মেডিকেলে ১৪ কোটি টাকার ক্যান্সার মেশিন অকেজো, ভোগান্তিতে পাঁচ জেলার রোগী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য আনা প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটরসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতি দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০১৭ সালে বিপুল ব্যয়ে এসব যন্ত্রপাতি হাসপাতালটিতে আনা হলেও এখন পর্যন্ত তা চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং একই সঙ্গে ক্যান্সার চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের লাখো মানুষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সার রোগীদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি ক্যান্সার পরীক্ষাগার ও রেডিয়েশন থেরাপি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০১৭ সালে এখানে আনা হয় অত্যাধুনিক লিনিয়ার এক্সিলারেটর (LINAC) মেশিনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা সরঞ্জাম।

কিন্তু প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, জনবল এবং পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় দীর্ঘ সময় পার হলেও এই ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করা যায়নি। ফলে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দামি এই যন্ত্রপাতিগুলো দীর্ঘদিন ধরে বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

লিনিয়ার এক্সিলারেটর কী এবং কেন গুরুত্বপূর্ণ:

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিনিয়ার এক্সিলারেটর (LINAC) আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্র। এটি মূলত রেডিয়েশন থেরাপি দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়, যার মাধ্যমে উচ্চশক্তির রশ্মি ক্যান্সার কোষের ওপর প্রয়োগ করে সেগুলো ধ্বংস করা হয় বা তাদের বৃদ্ধি কমিয়ে আনা হয়।

এই মেশিনের মাধ্যমে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে রেডিয়েশন প্রয়োগ করা সম্ভব হয়। ফলে আশপাশের সুস্থ কোষ তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় সব উন্নত হাসপাতালেই ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই মেশিনটি চালু করা গেলে ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও গোপালগঞ্জসহ অন্তত পাঁচ জেলার মানুষ সরাসরি উপকৃত হতেন। এতে ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার চাপও অনেকটা কমে আসত।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে দুই দফা চিঠি, তবুও অগ্রগতি নেই:

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ মে এবং একই বছরের ২৬ নভেম্বর দুই দফায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো এবং বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

কিন্তু এতদিন পার হলেও এই বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের পরিচালকের বক্তব্য:

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবির ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করার জন্য আমরা দুই দফা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। জনবল এবং প্রয়োজনীয় বাজেট না থাকায় আমরা এই ইউনিটটি চালু করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন,“স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি দেওয়ার পর তারা বিষয়টি দেখার জন্য জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটকে অবহিত করেছে। কিন্তু সেখান থেকেও এখন পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে যন্ত্রপাতিগুলো বাক্সবন্দী অবস্থায় পড়ে রয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।”

কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা:

হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে সেগুলো কার্যক্ষমতা হারানোর ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে লিনিয়ার এক্সিলারেটরের মতো সংবেদনশীল যন্ত্র অনেকদিন বন্ধ অবস্থায় থাকলে এর বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তাদের মতে, যদি দ্রুত ইউনিটটি চালু করা না যায়, তাহলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে কেনা এই মেশিনটি পুরোপুরি অকেজো হয়ে যেতে পারে। তখন সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ কার্যত অপচয়ে পরিণত হবে।

ক্যান্সার রোগীদের ভোগান্তি:

ক্যান্সার রোগীদের জন্য চিকিৎসা একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। ফরিদপুর অঞ্চলের অধিকাংশ রোগীকেই বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময়, অর্থ এবং শারীরিক কষ্ট—সবকিছুরই চাপ বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু হলে হাজার হাজার রোগী স্থানীয়ভাবেই চিকিৎসা পেতেন।

ভুক্তভোগীর বক্তব্য:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা সারমিন বেগম, যিনি কয়েক বছর ধরে ক্যান্সারে ভুগছেন, তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’-কে বলেন, “আমার চিকিৎসার জন্য প্রায়ই ঢাকায় যেতে হয়। এতে অনেক টাকা খরচ হয়। যদি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসা চালু থাকত, তাহলে আমাদের মতো রোগীদের এত কষ্ট করতে হতো না। শুনেছি এখানে মেশিন আছে, কিন্তু চালু করা হয়নি—এটা খুবই দুঃখজনক।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা গরিব মানুষ। ঢাকায় গিয়ে চিকিৎসা করানো খুব কঠিন। যদি এখানে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে অনেক রোগীর উপকার হতো।”

স্বজনদের হতাশা:

ফরিদপুর সদরের বাসিন্দা ছুরাপ কাজী নামের এক ক্যান্সার রোগীর স্বজন বলেন, “আমার ভাইয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসা করাতে ঢাকায় নিতে হয়েছে। প্রতি মাসে কয়েকবার যেতে হয়। যাতায়াত, থাকার খরচ—সব মিলিয়ে অনেক টাকা লাগে। অথচ ফরিদপুরেই যদি এই মেশিন চালু থাকত, তাহলে আমাদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।”

তিনি আরও বলেন, “সরকার কোটি কোটি টাকা খরচ করে মেশিন এনে যদি বছরের পর বছর বাক্সে বন্ধ করে রাখে, তাহলে সাধারণ মানুষের উপকার কীভাবে হবে? দ্রুত এই ইউনিট চালু করা দরকার।”

স্থানীয়দের দাবি:

ফরিদপুরের সচেতন নাগরিকরা মনে করছেন, দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই প্রকল্পটি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে যাবে। তারা দ্রুত ক্যান্সার ইউনিটটি চালুর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।

স্থানীয়দের মতে, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাকেন্দ্র। এখানে ক্যান্সার চিকিৎসা চালু করা গেলে শুধু ফরিদপুর নয়, আশপাশের কয়েকটি জেলার মানুষও উপকৃত হবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতামত:

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র এখনও সীমিত।

তাদের মতে, জেলা পর্যায়ের বড় সরকারি হাসপাতালগুলোতে ধীরে ধীরে ক্যান্সার ইউনিট চালু করা হলে রোগীদের ঢাকামুখী চাপ কমবে এবং চিকিৎসা আরও সহজলভ্য হবে।

দ্রুত পদক্ষেপের দাবি:

সব মিলিয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটি টাকার অত্যাধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা সরঞ্জাম দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত পড়ে থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় মানুষ ও রোগীদের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, বাজেট এবং অবকাঠামো নিশ্চিত করে ক্যান্সার ইউনিটটি চালু করা হোক, যাতে বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চলের মানুষ আধুনিক ক্যান্সার চিকিৎসা সেবা পেতে পারে এবং সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগও সঠিকভাবে কাজে লাগে।

এবার রোজা ২৯ না ৩০টি? যা জানাল সৌদি আরব

ইসলাম ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১১:৩৯ পিএম
এবার রোজা ২৯ না ৩০টি? যা জানাল সৌদি আরব

সৌদি আরবে মুসলমানদের আগামী বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার আহ্বান জানিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এর মাধ্যমে পবিত্র রমজান মাসের সমাপ্তি নির্ধারণ করা হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) জারি করা এক সরকারি বিবৃতিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়। এতে বলা হয়, উম্মুল কুরা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী বুধবার ১৪৪৭ হিজরি সালের রমজান মাসের ২৯তম দিন।

যদি বুধবার সন্ধ্যায় শাওয়ালের চাঁদ দেখা যায়, তবে পরদিনই ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে। আর চাঁদ দেখা না গেলে রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হবে।

সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, কেউ খালি চোখে বা দুরবীন ব্যবহার করে চাঁদ দেখতে পেলে নিকটস্থ আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য নিবন্ধনের জন্য তা জানাতে হবে। প্রয়োজনে বিচার বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে স্থানীয় প্রশাসনিক কেন্দ্রগুলোর সহায়তাও নেওয়া যেতে পারে।

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘যারা চাঁদ দেখার সক্ষমতা রাখেন, তারা যেন বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন এবং এ উদ্দেশ্যে নিজ নিজ অঞ্চলে গঠিত কমিটিগুলোর সঙ্গে যুক্ত হন।’

দেশজুড়ে বিভিন্ন উঁচু স্থানে বুধবার সূর্যাস্তের সময় সরকারি চাঁদ দেখা কমিটিগুলো বৈঠকে বসবে বলে জানা গেছে। সব সাক্ষ্য যাচাই-বাছাই শেষে ঈদুল ফিতর শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা দেবে সৌদি সুপ্রিম কোর্ট।

সূত্র: গালফ নিউজ

সালথায় ১,৩০০ পাটচাষিকে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ শুরু

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ১০:৪৫ পিএম
সালথায় ১,৩০০ পাটচাষিকে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ শুরু

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পাটচাষিদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও পাটচাষে আগ্রহ বাড়াতে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর পাট ও পাটবীজ উৎপাদন এবং সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে পাট অধিদপ্তর।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে সালথা উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা প্রশাসন ও পাট অধিদপ্তর সালথার যৌথ আয়োজনে এই পাটবীজ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধন করেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে উপজেলার তালিকাভুক্ত ১ হাজার ৩শত পাটচাষির মাঝে উন্নত জাতের পাটবীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কৃষকদের মাঝে বীজ বিতরণের সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পাটচাষের আধুনিক পদ্ধতি, সময়মতো বপন এবং ফলন বৃদ্ধির বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কেও দিকনির্দেশনা দেন।

উপজেলা উপসহকারী পাট উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল বারী জানান, সালথা উপজেলার আটটি ইউনিয়নে মোট প্রায় তিন হাজার তালিকাভুক্ত পাটচাষি রয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ১ হাজার ৩শত কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে পাটবীজ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবশিষ্ট ১ হাজার ৭শত পাটচাষির মাঝেও একইভাবে পাটবীজ বিতরণ করা হবে।

তিনি আরও বলেন, সরকার পাটকে ‘সোনালি আঁশ’ হিসেবে পুনরুজ্জীবিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে পাটের উৎপাদন ও মান দুটোই বৃদ্ধি পায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, পাট দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থকরী ফসল। কৃষকদের সহযোগিতা করতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। বিনামূল্যে বীজ বিতরণের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমবে এবং পাটচাষে আগ্রহ আরও বাড়বে বলে আশা করা যাচ্ছে।

তিনি কৃষকদের সঠিক নিয়মে পাটচাষ করার আহ্বান জানান এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃষকদের সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বিনামূল্যে উন্নত জাতের পাটবীজ পাওয়ায় তারা উপকৃত হয়েছেন। এতে তাদের উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে এবং ভালো ফলন পাওয়ার আশা করছেন তারা।

‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ১৬ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
‘জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচি চালু করা সম্ভব হয়েছে এবং জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয়তাবাদী দল কথা দিয়ে কথা রাখে। জুলাই সনদও জাতীয়তাবাদী দল সরকারের হাত দিয়ে বাস্তবায়িত হবে।

সোমবার (১৬ মার্চ) দুপুরে দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদহ ইউনিয়নের বলেরবাগ থেকে সোনাখোলা ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। লক্ষ্মীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে উদ্বোধনী সভায় তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান মোল্যা।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে শামা ওবায়েদ ইসলাম এমপি বলেন, দেশের প্রতিটি নির্বাচনী এলাকার মানুষ সমানভাবে সরকারি সুবিধা পাবেন। যারা ভোট দিয়েছেন বা দেননি-সবাই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও খাল খনন কর্মসূচির সুবিধা পাবেন। এসব কাজে কোনো দল-মত দেখা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ বাংলাদেশ গড়তে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি। তিনি বলেন, নদ-নদী ও খাল-বিল বাংলাদেশের প্রাণ। কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে এসব খাল ও নদী নিয়মিত খনন করা প্রয়োজন। তিনি স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে এ কর্মসূচিকে সফল করতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহবায়ক সৈয়দ মোদারেস আলী ইছা, আব্দুল্লাহ আবু জাহের, সাদরুল আলম ও আইয়ুব মোল্লা প্রমুখ।