খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

এলপিজি সংকটের খবরে নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন, ফরিদপুরজুড়ে অভিযান—দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

হারুন-অর-রশীদ ও এহসানুল হক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:২১ পিএম
এলপিজি সংকটের খবরে নড়েচড়ে বসলো প্রশাসন, ফরিদপুরজুড়ে অভিযান—দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা

ফরিদপুর জেলায় হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও হয়ে যাওয়ার খবর অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফরিদপুর প্রতিদিনে প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই ফরিদপুর শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় একযোগে মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়।

সকালে ফরিদপুর শহরের টেপাখোলা, আলিপুরসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দোকানে অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী। অভিযানে দোকানগুলোর ক্রয়-বিক্রয়ের কাগজপত্র, মজুদ পরিস্থিতি ও মূল্য তালিকা যাচাই করা হয়। এ সময় ভোক্তাদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে গ্যাসের প্রাপ্যতা ও দাম সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপ্ত চক্রবর্তী ‘ফরিদপুর প্রতিদিন’কে বলেন, “ফরিদপুরে হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও হওয়ার সংবাদে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) স্যারের নির্দেশে আমরা মাঠে নেমেছি। শহরের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে কাগজপত্র যাচাই ও ভোক্তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আপাতত কাউকে জরিমানা করা হয়নি, তবে মনিটরিং নিয়মিত চলবে।”

তিনি আরও জানান, সংকট নিরসনে আগামী দু-এক দিনের মধ্যে এডিএম স্যারের নেতৃত্বে ফরিদপুরের গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রেতাদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত ন্যায্য মূল্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।

এদিকে, একইদিন দুপুরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির দায়ে দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

নগরকান্দা উপজেলার মোল্যা স্টোর ও সুমাইয়া স্টোরে অভিযান চালিয়ে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির সত্যতা পাওয়ায় প্রত্যেককে ৮ হাজার টাকা করে মোট ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আফরোজা হক তানিয়া। তিনি ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘কে বলেন, “সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি গ্যাস বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জরিমানা করা হয়েছে। ভোক্তাদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের সদর, ভাঙ্গা, বোয়ালমারী, সদরপুর ও চরভদ্রাসনসহ অধিকাংশ উপজেলায় এলপিজি গ্যাসের বাজার পরিস্থিতি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দাম আদায়ের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট ডিলার ও ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের দায়িত্বশীলরা।

এদিকে প্রশাসনের অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সাধারণ ভোক্তারা। তাদের আশা, নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকলে এলপিজি গ্যাসের কৃত্রিম সংকট দ্রুত দূর হবে এবং ন্যায্য মূল্যে সিলিন্ডার পাওয়া যাবে।

প্রসঙ্গ, সোমবার (০৫ জানুয়ারি) রাতে “ফরিদপুরে হঠাৎ এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার উধাও—সংকটে গ্রাহক, নীরব প্রশাসন” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।