খুঁজুন
, ,

ফরিদপুরে ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবেশীর ৫ বছরের কারাদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ১১ বছরের শিশুকে যৌন নিপীড়ন, প্রতিবেশীর ৫ বছরের কারাদণ্ড

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ১১ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে জরিমানার অর্থ অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন।

রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

দণ্ডপ্রাপ্ত হাফিজুর রহমান মোল্লা (৫৫) ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা।

আদালত সূত্র ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ মে দুপুরে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া ১১ বছর বয়সী শিশুটি নিজ বাড়িতে একা ছিল। এ সুযোগে প্রতিবেশী হাফিজুর রহমান বাড়িতে প্রবেশ করে শিশুটির শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করে যৌন নিপীড়ন চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন। স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

পরে শিশুটির মা বাড়িতে ফিরে এলে মেয়েটি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেয়। পরদিন ১৬ মে শিশুটির মা বাদী হয়ে বোয়ালমারী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি তদন্ত করেন বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কবির আহমেদ। তদন্ত শেষে ২০২২ সালের ২৭ জুন তিনি হাফিজুর রহমানকে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার চলাকালে সাক্ষীদের সাক্ষ্য, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, তদন্ত প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় এ দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।

রায়ের বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, “আদালত সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। আমরা এ রায়ে সন্তুষ্ট।”

ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৭ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে এক সপ্তাহ ধরে থানায় আটক হাতি, আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় পুলিশ

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় এক শিশুর মৃত্যুর সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও জব্দ করা হাতিটি এখনো সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হাতিটি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, নাকি বন বিভাগের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে -তা নির্ধারণ হবে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে হাতিটি সদরপুর থানা চত্বরে বিশেষ তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে। হাতিটির দেখভাল ও পরিচর্যার জন্য মালিক পক্ষ থেকে দুইজন মাহুতকে থানায় পাঠানো হয়েছে। তারাই নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো ও সার্বক্ষণিক পরিচর্যার দায়িত্ব পালন করছেন।

তবে প্রতিদিন একটি হাতির জন্য বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হয়। কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন ধরনের খাবার সংগ্রহ করতে প্রতিনিয়ত বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশ ও মাহুতদের। থানা প্রাঙ্গণে হাতির জন্য স্থায়ীভাবে খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় খাদ্যসংকটও দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি ও হাতির মালিকের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

থানায় অবস্থানকালে হাতিটি প্রায়ই মাহুতদের সঙ্গে থানা চত্বরে হেঁটে বেড়ায়। বিশাল আকৃতির প্রাণীটিকে দেখতে প্রতিদিন উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শিশু, কিশোর, তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধরাও পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটিকে দেখছেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন অপ্রত্যাশিত এক আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। তবে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

সদরপুর থানার পলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত যদি মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন, তাহলে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ বলেন, হাতিটি বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আদালত যে সিদ্ধান্ত দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহুতকে আটক এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে হাতিটি থানার হেফাজতেই রয়েছে।

সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫২ অপরাহ্ণ
সালথায় সাপের কামড়ে প্রাণ গেল দুই সন্তানের জননীর

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের পিসনাইল গ্রামে টয়লেট থেকে ফেরার পথে সাপের কামড়ে সরস্বতী মণ্ডল (৪২) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। সরস্বতী মণ্ডল ওই গ্রামের প্রেমানন্দ মণ্ডলের স্ত্রী ও দুই সন্তানের জননী।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশের টয়লেট থেকে ফেরার সময় সরস্বতী মণ্ডল অসাবধানতাবশত একটি ইঁদুরের গর্তে পা দেন। এ সময় গর্তে থাকা একটি সাপ তাঁকে দংশন করে। পরে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বুঝতে পেরে তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নেন। সকাল আটটার দিকে তাঁকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়।

স্থানীয়দের ধারণা, বিষধর গোখরা সাপের কামড়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তবে এ বিষয়ে চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বল্লভদী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান খন্দকার সাইফুর রহমান শাহীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, খবর পেয়ে তিনি নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানিয়েছেন।

হঠাৎ এ মৃত্যুর ঘটনায় পিসনাইল গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের অভিযান, বন্ধ ৫ হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টার

ফরিদপুরে অব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘন এবং অনুমোদন (লাইসেন্স) ছাড়া কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে পাঁচটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানে ভর্তি থাকা রোগীদের দ্রুত ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অথবা অন্য উপযুক্ত হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুর রহমান ও নাজমুন নাহার নাঈমসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকো হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, লিলি প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হলিসিটি প্রাইভেট হাসপাতাল এবং মা-মনি ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কয়েকটি প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল এবং কোথাও কোথাও গুরুতর অব্যবস্থাপনা ও মানদণ্ড লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুলাই আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের পর আয়েশা আফরিন (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে হাসপাতালটির নানা অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে অস্ত্রোপচার কক্ষের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, রোগীদের বেডে প্রয়োজনীয় মনিটরের অভাব, ৩০ শয্যার হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত সংখ্যক চিকিৎসক ও নার্স না থাকা এবং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন ত্রুটি দেখতে পান কর্মকর্তারা।

এসব অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে আল-জারা স্পেশালাইজড হাসপাতালের অস্ত্রোপচার কার্যক্রমসহ পুরো হাসপাতালের কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি ওই অস্ত্রোপচারে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করা হবে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

সিভিল সার্জন ডা. মাহামুদুল হাসান বলেন,“যেখানে নিয়মবহির্ভূতভাবে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যেন নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পান, তা নিশ্চিত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাই এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও বলেন, “যিনি অস্ত্রোপচার করেছেন তিনি একজন অভিজ্ঞ সার্জন ও সহকারী অধ্যাপক। তবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালে গিয়ে অস্ত্রোপচার করা তাঁর উচিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তের আলোকে তাঁর বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”