খুঁজুন
, ,

ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুর বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশনের প্রতিশ্রুতি দিলেন জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান

আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা ও জনগণের সমর্থনে নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে ফরিদপুরের নামে আলাদা বিভাগ গঠন এবং বিভাগীয় শহরের মর্যাদায় সিটি কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা করা হবে—এমন ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান।

শুক্রবার (০৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ফরিদপুর শহরের সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত এক বিশাল নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে সমাবেশটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “ফরিদপুর ঐতিহ্য, সম্ভাবনা ও সম্পদের দিক থেকে একটি সমৃদ্ধ জনপদ। অথচ বছরের পর বছর অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার হয়ে এ অঞ্চল পিছিয়ে পড়েছে। আমরা ক্ষমতায় এলে ফরিদপুরের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করবো।”

তিনি নদী রক্ষা ও পরিবেশ পুনরুদ্ধারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “নদীগুলোকে হত্যা করে অনেক জায়গায় মরুভূমি তৈরি করা হয়েছে। আমরা সেই নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে দিতে চাই। নদী বাঁচলে কৃষি বাঁচবে, মানুষ বাঁচবে।”

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের প্রসঙ্গ টেনে জামায়াত আমীর বলেন, “মেডিকেল কলেজ আছে, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা সেবা নেই। মানুষকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় ছুটতে হয়। আমরা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “ফরিদপুরে বিপুল পরিমাণ পাট উৎপাদন হলেও একের পর এক পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। আমরা শিল্প বন্ধ নয়, শিল্প চালু করতে চাই। যেখানে কৃষিপণ্য বেশি উৎপাদন হয়, সেখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই আমাদের লক্ষ্য।”

যুব সমাজকে উদ্দেশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা যুবকদের বেকার ভাতা দিতে চাই না, তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। দক্ষতা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাই হবে আমাদের অগ্রাধিকার।”

রাজনৈতিক দর্শন ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, “আমরা কোনো দলীয় সরকার কায়েম করতে চাই না। জামায়াত ইসলামের বিজয় নয়, আমরা চাই ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সবাই শান্তিতে, নিরাপত্তায় ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারবে।”

ফরিদপুর জেলা জামায়াত আমীর মাওলানা মো. বদরউদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এবং বিভিন্ন আসনের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ফরিদপুর-১ আসনে ডা. মো. ইলিয়াচ আলি মোল্লা (দাঁড়িপাল্লা), ফরিদপুর-২ আসনে মাওলানা শাহ আকরাম আলি (রিকশা), ফরিদপুর-৩ আসনে প্রফেসর আবদুত তাওয়াব (দাঁড়িপাল্লা), ফরিদপুর-৪ আসনে মাওলানা মো. সরোয়ার হোসেন (দাঁড়িপাল্লা), রাজবাড়ী-১ আসনে অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা), রাজবাড়ী-২ আসনে জামিল হিজাযী (শাপলা কলি) এবং মাদারীপুর-৩ আসনে রফিকুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) উল্লেখযোগ্য।

সমাবেশ শেষে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

 

ফরিদপুরে ‎মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৮:৫৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ‎মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা

ফরিদপুরের সালথা মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে মাদক কারবারিকে ধরিয়ে দিতে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিষ্ণুদী যুব উন্নয়ন সংগঠন।

‎শুক্রবার (২৬ জুন) বিকেলে সংগঠনটির আয়োজনে উপজেলার বল্লভদী ইউনিয়নের বিষ্ণুদী গ্রামে বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত মাদকবিরোধী সমাবেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে অধ্যাপক কামরুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন।

‎তিনি বলেন, এই গ্রামের কোনো মাদক কারবারিকে প্রমাণসহ ধরিয়ে দিতে পারলে তাকে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।

‎’মাদককে না বলুন, জীবনকে হ্যাঁ বলুন’এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

‎সংগঠনের সভাপতি মো. রবিউল মুন্সী বলেন,
‎নতুন প্রজন্মকে রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

‎উপস্থিত বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে হবে না। সাধারণ মানুষকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। এলাকার তরুণদের সুরক্ষা ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মাদকের বিস্তার রোধ এখন সময়ের দাবি।

‎সমাবেশ থেকে রাত বেরাতে অকারণে এলাকায় ঘোরাফেরা না করার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো কার্যকলাপ চোখে পড়লে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে এলাকাবাসীর প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

‎বক্তারা আরও বলেন, মাদকাসক্তরা টাকার অভাবে একসময় চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই প্রত্যেক অভিভাবককে নিজ নিজ সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। এলাকার মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের বিষয়ে সবাই কমবেশি অবগত এখন প্রয়োজন তাদের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সোচ্চার হওয়া।

‎উপস্থিত এলাকাবাসী অঙ্গীকার করে বলেন, মাদক বিক্রেতা বা সেবনকারী আটক হলে সে নিজের সন্তান হলেও তাকে ছাড়িয়ে আনতে যাব না।

‎এছাড়া সমাবেশ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রাত ১০টার পর গ্রামের দোকানপাট খোলা রাখা যাবে না এবং ছেলে-মেয়েরা যেন অকারণে গভীর রাতে বাইরে ঘোরাফেরা না করে, সেদিকে অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।

‎মাদকবিরোধী সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ফুলবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ কে এম মহিউদ্দিন, প্রবীণ আলেম মেজবাহ উদ্দিন, হাফিজুর মাতুব্বর, হবি মোল্যা, ইউপি সদস্য উজ্জ্বল শেখ, সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ দুই শতাধিক গ্রামবাসী উপস্থিত ছিলেন।

‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫০ অপরাহ্ণ
‘এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে’ : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, এবারের বাজেট স্বাস্থ্য খাতের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের বাজেট। বর্তমান এই ভঙ্গুর অর্থনীতিতে স্বাস্থ্য সেবায় এবং স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ কি পরিমাণে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে এটি সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সব সেক্টরে সমানভাবে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে চলছেন। যার মধ্যে অগ্রাধিকার রয়েছে স্বাস্থ্য খাত।

শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সভাপতি নির্বাচিত করায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামকে সংবর্ধনা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল নিয়ে বলেন, ভৌগলিক কারণে এই অঞ্চলের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এই মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেসব অনিয়ম রয়েছে সবকিছু আমাদেরকে ঠিক করতে হবে। সর্বোপরি আমরা চাই আমাদের রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে। রোগী হাসপাতাল এসে যদি সেবা না পাই এবং চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় তাহলে এটা হাসপাতালের অদক্ষতায় মধ্যে পড়ে। হাসপাতালে দুর্নীতি বন্ধ করা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা আমার প্রধান লক্ষ্য থাকবে। আমরা যদি এগুলো বন্ধ করতে পারি তাহলে হাসপাতাল অনেক ভালোভাবে চলবে। আর এ জন্য কোন আপোষ আমি করব না। কারণ এটা আমার দায়বদ্ধতার ভিতর পরে।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিগত দিনের মতো রাজনৈতিক দলের পরিচয় ধরে কেউ যাতে হাসপাতালের অনৈতিক কাজ বা পরিবেশ নষ্ট না করতে পারে সেটা দেখতে হবে। এক্ষেত্রে সম্মিলিত ভাবে কাজ করতে হবে সবাইকে।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. হুমায়ূন কবিরের সভাপতিত্বে এসময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা প্রশাসক মো. মাজাহারুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোদাররেছ আলী ইছা, ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. দিলরুবা জেবা, বিএমএ এর সাধারণ সম্পাদক ডা. আলী আকবর, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ জুলফিকার হোসেন জুয়েল প্রমুখ। এ সময় হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:২৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে বিষপানে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরে বিষপানে সোহেল শেখ ওরফে সাইদুল (৩৮) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ছয় দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে তিনি মারা যান।

নিহত সোহেল শেখ ফরিদপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের রঘুনন্দনপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি হানিফ শেখের ছেলে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ জুন বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে সোহেল শেখ বিষপান করেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মৃত্যুর খবর পেয়ে ফরিদপুর কোতোয়ালী থানার পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে সোহেল শেখ বিষপান করেছিলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।