খুঁজুন
রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬, ২২ চৈত্র, ১৪৩২

নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

সঞ্জিব দাস, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৫৯ পূর্বাহ্ণ
নাব্যতা সংকটে তিন মাস ধরে বন্ধ ফরিদপুরের নৌ বন্দর, বেকার কয়েক হাজার শ্রমিক

ফরিদপুরের পদ্মা পাড়ের মানুষ এমন পদ্মা নদীর চিত্র এর আগে কোনদিন দেখতে হয়েছে বলে তারা মনে করতে পারছেন না। এবার তাদের দেখতে হচ্ছে পদ্মা নদীর পানি শূন্যতায় পুরো পদ্মা যেন হাহাকারের এক প্রতিধ্বনি। ফরিদপুরের পদ্মায় চর তাদের মনে করিয়ে দিচ্ছে এ যেন এক ধূসর মরুভূমির ছবি। অবলীলায় পায়ে হেঁটেই পদ্মা পার হয়ে যাওয়ার দৃশ্য এ অঞ্চলে যেন নতুন কোন গল্প।

কবিতার ভাষায় বলতে হয়, “চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক।” কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতার এই চারটি লাইনের সাথে ফরিদপুরের পদ্মা নদীর মিল এখন অনেকটাই।

শীতের শুরুতেই ফরিদপুরের পদ্মা নদীতে নাব্যতা সংকট দেখা দেয়। এরপর থেকে গত প্রায় তিন মাস যাবত বন্ধ রয়েছে নৌবন্দরের প্রায় সফল কার্যক্রম। ‌অচল হয়ে রয়েছে দক্ষিণ অঞ্চল সহ ফরিদপুর অঞ্চলের একমাত্র সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরটি। নদীর মাঝে জেগে ওঠা ছোট-বড় অসংখ্য ডুবোচর ও পানি শূন্যতার কারণে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। দূরদূরান্ত থেকে পণ্য নিয়ে আসা এসব পণ্যবাহী জাহাজ পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে যাচ্ছে। চরে আটকা পড়ে থাকার কারণে নৌবন্দরে ভিড়তে পারছে না। এতে অচল হয়ে পড়েছে এ অঞ্চলের একমাত্র নৌবন্দর হিসেবে পরিচিত ঘাটটি। আর এ কারণে হাজারের বেশি কুলি শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে।

নৌ ঘাট সূত্রে জানা যায়, ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী সিঅ্যান্ডবি (C&B) ঘাট নৌবন্দরটি শত বছরের পুরোনো হলেও, এটি পূর্ণাঙ্গ নৌবন্দর হিসেবে ২০১৫ সালে সরকারিভাবে আত্মপ্রকাশ ও ঘোষিত হয়। পদ্মা নদীর তীরে অবস্থিত এই বন্দরটি দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম ব্যবসায়িক কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরে দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হয় বন্দরটি। চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্রবন্দর এবং সিলেট, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ বিভিন্ন জেলার সাথে সরাসরি বাণিজ্যিক সংযোগ স্থাপনের বন্দরটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

বর্ষা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ থেকে ৫ কোটি টাকার পণ্য আমদানি রপ্তানি হলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীতে পানি কমে যাওয়ায় বছরের একটি বড় সময় ধরে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। এই সংকট শুধু বন্দরের কর্মী ও ব্যবসায়ীদের জীবনেই প্রভাব ফেলছে না বরং জাতীয় অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ফরিদপুরের বিখ্যাত সোনালী আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রপ্তানি হয়। সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, নারায়ণগঞ্জ থেকে সিমেন্টবাহী জাহাজ এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে এই নৌবন্দর থেকে ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। কিন্তু ডুবো চর ও নদীর নাব্যতা সংকটের কারণে, চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বাড়ছে না রাজস্ব। এরপর থেকে বিআইডব্লিউটি নিজেই রাজস্ব আদায় করে থাকে ঘাট থেকে। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা দেয়া হয় দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে মো. মজিবুর রহমান নামে ইজারাদার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন। ‌তিনি গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখলেও তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেছেন সাংবাদিকদের কাছে।

পণ্যবাহী নৌযান ভিড়তে না পারায় নৌবন্দরের শুল্ক আদায়ও নেই। পণ্যবাহী নৌযানের মালিকরা ও পণ্য আমদানিকারকরাও পড়েছেন চরম বিপাকে। নৌবন্দরের শ্রমিকরাও বেকার হয়ে পড়েছেন। এছাড়া দিনের পর দিন নৌ বন্দর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে মাঝ পদ্মা নদীতে অরক্ষিত স্থানে জাহাজ, কার্গোগুলো থাকায় পড়তে হচ্ছে বিবিধ সমস্যায়। ঘাটে জাহাজ এবং কার্গো গুলো না আসতে পারায় বর্তমানে দূরবস্থা চরমে পৌঁছেছে। নাব্যতা সংকট সমাধানে কয়েকটি স্থানে বিআইডব্লিউটিএ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে খনন কাজ না করলে নৌবন্দরটি ব্যবসায়িকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়ে যাবে। ‌

ফরিদপুরের সোনালি আঁশ খ্যাত পাট এই বন্দর হয়েই চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে বহির্বিশ্বে রফতানি হয়। এছাড়াও সিলেট থেকে কয়লা ও বালু, ভারতের গরু ও চালসহ চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, মিরকাদিম থেকে এই নৌপথেই চাল আমদানি হয়। নারায়ণগঞ্জ বন্দর থেকে প্রচুর সিমেন্টবাহী জাহাজ ও কার্গো এই বন্দর থেকে খালাস করা হয়।

এদিকে নৌবন্দরে ভিড়তে না পেরে নৌবন্দর থেকে নদীর মাঝ নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ, কার্গো ও বড় ট্রলার ডুবো চরে আটকা পড়ে রয়েছে। সেখান থেকে ছোট ছোট ট্রলারে করে পণ্য নিয়ে আসায় খরচ বাড়ছে ব্যবসায়ীদের। এতে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়ছেন ব্যবসায়ীরা।

নৌ বন্দরের শ্রমিক লালন বলেন, ঘাটে জাহাজ ভিড়তে না পারায় বেকার হয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। আমার বাড়ি নওগাঁ, এখানে শ্রমিকের কাজ করি। প্রতিদিন কাজ না থাকায় নিজের খাওয়া দাওয়ার সমস্যা হয়, বাড়িতে ঠিকমতো টাকা পাঠাতে পারি না। সরকার আমাদের দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত ড্রেজিং ব্যবস্থা চালু করুক এটাই এখন তার দাবি।

আরেক শ্রমিক নুরুল শেখ বলেন, এই কাজের ওপর সংসার চলে। জাহাজ না আসায় রোজগার কমে গেছে। দুই সন্তান পড়ালেখা করে। সংসারের খরচ তাদের পড়ালেখার খরচ জোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক সময় বাড়ি থেকে টাকা এনে চলতে হয়। এখন তারা আর পেরে উঠছেন না বেকার থাকার কারণে।

রমজান নামে এক কুলি জানান, গত তিন মাস যাবৎ একদম বেকার হয়ে গিয়েছি। আমাদের অবস্থা দেখার কেউ নেই। ঘাট আমাদের আয় রোজগারের একমাত্র জায়গা। সেই জায়গাটি সরকারের অব্যবস্থাপনার কারণে এখন বন্ধ রয়েছে। সরকারের কাছে দাবী জানাই অতি দ্রুত ড্রেজিং করে নদীর নাব্যতা দূর করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

ঘাটের বড় ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, দক্ষিণবঙ্গসহ বৃহত্তর ফরিদপুরের ব্যবসায়িক পণ্য আনা নেওয়ার জন্য এই নৌবন্দরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে নৌবন্ধটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মধ্যে রয়েছেন তারা। গত তিন মাসে আমাদের ব্যবসার ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শুধু আমার। ব্যবসায়িক দিক বিবেচনা করে অতি দ্রুত বিআইডব্লিউটিএ ডেজিং ব্যবস্থা চালু করে নদী পথকে স্বাভাবিক রাখার দাবি তার।

ব্যবসায়ী ও ঘাট ইজারাদার মুজিবর শেখ বলেন, নদীতে নাব্যতা সংকট এবং নদীতে চর পড়ে যাওয়ায় পণ্যবাহী নৌযান বন্দরে আসতে পারছে না। এই অর্থবছরের ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত নৌ বন্দরটি ইজারা নেয়া হয়েছে দুই কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায়।‌ বর্তমানে আমার প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছি। ‌ গত তিন মাসে বিভিন্নভাবে ২৫টি চিঠি বিআইডব্লিউটিএ এর কাছে লিখেছি। বিআইডব্লিউটিএ থেকে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ তারা করেননি। উল্টো একটি ড্রেজার মেশিন নদীর ভিতর রেখে নদীতে আসা-যাওয়ার সমস্যা করে রেখেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন। আমাদের ক্ষতিপূরণ দাবি এবং একই সাথে ড্রেজার বসিয়ে নদীর নাব্যতা সংকট দূর করার দাবি জানাচ্ছি।

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, নাব্যতা সংকটের কারণে ফরিদপুর নৌবন্দরের শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অতি দ্রুত ড্রেজিং এর দরকার বলে মনে করেন তারা।

এদিকে নাব্যতা বিষয়ে জানতে বিআইডব্লিউটিএ’র আরিচা নৌ বন্দরের উপ-পরিচালক সুব্রত কুমার রায় মোবাইল ফোনটি রিং বাজলেও না ধরে কেটে দেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা বলেন, নাব্যতা সংকটের কারণে চরম ক্ষতিতে পড়ছে নৌবন্দরটি। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। দ্রুতই খননের কাজ শুরু হবে বলে আশা রাখি। নির্বাচনের সময় ব্যস্ততার কারণে বিষয়টি হয়তো পিছিয়ে গেছে। আশা করছি এখন যেসব জায়গায় চরের সৃষ্টি হয়েছে সে সব জায়গায় ড্রেজার বসিয়ে খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ঠিক করা হবে। আর এই বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ দেখে তারা বিষয়টি দ্রুত করবে এমনটাই আমরা জানতে পেরেছি বলে তিনি জানান। ‌

ফরিদপুর সিএন্ডবি ঘাট নৌবন্দরের নাব্যতা সংকট উত্তরণে অতি দ্রুত ড্রেজিং সহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা সরকার নেবে এমনটাই প্রত্যাশা ঘাট সংশ্লিষ্টদের।

‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
‘পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায়নি’: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু বলেছেন, কৃষিকাজে সবচেয়ে বেশি ডিজেল ব্যবহার হয়। তাই কৃষিখাতে তেলের সরবরাহ করার ক্ষেত্রে আমরা সচেষ্ট আছি। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা তেল মজুদ করে বিক্রি করছে। অপরদিকে যারা দিনে একবার তেল নিতেন, এখন তারাই তেলের পাম্পে গিয়ে ৫ বার তেল নিচ্ছে। কারণ তারা ভাবছেন তেলের সংকট চলছে। কিন্তু তেলের কোনো সংকট নেই।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেলে নিজ নির্বাচনী এলাকা ফরিদপুরের সালথা উপজেলা ভূমি অফিস পরিদর্শন শেষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বিশ্বে একটা যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, এটা আমাদের সকলকে বুঝতে হবে। যুদ্ধ শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। যে কারণে বাংলাদেশের চারপাশে জ্বালানী তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। পৃথিবীর মধ্যে একমাত্র বিএনপি সরকার, যে জ্বালানী তেলে দাম বাড়ায় নাই। কৃষকসহ জনগণ যাতে বিপদের মুখে না পড়ে সেজন্য সরকার সচেষ্ট আছে। তবে আমাদেরও সাশ্রয়ী হতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে তেল নিয়ে সমস্যায় পড়তে না হয়।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে একটা দায়িত্ব দিয়েছেন। যে কারণে আমি ঘনঘন আমার নির্বাচনী এলাকায় আসছি। আজকে আমি সালথা ও নগরকান্দায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস পরিদর্শন করেছি। আমাদের স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খোঁজখবর নিয়েছি। বিশেষ করে কারিগারি শিক্ষা নিয়ে আমাদের সরকার কাজ করছে। এটা কিভাবে উন্নয়ন করা যায় সেজন্য আমি এসেছি। গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের সময় স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে কোন কাজ হয়নি। সেটা আমি দেখতে এসেছি।

এর আগে নগরকান্দা উপজেলা টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (টিটিসি), নগরকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, নগরকান্দা উপজেলা ভূমি অফিস, সালথা সরকারি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সালথা উপজেলা ভুমি অফিস ও সালথা বাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত পাটের গোডাউন পরিদর্শন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর সিভিল সার্জন মো. মাহমুদুল হাসান, সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. দবির উদ্দীন, সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ওয়াহিদুজ্জামান, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আসাদ মাতুব্বর, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. আতাউর রহমান, যুবদল নেতা তৈয়বুর রহমান মাসুদ, এনায়েত হোসেন, হাসান আশরাফ প্রমুখ।

নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

নগরকান্দা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
নগরকান্দায় প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলায় দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন

শনিবার (০৪ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পুড়াপাড়া ইউনিয়নের গোয়ালদী গ্রামে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, পুড়াপাড়া ইউনিয়নের বনগ্রামের মোল্লা গ্রুপ এবং পাশের গোয়ালদী গ্রামের তালুকদার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের জের ধরেই শনিবার বিকেলে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। পরে তা দ্রুত সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহার করে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন বলে জানা গেছে, যদিও আহতদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ উপস্থিত হলে সংঘর্ষে জড়িতরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মাঝে মাঝেই উত্তেজনা দেখা দেয়। এর আগেও কয়েকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে এবারের সংঘর্ষ তুলনামূলক বেশি সহিংস ছিল।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসূল সামদানী আজাদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “মোল্লা গ্রুপ ও তালুকদার গ্রুপের মধ্যে পূর্ব বিরোধ ছিল। শনিবার বিকেলে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পুলিশ দ্রুত গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

সদরপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৪৪ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের সদরপুরে তেল পাচারের ভিডিও করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করায় থানা চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তেল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী মোল্যা, রফিকুল ইসলাম মন্টুসহ তাদের সহযোগীরা জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে সদরপুর হামলার শিকার হন চ্যানেল এস-এর সাংবাদিক তোফাজ্জেল হোসেন টিটু এবং দৈনিক ঢাকা প্রতিদিনের সাংবাদিক আলমগীর হোসেন।

হামলার শিকার ওই দুই সাংবাদিক জানান, শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার চর বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের গাবতলা এলাকায় তেলের ডিলার মোহাম্মদ আলী মোল্যা ও তার ছেলে সামী মোল্যার তেল পাচারের ভিডিও ধারণ করলে তারা (সাংবাদিকরা) প্রথম দফা হামলার শিকার হন। এ ঘটনায় তারা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

তারা জানান, অভিযোগের পর শনিবার সকাল ১০টার দিকে থানায় গেলে, অভিযোগের জের ধরে ওই তেলের ডিলার ও তার লোকজন থানার চত্বরে সাংবাদিকদের ওপর দ্বিতীয় দফা হামলা চালায়। এ সময় থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পরে সাংবাদিকরা থানা চত্বরের সামনে সড়কে অবস্থান নিলে রফিকুল ইসলাম মন্টু এবং তার সহযোগী মোস্তাকি বাবু তৃতীয় দফায় তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্ত তেলের ডিলার সরাসরি হামলার বিষয় জানতে চাইলে তারা কোন মন্তব্য করেনি।

এ বিষয়ে সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ জানান, হামলার বিষয়টি নিয়ে আমি এমপি মহাদয়ের সাথে কথা বলেছি। বিষয়টি আমারা খতিয়ে দেখছি।