খুঁজুন
শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১ ফাল্গুন, ১৪৩২

ফরিদপুরে বাজার দখল ও আধিপত্য নিয়ে রণক্ষেত্র: সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৪ পিএম
ফরিদপুরে বাজার দখল ও আধিপত্য নিয়ে রণক্ষেত্র: সংঘর্ষে আহত ২০, বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ

ফরিদপুরের সালথা ও বোয়ালমারী উপজেলায় আধিপত্য বিস্তার ও বাজার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে পৃথক সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত দফায় দফায় এসব সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নির্বাচন-পরবর্তী প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে সালথা উপজেলার খারদিয়া এলাকায় টুলু মিয়া ও জিহাদ মিয়ার সমর্থকদের সাথে আব্দুল মান্নান ও তার সমর্থকদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। শনিবার সকালে সেই বিরোধ চরমে রূপ নেয়। উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয় এবং আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়।

অন্যদিকে, বোয়ালমারী উপজেলার ময়েনদিয়া এলাকায় আব্দুল মান্নান ও বিরোধী আরেকটি গ্রুপের মধ্যে বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের অন্তত দুটি বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। নটখোলা গ্রামের কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়খারদিয়া, নটখোলা ও ময়েনদিয়া গ্রামে সংঘর্ষের চিহ্ন ছড়িয়ে আছে। পুড়ে যাওয়া ঘরের দেয়াল, ভাঙা দরজা-জানালা ও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আসবাবপত্র এলাকায় ভয়াবহ পরিস্থিতির সাক্ষ্য দিচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা জানান, হামলাকারীরা হঠাৎ করেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায় এবং পরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের আসবাবপত্র, মূল্যবান মালামাল ও নগদ অর্থ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, ময়েনদিয়া বাজারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। পূর্বেও একাধিকবার ছোটখাটো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। তবে শনিবারের হামলা ছিল পূর্বপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। যদিও অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় টহল জোরদার করেছে।

ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা-নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান বলেন, “আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সংঘর্ষের পর থেকে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেক পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে প্রশাসন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা দায়েরের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

ফরিদপুর-২ : সহিংসতার আগুনে নগরকান্দা-সালথা, শান্তির ডাক ধলা হুজুরের

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুর-২ : সহিংসতার আগুনে নগরকান্দা-সালথা, শান্তির ডাক ধলা হুজুরের

ফরিদপুর-২ আসনের সালথা ও নগরকান্দা উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এমন পরিস্থিতিতে সহিংসতা পরিহার করে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাওলানা শাহ মো. আকরাম আলী (ধলা হুজুর)।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকালে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি নগরকান্দা-সালথাবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আপনাদের ভালোবাসা, স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন ও আস্থা আমাকে অভিভূত করেছে। আপনারা আমাকে এবং আমার সংগঠন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস-কে ‘রিকশা’ প্রতীকে যে সমর্থন দিয়েছেন, তা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”

তিনি উল্লেখ করেন, বিপুল ভোট প্রাপ্তি প্রমাণ করে মানুষ পরিবর্তন চায় এবং নীতি-আদর্শভিত্তিক ইনসাফের রাজনীতি প্রত্যাশা করে। “এই জাগরণই আমাদের শক্তি ও আশা,” বলেন তিনি। একইসঙ্গে ত্যাগী নেতা-কর্মী, সমর্থক, প্রবাসী ভোটার, পরিবার-পরিজন, মা-বোন এবং বিশেষ করে ছাত্র ও যুব সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাদের উদ্দেশে দোয়া কামনা করে বলেন, “মুমিনের জীবনে হতাশা নেই। মহান আল্লাহ পরিশ্রম ও সৎ নিয়তকে বিফল করেন না।”

বর্তমান সহিংস পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ধলা হুজুর সকলকে কাইজা-দাঙ্গা, প্রতিহিংসা ও মারামারি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “আমরা একই এলাকার মানুষ। নির্বাচন তো আজ আছে, কাল থাকবে না। কিন্তু আমাদের সহাবস্থান ও সম্প্রীতি চিরস্থায়ী। আসুন, সবাই মিলেমিশে নগরকান্দা-সালথায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করি এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করি।”

এদিকে সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে সালথা ও নগরকান্দার বিভিন্ন গ্রামে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কয়েকটি বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী টহল জোরদার করেছে।

বার্তায় ধলা হুজুর ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম-কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নবনির্বাচিত এই জনপ্রতিনিধি দল-মত নির্বিশেষে নগরকান্দা-সালথার জনগণের জান-মালের নিরাপত্তা ও এলাকার সার্বিক উন্নয়নে কাজ করবেন।

উল্লেখ্য, শামা ওবায়েদ ইসলাম হলেন মরহুম কে. এম. ওবায়দুর রহমান-এর কন্যা, যিনি বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও জনপ্রিয়তা এই আসনের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।

সবশেষে ধলা হুজুর মহান আল্লাহর সহায়তা কামনা করে বলেন, মানুষের আস্থা অর্জনের যে যাত্রা শুরু হয়েছে তা থামবে না। “আজ ফলাফল যাই হোক, মানুষের ভালোবাসাই আমাদের আগামী দিনের সবচেয়ে বড় পুঁজি। আমরা আরও সংগঠিত হব, আরও দক্ষ হব এবং মানুষের পাশে দাঁড়াব—ইনশাআল্লাহ।”

এলাকাবাসী এখন আশা করছেন, সব পক্ষের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও সংযমের মাধ্যমে দ্রুত সহিংসতা বন্ধ হয়ে নগরকান্দা-সালথায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরে আসবে।

সালথায় সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি, শান্ত থাকার আহ্বান এমপি শামা ওবায়েদের

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৪ পিএম
সালথায় সহিংসতায় জড়িতদের কঠোর হুঁশিয়ারি, শান্ত থাকার আহ্বান এমপি শামা ওবায়েদের

ফরিদপুরের সালথায় সাম্প্রতিক সহিংসতার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ফরিদপুর-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু। তিনি সকল পক্ষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বলেন, “প্রিয় সালথাবাসী, আপনারা ধৈর্য ধরুন এবং শান্ত থাকুন। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না।”

এমপি শামা ওবায়েদ আরও বলেন, এলাকায় বর্তমানে সেনাবাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করা সবার দায়িত্ব। তিনি স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণকে উত্তেজনা এড়িয়ে এলাকার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সচেষ্ট হওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের খারদিয়া এবং পাশ্ববর্তী বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া এলাকায় দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা চালানো হয়, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হন। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এর আগে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সালথার রামকান্তপুর ইউনিয়নের রামকান্তপুর গ্রামে মসজিদের ভেতরে ভোট দেওয়া নিয়ে তর্ক-বিতর্কের জেরে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হামলা ও বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হন। স্থানীয়দের দাবি, আহতদের অধিকাংশই বিএনপি সমর্থক। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্তের কথা বলা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকাজুড়ে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে এবং যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

এমপি শামা ওবায়েদ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আজকের সহিংসতায় যাদের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের সহযোগিতায় সবাই এগিয়ে আসুন। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে, কিন্তু সাধারণ মানুষের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সালথার পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছেন।

তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১২:৫৩ পিএম
তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় থাকতে পারেন যাঁরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়েছে বিএনপি। নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসন পেয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক পর নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে তারা। বিএনপির এই মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পাচ্ছেন, সবার নজর এখন সেদিকে।

এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে জোরালো আলোচনা। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পরই মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষণ গণনা শুরু হবে।

বিএনপি নেতারা মনে করেন, সাংবিধানিকভাবেই নির্বাচিত সংসদস দস্যদের শপথ পড়ানো হবে। তাঁরা আশা করছেন, স্বল্প সময়ের মধ্যেই শপথ পড়ানো হবে এবং দেশবাসী নতুন সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি নতুন মন্ত্রিপরিষদ দেখতে পাবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের মিশেলে। অতীতে দলের প্রতি ত্যাগ ও যোগ্যতার ভিত্তিতে মন্ত্রিপরিষদে তাঁরা জায়গা পাবেন। দল থেকে যাঁদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি, নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁদের মূল্যায়ন করা হবে। বিষয়ভিত্তিক যাঁরা এক্সপার্ট, তাঁরাই এবার মন্ত্রিসভায় জায়গা পাচ্ছেন। ঢাউস কোনো মন্ত্রিসভা করা হবে না বলে জানা গেছে।

নতুন মন্ত্রিসভার বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক যে যাত্রা শুরু হলো, তা অব্যাহত থাকবে ইনশাআল্লাহ। সব রাষ্ট্র কাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার এবং সংবিধানের কাঙ্ক্ষিত গণতান্ত্রিক সংস্কার করা হবে—এটা আমাদের লক্ষ্য ছিল।’

তিনি বলেন, ‘অনেক আগে থেকেই আমরা আমাদের ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। এর মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্য দিয়ে একটি রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। এই রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল আমরা অক্ষর অক্ষরে পালন করব।’

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিকেলের (গতকাল শুক্রবার) মধ্যে নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে ফলাফল ঘোষণা করবে এবং তার পর থেকে ক্ষণ গণনা শুরু হবে। সংসদ সদস্য শপথ নেওয়ার বিষয়টি সাংবিধানিকভাবেই হবে।’

তারেক রহমান এবার দুটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নেতৃত্বে এবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিএনপি এক-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বড় সন্তান। খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণে তাঁর ওপর দলের গুরুদায়িত্ব বর্তায়। নিজের পরিশ্রম, মেধা দিয়ে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারে দেশের মানুষের মন জয় করে বিএনপিকে নিরষ্কুুশ জয় এনে দিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলে তারেক রহমান দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হবেন।

নতুন সরকারে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে যাচ্ছেন—এ বিষয়ে জোরালো আলোচনা রয়েছে। এ ছাড়া নতুন মন্ত্রিসভায় থাকছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহম্মদ, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এ ছাড়া বিএনপি নেতা আবদুল আউয়াল মিন্টু, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জহিরউদ্দিন স্বপন, রেজা কিবরিয়া, এহসানুল হক মিলন, রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, শরীফুল আলম, দেওয়ান সালাহউদ্দিন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, সেলিম ভূঁইয়া, সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান,  ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমান, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, শামা ওবায়েদ, ফারজানা শারমিন পুতুল, ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, আসাদুল হাবীব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রকিবুল ইসলাম বকুল আলোচনায় আছেন।

এ ছাড়া সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী প্রফেসর ড. এম এ মুহিত, খাগড়াছড়ি থেকে নির্বাচিত বিএনপি প্রার্থী আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি ও বান্দরবান আসন থেকে নির্বাচিত দুজনের মধ্যে একজন আলোচনায় আছেন।

টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় আছেন বিএনপির  স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বেগম সেলিমা রহমান, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাঈল জবিউল্লাহ, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, হুমায়ূন কবীর, জিয়া হায়দারসহ কয়েকজন।

এদিকে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবীব-উন-নবী খান সোহেলও আলোচনায় আছেন।

মন্ত্রিসভায় বিএনপি জোটে শরিকদের মধ্যে আলোচনায় আছেন আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি, নুরুল হক নুর, ববি হাজ্জাজসহ কয়েকজন।

প্রধানমন্ত্রীকে সহযোগিতাবিষয়ক বড় কোনো দায়িত্বে যাচ্ছেন তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। এ ছাড়া বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিনও এ ধরনের কোনো দায়িত্ব পেতে পারেন বলে আলোচনায় আছেন।

সূত্র : কালের কণ্ঠ