খুঁজুন
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

উত্তরাধিকার পেরিয়ে নেতৃত্বে দুই নারী : বদলে যাচ্ছে ফরিদপুরের রাজনীতি

হারুন-অর-রশীদ ও মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৪৭ অপরাহ্ণ
উত্তরাধিকার পেরিয়ে নেতৃত্বে দুই নারী : বদলে যাচ্ছে ফরিদপুরের রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফরিদপুরের রাজনীতিতে এক নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দলীয় প্রভাব এবং ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতার সমন্বয়ে এবারের নির্বাচনে যে ফলাফল এসেছে, তা শুধু বিজয়-পরাজয়ের হিসাব নয়; বরং রাজনীতির ভেতরের পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দিচ্ছে।

চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, যার মধ্যে নারী প্রার্থী ছিলেন তিনজন। শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি ফুটেছে দুই নারী প্রার্থীর মুখে—ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ ইসলাম (রিংকু) এবং ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের ফলাফল প্রমাণ করেছে—রাজনীতিতে উত্তরাধিকার একটি ভিত্তি তৈরি করতে পারে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণ করে জনগণের আস্থা, মাঠপর্যায়ের সংযোগ এবং সাংগঠনিক দক্ষতা।

ফরিদপুর-২: ঐতিহ্য থেকে নেতৃত্বে উত্তরণ:

সালথা-নগরকান্দা আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয় পেয়েছেন শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি ১ লাখ ২১ হাজার ৬৯৪ ভোট পেয়ে প্রায় ৩২ হাজারের বেশি ব্যবধানে বিজয়ী হন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এই আসনে তাঁর জয়কে রাজনৈতিক ধারাবাহিকতার সফল প্রয়োগ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

প্রয়াত বিএনপি মহাসচিব ও সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুর রহমানের কন্যা হিসেবে তাঁর পরিচিতি থাকলেও, নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজেকে একজন স্বতন্ত্র রাজনৈতিক কর্মী হিসেবেই তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, “উত্তরাধিকার কোনো সুবিধা নয়, এটি দায়িত্ব। মানুষের আস্থা অর্জনই আমার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।”

নির্বাচনের আগে ও পরে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে তিনি গ্রামীণ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলেন। বিশেষ করে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার ও আধুনিক সংরক্ষণাগার স্থাপন, নারীদের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন এবং তরুণদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি আমার কাছে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দায়িত্বপূর্ণ পথ।” তাঁর এই বার্তাই গ্রামীণ ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

ফরিদপুর-৩: শহরকেন্দ্রিক উন্নয়নের অঙ্গীকার:

ফরিদপুর সদর আসনে চৌধুরী নায়াব আহমেদ ইউসুফ ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। এই আসনটি ঐতিহ্যগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। তাঁর জয়কে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা “আস্থা পুনরুদ্ধারের বিজয়” হিসেবে উল্লেখ করছেন।

সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কন্যা হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি থাকলেও, তিনি দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কার্যক্রম ও মহিলা সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। ফলে এবারের নির্বাচনে তিনি শুধু পারিবারিক পরিচয়ের ওপর নির্ভর করেননি; বরং নিজের সাংগঠনিক দক্ষতা দিয়ে ভোটারদের আস্থা অর্জন করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, তাঁর প্রধান লক্ষ্য ফরিদপুর শহরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরীতে রূপান্তর করা। এর মধ্যে রয়েছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, শহরের অবকাঠামো উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা।

নায়াব ইউসুফ বলেন, “মানুষ এখন শুধু অতীতের স্মৃতির ওপর নির্ভর করে না, তারা ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখে সিদ্ধান্ত নেয়। আমি সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে চাই।”

নারী নেতৃত্ব: প্রতীক থেকে বাস্তব শক্তিতে:

ফরিদপুরের চারটি আসনে তিনজন নারী প্রার্থী অংশ নিলেও দুইজনের বিজয় স্থানীয় রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছে। একসময় যেখানে নারী প্রার্থিতা ছিল ব্যতিক্রম, এখন তা নির্বাচনী রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পারিবারিক রাজনৈতিক পটভূমি একটি প্রাথমিক স্বীকৃতি তৈরি করে। তবে শেষ পর্যন্ত বিজয় নির্ভর করে মাঠপর্যায়ের যোগাযোগ, ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর। এবারের নির্বাচনে সেই বাস্তবতাই প্রতিফলিত হয়েছে।

দুই নারী নেত্রীর রাজনৈতিক বক্তব্যে একটি সাধারণ বিষয় স্পষ্ট—তাঁরা রাজনীতিকে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা হিসেবে নয়, বরং দায়িত্ব ও সেবার ক্ষেত্র হিসেবে তুলে ধরছেন। শামা ওবায়েদ ইসলাম যেখানে গ্রামীণ অর্থনীতি ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর জোর দিচ্ছেন, সেখানে নায়াব ইউসুফ শহরকেন্দ্রিক উন্নয়ন ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আধুনিকায়নের কথা বলছেন।

বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্র:

ফরিদপুরের চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ফলে জেলার রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি স্পষ্ট পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে রাজনৈতিক দলীয় হিসাবের বাইরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে নারী নেতৃত্বের উত্থান।

এই পরিবর্তনকে অনেকেই জাতীয় রাজনীতির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন, যেখানে নারী অংশগ্রহণ ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং নেতৃত্বের জায়গায় তাদের উপস্থিতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

সামনে চ্যালেঞ্জ:

নির্বাচনে বিজয় যেমন রাজনৈতিক স্বীকৃতি দেয়, তেমনি বাড়িয়ে দেয় জনগণের প্রত্যাশাও। শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং চৌধুরী নায়াব ইউসুফ—দুজনের কাছেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং দলমত নির্বিশেষে সবার প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা।

স্থানীয় জনগণের প্রত্যাশা, এই দুই নারী নেতা তাঁদের প্রতিশ্রুত উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ফরিদপুরের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন। এখন দেখার বিষয়, জনগণের দেওয়া এই আস্থা কত দ্রুত বাস্তব উন্নয়নে রূপ নেয়।

সব মিলিয়ে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফরিদপুরে শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়; বরং নেতৃত্বের ধরণ, রাজনৈতিক ভাষ্য এবং জনগণের প্রত্যাশার একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে—যেখানে নারী নেতৃত্ব ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দ্রুত ফাঁসির দাবি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৯:২২ অপরাহ্ণ
রামিসা হত্যার বিচারের দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন, দ্রুত ফাঁসির দাবি

ঢাকার পল্লবীতে আলোচিত রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফরিদপুরে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে শহরের প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধর্ষণ, হত্যা ও সহিংসতার মতো অপরাধ সমাজে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। এসব অপরাধ দমনে দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির বিকল্প নেই। তারা অভিযোগ করেন, অনেক সময় বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় অপরাধীরা পার পেয়ে যায়, ফলে সমাজে অপরাধ প্রবণতা আরও বেড়ে যায়।

মানববন্ধনে বক্তারা রামিসা হত্যার বিচার ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করে দোষীদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ছাত্র শক্তি ফরিদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক সাইদুল ইসলাম, সদস্য সচিব সজল, যুগ্ম-আহ্বায়ক বৈশাখী ইসলাম বর্ষা, মুখ্য সমন্বয়ক রাতুল, সাংগঠনিক সম্পাদক জনি বিশ্বাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

“রাতজাগা ফরিদপুর রেলস্টেশনের নীরবতা”

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
“রাতজাগা ফরিদপুর রেলস্টেশনের নীরবতা”

গভীর রাত। নিস্তব্ধ হয়ে আছে ফরিদপুর রেলস্টেশন। দিনের কোলাহল, মানুষের হাঁকডাক আর ট্রেনের তীব্র শব্দ যেন রাতের আঁধারের কাছে হার মেনে চুপ করে গেছে। চারদিকে শুধু অন্ধকারের বিস্তার। দূরে দূরে দাঁড়িয়ে থাকা ল্যাম্পপোস্টগুলো ধিকিধিকি জ্বলছে, যেন ক্লান্ত প্রহরী হয়ে রাত পাহারা দিচ্ছে। সেই ম্লান আলো এসে পড়ছে রেললাইনের উপর, আর লোহার পাতগুলো চিকচিক করে উঠছে এক অদ্ভুত বিষণ্ন সৌন্দর্যে।

প্ল্যাটফর্মে কোথাও কোনো ভিড় নেই। নেই ব্যস্ত মানুষের ছুটে চলা, নেই চায়ের দোকানের কাপে কাপে ধোঁয়া ওঠা গল্প। শুধু হালকা বাতাস বয়ে যাচ্ছে নীরবে। মাঝে মাঝে দূর থেকে ভেসে আসছে কুকুরের ডাক, আর তাতে নিস্তব্ধ রাত আরও গভীর হয়ে উঠছে। বৃষ্টির পানিতে জমে থাকা ছোট ছোট জলকাদায় ল্যাম্পপোস্টের আলো পড়ে যেন ভাঙা আয়নার মতো ঝিলমিল করছে।

এই রাতের রেলস্টেশন যেন এক নিঃসঙ্গ কবিতা। এখানে দাঁড়ালে মনে হয়, জীবনের কত গল্প এই প্ল্যাটফর্ম চুপচাপ নিজের বুকে জমিয়ে রেখেছে। কত মানুষের বিদায়, কত প্রতীক্ষা, কত অশ্রু আর কত স্বপ্ন এই রেললাইন ধরে দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। দিনের ব্যস্ত শহর ঘুমিয়ে পড়লেও রেলস্টেশন যেন জেগে থাকে স্মৃতির পাহারায়।

ফরিদপুর রেলস্টেশনের এই নিরব রাত মানুষকে অদ্ভুত এক অনুভূতির ভেতর ডুবিয়ে দেয়। এখানে দাঁড়িয়ে মনে হয়, পৃথিবীর সমস্ত শব্দ থেমে গেলেও কিছু অনুভূতি কখনো থামে না। অন্ধকারের মাঝেও মিটমিটে আলো যেমন জ্বলে থাকে, তেমনি মানুষের জীবনেও আশা নামের ছোট্ট আলোটি কখনো নিভে যায় না।

লেখক: সংবাদকর্মী, ফরিদপুর।

কঠিন চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০ উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৬:৩৫ অপরাহ্ণ
কঠিন চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০ উপায়

জীবন যখন এলোমেলো হয়ে যায়, তখন কেবল ‘শান্ত হও’ কথাটি শুনলে বিরক্তি জাগাই স্বাভাবিক। কিন্তু কঠিন পরিস্থিতিতেও নিজের মাথা ঠান্ডা রাখা কোনো অলৌকিক ক্ষমতা নয়, বরং এটি একটি চর্চানির্ভর দক্ষতা।

মনোবিজ্ঞানীরা এমন কিছু কার্যকরী কৌশলের কথা বলেন যা আমাদের মস্তিষ্ক ও শরীরকে পরিস্থিতির সাথে নতুনভাবে মানিয়ে নিতে সাহায্য করে।

চলুন জেনে নিই চাপের মুখে শান্ত থাকার ১০টি বৈজ্ঞানিক উপায়-

১. শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম (বক্স ব্রিদিং)

আতঙ্কিত হলে আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস অগভীর হয়ে যায়, যা মস্তিষ্ককে বিপদের সংকেত দেয় [৩]। এটি কাটাতে ‘বক্স ব্রিদিং’ পদ্ধতি ব্যবহার করুন—৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস নিন, ৪ সেকেন্ড ধরে রাখুন, ৪ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়ুন এবং আবার ৪ সেকেন্ড বিরতি দিন। এটি হৃদস্পন্দন কমিয়ে মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে।

২. নিয়ন্ত্রণের গণ্ডি ছোট করে আনা

যেসব বিষয় আপনার নিয়ন্ত্রণে নেই (যেমন- অন্যের খারাপ মেজাজ বা বাজারের পরিস্থিতি) তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করলে উদ্বেগ আরও বাড়ে। তাই আপনার মনোযোগ কেবল সেই কাজে দিন যা আপনি এই মুহূর্তে করতে পারেন। ছোট কোনো কাজ, যেমন: টেবিল গুছানো বা একটি জরুরি ইমেল পাঠানো, আপনার অসহায়ত্বের বোধ কমিয়ে দেবে।

৩. বর্তমানের সাথে সংযোগ স্থাপন (৫-৪-৩-২-১ পদ্ধতি)

চাপের সময় মন প্রায়ই ভবিষ্যতের খারাপ চিন্তায় ডুবে যায়। মনকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনতে এই পদ্ধতিটি কার্যকর: চারপাশে দেখুন এবং মুখে নাম বলুন ৫টি দেখার মতো জিনিসের, ৪টি স্পর্শ করা যায় এমন জিনিসের, ৩টি শোনার মতো শব্দের, ২টি গন্ধের এবং ১টি স্বাদের। এটি আপনার মস্তিষ্ককে কাল্পনিক বিপদ থেকে সরিয়ে বাস্তবের তথ্যে নিবদ্ধ করে।

৪. মনের নেতিবাচক বয়ান বদলে ফেলা

নিজের সাথে নেতিবাচক কথা বলা বন্ধ করুন। ‘সব শেষ হয়ে গেল’—এমনটি না ভেবে নিজেকে বলুন, ‘পরিস্থিতি কিছুটা জটিল, তবে আমি ধাপে ধাপে এটি সামাল দিতে পারব’ । একে মনোবিজ্ঞানের ভাষায় ‘কগনিটিভ রিফ্রেমিং’ বলা হয়, যা আপনাকে পঙ্গু করে দেওয়ার মতো ভীতি থেকে রক্ষা করে।

৫. দশ সেকেন্ডের বিরতি

বিপদের সময় আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখাই, যা প্রায়শই ভুল হয়। কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া বা উত্তর দেওয়ার আগে অন্তত ১০ সেকেন্ডের একটি বাধ্যতামূলক বিরতি নিন । এই সামান্য সময় আপনাকে আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়ার বদলে কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে।

৬. শরীরের যত্ন নেওয়া

যদি আপনার শরীরে ঘুম, পানি বা পুষ্টিকর খাবারের অভাব থাকে, তবে ছোটখাটো সমস্যাও পাহাড়ের মতো মনে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং হাইড্রেটেড থাকা বিলাসিতা নয়, বরং মানসিক স্থিরতার জন্য অপরিহার্য। একটি সুস্থ শরীর স্বাভাবিকভাবেই কম স্ট্রেস হরমোন তৈরি করে।

৭. তথ্যের জোয়ার নিয়ন্ত্রণ

চাপের সময় সারাক্ষণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা নিউজ পোর্টাল স্ক্রল করা আগুনের ওপর পেট্রোল ঢালার মতো কাজ করে। অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন বন্ধ রাখুন এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য কঠোর সীমানা নির্ধারণ করুন। তথ্য যত কম প্রবেশ করবে, মনের স্বচ্ছতা তত বাড়বে।

৮. কঠোর আত্ম-সমালোচনা বন্ধ করুন

নিজের ভেতরের নেতিবাচক সমালোচককে বিদায় দিন। নিজেকে দোষারোপ করলে স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। একজন ভালো কোচের মতো নিজেকে সমর্থন করুন এবং মনে করিয়ে দিন যে আপনি এর আগেও অনেক কঠিন সময় পার করেছেন।

৯. বিশ্বস্ত মানুষের সাথে কথা বলা

মানুষের সাথে সংযোগ স্ট্রেসের জন্য প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে [৮]। এমন কোনো বন্ধু বা মেন্টরের কাছে মনের ভার নামিয়ে ফেলুন যিনি আপনাকে তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে না গিয়ে কেবল মন দিয়ে শুনবেন। এটি আপনার স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং সমস্যাকে ছোট করে দেখতে সাহায্য করে।

১০. ছোট ছোট রুটিন মেনে চলা

পারিপার্শ্বিক অবস্থা যখন অনিশ্চিত হয়ে পড়ে, তখন ছোট ছোট রুটিন আপনাকে মানসিকভাবে নিরাপদ রাখবে। সকালে নিয়ম করে কফি বানানো, দুপুরের বিরতিতে ১০ মিনিট হাঁটা বা ঘুমানোর আগে ডায়েরি লেখা—এই ছোট কাজগুলো আপনার মস্তিষ্ককে মনে করিয়ে দেয় যে আপনি এখনও পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে আছেন। মনে রাখবেন, বাইরের বিশৃঙ্খলা আপনি নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলেও, নিজের ভেতরের শান্তি ধরে রাখার চাবিকাঠি কিন্তু আপনার হাতেই।

তথ্যসূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া