খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

পদ্মা পাড়ে আগাম পেঁয়াজ চাষে বদলাচ্ছে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের অর্থনীতি

মো. নুর ইসলাম, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫, ৬:২৬ পূর্বাহ্ণ
পদ্মা পাড়ে আগাম পেঁয়াজ চাষে বদলাচ্ছে ফরিদপুরের চরাঞ্চলের অর্থনীতি

একসময় পদ্মা নদীর পাড় মানেই ছিল নদীভাঙন, অনিশ্চয়তা আর ফসল হারানোর শঙ্কা। বর্ষা এলেই বসতভিটা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে থাকতেন চরাঞ্চলের মানুষ। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলাতে শুরু করেছে। ফরিদপুরে পদ্মা নদীর তীরবর্তী চর ও নদী পাড়ের জমিতে আগাম (মুড়িকাটা) পেঁয়াজ চাষ করে এখন লাভের মুখ দেখছেন কৃষকেরা। আগাম পেঁয়াজ চাষ এখন ফরিদপুরের চরাঞ্চলের অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার পদ্মা পাড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় এখন চোখে পড়ে সবুজ পেঁয়াজক্ষেত। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, নদীর পাড় ঘেঁষে সবুজ কার্পেট বিছানো হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কৃষকেরা এসব ক্ষেতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি সালথা, মধুখালী ও বোয়ালমারী উপজেলাতেও এ বছর আগাম পেঁয়াজ চাষ হয়েছে বলে কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে।

আগাম পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম, লাভ বেশি:

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধারণ মৌসুমের তুলনায় আগাম (মুড়িকাটা) পেঁয়াজ চাষে ঝুঁকি কম এবং লাভ বেশি। সাধারণত অক্টোবরের শেষ দিকে গুটি পিয়াজ রোপণ করা হয়। ডিসেম্বরের শেষ থেকে জানুয়ারির শুরুতেই পেঁয়াজ তোলা শুরু হয়। এ সময় বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম তুলনামূলক বেশি পাওয়া যায়। মাত্র ৬০–৭০ দিনের মধ্যেই পেঁয়াজ বাজারজাত করা সম্ভব হওয়ায় কম সময়ে বেশি লাভ হচ্ছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নর্থচ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গী গ্রামের কৃষক শেখ জলিল বলেন, “আমি ৬৬ শতাংশ জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছি। প্রতি বিঘায় প্রায় ৬০–৭০ হাজার টাকা খরচ হলেও ফলন হয়েছে ৫০ মণের বেশি। মাঠ থেকেই মনপ্রতি ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকা দরে পেঁয়াজ বিক্রি করেছি। এতে প্রতি বিঘায় আয় হয়েছে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা।”
তিনি আরও বলেন, “এলসি এলে পেঁয়াজের দাম কমে যায়, তাই আগাম কাঁচা পেঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছি।”

পদ্মা পাড়ের বেলে-দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষে উপযোগী:

কৃষি বিভাগ জানায়, চলতি মৌসুমে ফরিদপুর জেলায় আগাম পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি। এর বিপরীতে চাষ হয়েছে ৫ হাজার ৩৬৫ হেক্টরে। এতে প্রায় ৮২ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদনের আশা করা হচ্ছে।

পদ্মা পাড়ের বেলে-দোআঁশ মাটি পানি দ্রুত নিষ্কাশন করতে পারে, ফলে পচন ও রোগবালাই কম হয়। শীত মৌসুমের রোদ ও হালকা ঠান্ডা আবহাওয়া মুড়িকাটা পেঁয়াজের গুণগত মান ও স্বাদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান বলেন, “মুড়িকাটা পেঁয়াজ মূলত আগাম জাত। ফরিদপুর সদর ও সদরপুর উপজেলার পদ্মা পাড়ে এর চাষ বেশি হয়েছে। সঠিক পরিচর্যা করলে বিঘাপ্রতি ভালো ফলন পাওয়া যায় এবং কৃষকেরা অল্প সময়েই লাভবান হন।”

ক্ষেত থেকেই বিক্রি, কমছে মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য:

এ বছর অনেক কৃষক ক্ষেত থেকেই পাইকারদের কাছে পেঁয়াজ বিক্রি করছেন। এতে পরিবহন খরচ ও ঝুঁকি কমছে। পদ্মা পাড়ের আগাম পেঁয়াজ ফরিদপুরের স্থানীয় হাট ছাড়িয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বাজারে সরবরাহ হচ্ছে।

রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দুদুখানপাড়া গ্রামের কৃষক শামচু শেখ জানান, “লিজ নিয়ে একশো শতাংশ জমিতে মুড়িকাটা পেঁয়াজ চাষ করেছি। ক্ষেত থেকেই পাইকার পেঁয়াজ নিয়ে যায় বলে ঝামেলা কম। বর্তমানে মনপ্রতি ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।”

নারীদের অংশগ্রহণে বাড়ছে কর্মসংস্থান:

আগাম পেঁয়াজ তোলা, পরিষ্কার ও বাছাইয়ের কাজে স্থানীয় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এতে চর ও নদী পাড় এলাকায় অস্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী শ্রমিক বলেন, “প্রতি ঝাঁকা পেঁয়াজ কাটায় ১০–২০ টাকা পাই। এতে সংসারের খরচে সহায়তা হয়।”

চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা:

সব সম্ভাবনার মাঝেও আগাম পেঁয়াজ চাষে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অকাল বৃষ্টি বা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ফসল ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। এছাড়া পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগারের অভাবে অনেক সময় কৃষকেরা ন্যায্য দামের জন্য অপেক্ষা করতে পারেন না। কৃষকদের মতে, সরকারি সহায়তা ও আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে ফরিদপুরে আগাম পেঁয়াজ চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

বদলাচ্ছে পদ্মা পাড়ের জীবনচিত্র:

সব মিলিয়ে ফরিদপুরের পদ্মা পাড়ে আগাম পেঁয়াজ চাষ কৃষকদের জীবনে নতুন আশার আলো জ্বালিয়েছে। নদীভাঙন ও অনিশ্চয়তার মাঝেও সবুজ এই ফসল হয়ে উঠেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বাবলম্বিতার প্রতীক। আগাম পেঁয়াজ এখন ফরিদপুরের অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৃষিপণ্য হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।

সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

মিজানুর রহমান, সদরপুর:
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
সদরপুরের পদ্মাবেষ্টিত ইউনিয়নে নির্মাণ হচ্ছে পরিষদ ভবন, অবসান হবে দীর্ঘদিনের ভোগান্তির

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত প্রত্যন্ত চরাঞ্চল দিয়ারা নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন অবশেষে পেতে যাচ্ছে নিজস্ব ইউনিয়ন পরিষদ ভবন। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদ ভবন না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিতে ট্রলারে প্রায় দুই ঘণ্টা পদ্মা নদী পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে হতো। প্রায় দুই হাজার পরিবারের এই ইউনিয়নে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে ইউনিয়নের নুরুদ্দিন সরদার কান্দী বাজার সংলগ্ন এলাকায় সেমি-পাকা ইউনিয়ন পরিষদ ভবন নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মাজহারুল ইসলাম।

এর আগে একই ইউনিয়নের উপজেলা প্রশাসন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শরীফ শাওন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন সরদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোফাজ্জল হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ভবন না থাকায় প্রয়োজনীয় সেবা গ্রহণে তাদের নানা ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হতো। নতুন ভবন নির্মিত হলে ইউনিয়নবাসী নিজ এলাকাতেই সহজে নাগরিক সেবা গ্রহণ করতে পারবেন। এতে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

এদিকে বহুদিনের প্রত্যাশিত ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে চরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে।

প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর ব্যক্তিকে যে ৭ কথা বলা উচিত নয়?

আপনার প্রিয়জন হারানোর শোকে কাতর কোনো বন্ধু বা আত্মীয়ের পাশে দাঁড়িয়ে আমরা প্রায়ই বুঝতে পারি না কী বলা উচিত। আমরা তাদের সান্ত্বনা দিতে চাই, কিন্তু অনেক সময় আমাদের বলা কথাগুলো হিতে বিপরীত হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শোক কোনো সহজ বিষয় নয় এবং একে অন্যের জন্য আরামদায়ক করার কোনো সংক্ষিপ্ত পথ নেই।

নিচে এমন ৭টি কথার তালিকা দেওয়া হলো যা প্রিয়জন হারানো ব্যক্তিকে বলা থেকে বিরত থাকা উচিত:

১. সবকিছুই কোনো না কোনো কারণে ঘটে: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির কষ্টকে ছোট করে ফেলে। কারণ, সব শোকের পেছনে কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকে না এবং কোনো কারণই প্রিয়জনকে হারানোর অভাব পূরণ করতে পারে না।

২. আমি ঠিক জানি আপনার কেমন লাগছে: শোক একটি অত্যন্ত ব্যক্তিগত অনুভূতি এবং প্রত্যেকের অভিজ্ঞতা আলাদা। এমনকি আপনি নিজে কাউকে হারিয়ে থাকলেও, অন্যের শোকের সাথে নিজের তুলনা করা উচিত নয়।

৩. অন্তত আপনি প্রস্তুতির সময় পেয়েছিলেন: দীর্ঘ অসুস্থতার পর কেউ মারা গেলে অনেকেই এটি বলেন। কিন্তু প্রিয়জন চলে যাবে এটা আগে থেকে জানলেও তার চলে যাওয়ার কষ্ট বা ব্যথা একটুও কমে না।

৪. অন্তত আপনার অন্য সন্তান বা পরিবারের সদস্যরা তো আছে: এই কথার মাধ্যমে বোঝানো হয় যে একজনের অভাব অন্যজন দিয়ে পূরণ করা সম্ভব। এটি মৃত ব্যক্তির গুরুত্বকে খাটো করে দেখায়।

৫. শক্ত হোন: এই কথাটি শোকাতুর ব্যক্তির ওপর আবেগ চেপে রাখার জন্য এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে। শোকের সময় ভেঙে পড়াটাই স্বাভাবিক এবং অনেক সময় এটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।

৬. এখন সব ভুলে সামনে এগিয়ে যেতে হবে: শোক কাটানোর কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাউকে ভুলে যাওয়া বা সরিয়ে দেওয়ার নাম শোক কাটিয়ে ওঠা নয়, বরং শোককে জীবনের অংশ হিসেবে মেনে নিতে শিখতে অনেক সময়ের প্রয়োজন হয়।

৭. শুধু ভালো স্মৃতিগুলোর কথা ভাবুন: শোকের শুরুতে ভালো স্মৃতিগুলোও অনেক সময় কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়ায় কারণ সেই মানুষটির অনুপস্থিতি আরও প্রকটভাবে অনুভূত হয়। শোকাতুর ব্যক্তি কীভাবে শোক পালন করবেন তা নির্ধারণ করে দেওয়া উচিত নয়।

সঠিকভাবে পাশে দাঁড়ানোর উপায়

সান্ত্বনা দেওয়ার বদলে আপনার উপস্থিতিই সবচেয়ে বড় সমর্থন হতে পারে। আপনি বলতে পারেন, ‘আমি জানি না কী বলা উচিত, তবে আমি তোমার পাশে আছি’। এছাড়া শুধু কথা না বলে ঘরের কাজে সাহায্য করা বা নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার মাধ্যমেও দীর্ঘমেয়াদী সমর্থন দেওয়া সম্ভব। মনে রাখবেন, লক্ষ্য শোক দূর করা নয়, বরং তাকে অনুভব করানো যে এই কঠিন যাত্রায় তিনি একা নন।

তথ্যসূত্র: ভেরিওয়েল মাইন্ড

খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৭:৫৮ পূর্বাহ্ণ
খবরের কাগজে গরম খাবার খান, এতে শরীরে কী কী ঘটে জানুন

শহর কিংবা গ্রামের ব্যস্ত মোড়ে গরম গরম সিঙাড়া, চপ, ঝালমুড়ি বা পরোটা খবরের কাগজে মুড়ে খাওয়ার দৃশ্য আমাদের অত্যন্ত পরিচিত। বিক্রেতা এবং ক্রেতা উভয় পক্ষই একে সস্তা ও সুবিধাজনক মনে করেন। কিন্তু এই আপাত নিরীহ অভ্যাসের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি। খবরের কাগজে ব্যবহৃত কালির বিষাক্ত উপাদানগুলো কীভাবে নীরবে আপনার শরীরে প্রবেশ করছে, তা আমাদের অনেকেরই ধারণার বাইরে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর পরিবেশে এবং পরিষ্কারভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজের সংস্পর্শে আসার মাত্রই তা বিষাক্ত হয়ে উঠতে পারে। এই বিপদজনক প্রবণতা রুখতে ভারতের ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (FSSAI) এবং কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণায়ল এখন সোচ্চার হয়েছে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় তারা কঠোর সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে যে, খবরের কাগজে খাবার পরিবেশন কেবল অস্বাস্থ্যকর নয়, বরং এটি শরীরের দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতির কারণ হতে পারে।

খবরের কাগজে মুড়ে খাবার খাওয়ার ফলে শরীরে ঠিক কী কী ঘটে, তা নিচে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে বিষাক্ত কালি

খবরের কাগজে মুদ্রণের জন্য যে কালি ব্যবহার করা হয়, তাতে একাধিক বায়ো-অ্যাকটিভ (bioactive) উপাদান থাকে। যখন গরম বা তৈলাক্ত খাবার এই কাগজের সংস্পর্শে আসে, তখন কাগজের কালি খুব সহজেই খাবারের সঙ্গে মিশে যায়। এমনকি খাবারটি যদি অত্যন্ত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না করা হয়, তবুও খবরের কাগজে রাখার ফলে তা শরীরের জন্য বিষাক্ত হয়ে ওঠে।

২. রাসায়নিক ও রঞ্জক পদার্থের প্রভাব

মুদ্রণের কালিতে ক্ষতিকারক রং, পিগমেন্ট (pigments), বাইন্ডার এবং প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই রাসায়নিক উপাদানগুলো খাবারের মাধ্যমে সরাসরি শরীরে প্রবেশ করে। এছাড়া রিসাইকেল করা কাগজ বা কার্ডবোর্ড বক্সের ক্ষেত্রে ‘থ্যালেট’ (phthalate)-এর মতো রাসায়নিক থাকার সম্ভাবনা থাকে, যা তীব্র বিষক্রিয়া এবং হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

৩. জীবাণুর সংক্রমণ ব্যবহৃত

খবরের কাগজ বিভিন্ন হাত ঘুরে আসে এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রাখা হতে পারে। ফলে এতে বিভিন্ন ধরনের রোগজীবাণু বা প্যাথোজেনিক মাইক্রো-অর্গানিজম থাকতে পারে, যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৪. ক্যানসারের ঝুঁকি ও দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি

বিশেষজ্ঞদের মতে, খবরের কাগজে রাখা খাবার দীর্ঘকাল খাওয়ার ফলে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু, কিশোর, বয়স্ক এবং যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে এটি ক্যানসার-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও সতর্কতা

ভারতের কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং FSSAI সাধারণ মানুষকে খবরের কাগজে মোড়ানো বা ঢাকা দেওয়া খাবার বর্জন করার আহ্বান জানিয়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা বিক্রেতাদের এই অভ্যাস থেকে বিরত থাকার এবং জনসাধারণকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। নিরাপদ খাদ্যাভ্যাসের স্বার্থে খাবার পরিবেশনের জন্য নির্দিষ্ট ফুড-গ্রেড কাগজ বা কলাপাতার মতো প্রাকৃতিক বিকল্প ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আপনার সামান্য সচেতনতাই আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে বড় ধরনের স্বাস্থ্য ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে পারে। তাই রাস্তার খাবার খাওয়ার সময় কাগজের বদলে স্বাস্থ্যসম্মত মাধ্যম বেছে নিন।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি