খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

নতুন প্রত্যাশার আলোতে ২০২৬—সময় বদলের অঙ্গীকারে শুরু হলো ইংরেজি নববর্ষ

হারুন-অর-রশীদ
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৪ এএম
নতুন প্রত্যাশার আলোতে ২০২৬—সময় বদলের অঙ্গীকারে শুরু হলো ইংরেজি নববর্ষ

আজ ইংরেজি ২০২৬ সালের প্রথম দিন। সময়ের ক্যালেন্ডারে আরেকটি নতুন পাতা যুক্ত হলো। বিদায় নিলো স্মৃতি, অর্জন, ব্যর্থতা আর সাফল্যে ভরা ২০২৫ সাল; আর তার জায়গায় শুরু হলো নতুন স্বপ্ন, নতুন লক্ষ্য আর নতুন প্রত্যাশার বছর—২০২৬। ভোরের প্রথম আলোতেই মানুষের মনে জেগেছে পরিবর্তনের আশাবাদ, জীবনে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় সংকল্প।

ইংরেজি নববর্ষ উদযাপন আমাদের সংস্কৃতিতে সরাসরি উৎসবের রূপ না নিলেও, এই দিনটি আত্মসমালোচনা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার এক গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। গত বছরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়া, অপূর্ণ স্বপ্নগুলো পূরণের সাহস জোগাড় করা এবং ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তনের শপথ নেওয়ার দিন হিসেবেই অনেকের কাছে নববর্ষের তাৎপর্য গভীর।

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে নতুন বছরের প্রথম দিনটি নানা রকম প্রত্যাশা নিয়ে আসে। কর্মজীবী মানুষ নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করেন—কেউ চায় পেশাগত উন্নতি, কেউ আর্থিক স্বচ্ছলতা, কেউবা মানসিক প্রশান্তি। শিক্ষার্থীদের চোখে নতুন বছর মানে নতুন সাফল্যের স্বপ্ন, ভালো ফলাফল আর ভবিষ্যৎ গড়ার দৃঢ় প্রস্তুতি। আবার অনেকের কাছে এটি মানবিক মূল্যবোধে ফিরে যাওয়ার সময়—সহমর্মিতা, সততা ও দায়িত্ববোধকে নতুন করে ধারণ করার অঙ্গীকার।

বিশ্ব পরিস্থিতির দিক থেকেও ২০২৬ সাল নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হচ্ছে। অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি—সবকিছু মিলিয়ে নতুন বছর আমাদের সামনে নতুন প্রশ্নের পাশাপাশি নতুন সমাধানের পথও খুলে দিচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় জীবন আরও গতিশীল হচ্ছে, তবে মানবিকতা ও নৈতিকতার ভারসাম্য রক্ষা করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

এই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা বিনিময়ের পাশাপাশি অনেকেই নিঃশব্দে নিজের সঙ্গে নিজের প্রতিজ্ঞা করেন—আরও দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়া, পরিবারকে বেশি সময় দেওয়া, সমাজের জন্য কিছু করা। ছোট ছোট ভালো কাজের মধ্য দিয়েই যে বড় পরিবর্তন সম্ভব, সে বিশ্বাস নতুন বছরে আরও দৃঢ় হোক।

২০২৬ সালের প্রথম দিনটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সময় থেমে থাকে না, কিন্তু মানুষ চাইলে নিজেকে বদলাতে পারে। অতীতের অভিজ্ঞতাকে পাথেয় করে, বর্তমানকে সচেতনভাবে কাজে লাগিয়ে এবং ভবিষ্যতের দিকে দৃঢ় পদক্ষেপেই গড়ে উঠতে পারে একটি সুন্দর আগামী।

নতুন বছরের এই সূচনালগ্নে প্রত্যাশা একটাই—২০২৬ হোক শান্তি, সমৃদ্ধি ও মানবিকতার বছর। সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ, সুস্থতা আর সাফল্যের বার্তা। শুভ নববর্ষ ২০২৬।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।

‘দৃষ্টির চশমা’

গোলাম কিবরিয়া
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
‘দৃষ্টির চশমা’

নিশুতি রাত, থমথমে ভাব, পুকুর ঘাটের পাড়ে,
দুইটি মানুষ বসলো এসে খুব সাবধানে আড়ে।
এক পাড়ে এক পাকা চোর, অন্য পাড়ে মুমিন,
দুজনারই ব্যস্ততা আজ বেড়েছে অন্তহীন।

​চোর বেচারা হাত ধুয়ে নেয়, পোটলাটি তার পাশে,
ওপার পানে তাকিয়ে সে মুচকি মনে হাসে।
ভাবছে, “আহা! ওই বেটা তো মস্ত বড় চোর,
নিশ্চয় সেও সিঁধ কেটেছে ওস্তাদ বড় জোর!”

​মনেহয় সে কোনো বাড়ির সিন্দুক করেছে ফাঁকা,
আমার চেয়েও বেশি হয়তো মাল রয়েছে রাখা!
বড্ড সেয়ানা চোর তো ওটা, বসলো জলের ধারে,
কাজ সেরে আজ ফুরফুরে সে, শান্তি খোঁজে পাড়ে।

​ওপার পাড়ে ধার্মিক জন করছে ওযু ধীর,
ভাবছে, “আহা! ওই পাড়ে কে? বড্ড খোদাভীর!
আমার চেয়েও মস্ত বড় বুজুর্গ এক পীর,
ইবাদতে মত্ত হতে তাই তো হলেন স্থির।”

​তাহাজ্জুদের এই বেলাতে আমার সাথে জাগে,
খোদার প্রেমে মশগুল সে, মরণ কিসের আগে?
আহা! কপাল আমার ভালো, এমন সাথী পেলাম,
দূর থেকেই সেই বুজুর্গে জানাই হাজার সালাম!

লেখক: সহকারী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান,
বরগুনা সরকারি কলেজ

ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৫:৪২ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের প্রধান জামাত কেন্দ্রীয় ঈদগাহে সকাল ৮ টায়

পবিত্র ঈদুল ফিতর ২০২৬ উদযাপনকে সামনে রেখে ফরিদপুর জেলায় সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণের লক্ষ্যে এক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সুস্মিতা সাহা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রামানন্দ পালসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের প্রতিনিধিরা।

সভায় আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ফরিদপুর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সকাল ৮টায় জেলার প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। তবে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে বিকল্প হিসেবে জেলার বিভিন্ন মসজিদে ঈদের জামাত আয়োজনের ব্যবস্থা রাখা হবে।

এছাড়া ঈদ উপলক্ষে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঈদকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও জনসমাগমস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।

সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয় যে, ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে গণপরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি বাস টার্মিনাল ও গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান মোল্যা সভায় বলেন, ঈদ মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। তাই এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। তিনি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন।

সভায় আরও জানানো হয়, ঈদের সময় হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগসহ জরুরি সেবাগুলো চালু রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।