খুঁজুন
, ,

নীরবে কমছে চোখের পাওয়ার—এই ৪টি লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ২৮ মার্চ, ২০২৬, ৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
নীরবে কমছে চোখের পাওয়ার—এই ৪টি লক্ষণ এড়িয়ে যাবেন না

চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া মানেই হঠাৎ অন্ধকার নেমে আসা, এমনটা সবসময় ঘটে না। বরং বেশিভাগ ক্ষেত্রেই দৃষ্টিশক্তি ধীরে ধীরে কমতে থাকে, এতটাই নিঃশব্দে যে অনেকেই বুঝতেই পারেন না কখন সমস্যা শুরু হয়েছে।

আমরা প্রায়ই এসব লক্ষণকে ক্লান্তি, ঘুমের অভাব, অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার বা মানসিক চাপ বলে এড়িয়ে যাই। অথচ শরীর বারবার ছোট ছোট সংকেত দিয়ে আমাদের সতর্ক করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো এসব লক্ষণ চিহ্নিত করা গেলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে বাঁচা সম্ভব। না হলে তা ধীরে ধীরে স্থায়ী দৃষ্টিহীনতার কারণও হতে পারে।

ভারতের Dr Agarwals Eye Hospital-এর সিনিয়র কনসালট্যান্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. রজত কাপুর জানান, ‘দৃষ্টিশক্তি খুব কম ক্ষেত্রেই হঠাৎ কমে যায়। সাধারণত এটি ছোট ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়—হালকা ঝাপসা দেখা, ঘন ঘন মাথাব্যথা কিংবা রাতে দেখতে সমস্যা হওয়া; যা আমরা অনেক সময় গুরুত্ব দিই না।’

নিচে এমন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো অবহেলা করা ঠিক নয়—

১. ঘন ঘন মাথাব্যথা বা চোখে চাপ অনুভব

এটি সবসময় ক্লান্তির কারণে হয় না। দীর্ঘক্ষণ পড়াশোনা বা স্ক্রিন ব্যবহারের পর মাথাব্যথা হলে তা চোখের রিফ্র্যাকটিভ সমস্যার ইঙ্গিত হতে পারে। চোখের ফোকাসিং সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঘন ঘন মাথাব্যথা মস্তিষ্কের টিউমারের মতো জটিল সমস্যারও লক্ষণ হতে পারে।

২. রাতে গাড়ি চালাতে অসুবিধা

রাতে আলোতে সমস্যা হওয়া দৃষ্টিশক্তি কমার প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে। যেমন—গাড়ির হেডলাইটে অতিরিক্ত ঝলকানি, আলোর চারপাশে হ্যালো দেখা এবং কম আলোতে পরিষ্কার দেখতে না পারা। এগুলো ছানি (ক্যাটারাক্ট), রিফ্র্যাকটিভ পরিবর্তন বা রেটিনার সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।

৩. মাঝেমধ্যে ঝাপসা দেখা

হঠাৎ ঝাপসা দেখা আবার ঠিক হয়ে যাওয়া, এটিও অবহেলার বিষয় নয়। রক্তে শর্করার মাত্রা ওঠানামা করলে চোখের লেন্সে প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এই লক্ষণ বেশি দেখা যায়।

৪. ডাবল ভিশন বা দ্বৈত দেখা

হঠাৎ কখনও দুটি ছবি দেখা যাচ্ছে? ফোকাস করতে কষ্ট হচ্ছে? এই সমস্যাগুলো মূলত চোখের পেশির ভারসাম্যহীনতা ও স্নায়বিক জটিলতার লক্ষণ। এ ধরনের সমস্যা দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি, কারণ এর পেছনে গুরুতর কারণও থাকতে পারে।

বিশেষ সতর্কতা

চক্ষু বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, বর্তমানে মায়োপিয়া (দূরের জিনিস ঝাপসা দেখা) দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই মোবাইল ফোন চোখের খুব কাছে ধরে ব্যবহার করেন। এতে চোখে অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং পাওয়ার দ্রুত বাড়তে পারে।

এছাড়া গ্লুকোমা বা অন্যান্য রেটিনাজনিত রোগ অনেক সময় নীরবে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলোর তেমন কোনো লক্ষণই দেখা যায় না।

শেষ কথা

চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া কখনোই হঠাৎ ঘটে না, বরং শরীর আগে থেকেই ইঙ্গিত দেয়। তাই ছোট ছোট উপসর্গকে অবহেলা না করে সময়মতো পরীক্ষা করানো জরুরি। সচেতন থাকলে দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব, আর অবহেলা করলে তা স্থায়ী ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সূত্র হিন্দুস্তান টাইমস

ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়েছেন এক প্রসূতি। বিরল এ ঘটনায় চিকিৎসক, নার্স ও স্বজনদের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে আনন্দের মধ্যেই নেমে এসেছে বিষাদের ছায়া—জন্মের কিছুক্ষণ পরই পাঁচ নবজাতকের একজন মারা গেছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে তিন ছেলে ও দুই মেয়েসহ মোট পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি মোছা. চাঁদনী আক্তার।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চাঁদনী আক্তার ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার ভবুকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তার স্বামী মো. হাসান শেখ। প্রসববেদনা শুরু হলে বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তিনি স্বাভাবিকভাবে পাঁচ সন্তানের জন্ম দেন।

জন্ম নেওয়া পাঁচ নবজাতকের মধ্যে একটি সন্তান জন্মের পরপরই মারা যায়। বাকি চার নবজাতককে উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের নবম তলার শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। তারা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রসূতি মা বর্তমানে শারীরিকভাবে স্থিতিশীল রয়েছেন। জীবিত চার নবজাতকেরও সার্বক্ষণিক চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম (কুইন্টুপলেট) অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এমন গর্ভধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে মা ও নবজাতকদের জন্য বিশেষায়িত চিকিৎসা এবং নিবিড় পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। তাই জীবিত চার নবজাতকের সুস্থতা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

বোয়ালমারী প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ১০:০৩ অপরাহ্ণ
গরুর জন্য ঘাস কেটে ফেরার পথে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট, বোয়ালমারীতে যুবকের মৃত্যু

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মামুন বিশ্বাস (২৭) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (০২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মামুন বিশ্বাস রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং মো. লাখো বিশ্বাসের ছেলে। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে গরুর জন্য ঘাস কেটে বাড়ি ফিরছিলেন মামুন। পথে রাজাপুর এলাকার একটি মাছের পুকুরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানে টানানো একটি জিআই (গ্যালভানাইজড আয়রন) তারের সংস্পর্শে এসে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

জানা গেছে, স্থানীয় জাহিদ সিকদারের প্রায় ৮ বিঘা লিজ নেওয়া পুকুরে আধারকোঠা গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সরকার মাছ চাষ করে আসছিলেন। পুকুরের মাঝখানে রাতে আলো জ্বালানোর জন্য বাঁশের সঙ্গে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল। বাঁশটি স্থির রাখতে জিআই তার ব্যবহার করা হয়।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন না থাকায় ওই জিআই তার বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। অসাবধানতাবশত সেই তারে জড়িয়ে পড়ায় ঘটনাস্থলেই মামুনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে। পরে মরদেহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বোয়ালমারী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”

ফরিদপুরে গাঁজার আসরে অভিযান, ৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে গাঁজার আসরে অভিযান, ৭ জনকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড

ফরিদপুর শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে গাঁজা সেবনরত অবস্থায় ৭ জনকে আটক করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিকেলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি বিশেষ টিম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শহরের গুহলক্ষ্মীপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রকাশ্যে গাঁজা সেবন ও বহনের অভিযোগে ৭জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

আটক ব্যক্তিদের আদালতে হাজির করা হলে ফরিদপুর জেলার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দেব কুমার পাল এবং ইনসানা তানজিম ইকো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালত অপরাধের ধরন ও সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের বিভিন্ন মেয়াদের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার বলেন, “মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ফরিদপুর জেলাজুড়ে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মাদক সেবন, বহন, ক্রয়-বিক্রয় কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকেই আইনের আওতার বাইরে রাখা হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আলোকে আমাদের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে চলবে। একই সঙ্গে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো এলাকায় মাদক সংক্রান্ত তথ্য থাকলে তা গোপনীয়তার সঙ্গে অধিদপ্তরকে জানাতে তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।