খুঁজুন
, ,

যে ৫ অভ্যাস নীরবে হাড় দুর্বল করে?

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬, ৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
যে ৫ অভ্যাস নীরবে হাড় দুর্বল করে?

হাড়ের দুর্বলতা বা ভঙ্গুরতা যেকোনো বয়সেই দেখা দিতে পারে। এর পেছনে ভিটামিন বা মিনারেলের অভাব কিংবা আমাদের জীবনযাত্রার ধরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স বাড়ার সাথে সাথে হাড়ের আয়তন ও ঘনত্ব কমতে থাকে, যা বিশেষ করে নারীদের ক্ষেত্রে একটি অতি সাধারণ সমস্যা।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রতি ২ জন নারীর মধ্যে ১ জন এবং প্রতি ৪ জন পুরুষের মধ্যে ১ জন এই সমস্যায় আক্রান্ত হন। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের কিছু সাধারণ অভ্যাস হাড়কে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। নিচে এমন ৫টি অভ্যাস ও তার প্রতিকার নিয়ে আলোচনা করা হলো:

১. খাবারে লবণের অতিরিক্ত ব্যবহার

খাবারে অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার অভ্যাস হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। শরীরে লবণের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা ক্যালসিয়ামের মাত্রা কমিয়ে দেয়, যার ফলে হাড় ধীরে ধীরে ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। হাড়কে মজবুত রাখতে খাবারে লবণের ব্যবহার সীমিত করা জরুরি।

২. দীর্ঘ সময় বসে থাকা

৪০ বছর বয়সের পর হাড়ের ঘনত্ব প্রাকৃতিক নিয়মেই কমতে শুরু করে। বর্তমানে আমাদের কর্মঘণ্টার বেশিভাগ সময় বসে কাটে। শারীরিক সক্রিয়তা কম হওয়ায় হাড়ের গঠনগত শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হাড়কে দীর্ঘকাল সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটাচলা, জগিং কিংবা ওজন তোলার মতো ব্যায়াম করা উচিত, যা হাড়ের ঘনত্ব বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

৩. সূর্যের আলো এড়িয়ে চলা

সূর্যের আলো শরীরে ভিটামিন ডি তৈরিতে প্রধান ভূমিকা রাখে, যা হাড়ের জন্য অন্যতম অপরিহার্য উপাদান। ভিটামিন ডি ছাড়া শরীর ক্যালসিয়াম শোষণ করতে পারে না। ফলে শরীরে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম থাকলেও ভিটামিন ডি-এর অভাবে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ২৫ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি প্রয়োজন, যা সূর্যের আলো ছাড়াও মাছ, দুধ, ডিম এবং গরুর কলিজা থেকে পাওয়া সম্ভব।

৪. মিষ্টি পানীয় বা সফট ড্রিংকস

অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় বা সফট ড্রিংকস পানের অভ্যাস হাড়ের ব্যাপক ক্ষতি করে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, এই ধরনের পানীয় হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে সেগুলোকে দুর্বল করে দেয়।

৫. অতিরিক্ত চা বা কফি পান

যদি আপনি চা বা কফির প্রতি আসক্ত হন, তবে সাবধান! গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, অত্যধিক পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ করলে তা হাড়ের স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

বোনাস টিপস

ধূমপান ত্যাগ করুন। কারণ, এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের মতো হাড়ের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে। যারা নিয়মিত ধূমপান করেন, তাদের হাড় ভাঙার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে এবং কোনো কারণে হাড় ভেঙে গেলে তা জোড়া লাগতেও দীর্ঘ সময় লাগে। সুস্থ ও সবল হাড় পেতে আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করে একটি সক্রিয় জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত হোন।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ

ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ, খরচ-শ্রমিক সংকটে হাসি নেই কৃষকের

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে পাটের আবাদ, খরচ-শ্রমিক সংকটে হাসি নেই কৃষকের

দেশের অন্যতম পাট উৎপাদনকারী জেলা ফরিদপুরে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া এবং ভালো ফলনের আশায় কৃষকেরা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত জমিতে পাট চাষ করেছেন। তবে বাজারে পাটের দাম তুলনামূলক ভালো থাকলেও উৎপাদন ব্যয়, শ্রমিক সংকট এবং পাট কাটার অতিরিক্ত খরচের কারণে কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না কৃষকেরা।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর জমিতে। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহে শেষ পর্যন্ত ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭৪ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে।

বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাট ও আড়তে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, গত কয়েক বছরের তুলনায় এ দাম মোটামুটি সন্তোষজনক। কিন্তু কৃষকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই দামে লাভ খুবই সীমিত।

বোয়ালমারী উপজেলার কৃষক নুর আলম বলেন, “পাটের দাম আগের তুলনায় ভালো হলেও সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি অনেক বেড়ে গেছে। এক বিঘা জমিতে পাট চাষ করতে যে খরচ হয়, সে তুলনায় বর্তমান বাজারদামে তেমন লাভ থাকে না। প্রতি কাটা জমিতে গড়ে আধা মণ পাট উৎপাদন হয়। অন্তত প্রতি মণ পাটের দাম ৫ হাজার টাকার বেশি হলে কৃষক কিছুটা স্বস্তি পেত।”

নগরকান্দা উপজেলার কৃষক আলিম মোল্যা বলেন, “সবচেয়ে বড় সমস্যা এখন শ্রমিক সংকট। সময়মতো পাট কাটার লোক পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক সময় কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে পাট বেশি বড় হয়ে গেলে আঁশের মানও কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

ভাঙ্গা উপজেলার কৃষক শহিদ খান বলেন, “পাট কাটা, জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো ও শুকানো—সব মিলিয়ে অনেক শ্রমের কাজ। এখন একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। এত খরচ দিয়ে পাট চাষ করে খুব বেশি লাভ থাকে না।”

জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, অনেক কৃষক ইতোমধ্যে পাট কাটা শুরু করেছেন। কোথাও কোথাও পাট জাগ দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও আঁশ ছাড়ানোর কাজ চলছে। তবে অধিকাংশ কৃষকেরই অভিযোগ, শ্রমিকের অভাবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা যাচ্ছে না।

কৃষকেরা জানান, কয়েক বছর আগের তুলনায় কৃষি শ্রমিকের সংখ্যা কমে গেছে। অনেকেই বিকল্প পেশায় চলে যাওয়ায় মৌসুমি শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে পাট কাটার মৌসুমে শ্রমিকের চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

ফরিদপুরের পাট আড়ৎদার সুজন মাতুব্বর বলেন, “এবার বাজারে ভালো মানের পাট আসছে। বর্তমানে প্রতি মণ পাটের দাম ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা এবং দেশের বিভিন্ন পাটকলের ক্রয় কার্যক্রমের ওপর দাম আরও বাড়তে বা কমতে পারে।”

তিনি বলেন, “কৃষকেরা যদি ভালোভাবে পাট শুকিয়ে বাজারে আনেন, তাহলে উন্নত মানের পাটের দাম আরও বেশি পাওয়া সম্ভব।”

ফরিদপুরের কয়েকজন পাটকল মালিক জানান, বিশ্বজুড়ে পরিবেশবান্ধব পণ্যের ব্যবহার বাড়ায় প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটের চাহিদাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে কাঁচাপাটের সরবরাহ, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতি এবং রপ্তানি আদেশের ওপর বাজারদর নির্ভর করে। তারা মনে করেন, সরকার পাটের ব্যবহার ও রপ্তানি আরও বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নিলে কৃষকরাও ন্যায্য মূল্য পাবেন।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. শাহাদুজ্জামান ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে বলেন, “চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৭ হাজার ৩২৮ হেক্টর। কিন্তু কৃষকের আগ্রহে ৮৭ হাজার ৪০২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।”

তিনি বলেন, “এ বছর আবহাওয়া পাটের জন্য অনুকূলে ছিল। তাই ফলনও ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছেন, যাতে উন্নতমানের পাট উৎপাদন নিশ্চিত করা যায়।”

তিনি আরও বলেন, “শ্রমিক সংকট একটি বাস্তব সমস্যা। তবে কৃষকেরা যাতে সময়মতো পাট সংগ্রহ করতে পারেন, সে বিষয়ে কৃষি বিভাগ প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। একই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বাড়ানোর দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।”

কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একসময় ‘সোনালি আঁশ’ নামে পরিচিত পাট দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমানে পরিবেশবান্ধব পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা বৃদ্ধির কারণে আবারও পাটের সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় কমানো, শ্রমিক সংকট নিরসন, উন্নত জাতের পাট সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ খাত আরও শক্তিশালী হবে।

ফরিদপুরের কৃষকদের প্রত্যাশা, বাজারে প্রতি মণ পাটের দাম যদি ৫ হাজার টাকার ওপরে ওঠে এবং উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমে, তাহলে আগামী বছর আরও বেশি কৃষক পাট চাষে আগ্রহী হবেন। বর্তমানে ভালো ফলনের আশা থাকলেও লাভের হিসাব মেলাতে না পারায় অনেক কৃষকের মুখে এখনো স্বস্তির হাসি ফুটেনি।

কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?

স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ
কোন জার্সি পরে ফাইনালে খেলবে আর্জেন্টিনা?

চলতি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে ভিন্ন জার্সিতে খেলার অনুমতি চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচে নীল জার্সিতে খেলেছিল তারা, যেই জার্সি এই আসরে তারা এর আগে পরেছিল জর্ডানের বিপক্ষে। এই দুই ম্যাচে তারা অ্যাওয়ে জার্সি পরলেও ফাইনালে হোম জার্সি পরেই খেলবে।

নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, বিশ্বকাপের অধিকাংশ ম্যাচে তারা যে হোম কিট ব্যবহার করেছিল, ফাইনালেও সেটিই পরবে। বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা স্পেনের বিপক্ষে যে কিটটি পরবে, এই বিশ্বকাপে কেবল তিনটি ম্যাচে তার পরিবর্তন এনেছিল। গ্রুপ পর্বের শেষ দুটি ম্যাচের একটিতে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে নীল মোজা এবং জর্ডানের বিপক্ষে বিকল্প (অ্যাওয়ে) কিট পরেছিল। সাম্প্রতিক সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষেও তারা বিকল্প কিট পরে মাঠে নেমেছিল।

এই বিশ্বকাপে আলজেরিয়া, কেপ ভার্দে, মিশর এবং সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে বাকি ম্যাচগুলোতে আর্জেন্টিনা তাদের হোম জার্সি এবং সাদা রঙের শর্টস ও মোজা ব্যবহার করেছিল। ঠিক এই কিটেই তারা মেটলাইফ স্টেডিয়ামের মাঠে নামবে।

এদিকে, আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সম্পূর্ণ সবুজ রঙের কিট পরবেন। যেটা তিনি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের বেশিরভাগ সময় এবং ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে কলম্বিয়ার বিপক্ষে পরেছিলেন। যদিও সেবারের জার্সিটি ভিন্ন ছিল। তবে গত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস, ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালেও আর্জেন্টিনা সাদা শর্টস ও মোজা পরেছিল।

অন্যদিকে, সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে বিকল্প কিট ব্যবহার করা স্পেন এবার আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তাদের হোম কিটে ফিরবে। নীল হাতা ও হলুদ নকশায় সম্পূর্ণ লাল রঙের জার্সি।

রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৬, ৯:১৮ পূর্বাহ্ণ
রাতে ভাত খাওয়া ভালো নাকি ক্ষতি? জানালেন পুষ্টিবিদ

বাঙালি ভাত অন্ত প্রাণ জাতি। সারাদিন কাজ শেষে রাতে এক থালা গরম ভাত না খেলে যেন অনেকের দু’চোখে ঘুম আসতে চায় না। তবে বর্তমান সময়ে সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাবে একদল মানুষ রাতে ভাত খাওয়ার অভ্যাসকে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর বলে দাবি করছেন।

এই দ্বন্দ্বে অনেকেই দোটানায় পড়ে রাতের খাবারের তালিকা থেকে প্রিয় ভাত বাদ দিচ্ছেন। তবে সত্যিই কি রাতে ভাত খাওয়া শরীরের জন্য ক্ষতিকর? এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন কলকাতা শহরের বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদার।

ভাতেও রয়েছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ

ভাত মানেই কেবল কার্বোহাইড্রেট নয়। শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির জোগান দেওয়ার পাশাপাশি ভাতে রয়েছে একাধিক জরুরি ভিটামিন ও খনিজ। পুষ্টিবিদ মীনাক্ষী মজুমদারের মতে, ভাতে থাকা কার্বোহাইড্রেট শরীরে শক্তির ঘাটতি দূর করে আমাদের সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এ ছাড়া ভাতে থাকে:

আয়রন

ভিটামিন বি৬

ম্যাগনেশিয়াম

পটাশিয়াম

রাতে ভাত খাওয়া কি নিরাপদ?

অনেকের ধারণা, রাতে ভাত খেলে মেদ বাড়ে বা বদহজম হয়। কিন্তু পুষ্টিবিদ বলছেন ভিন্ন কথা। তার মতে, রাতে অনায়াসেই ভাত খাওয়া যায়। ভাত একটি সহজপাচ্য খাবার, যা পেটের সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি কমায়। এ ছাড়া ভাতের একটি বিশেষ গুণ হলো, এটি রাতে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করে। তাই অহেতুক ভয় না পেয়ে যারা রাতে ভাত খেতে পছন্দ করেন, তারা নিশ্চিন্তে এটি গ্রহণ করতে পারেন।

পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত?

ভাত খাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো এর পরিমাণ। একজন সুস্থ মানুষ যার উচ্চতা মোটামুটি ৫ ফুট ৭ ইঞ্চি, তিনি দিনে প্রায় ১৫০ গ্রাম চালের ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে দুপুরে ৭৫ গ্রাম এবং রাতে ৭৫ গ্রাম চালের ভাত রাখা যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রত্যেকের উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী ক্যালোরির চাহিদা ভিন্ন হয়, তাই সঠিক পরিমাপ নির্ধারণে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ডায়বেটিস ও ভাতের সম্পর্ক

ডায়বেটিস থাকলে অনেকেই রাতে ভাত খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। তবে পুষ্টিবিদ জানাচ্ছেন, সঠিক নিয়ম মেনে ডায়বেটিস রোগীরাও নিয়মিত ভাত খেতে পারেন। এক্ষেত্রে ভাতের পরিমাপ পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া জরুরি, যাতে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

ভাত বনাম রুটি: কোনটি সেরা?

অনেকে ওজন কমাতে ভাতের বদলে রুটি বেছে নেন। মজার বিষয় হলো, ভাত এবং রুটির ক্যালোরি ভ্যালু প্রায় সমান। রুটিতে ভাতের তুলনায় ফাইবার বেশি থাকে যা সুগার নিয়ন্ত্রণে এবং পেট পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু রুটি অনেকেরই সহ্য হয় না এবং পেটের সমস্যা তৈরি করে। সেক্ষেত্রে পুষ্টিবিদের পরামর্শ হলো, রুটি বা ভাতের মধ্যে অহেতুক তুলনা না করে নিজের শরীরে যা সহ্য হয় এবং পছন্দের খাবারটিই খাওয়া ভালো।

তথ্যসূত্র: এই সময়