খুঁজুন
, ,

হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়
হাম, যা রুবেওলা নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির সময় নির্গত ফোঁটার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাসটি বাতাসে বা পৃষ্ঠতলে কয়েক ঘন্টা ধরে সক্রিয় থাকতে পারে।

কেবল বাসনপত্র, পানীয় ভাগ করে নেওয়া, অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই ঘরে থাকার ফলে সংক্রমণ হতে পারে। 

রুবেওলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট হাম, ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চারদিন আগে থেকে চার থেকে পাঁচদিন পরে পর্যন্ত সংক্রামক।

টিকা না দেওয়া শিশুদের জন্য এই সংক্রমণ বিশেষভাবে বিপজ্জনক এবং বিশ্বের অনেক জায়গায় এটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। 

ভাইরাসটি প্রথমে নাক এবং গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সংক্রামিত করে এবং সাধারণত সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিন পরে লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

এটি জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কাশির মতো সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথে শুরু হতে পারে, তারপরে হামের ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। 

যদিও টিকাদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হামের সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, তবুও কম টিকাদানের হারযুক্ত অঞ্চলে এখনও হাম দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১,১৪,০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। 

সুতরাং আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আক্রান্ত অবস্থায় সঠিক যত্ন নিতে বাবা-মায়ের সচেতনতা জরুরি। আপনার সন্তানের সুস্থতায় করণীয় বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

প্রতিরোধে করণীয় (টিকা ও সচেতনতা)

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে সময়মতো টিকা দেওয়া।

টিকা নিশ্চিত করুন: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করুন।

মায়ের বুকের দুধ: শিশুকে পর্যাপ্ত সময় ধরে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পরিচ্ছন্নতা: হামের ভাইরাস খেলনা বা টেবিলের মতো জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, তাই ঘর ও আসবাবপত্র নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন।

হাম আক্রান্ত শিশুর যত্ন

হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যত্নে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়।

বিশ্রাম ও তরল খাবার: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ান।
আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: সংক্রমণ ছড়ানো রোধে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বা বাইরে পাঠাবেন না।

চিকিৎসকের পরামর্শ: জ্বর বা র‌্যাশের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বা সিরাপ খাওয়ানো জরুরি হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস ও সতর্কতা

সহজপাচ্য খাবার: শিশুকে সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

জটিলতা লক্ষ্য করুন: হামের ফলে কানে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা হতে পারে। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

হাম বিকাশের ঝুঁকিতে কারা?

যদিও হাম যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন যাদের উচ্চ ঝুঁকির ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া বা গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। আপনার ঝুঁকি বেশি হতে পারে যদি- টিকা নেওয়া না হয়। যারা কখনও পাননি হাম (এমএমআর) টিকা বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময়, ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

আপনি কম টিকাদানের হারযুক্ত এলাকায় যদি ভ্রমণ করেন অর্থাৎ, এমন দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন যেখানে হামের টিকাদানের কভারেজ- দুর্বল ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেমন: অবস্থার কারণে এইচআইভি/এইডস, ক্যান্সার, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ-সংক্রমণ এবং জটিলতার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, হামের মতো সংক্রমণকে আরও তীব্র করে তোলে এবং অন্ধত্ব বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

হামের জটিলতা- হামকে প্রায়শই শৈশবের একটি রোগ হিসেবে ধরা হয় যা নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এটি হতে পারে গুরুতর জটিলতা বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। যদি আপনি বা আপনার শিশু নিম্নলিখিত কোনও একটি সমস্যা অনুভব করেন, অবিলম্বে চিকিৎসা স্মরণাপন্ন হবেন।

কানের ইনফেকশন: একটি সাধারণ জটিলতা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। হামের ফলে যন্ত্রণাদায়ক মধ্যকর্ণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা চিকিৎসা না করা হলে সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

নিউমোনিয়া: হাম উল্লেখযোগ্যভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, যা শরীরকে নিউমোনিয়ার মতো গৌণ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে, নিউমোনিয়া হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ): একটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা, মস্তিষ্কপ্রদাহ আরোগ্য লাভের কিছুক্ষণ পরেই অথবা এমনকি কয়েক মাস পরেও হতে পারে। এর ফলে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, বা গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।

শ্বাসনালীর প্রদাহ: হাম প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে স্বরযন্ত্র এবং শ্বাসনালীতে। যার ফলে স্বরভঙ্গ, শ্বাসকষ্ট এবং ক্রাউপের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থার জটিলতা: হাম আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলাদের ঝুঁকি বেশি থাকে- গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং কম জন্ম ও ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হামের ফলে মৃত শিশুর জন্মও হতে পারে।

কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন?

শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসকই সঠিক বিশেষজ্ঞ। আরও গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে আপনাকে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হতে পারে।

হাম থেকে নিজেকে এবং আপনার প্রিয়জনদের রক্ষা করার জন্য সময়মত টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত টিকাদানের অংশ হিসেবে শিশুদের এমআর টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক যারা কখনও টিকা নেননি বা আগে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেননি তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত, বিশেষ করে কম টিকাদানের আওতাযুক্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করার আগে।

হাম প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই তা বন্ধ করার জন্যও অপরিহার্য।

লেখক: প্রাবন্ধিক, পি.এইচ.ডি (হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট)

লিবিয়ায় কারাগারে ফরিদপুরের ২৪ তরুণ, ৩ বছর ধরে নিখোঁজ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ
লিবিয়ায় কারাগারে ফরিদপুরের ২৪ তরুণ, ৩ বছর ধরে নিখোঁজ

জীবিকার তাগিদে ভালো চাকরির আশায় বিদেশে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফরিদপুরের সালথা, নগরকান্দা ও বোয়ালমারী উপজেলার ২৪ জন তরুণ। কিন্তু ২০২৩ সালে লিবিয়ায় যাওয়ার পর থেকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে তারা নিখোঁজ। পরিবারের দাবি, মানবপাচারকারী দালাল চক্রের খপ্পরে পড়ে তারা বর্তমানে লিবিয়ার বিভিন্ন কারাগারে বন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এখন সন্তানদের জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরে পাওয়ার আকুতি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন অসহায় স্বজনরা।

​ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দালাল পারভেজ মোল্লা বিদেশে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ওই ২৪ তরুণকে লিবিয়ায় পাঠান। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর থেকেই স্বজনদের সঙ্গে তাদের সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিখোঁজদের মধ্যে রয়েছেন সালথা উপজেলার রিয়াজ মোল্লা, তুহিন সরদার, ফিরোজ মোল্লা, তানভীর মোল্লা, সালমান মোল্লা, মাঝারদিয়া ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামের মো. হাচিবুল হাচান এবং ভাওয়াল ইউনিয়নের বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলামসহ ২৪ জন।

​সন্তানের জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে হাচিবুলের মা বলেন, “তিন বছর ধরে আমার ছেলের কোনো খবর নেই। প্রতিদিন অপেক্ষা করি, হয়তো একবার ফোন দেবে। সরকারের কাছে হাতজোড় করে আকুতি জানাচ্ছি, আমার সন্তানকে জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে দিন।”

​নিখোঁজ রবিউল ইসলামের বাবা নান্নু খান আক্ষেপ করে বলেন, “জমি বিক্রি ও ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। আজ আমার টাকা-পয়সাও শেষ, ছেলেরও কোনো খোঁজ নেই। আমরা শুধু আমাদের সন্তানকে ফেরত চাই।”

​নিখোঁজদের ফেরাতে ‘পাচারের শিকার মানব উদ্ধার ও শিশু সুরক্ষা সংস্থা’র চেয়ারম্যান সৈয়দ খায়রুল আলম জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “২৪টি পরিবার আজ পুরোপুরি নিঃস্ব ও অসহায়। কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দ্রুত তাদের পরিচয় যাচাই করে লিবিয়া থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা অত্যন্ত জরুরি।”

​নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেজওয়ানা আফরিন জানান, বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আবেদন পাওয়ার পর তাদের পরিচয় ও নাগরিকত্ব যাচাই করে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং এ বিষয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে।

​ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, মানবপাচারকারী দালাল চক্রের বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে কাজ করা হচ্ছে।

​এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত দালাল পারভেজ মোল্লার মোবাইল ফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়। পরবর্তীতে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুরে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে দুধে গোসল করলেন মা, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৪৬ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে দুধে গোসল করলেন মা, ভিডিও ভাইরাল

ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে নেশাগ্রস্ত জামাইয়ের নির্যাতন থেকে মেয়েকে মুক্ত করে দুধ দিয়ে গোসল করেছেন এক মা। মানত বা ওয়াদা রক্ষায় প্রকাশ্যে স্থানীয় একটি বাজারে ৫ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করার এই খবর ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বড় বাইখীর গ্রামের চৌরাস্তা বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

​ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১৪ বছর আগে উপজেলার বড় বাইখীর গ্রামের বৃদ্ধ মহাশিন মোল্লার (৭৪) মেয়ে মনিরা খাতুনের (৩০) সঙ্গে একই এলাকার সুমন শেখের (৩২) বিয়ে হয়। মনিরা খাতুনের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্বামী নেশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিদিন তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত তিনি সংসারের ইতি টানতে বাধ্য হন। সম্প্রতি কাজী অফিসে গিয়ে কাবিন রেজিস্ট্রি বাতিলের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় সুমনের সঙ্গে মনিরার বিচ্ছেদ ঘটে।

​মেয়ের মা জুলেখা বেগম (৪৬) জানান, জামাইয়ের ক্রমাগত অত্যাচারে তাঁর মেয়ের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল। মেয়েকে এই নির্যাতন থেকে মুক্ত করতে পারলে তিনি দুধ দিয়ে গোসল করবেন বলে ওয়াদা বা মানত করেছিলেন। সেই ওয়াদা রক্ষা করতেই শুক্রবার সকালে বাইখীর চৌরাস্তা বাজারে ৫ কেজি দুধ দিয়ে গোসল করেন তিনি।

​তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুমন শেখ। তাঁর দাবি, তাঁর বিরুদ্ধে আনীত নির্যাতন ও নেশা করার অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে পথচারীদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেদেপল্লীর একদল নারীর বিরুদ্ধে। শহরের আলিপুর মোড়, ১১ তলা ভবন এলাকা, জনতা ব্যাংক মোড় ও চকবাজারসহ ব্যস্ত পয়েন্টগুলোতে দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় কাজে শহরে আসা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই মূলত চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো পথচারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘিরে ধরে পথ আটকে দেওয়া হয়, এমনকি টানাহেঁচড়া করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সেখান থেকে রক্ষা পান।

​সদর উপজেলার গ্রাম থেকে কাজে আসা ফাহিম শেখ বলেন, “শহরে ঢোকার পরই কয়েকজন নারী আমাকে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে। না দিলে ছাড়ছিল না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি, এখন বাড়ি ফেরার ভাড়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মমিন খারহাটের রুস্তম ব্যাপারী ও স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল শেখ। রাহুল শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু তারা নারী, প্রকাশ্যে এসব টানাহেঁচড়া করলে পুরুষের জন্য তা অত্যন্ত বিব্রতকর। বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে পার পেতে হয়।”

​অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। এ বিষয়ে আলিপুর এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা (টিএসআই) শেখ তুহিন বলেন, “আমাদের সামনেই সাধারণ মানুষকে টেনে-হিঁচড়ে টাকা আদায় করা হয়। আমি নিজে কয়েকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু নিষেধ করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যে কারণে অনেক সময় আর কিছু বলা যায় না।”

​তবে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত বেদেপল্লীর নারীরা। মুন্সিবাজার এলাকার বেদেপল্লীর এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়। আমাদের অন্য কোনো কাজের সুযোগ নেই। প্রশাসন যদি পুনর্বাসন বা বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে, তবে আমরা রাস্তায় এসে টাকা চাওয়া বন্ধ করে দেব।”

​ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, মুন্সিবাজারের বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের সরকারি কোনো সহায়তার আওতায় আনা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি এখন পর্যন্ত তার জানা ছিল না। তবে টহল টিমকে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​স্থানীয়দের দাবি, বেদে সম্প্রদায়ের জীবিকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পথচলা নির্বিঘ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।