খুঁজুন
বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ৮:০৪ পূর্বাহ্ণ
হাম ভাইরাস নিয়ে বাবা-মায়ের করণীয়
হাম, যা রুবেওলা নামেও পরিচিত, একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাল সংক্রমণ যা মূলত শ্বাসযন্ত্রকে প্রভাবিত করে। এটি আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি বা হাঁচির সময় নির্গত ফোঁটার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ভাইরাসটি বাতাসে বা পৃষ্ঠতলে কয়েক ঘন্টা ধরে সক্রিয় থাকতে পারে।

কেবল বাসনপত্র, পানীয় ভাগ করে নেওয়া, অথবা আক্রান্ত ব্যক্তির সাথে একই ঘরে থাকার ফলে সংক্রমণ হতে পারে। 

রুবেওলা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট হাম, ফুসকুড়ি দেখা দেওয়ার চারদিন আগে থেকে চার থেকে পাঁচদিন পরে পর্যন্ত সংক্রামক।

টিকা না দেওয়া শিশুদের জন্য এই সংক্রমণ বিশেষভাবে বিপজ্জনক এবং বিশ্বের অনেক জায়গায় এটি প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর একটি প্রধান কারণ হিসেবে রয়ে গেছে। 

ভাইরাসটি প্রথমে নাক এবং গলার শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে সংক্রামিত করে এবং সাধারণত সংস্পর্শে আসার ১০ থেকে ১৪ দিন পরে লক্ষণগুলো দেখা দেয়।

এটি জ্বর, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং কাশির মতো সাধারণ লক্ষণগুলোর সাথে শুরু হতে পারে, তারপরে হামের ফুসকুড়ি দেখা দেয় যা সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। 

যদিও টিকাদানের ফলে বিশ্বব্যাপী হামের সংখ্যা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে, তবুও কম টিকাদানের হারযুক্ত অঞ্চলে এখনও হাম দেখা যায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মতে, ২০১৪ সালে বিশ্বব্যাপী ১,১৪,০০০ এরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল, যার বেশিরভাগই ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। 

সুতরাং আপনার সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে এবং আক্রান্ত অবস্থায় সঠিক যত্ন নিতে বাবা-মায়ের সচেতনতা জরুরি। আপনার সন্তানের সুস্থতায় করণীয় বিষয়গুলো নিচে দেওয়া হলো:

প্রতিরোধে করণীয় (টিকা ও সচেতনতা)

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো শিশুকে সময়মতো টিকা দেওয়া।

টিকা নিশ্চিত করুন: জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস পূর্ণ হলে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ টিকা প্রদান করুন।

মায়ের বুকের দুধ: শিশুকে পর্যাপ্ত সময় ধরে মায়ের বুকের দুধ খাওয়ান, যা তার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।

পরিচ্ছন্নতা: হামের ভাইরাস খেলনা বা টেবিলের মতো জায়গায় দীর্ঘক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে, তাই ঘর ও আসবাবপত্র নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করুন।

হাম আক্রান্ত শিশুর যত্ন

হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যত্নে শিশু দ্রুত সুস্থ হয়।

বিশ্রাম ও তরল খাবার: শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে দিন এবং প্রচুর পরিমাণে পানি ও তরল খাবার খাওয়ান।
আইসোলেশন বা আলাদা রাখা: সংক্রমণ ছড়ানো রোধে শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন এবং সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত স্কুল বা বাইরে পাঠাবেন না।

চিকিৎসকের পরামর্শ: জ্বর বা র‌্যাশের লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বা সিরাপ খাওয়ানো জরুরি হতে পারে।

খাদ্যাভ্যাস ও সতর্কতা

সহজপাচ্য খাবার: শিশুকে সহজে হজম হয় এমন খাবার দিন। অতিরিক্ত মশলাযুক্ত বা ভাজা খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো।

জটিলতা লক্ষ্য করুন: হামের ফলে কানে সংক্রমণ, নিউমোনিয়া বা ডায়রিয়ার মতো জটিলতা হতে পারে। বাচ্চার শ্বাসকষ্ট বা অতিরিক্ত দুর্বলতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিন।

হাম বিকাশের ঝুঁকিতে কারা?

যদিও হাম যে কাউকে আক্রান্ত করতে পারে, তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি আছেন যাদের উচ্চ ঝুঁকির ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়া বা গুরুতর জটিলতা তৈরি হয়। আপনার ঝুঁকি বেশি হতে পারে যদি- টিকা নেওয়া না হয়। যারা কখনও পাননি হাম (এমএমআর) টিকা বিশেষ করে প্রাদুর্ভাবের সময়, ভাইরাস সংক্রামিত হওয়ার সম্ভাবনা তাদের উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

আপনি কম টিকাদানের হারযুক্ত এলাকায় যদি ভ্রমণ করেন অর্থাৎ, এমন দেশ বা অঞ্চলে ভ্রমণ করেছেন যেখানে হামের টিকাদানের কভারেজ- দুর্বল ভাইরাসের সংস্পর্শে আসার ঝুঁকি বেশি।

দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা যেমন: অবস্থার কারণে এইচআইভি/এইডস, ক্যান্সার, বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ওষুধ-সংক্রমণ এবং জটিলতার জন্য বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

ভিটামিন ‘এ’ এর অভাব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দিতে পারে, হামের মতো সংক্রমণকে আরও তীব্র করে তোলে এবং অন্ধত্ব বা নিউমোনিয়ার মতো জটিলতার ঝুঁকি বাড়ায়।

হামের জটিলতা- হামকে প্রায়শই শৈশবের একটি রোগ হিসেবে ধরা হয় যা নিজে থেকেই সেরে যায়, তবে এটি হতে পারে গুরুতর জটিলতা বিশেষ করে ছোট বাচ্চা, প্রাপ্তবয়স্ক এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে। যদি আপনি বা আপনার শিশু নিম্নলিখিত কোনও একটি সমস্যা অনুভব করেন, অবিলম্বে চিকিৎসা স্মরণাপন্ন হবেন।

কানের ইনফেকশন: একটি সাধারণ জটিলতা, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। হামের ফলে যন্ত্রণাদায়ক মধ্যকর্ণের ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ, যা চিকিৎসা না করা হলে সাময়িক শ্রবণশক্তি হ্রাস পেতে পারে।

নিউমোনিয়া: হাম উল্লেখযোগ্যভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে, যা শরীরকে নিউমোনিয়ার মতো গৌণ সংক্রমণের ঝুঁকিতে ফেলে। প্রকৃতপক্ষে, নিউমোনিয়া হামজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।

এনসেফালাইটিস (মস্তিষ্কের প্রদাহ): একটি বিরল কিন্তু গুরুতর জটিলতা, মস্তিষ্কপ্রদাহ আরোগ্য লাভের কিছুক্ষণ পরেই অথবা এমনকি কয়েক মাস পরেও হতে পারে। এর ফলে খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, বা গুরুতর ক্ষেত্রে স্থায়ী মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে।

শ্বাসনালীর প্রদাহ: হাম প্রদাহ সৃষ্টি করতে পারে স্বরযন্ত্র এবং শ্বাসনালীতে। যার ফলে স্বরভঙ্গ, শ্বাসকষ্ট এবং ক্রাউপের মতো লক্ষণ দেখা দেয়।

গর্ভাবস্থার জটিলতা: হাম আক্রান্ত গর্ভবতী মহিলাদের ঝুঁকি বেশি থাকে- গর্ভপাত, অকাল প্রসব এবং কম জন্ম ও ওজনের শিশুর জন্ম হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে হামের ফলে মৃত শিশুর জন্মও হতে পারে।

কোন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করবেন?

শিশুদের ক্ষেত্রে, একজন শিশু বিশেষজ্ঞের সাথে পরামর্শ করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য একজন এমবিবিএস চিকিৎসকই সঠিক বিশেষজ্ঞ। আরও গুরুতর বা জটিল ক্ষেত্রে আপনাকে একজন সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞের কাছে রেফার করা হতে পারে।

হাম থেকে নিজেকে এবং আপনার প্রিয়জনদের রক্ষা করার জন্য সময়মত টিকাদান সবচেয়ে কার্যকর উপায়। নিয়মিত টিকাদানের অংশ হিসেবে শিশুদের এমআর টিকার উভয় ডোজ গ্রহণ করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্ক যারা কখনও টিকা নেননি বা আগে ভাইরাসের সংস্পর্শে আসেননি তাদের টিকা দেওয়ার বিষয়ে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত, বিশেষ করে কম টিকাদানের আওতাযুক্ত অঞ্চলে ভ্রমণ করার আগে।

হাম প্রতিরোধ কেবল ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, জনস্বাস্থ্য রক্ষা এবং প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার আগেই তা বন্ধ করার জন্যও অপরিহার্য।

লেখক: প্রাবন্ধিক, পি.এইচ.ডি (হসপিটাল ম্যানেজমেন্ট)

ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পুরস্কৃত এডিশনাল এসপি আজমীর হোসেনের টিম

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উন্মোচন, পুরস্কৃত এডিশনাল এসপি আজমীর হোসেনের টিম

ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের কালিতলা এলাকায় সংঘটিত চাঞ্চল্যকর মা ও কন্যাশিশু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে বিশেষ ভূমিকা রাখায় ফরিদপুর জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেনের নেতৃত্বাধীন তদন্তকারী টিমকে পুরস্কৃত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ফরিদপুর জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় জেলা পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম এ পুরস্কার প্রদান করেন। এ সময় জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ মে সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার একটি পুকুরপাড় সংলগ্ন স্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় জাহানারা বেগম (৩০) ও তার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা সামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নিহত জাহানারা রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনার পরপরই ফরিদপুর জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট সমন্বিতভাবে তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত তদন্তকারী টিম তথ্যপ্রযুক্তি, গোয়েন্দা তথ্য এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত আলামত বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি অর্জন করে।

তদন্তে উঠে আসে, ঢাকার একটি ইটভাটায় কাজ করার সময় জাহানারার সঙ্গে মো. উজ্জ্বল খানের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে উজ্জ্বল তাকে ফরিদপুরে নিয়ে আসে। পরে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে নির্মমভাবে জাহানারা ও তার শিশুকন্যাকে হত্যা করে মরদেহ গোপনে মাটিচাপা দেয়।

তদন্তকারী টিমের ধারাবাহিক অভিযানের ফলে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ এলাকা থেকে অভিযুক্ত উজ্জ্বল খানকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত কোদাল, ধারালো অস্ত্র, মোবাইল ফোন এবং নিহতদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলাগুলোর দ্রুত রহস্য উদঘাটন এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। কালিতলার এই দ্বৈত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে সদর সার্কেলের টিম দক্ষতা, নিষ্ঠা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের এই সাফল্য অন্যদের জন্যও অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ, অংশ নিলেন ২০ মৎস্যচাষি

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
নিরাপদ মৎস্য উৎপাদনে দক্ষতা বাড়াতে ফরিদপুরে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ, অংশ নিলেন ২০ মৎস্যচাষি

নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত মৎস্য এবং মৎস্যজাত পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ এবং টেকসই মৎস্য খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফরিদপুরে দিনব্যাপী সদস্য দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) ফরিদপুর সদর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় এবং সোসাইটি ডেভেলপমেন্ট কমিটি (এসডিসি)-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মশালায় বিভিন্ন এলাকার ২০ জন মৎস্যচাষি ও সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

প্রশিক্ষণে রিসোর্স পারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক ময়েদুজ্জামান এবং এসডিসির মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাবেদুল ইসলাম। কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন এসডিসির সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. রাহুল আমিন।

দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে নিরাপদ মাছ চাষের আধুনিক কৌশল, উত্তম মৎস্য চাষ অনুশীলন (GAqP), পুকুরের পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা, মাছের সুষম খাদ্য প্রয়োগ, রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা, ওষুধ ও রাসায়নিকের সঠিক ব্যবহার, অ্যান্টিবায়োটিকের দায়িত্বশীল প্রয়োগ, মাছ আহরণ, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতি বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষকরা বলেন, বর্তমান সময়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। সেই লক্ষ্য অর্জনে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে মানবস্বাস্থ্য যেমন ঝুঁকির মুখে পড়ে, তেমনি পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই সচেতনতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদনের বিকল্প নেই।

তারা আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি মাছ ও মৎস্যজাত পণ্যের চাহিদা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। নিরাপদ উৎপাদন নিশ্চিত করা গেলে দেশের মৎস্যখাত আরও সমৃদ্ধ হবে, রপ্তানি আয় বাড়বে এবং প্রান্তিক মৎস্যচাষিরাও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।

প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এ ধরনের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তারা নিরাপদ ও আধুনিক মাছ চাষ সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জন করেছেন। অর্জিত জ্ঞান মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করে উৎপাদন বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ পর্যায়ে নিরাপদ মৎস্য উৎপাদন সম্প্রসারণ এবং মৎস্যচাষিদের দক্ষতা উন্নয়নে ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি সদরপুর থানার আব্দুল আল মামুন শাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ ওসি সদরপুর থানার আব্দুল আল মামুন শাহ

ফরিদপুর জেলা পুলিশের শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছেন সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আল মামুন শাহ।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সকালে ফরিদপুর পুলিশ লাইন্সের শহীদ ছালাম সভাকক্ষে মাসিক কল্যাণ সভায় তাকে শ্রেষ্ঠ ওসি হিসেবে পুরস্কার ও ক্রেষ্ট তুলে দেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. নজরুল ইসলাম।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) ফাতেমা ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. শামছুল আজম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) মো. রেজওয়ান দীপু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আজমীর হোসেন, সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মো. আজম খানসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

জানা গেছে, সামগ্রিক কর্মতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সমুন্নত রাখতে অনন্য অবদান রাখায় মো. আব্দুল আল মামুন শাহ’কে শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচন করা হয়েছে। তার এ সাফল্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।