খুঁজুন
, ,

কাশি–শ্বাসকষ্টকে হালকা ভাবছেন? ফুসফুস ক্যানসারের ৫ সতর্ক সংকেত জেনে নিন

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৮ পূর্বাহ্ণ
কাশি–শ্বাসকষ্টকে হালকা ভাবছেন? ফুসফুস ক্যানসারের ৫ সতর্ক সংকেত জেনে নিন

ফুসফুসের ক্যানসার সবচেয়ে নীরব ও প্রাণঘাতী ক্যানসারগুলোর একটি। কারণ, এটি শরীরের ভেতরে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই ক্যানসারের তেমন কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না। তাই অনেক সময় এই উপসর্গগুলো সাধারণ সর্দি, কাশি বা অ্যাজমার লক্ষণ ভেবে অনেকে গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগ ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের পাঁচটি সাধারণ লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকলে আগে থেকেই রোগ শনাক্ত করা অনেক সহজ হতে পারে—

১️. তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী কাশি

তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে যদি কাশি না সারে, সেটি ফুসফুসের ক্যানসারের প্রাথমিক ইঙ্গিত হতে পারে। সাধারণ ঠান্ডা বা অ্যালার্জির চিকিৎসায়ও যদি উপশম না হয়, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা উচিত। অনেকে একে ‘সাধারণ কাশি’ ভেবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেন না। অথচ ফুসফুসে ক্যানসারজনিত টিউমার শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘস্থায়ী কাশির কারণ হতে পারে। কাশি ক্রমশ বেড়ে গেলে বা পরিবর্তন হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

২️. হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া ও অবসাদ

হঠাৎ করে ওজন কমে যাওয়া ও ক্লান্তি অনেক সময় মানসিক চাপ বা বয়সের কারণে হয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু অজানা কারণে ওজন কমে যাওয়া শরীরে কোনো গুরুতর অসুস্থতার ইঙ্গিতও হতে পারে। এর মধ্যে ফুসফুসের ক্যানসার অন্যতম। এই অবস্থায় শরীর ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াই করতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার করে, ফলে ওজন দ্রুত কমে যায়। অন্যদিকে ক্যানসার কোষ শরীরের শক্তি নিঃশেষ করে দেয়, ফলে সারাক্ষণ অবসাদ অনুভূত হয়।

৩️. গলায় কর্কশতা বা স্বরে পরিবর্তন

গলা ব্যথা বা ঠান্ডা না থাকলেও যদি দীর্ঘদিন ধরে গলা ভাঙা বা কর্কশতা থাকে, সেটিও ফুসফুস ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। কারণ, ফুসফুসে ক্যানসার ছড়িয়ে পড়লে তা ভোকাল কর্ড নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়ুগুলোর ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে স্বরে স্থায়ী পরিবর্তন আসে। গলা ভাঙা অবস্থায় যদি কাশি বা বুকের ব্যথাও দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

৪️. শ্বাসকষ্ট বা নিঃশ্বাস নিতে অসুবিধা

সাধারণ হাঁটাচলা বা দৈনন্দিন কাজের সময় যদি হঠাৎ শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, এটি ফুসফুসে টিউমার তৈরি হওয়ার ইঙ্গিত হতে পারে। টিউমার শ্বাসনালিতে বাধা সৃষ্টি করে ফুসফুসের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেকে একে বয়স, স্থূলতা বা অলস জীবনযাত্রার কারণ বলে ভাবেন। অথচ দ্রুত পরীক্ষা করালে অনেক সময় রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা সম্ভব।

৫️. অজানা বুক বা কাঁধের ব্যথা

বুক বা কাঁধের ব্যথাকে অনেকে সাধারণ মাংসপেশির টান বা ঘুমের ভঙ্গির কারণে হয়েছে বলে মনে করেন। কিন্তু ফুসফুসের ক্যানসার টিউমার স্নায়ু বা বুকের আশপাশের গঠনে চাপ সৃষ্টি করলে এই ব্যথা দেখা দিতে পারে। হাসা, কাশি বা গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার সময় ব্যথা বেড়ে গেলে সেটি আরও উদ্বেগজনক। বিশেষ করে এ ধরনের ব্যথার সঙ্গে কাশি বা ওজন কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

সতর্কবার্তা

চিকিৎসকরা বলছেন, এই উপসর্গগুলো দেখা মানেই যে, ফুসফুসের ক্যানসার, বিষয়টি এমন নয়। তবে এগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। কারণ, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা অনেক সহজ ও কার্যকর হয়।

সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুর শহরে বেদেপল্লীর নারীদের বেপরোয়া চাঁদাবাজি, অতিষ্ঠ পথচারীরা

ফরিদপুর শহরের ব্যস্ততম সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথগুলোতে পথচারীদের ঘিরে ধরে জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বেদেপল্লীর একদল নারীর বিরুদ্ধে। শহরের আলিপুর মোড়, ১১ তলা ভবন এলাকা, জনতা ব্যাংক মোড় ও চকবাজারসহ ব্যস্ত পয়েন্টগুলোতে দিনের পর দিন এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেই বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গ্রাম থেকে প্রয়োজনীয় কাজে শহরে আসা সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করেই মূলত চক্রটি সক্রিয় হয়ে ওঠে। কোনো পথচারী টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ঘিরে ধরে পথ আটকে দেওয়া হয়, এমনকি টানাহেঁচড়া করে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলা হয়। লোকলজ্জার ভয়ে অনেকেই বাধ্য হয়ে টাকা দিয়ে সেখান থেকে রক্ষা পান।

​সদর উপজেলার গ্রাম থেকে কাজে আসা ফাহিম শেখ বলেন, “শহরে ঢোকার পরই কয়েকজন নারী আমাকে ঘিরে ধরে টাকা দাবি করে। না দিলে ছাড়ছিল না। বাধ্য হয়ে টাকা দিয়েছি, এখন বাড়ি ফেরার ভাড়া নিয়ে চিন্তায় পড়েছি।” একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মমিন খারহাটের রুস্তম ব্যাপারী ও স্থানীয় বাসিন্দা রাহুল শেখ। রাহুল শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেহেতু তারা নারী, প্রকাশ্যে এসব টানাহেঁচড়া করলে পুরুষের জন্য তা অত্যন্ত বিব্রতকর। বাধ্য হয়েই টাকা দিয়ে পার পেতে হয়।”

​অভিযোগ রয়েছে, রাস্তার মোড়ে মোড়ে দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের সামনেই এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে। এ বিষয়ে আলিপুর এলাকার দায়িত্বে থাকা ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা (টিএসআই) শেখ তুহিন বলেন, “আমাদের সামনেই সাধারণ মানুষকে টেনে-হিঁচড়ে টাকা আদায় করা হয়। আমি নিজে কয়েকবার নিষেধ করেছি, কিন্তু নিষেধ করলে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। যে কারণে অনেক সময় আর কিছু বলা যায় না।”

​তবে নিজেদের অসহায়ত্বের কথা জানিয়েছেন অভিযুক্ত বেদেপল্লীর নারীরা। মুন্সিবাজার এলাকার বেদেপল্লীর এক নারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে রাস্তায় নামতে হয়। আমাদের অন্য কোনো কাজের সুযোগ নেই। প্রশাসন যদি পুনর্বাসন বা বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করে, তবে আমরা রাস্তায় এসে টাকা চাওয়া বন্ধ করে দেব।”

​ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া জানান, মুন্সিবাজারের বেদে সম্প্রদায়ের মানুষদের সরকারি কোনো সহায়তার আওতায় আনা যায় কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

​অন্যদিকে, ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান জানান, বিষয়টি এখন পর্যন্ত তার জানা ছিল না। তবে টহল টিমকে নির্দেশনা দেওয়া হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

​স্থানীয়দের দাবি, বেদে সম্প্রদায়ের জীবিকার বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে দ্রুত বিকল্প কর্মসংস্থান ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হোক। একই সাথে শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের পথচলা নির্বিঘ্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২২ পূর্বাহ্ণ
আলফাডাঙ্গার ইউএনওর সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদ নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জোবায়ের হাবিবের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় করেছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) নেতৃবৃন্দ।

​বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

​এ সময় ফরিদপুর জেলা গণঅধিকার পরিষদের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক আজিজ, সাবেক কার্যনির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ শাহরিয়ার আজম ও আলফাডাঙ্গা উপজেলা যুব অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. রঞ্জুসহ স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

​সাক্ষাৎকালে নেতারা ইউএনওর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। একই সঙ্গে তারা আলফাডাঙ্গা উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় ও স্থানীয় সমস্যা নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:০১ পূর্বাহ্ণ
ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়?

ওজন কমলে শরীরের চর্বি আসলে কোথায় যায়? এ প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। গবেষকদের মতে, শরীরে জমে থাকা চর্বির বড় একটি অংশ শেষ পর্যন্ত শ্বাসের সঙ্গে কার্বন ডাই-অক্সাইড হিসেবে শরীর থেকে বের হয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (০১ সেপ্টেম্বর) ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব বার্মিংহামের দুই গবেষক ‘দ্য কনভারসেশন’-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে জানান, শরীরের চর্বি কমার প্রক্রিয়া শুরু হয় যখন খাবার থেকে পাওয়া শক্তির চেয়ে শরীরের শক্তির চাহিদা বেশি হয়। তখন শরীর জমিয়ে রাখা চর্বি থেকে শক্তি নেওয়া শুরু করে।

খাবারের চর্বি হজমের পর ফ্যাটি অ্যাসিডে ভেঙে যায়। শরীর প্রয়োজনীয় অংশ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করে। অতিরিক্ত অংশ ট্রাইগ্লিসারাইডে রূপান্তরিত হয়ে চর্বি কোষে জমা থাকে।

শরীরে মূলত দুই ধরনের চর্বি জমে- ত্বকের নিচে থাকা সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাট এবং শরীরের ভেতরে বিভিন্ন অঙ্গের চারপাশে জমা ভিসেরাল ফ্যাট।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি হলে হরমোন ও স্নায়ুর সংকেতের মাধ্যমে চর্বি কোষে জমে থাকা ট্রাইগ্লিসারাইড ভাঙতে শুরু করে। এরপর ফ্যাটি অ্যাসিড কোষের মাইটোকন্ড্রিয়ায় গিয়ে শক্তি উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় অংশ নেয়। এ সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড ও পানি তৈরি হয়।

গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, শরীর থেকে হারানো চর্বির প্রায় ৮৪ শতাংশ কার্বন ডাই-অক্সাইডে পরিণত হয়ে শ্বাসের সঙ্গে বের হয়ে যায়। বাকি প্রায় ১৬ শতাংশ পানি হিসেবে ঘাম, প্রস্রাবসহ বিভিন্ন শারীরিক তরলের মাধ্যমে বের হয়।

তবে এই হারগুলো আনুমানিক বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। শরীরের সব ধরনের নির্গমন নির্ভুলভাবে পরিমাপ করা কঠিন।

গবেষকরা আরও বলেন, দ্রুত শ্বাস নিলেই চর্বি কমে না। শ্বাস-প্রশ্বাস চর্বি ভাঙার কারণ নয়; বরং চর্বি ভাঙার পর তৈরি হওয়া পদার্থ শরীর থেকে বের হওয়ার একটি পথ।

শরীরে ক্যালরি ঘাটতি তৈরি করাই চর্বি কমানোর মূল বিষয়। খাবার নিয়ন্ত্রণ ও শারীরিক পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ঘাটতি তৈরি করা যায়।

সূত্র: ইউরো নিউজ