খুঁজুন
শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১৩ চৈত্র, ১৪৩২

গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:১৯ এএম
গাড়ির ভেতরেই মাথা ঘোরে, বমি আসে? এর আসল কারণ জানেন কী?

ধরুন আপনি কোথাও ভ্রমণে যাচ্ছেন। গাড়িতে ওঠার কিছুক্ষণ পরে বমি বমি ভাব দেখা দিল। এমন অনেকের ক্ষেত্রেই হয়, যদিও সবার এমন হয় না।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

এমন অনেকেই আছেন, গাড়িতে ওঠার পরই শুরু হয় অস্বস্তি। কেউ কেউ দীর্ঘযাত্রার পর বমি বমি ভাবে ভোগেন। উঁচু-নিচু সড়ক, পাহাড়ি পথ, যানবাহনে ক্রমাগত ঝাঁকুনি এবং যানবাহনের ভেতরে থাকা বাজে গন্ধ এ সমস্যা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

যদিও গাড়িতে চলার সময়ে বমি হওয়া খুব পরিচিত একটি সমস্যা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, এটিকে মোশন সিকনেস বলা হয়ে থাকে। ভ্রমণ করার সময়ে এমনটি কেন হয়? মন, চোখ ও শরীরের ভারসাম্যের মধ্যে সম্পর্ক কী? এটি কী প্রতিরোধ করা সম্ভব?

আমাদের মস্তিষ্কে ফ্লুইড রয়েছে। ভ্রমণের সময়ে এই ফ্লুইড যখন নাড়া খায়, তখন এটিতে কম্পন তৈরি হয়, যা গলায় পৌঁছায়। গলা নড়াচড়ার ফলে সেই কম্পনগুলো চলে যায় মাথার খুলিতে। এ প্রক্রিয়া মস্তিষ্কের ব্যালেন্স বাধাগ্রস্ত করে এবং এর ফলে বমি বমি ভাব, মাথাঘোরা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি করে। যখন তা সহ্য করার মতো থাকে না, তখন বমি হয়।

এ বিষয়ে দিল্লির স্যার গঙ্গা রাম হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, ভ্রমণের সময়ে পাকস্থলীর অবস্থাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। যারা খালি পেটে বা কিছু না খেয়ে ভ্রমণ করেন, পাকস্থলীতে থাকা ভেগাস নার্ভ (যেটি হৃৎপিণ্ড ও গলার নার্ভের সঙ্গে সম্পৃক্ত) আরও সক্রিয় হয়ে ওঠে। ভারি খাবারের পর যারা ভ্রমণ করেন, তাদের বমি হতে পারে।

তিনি বলেন, মোশন সিকনেস সব সময় কেবল ভ্রমণ সম্পর্ককৃত সমস্যা নয়। কখনো কখনো এটি হতে পারে মস্তিষ্কের কোনো ব্যাধির একটি উপসর্গ কিংবা ওষুধের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তো ব্রেন টিউমারের উপসর্গ পর্যন্ত হতে পারে মোশন সিকনেস।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—মোশন সিকনেস কী? মোশন সিকনেস হচ্ছে— এমন এক অবস্থা, যখন কোনো ব্যক্তি গাড়িতে ভ্রমণ করার সময়ে মাথাঘোরা, মাথাব্যাথা বা অস্থিরতায় ভোগেন ও বমি করেন। এ সমস্যা প্রায়ই দেখা দেয় কার, বাস, ট্রেন, জাহাজ বা উড়োজাহাজে ভ্রমণের সময়ে। কিছু মানুষ এ সমস্যায় আরও বেশি ভোগেন পাহাড়ি রাস্তায়। আর সাগর কিংবা আকাশে ভ্রমণের সময়ে যে ধরনের সমস্যা হয়, সেটির সঙ্গে যানবাহনে সৃষ্ট সমস্যার মিল রয়েছে।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, আপনি যদি গাড়ি বা বাসে বসে থাকেন, নিচের দিকে তাকিয়ে থাকেন কিংবা কোনো বই পড়তে থাকেন, তাহলে আপনার চোখ মস্তিষ্ককে বোঝাবে যে আপনি নড়ছেন না। কিন্তু আপনার কানের ব্যালেন্স সিস্টেম মস্তিষ্ককে ঠিকই জানাবে যে শরীরটা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় সরছে। এ ধরনের সংকেতগুলো শরীরকে বোঝায় যে, বিষাক্ত কিছু শরীরে প্রবেশ করেছে। আর শরীর জানে যে বিষাক্ত কিছু বের করার একমাত্র উপায় হলো বমি করা। আর এটি এড়ানোর একমাত্র উপায় হলো জানালা দিয়ে বাইরে দূরে তাকানো। এটি চোখ ও কান থেকে পাওয়া সংকেতের সঙ্গে মেলে এবং অস্বস্তি কমায়।

ডা. মহসিন ওয়ালি বলেন, প্রাথমিক কারণটি হলো রক্তচাপ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের গড় রক্তচাপ বেশি। অনেক নারী গৃহস্থালী কাজে, বিশেষ করে রান্নাঘরে দীর্ঘ সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকেন। এভাবে টানা দাঁড়িয়ে থাকা রক্তচাপ কমার কারণ হতে পারে। এটিকে পোশ্চারাল হাইপোটেনশন বলা হয়ে থাকে। এর ফলে মাথাঘোরা, বমি বমি ভাব এবং মোশন সিকনেসের উপসর্গ বাড়তে পারে। নারীদের শরীরে নিয়মিত হরমোনের পরিবর্তন ঘটে। এটিও অন্যতম একটি কারণ। মেন্সট্রুয়েশন বা মাসিকের সময়ে শরীরে লবণ, পানি ও ইলেকট্রলাইটের ক্রমাগত পরিবর্তন হয়। মাসিকে বেশি রক্ত গেলে শরীরে রক্তচাপ আরও কমতে পারে। এতে মোশন সিকনেসের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে ব্যাখ্যা করেন তিনি।

তিনি বলেন, নারীদের মস্তিষ্ক পুরুষদের তুলনায় গড়ে ১৫০ মিলিলিটার ছোট। তিনি মনে করেন, এটি সম্ভবত মস্তিষ্কে বাইরের প্রভাবে নারীদের সহজেই প্রভাবিত করে। নিম্ন রক্তচাপ, পোশ্চারাল হাইপোটনেশন, হরমোনের পরিবর্তন এবং শরীরের গঠন – সবকিছুই নারীদের মধ্যে মোশন সিকনেসের প্রবণতা বেশি হওয়ার কারণ।

এ বিষয়ে বিবিসির সংবাদদাতা কাটিয়া মস্কভিচের করা এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোশন সিকনেস একটি ব্যাধি। এতে ভোগেন প্রতি তিনজনের মধ্যে একজন। মোশন সিকনেসে কে, কখন প্রভাবিত হবেন সেটির ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয় এবং এর কোনো নিরাময় নেই। আর মোশন সিকনেসের কারণ হলো— আমাদের শরীরের ব্যালেন্স সিস্টেম সঠিকভাবে সমন্বয় বা তাল মেলাতে পারে না। মূলত কানের অভ্যন্তরে থাকা ব্যালেন্স অরগানের (ভেস্টিবুলার সিস্টেম) সঙ্গে শরীরের এই ব্যালেন্স সিস্টেম সংযুক্ত।

আবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেসের নিউরোলজি ডিপার্টমেন্টের ডা. মানজারি ত্রিপাঠির ভাষ্য অনুযায়ী, যখন আমরা বাস, কার, ট্রেন বা উড়োজাহাজে ভ্রমণ করি, সে সময়ে চোখ, কান ও শরীরের অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে মস্তিষ্কে যে তথ্য যায়, সেগুলো একটির সঙ্গে আরেকটি মেলে না। এ বিষয়টি ব্যালেন্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত রিসেপটরকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে ব্রেনস্টেম বা হাইপোথ্যালামাসের মতো মস্তিষ্কের কিছু অংশ উদ্দীপিত হয় এবং এতে করে মাথা ঘোরায় ও বমি হয়।

তিনি বলেন,  আপনার শরীরের নড়াচড়া বোঝে যে, রিসেপটরগুলো, সেগুলোর সঙ্গে কানের অভ্যন্তরীণ ব্যালেন্স সিস্টেমে ব্যাঘাতই হলো মোশন সিকনেসের কারণ। আপনার চোখ যা দেখছে এবং ভেতরের কান ও পেশি থেকে আসা সংকেতের মধ্যে মিল খুঁজে পায় না।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আমাদের শরীরের বিশেষ কিছু সেন্সর রয়েছে, যেগুলোকে আমরা রিসেপটর বলি। রিসেপটরগুলো বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলো বুঝে নিয়ে মস্তিষ্ককে সেগুলো জানায়।

ডা. ত্রিপাঠি বলেন, আর পুরুষদের চেয়ে নারীরা মোশন সিকনেসে বেশি ভোগেন। এর নেপথ্যে বিভিন্ন শারীরিক ও হরমোনজনিত কারণ রয়েছে। নারীদের জীবনযাত্রা পুরুষদের তুলনায় ভিন্ন এবং এই কারণে এই সমস্যা নারীদের মধ্যে বেশি।

ভ্রমণের সময়ে আপনার যা করণীয়

১. খালি পেটে ভ্রমণ করবেন না। সামান্য হালকা খাবার বা স্ন্যাক্স খান।

২. ভারি খাবার এড়িয়ে চলা। ডা. মহসীন ওয়ালি ভ্রমণের একদম আগ দিয়ে খুব বেশি না খেতে পরামর্শ দিয়েছেন।

৩. সামনে দেখা যায় এমন আসনে বসুন কিংবা সামনের আসন পছন্দ করুন; যদি সম্ভব হয় নিজে গাড়ি চালান।

৪. শরীরের অবস্থান স্থিতিশীল রাখুন। মাথা, কাঁধ, কোমর ও হাঁটুর নড়াচড়া কমান।

৫. প্রয়োজনে বমি প্রতিরোধকারী ওষুধ সেবন করুন।

৬. বমি বমি অনুভব করলে সঙ্গে সঙ্গে থামুন– সড়কের পাশে যানবাহন থামান। উল্টো দিকে যান এবং এরপর পুনরায় যাত্রা শুরু করুন।

৭. চলন্ত যানবাহনে ঘুমাবেন না। ঘুমন্ত অবস্থায় ভারসাম্য স্বাভাবিক থাকে না এবং বমির আশঙ্কা বাড়ে।

৮. নিকোটিন এড়িয়ে চলুন। যারা ধূমপান করেন, বমি করার সম্ভাবনা তাদের বেশি।

‘ফ্যামিলি কার্ডের’ স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা! ফরিদপুরে যুবক আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১০:০১ পিএম
‘ফ্যামিলি কার্ডের’ স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা! ফরিদপুরে যুবক আটক

ফরিদপুর সদর উপজেলার গেরদা ইউনিয়নের কেশবনগর গ্রামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারণার অভিযোগে মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিএনপির নেতা-কর্মীরা তাকে কোতয়ালী থানা পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটক সাইফুল ইসলাম ওই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের ছেলে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে সরকারি বিশেষ সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাইফুল ইসলাম কেশবনগর এলাকার কয়েকজন হতদরিদ্র মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি দাবি করেন, তার মাধ্যমে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলো সরকারি খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সুবিধা পেতে পারবে। এই প্রলোভনে পড়ে এলাকার অসহায় মানুষজন তার কাছে ভিড় জমাতে শুরু করেন।

অভিযোগ রয়েছে, সাইফুল ইসলাম জনপ্রতি ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করেন। অনেকেই শেষ সম্বল থেকে টাকা দিয়ে কার্ড পাওয়ার আশায় ছিলেন। তবে সময় গড়ালেও কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় এবং তার কথাবার্তায় অসংলগ্নতা দেখা দিলে ভুক্তভোগীদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।

পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি হলে ভুক্তভোগীরা ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফের হটলাইন নম্বরে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর হটলাইন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিক সত্যতা পায়। এরই প্রেক্ষিতে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় সাইফুল ইসলামকে আটক করা হয়।

আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সাইফুল ইসলাম টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি জানান, না বুঝে এ ধরনের কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতে আর এমন প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ২:৫৪ পিএম
ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা গ্রেপ্তার

ফরিদপুরে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের জেলা শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ তাহসিন ইসলাম ওরফে সিয়ামকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দিবাগত রাত আনুমানিক ১০টার দিকে শহরের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সামনে থেকে কোতোয়ালী থানা পুলিশ তাকে আটক করে।

গ্রেপ্তারকৃত সিয়াম ফরিদপুর শহরের পশ্চিম খাবাসপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিয়াম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছিল।

পুলিশ জানায়, কোতোয়ালী থানা ভাঙচুর সংক্রান্ত একটি মামলায় পূর্বে গ্রেপ্তার হয়ে সিয়াম জেলা কারাগারে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি জামিনে মুক্তি পান। তবে জামিনে বের হওয়ার পরই তিনি আবারও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও সংঘবদ্ধ মারামারির ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ একটি মারামারির ঘটনার সংবাদ পেয়ে কোতোয়ালী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সিয়ামকে আটক করা হয়। পরে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ফরিদপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রেপ্তারকৃত সিয়ামের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে, যার মধ্যে মারামারি, ভাঙচুর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগও রয়েছে।

তিনি বলেন, “সাম্প্রতিক ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তাকে শুক্রবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা হয়।”

সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুর ও সালথা প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ মার্চ, ২০২৬, ১২:৩৯ পিএম
সালথা বাজারে পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

ফরিদপুরের সালথা বাজারে একটি পাটের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক ব্যবসায়ীর প্রায় ২৫ লাখ টাকার পাট ও অন্যান্য পণ্য পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তবে দ্রুত উদ্ধার তৎপরতায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সালথা উপজেলা সদর বাজারের পুরুরা রোড এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গুদামের ভেতরে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়।

স্থানীয়রা জানান, সকালে হঠাৎ গুদাম থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং পুরো গুদাম এলাকা ঘন কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। আশপাশের ব্যবসায়ী ও পথচারীরা প্রথমে নিজেরাই আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন, তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

খবর পেয়ে সালথা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এ সময় আগুন পাশের দোকান ও গুদামে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি থেকে রক্ষা পায় পুরো বাজার এলাকা।

সালথা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মকর্তা আব্দুল জলিল জানান, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং প্রায় এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম বলেন, “আমার গুদামে থাকা অধিকাংশ পাট ও কিছু অন্যান্য পণ্য পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপে কিছু মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।