খুঁজুন
, ,

নিউমোনিয়া কতটা ভয়ংকর? ঝুঁকিতে কারা, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩৪ পূর্বাহ্ণ
নিউমোনিয়া কতটা ভয়ংকর? ঝুঁকিতে কারা, লক্ষণ ও বাঁচার উপায়

ফুসফুসের সংক্রমণজনিত গুরুতর রোগ নিউমোনিয়া শিশু ও বয়স্কদের জন্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এ রোগ জীবনহানির কারণও হতে পারে।

নিউমোনিয়া কী ও কেন হয়

নিউমোনিয়া হলো ফুসফুসের এক ধরনের মারাত্মক সংক্রমণ, যা ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক কিংবা কখনো পরজীবীর মাধ্যমে হতে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াই প্রধান কারণ। জীবাণু ফুসফুসে প্রবেশ করলে ভেতরের এয়ার স্যাক বা অ্যালভিওলাইতে প্রদাহ সৃষ্টি হয় এবং সেখানে তরল বা পুঁজ জমে যায়। ফলে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

নিউমোনিয়ার লক্ষণ

নিউমোনিয়ার লক্ষণ হালকা থেকে গুরুতর হতে পারে এবং বয়স ও সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী ভিন্ন হয়। সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—

উচ্চ জ্বর ও শরীর কাঁপুনি

কাশি, কাশির সঙ্গে হলুদ, সবুজ বা কখনো রক্তমিশ্রিত কফ

শ্বাসকষ্ট ও দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস

বুকে ব্যথা, বিশেষ করে আক্রান্ত পাশের ফুসফুসে

দুর্বলতা, ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য

গুরুতর হলে ঠোঁট, জিহ্বা বা আঙুল নীল হয়ে যাওয়া (অক্সিজেন কমে গেলে)

শিশু ও নবজাতকদের ক্ষেত্রে অনেক সময় স্পষ্ট লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। তবে খেতে না পারা, দ্রুত শ্বাস, অস্থিরতা, বমি বা অতিরিক্ত কান্না নিউমোনিয়ার ইঙ্গিত হতে পারে।

৬৫ বছরের বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে জ্বর বা কাশি কম থাকলেও হঠাৎ বিভ্রান্তি, শারীরিক দুর্বলতা বা পুরোনো রোগের অবনতি দেখা দিতে পারে।

কারা নিউমোনিয়ার বেশি ঝুঁকিতে

৫ বছরের কম বয়সী শিশু

৬৫ বছরের বেশি বয়সী বয়স্ক ব্যক্তি

যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম (কেমোথেরাপি, স্টেরয়েড সেবন, এইচআইভি ইত্যাদি)

অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, হার্ট, কিডনি বা দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা ব্যক্তি

ধূমপায়ী

যাদের আগে থেকেই অ্যাজমা, ব্রঙ্কাইটিস বা অন্যান্য ফুসফুসের রোগ আছে

ভাইরাল ফ্লু বা ইনফ্লুয়েঞ্জার পর সেকেন্ডারি ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হলে

নিউমোনিয়ার ধরন

নিউমোনিয়া বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। যেমন—

কমিউনিটি অ্যাকোয়ার্ড নিউমোনিয়া (হাসপাতালের বাইরে হওয়া)

হাসপাতাল-অর্জিত নিউমোনিয়া ও ভেন্টিলেটর-সম্পর্কিত নিউমোনিয়া

ব্যাকটেরিয়াল, ভাইরাল, মাইকোপ্লাজমা ও ছত্রাকজনিত নিউমোনিয়া

শ্বাসাঘাত (অ্যাসপিরেশন) নিউমোনিয়া

হাঁটা নিউমোনিয়া (হালকা উপসর্গযুক্ত)

রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা

জ্বর, কাশি, বুকে ব্যথা ও কফের রং পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সাধারণত বুকের এক্স-রে ও রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমেই নিউমোনিয়া শনাক্ত করা যায়।

সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়—

ব্যাকটেরিয়াজনিত নিউমোনিয়ায় অ্যান্টিবায়োটিক

ভাইরাল নিউমোনিয়ায় প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভাইরাল ও সহায়ক চিকিৎসা

জ্বর ও ব্যথায় প্যারাসিটামল

গুরুতর অবস্থায় রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করে অক্সিজেন বা ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ দিতে হয়।

কখন হাসপাতালে ভর্তি জরুরি

প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়া

খাবার গ্রহণে অক্ষমতা

অতিরিক্ত জ্বর বা দ্রুত শ্বাস

বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে

নিউমোনিয়া প্রতিরোধের উপায়

সুষম ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া

ধূমপান ও অ্যালকোহল পরিহার

নিয়মিত হাত ধোয়া ও সংক্রমিত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা

নিউমোকোকাল ও ইনফ্লুয়েঞ্জা ভ্যাকসিন গ্রহণ (বিশেষ করে বয়স্ক ও উচ্চ ঝুঁকির ব্যক্তিদের জন্য)

ফ্লু বা নিউমোনিয়া আক্রান্ত হলে মাস্ক ব্যবহার

শেষ কথা

সঠিক সময়ে চিকিৎসা নিলে অধিকাংশ মানুষই নিউমোনিয়া থেকে সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে অবহেলা করলে এটি মারাত্মক জটিলতা থেকে মৃত্যুর কারণ হতে পারে। তাই উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে ৭ হাজার ৯০০ পিস ইয়াবাসহ কক্সবাজারের যুবক গ্রেপ্তার

কক্সবাজার পৌরসভা এলাকা থেকে ইয়াবার বড় চালানের খবর পেয়েই তৎপর হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সদস্যরা। দীর্ঘ নজরদারি শেষে ফরিদপুরের ভাঙ্গা এলাকা থেকে আটক করা হয় তরুণ মাদক কারবারি মো. হারুন রশীদকে (২৪)।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে চালানের সাত হাজার নয়শত (৭,৯০০) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট।

​মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টা থেকে ১১ টার মধ্যে ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা থানাধীন ভাঙ্গা বাসস্টপ সংলগ্ন ভাঙ্গা-বরিশাল কাউন্টারের পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার ওপর এক বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে টেকনাফ-কক্সবাজার রুট দিয়ে আসা যুবকদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে মো. হারুন রশীদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​গ্রেফতারকৃত হারুন রশীদ কক্সবাজার পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টেকপাড়া এলাকার (ইউনুছ এর বাড়ির ভাড়াটিয়া) মৃত সিদ্দিক মিয়া ও মৃত রেনুয়ারা বেগমের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, সে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী এলাকা কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করে আসছিল।

​এ বিষয়ে ফরিদপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শিরিন আক্তার ‘ফরিদপুর প্রতিদিন‘-কে জানান, “মাদক সরবরাহ ও পাচারের বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত জিরো টলারেন্স অভিযান চলছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ হারুনকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হই। এ ঘটনায় ভাঙ্গা থানায় নিয়মিত ধারায় ১টি মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।”

​ডিএনসি ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের পরিচালিত এ অভিযানে আটক আসামিকে আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে। মাদকের এই বড় সিন্ডিকেটের পেছনে আর কারা জড়িত রয়েছে, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ফরিদপুরে বসতবাড়ি থেকে দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে বসতবাড়ি থেকে দেড় কেজি গাঁজা উদ্ধার, নারী গ্রেপ্তার

ফরিদপুর শহরের কুঠিবাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বসতবাড়ি থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজাসহ শিল্পী বেগম (৩৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

​বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হাসান সিকদার সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ওই নারীর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালান। এ সময় তাঁর ঘর থেকে ১ কেজি ৫০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়। পরে পুলিশ মাদকদ্রব্য জব্দ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, এ ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তার নারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

ফরিদপুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধে মারামারি, ঠেকাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরে ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধে মারামারি, ঠেকাতে গিয়ে কৃষকের মৃত্যু

ফরিদপুরের সালথায় ডিম খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলের সঙ্গে দুই প্রতিবেশীর মারামারি থামাতে গিয়ে মো. লুৎফার মোল্যা (৫০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মারামারি থামাতে গিয়ে তাঁকে মারধর করা হয়। তবে পুলিশের দাবি, কোনো আঘাতে নয়, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের মোন্তারমোড় বাজারে এ ঘটনা ঘটে। লুৎফার মোল্যা উপজেলার চান্দাখোলা গ্রামের মৃত পান্নু মোল্যার ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় মোন্তারমোড় বাজারে ডিম খাওয়া নিয়ে লুৎফারের ছেলে মো. লিয়াকত মোল্যার সঙ্গে প্রতিবেশী আলামিন ও মো. শামের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে হয়। খবর পেয়ে লুৎফার ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি অসুস্থ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।

তবে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, মারামারি থামাতে গেলে লুৎফারকে কিল-ঘুষি মারা হয়। এরপর তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, ডিম খাওয়া নিয়ে লুৎফারের ছেলের সঙ্গে দুই যুবকের মারামারি হয়। এ সময় এগিয়ে গেলে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লুৎফারের মৃত্যু হয়। তার শরীরে আঘাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় কেউ অভিযোগও করেননি।