খুঁজুন
রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৮ চৈত্র, ১৪৩২

ভারত কেন শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজাতে দিল?

অমিতাভ ভট্টশালী
প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২৬, ৭:৩২ এএম
ভারত কেন শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজাতে দিল?

দিল্লিতে গত শুক্রবার একটি সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও বাজানো নিয়ে ঢাকার প্রবল আপত্তির প্রেক্ষিতে ভারতের একাধিক বিশ্লেষক বলছেন যে তাদের দেশে বাক্-স্বাধীনতা আছে, তাই কে কখন মুখ খুলবেন, সেটা ভারতের সরকার ঠিক করে দিতে পারে না।

তারা এ-ও বলছেন, যদি ভারতের সরকার চাইত, তাহলে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা অডিও ভাষণ বাজানোর ক্ষেত্রে বাধা দিতে পারত, কিন্তু দিল্লি তাতে বিশেষ আগ্রহী নয় বলেই তাদের ধারণা।

‘ফরেন করেস্পডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া’ দিল্লিতে ২৩শে জানুয়ারি ‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার আয়োজন করেছিল। সেখানে সশরীরে এবং ভার্চুয়াল মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের একাধিক প্রাক্তন মন্ত্রী ও নেতা হাজির ছিলেন। ওই অনুষ্ঠানেই শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ বাজানো হয়েছিল।

এর আগে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ইমেইলের মাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন শেখ হাসিনা। তিনি সামাজিক প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে নিয়মিতই তার নিজের দলের নেতা-কর্মীদের সামনে ভাষন দিয়ে থাকেন। তবে সব ক্ষেত্রেই সেগুলি শুধুই অডিও। তবে ভিডিও বা ভারতে অবস্থানকালে তার কোনও ছবি প্রকাশ করা হয় না।

ওইসব সাক্ষাৎকার এবং শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে এর আগেও আপত্তি তুলেছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। কিন্তু দিল্লি সেগুলির সরাসরি জবাব দেয়নি কখনোই।

‘ভারতে বাক্-স্বাধীনতা আছে…’

শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো নিয়ে বাংলাদেশের আপত্তির প্রেক্ষিতে এখনও সরকারি ভাবে কোনও মন্তব্য করেনি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

তবে ভারতের একাধিক বিশ্লেষক মনে করেন যে, শেখ হাসিনা কখন, কী বলবেন, সেটা তার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বা চায়ও না।

বাংলাদেশে ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “ভারতে তো বাক্-স্বাধীনতা আছে। ভারত সরকার তা ঠিক করে দিতে পারে না যে কে কী কথা বলবেন।”

বাংলাদেশে নির্বাচনের ঠিক আগে শেখ হাসিনার রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো হয়েছে। সেই প্রসঙ্গে মি. চক্রবর্তী আবারও বলেন, “কোন সময়ে কে মুখ খুলবেন, কী বলবেন, সেটা ভারতের সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তো হয় না! যিনি কথা বলতে চাইছেন, সেটা তার নিজের সিদ্ধান্ত।”

কলকাতার রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায়চৌধুরীও সেই ‘বাক্ স্বাধীনতা’র কথাই বললেন।

তবে তার সংযোজন, “এ দেশে বাক্ স্বাধীনতা রয়েছে। তাই ভারতে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা কোন কথা কীভাবে, কখন বলবেন, সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে যে ভারত সরকার আগ্রহী নয়, সেটা স্পষ্ট। তবে এটাও ঠিক যে সরকার যদি চাইত তাহলে বাধা দিতে পারত। তারা চায়নি বাধা দিতে।”

বাংলা সংবাদ পোর্টাল ‘দ্য ওয়াল’ এর কার্যনির্বাহী সম্পাদক ও বাংলাদেশের ঘটনাবলির দিকে গভীর নজর রাখেন এমন এক সাংবাদিক অমল সরকার একটু ভিন্ন প্রেক্ষাপটের কথা বলছিলেন।

তার কথায়, “গত শুক্রবারের অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার যে রেকর্ড করা ভাষণ বাজানো হয়েছে, সেখানে তিনি যা বলেছেন, তার সঙ্গে এতদিন ধরে তিনি যে ন্যারেটিভ তুলে ধরছেন – তার বিশেষ ফারাক নেই। বিভিন্ন সামাজিক প্ল্যাটফর্ম বা দলীয় গ্রুপগুলোতে তো তিনি মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারের ব্যর্থতা, সংখ্যালঘুদের ওপরে নির্যাতন, মব কালচার ইত্যাদি নিয়ে বলেই আসছেন।

“আবার ভারত সরকারও তো এই একই ন্যারেটিভেই বিশ্বাস করে। সরকার হয়ত কূটনৈতিক শিষ্টাচার থেকে খোলাখুলি বলতে পারে না কথাগুলো। তবে শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ আর ভারত সরকার যে একই ন্যারেটিভে বিশ্বাস করে, সেটা তো স্পষ্ট। সেকারণেই শেখ হাসিনাকে বাধা দিচ্ছে না ভারত,” বিশ্লেষণ অমল সরকারের।

‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ নিয়ে দিল্লির কথা মানেনি ঢাকা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বার বার একই মন্তব্য করেছে যে, তারা চায় বাংলাদেশে স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন হোক।

এখানে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন’ শব্দ বন্ধের মাধ্যমে তারা বলার চেষ্টা করে থাকে যে সব দল যেন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারে। যেটা স্পষ্ট করে বলা হয় না, তা হলো বাংলাদেশে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগও যাতে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে, দিল্লির ইচ্ছা সেটাই।

“তবে ঢাকাও তার যুক্তি দেখিয়েছে যে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই তো হচ্ছে – যেখানে সব জনগণ শামিল হচ্ছেন,” বলছিলেন অমল সরকার।

তার কথায়, “এখানে তো ভারতের আকাঙ্ক্ষা তো পূরণ হয়নি, ঢাকা তো দিল্লির ইচ্ছা মেনে নিয়ে আওয়ামী লীগ সহ সব দলকে অন্তর্ভুক্ত করে নির্বাচন করছে না। যখন ভারতের ইচ্ছা বাংলাদেশ শোনেনি, তাই দিল্লি এখন চাইছে শেখ হাসিনা তার বক্তব্য তুলে ধরুন।”

অধ্যাপক সব্যসাচী বসু রায় চৌধুরি অবশ্য মনে করেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে দিল্লির সম্পর্ক এখন তলানিতে এসে ঠেকলেও ভোটের পরে যে দলের সরকারই আসুক না কেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে উন্নতে ঘটাতে চাইবে দুটি দেশই।

তার কথায়, “দুই দেশেরই স্বার্থ এতে জড়িত আছে।”

শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে যে আপত্তি ঢাকার

ভারতে বসে প্রকাশ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্য দিতে দেওয়ায় রোববার এক বিবৃতি দিয়ে বিস্ময় ও হতাশা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তার এসব বক্তব্য বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ”বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করার এবং আসন্ন নির্বাচনকে ব্যাহত করার জন্য আওয়ামী লীগের সমর্থকদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করার জন্য মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে প্রকাশ্যে যে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, তাতে বাংলাদেশের সরকার বিস্মিত ও হতাশ হয়েছে”।

শুক্রবার ভারতের নয়াদিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন আওয়ামী লীগের নেতারা।

‘সেভ ডেমোক্রেসি ইন বাংলাদেশ’, অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে গণতন্ত্র বাঁচাও’ শীর্ষক ওই সেমিনারে বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একটি রেকর্ড করা অডিও ভাষণ শোনানো হয়।

ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেছে, যার অন্যতম হলো জাতিসংঘকে আমন্ত্রণ করে বিগত বছরের ঘটনাবলির ‘নিরপেক্ষ তদন্তের’ দাবি, যাতে, তাদের ভাষায়, ‘খাঁটি সত্যটা’ জানা যায়।

এছাড়াও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, মব সন্ত্রাসের সংস্কৃতি, সংখ্যালঘু এবং বিরোধী দলীয় নেতা-কর্মী আর সাংবাদিকদের ওপরে আক্রমণ ইত্যাদি বিষয় তুলে ধরা হয় “বিশ্বের নজরে” আনার জন্য।

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের সপ্তাহ দুয়েক আগে পর পর দুই সপ্তাহে ভারতের রাজধানী শহরে আওয়ামী লীগ নেতাদের দুটি সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের নেতারা।

এসব প্রসঙ্গ টেনে রোববার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ”দুই দেশের মধ্যে থাকা দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের সরকার বারবার অনুরোধ করার পরেও ভারত শেখ হাসিনাকে হস্তান্তর করেনি, যা বাংলাদেশকে গভীরভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। বরং ভারত তাকে নিজেদের মাটিতে বসে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে এরকম উস্কানিমূূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিচ্ছে। এটা পরিষ্কারভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি”।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ভারতের রাজধানীতে বসে এরকম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া দুই দেশের সম্পর্কের জন্য অন্তরায়। বিশেষ করে সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, অন্য দেশের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং প্রতিবেশীসুলভ আচরণ নয়। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভবিষ্যৎ সম্পর্ককে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ”আওয়ামী লীগ নেতাদের দেওয়া এরকম উস্কানিমূলক বক্তব্য আবারও প্রমাণ করেছে যে, কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। নির্বাচনের আগে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য তাদের দায়ী করা হবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২২ মার্চ, ২০২৬, ৬:২১ এএম
চৈত্রে শীতের আমেজ: ঘন কুয়াশায় ঢেকে গেল ফরিদপুর, বিপাকে পেঁয়াজ চাষিরা

চৈত্র মাসের মাঝামাঝি সময়ে হঠাৎ করেই শীতের আবহ ফিরে এসেছে ফরিদপুরে। রবিবার (২২ মার্চ) ভোর থেকেই ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় পুরো জেলা। চারপাশে যেন শীতের সকালের সেই পরিচিত দৃশ্য—মাঠ-ঘাট, গাছপালা, রাস্তা সবই কুয়াশার আস্তরণে আচ্ছন্ন। মৃদু শীতল বাতাস আর হালকা ঠান্ডা আবহে প্রকৃতি যেন ভুলে গেছে ঋতুর নিয়ম।

ভোরের আলো ফুটলেও সূর্যের দেখা মেলেনি অনেকক্ষণ। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি ছিল যে দূরের বস্তু স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। গ্রামীণ জনপদে দেখা গেছে চিরচেনা দৃশ্য—কৃষকরা গরু নিয়ে মাঠে যাচ্ছেন, আর গৃহস্থ বাড়িতে কৃষাণীরা ধান সিদ্ধ করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সব মিলিয়ে চৈত্রের সকালে এমন দৃশ্য অনেকটাই অপ্রত্যাশিত হলেও প্রকৃতির এক ভিন্ন সৌন্দর্য উপভোগ করছেন স্থানীয়রা।

সালথা উপজেলার কৃষক শাহাজুদ্দিন মাতুব্বর বলেন, “চৈত্র মাসে এমন কুয়াশা আমরা খুব একটা দেখি না। সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা অনুভব করছি। তবে এই কুয়াশা ফসলের জন্য ভালো না-ও হতে পারে।”

বিশেষ করে পেঁয়াজ চাষিদের মধ্যে দেখা দিয়েছে শঙ্কা। এই সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা ও আর্দ্রতা পেঁয়াজের গাছের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। এতে করে গাছের পাতা পচে যাওয়া বা রোগবালাইয়ের ঝুঁকি বাড়তে পারে, যা উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জেলা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুম পরিবর্তনের এই সময়ে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে এমন কুয়াশা দেখা দিতে পারে। রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যাওয়ায় এবং বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকায় ভোরের দিকে কুয়াশা ঘনীভূত হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা স্বাভাবিক হয়ে আসবে এবং কুয়াশা কেটে যাবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

আবহাওয়াবিদরা আরও জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিন এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে। তাই কৃষকদের প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পেঁয়াজসহ সংবেদনশীল ফসলের যত্নে বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, চৈত্রের প্রখর রোদ আর গরমের বদলে হঠাৎ করে ফিরে আসা শীতের এই আমেজ একদিকে যেমন প্রকৃতিকে দিয়েছে ভিন্ন রূপ, অন্যদিকে কৃষকদের মনে তৈরি করেছে নতুন দুশ্চিন্তার ছায়া।

ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৬:৩৫ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের দিনে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৬ 

ফরিদপুরের সদরপুরে ঈদের নামাজের পর একটি পাগলা কুকুরের কামড়ে অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। 

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলা সদরে এ ঘটনা ঘটে। পরে দুইটার দিকে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলে বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ঈদের নামাজের পর উপজেলা সদরে একটি পাগলা কুকুর যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই আকষ্মিকভাবে কামড়ে আহত করে। তবে প্রাথমিকভাবে আহতদের নাম পরিচয় জানা সম্ভব হয়নি।

ভুক্তভোগী এক রোগীর স্বজন মো. সোহাগ মুন্সি বলেন, একটি পাগলা কুকুর হঠাৎ করে যাকে সামনে পেয়েছে তাকেই কামড়িয়ে আহত করে। আমার ভাতিজা আরাফাতকে(১৪) কামড়ে আহত করে। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। মোট ১৬ জন বিভিন্ন বয়সী মানুষকে কুকুরটি কামড়ে আহত করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মো: মমিনুর রহমান সরকার বলেন, আহতদের মধ্যে এগারো জনকে আমাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ জন পার্শ্ববর্তী হাসপাতাল ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

 

ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুর প্রতিনিধি:
প্রকাশিত: শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম
ফরিদপুরে ঈদের নামাজ শেষেই দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১০

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঈদের নামাজ শেষে দুই দল গ্রামবাসী মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় ১৫/২০ টি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয় বলে জানা গেছে।

শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ৯ টা থেকে বেলা ১১ টা পর্যন্ত দুই ঘন্টা ব্যাপী দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার মধ্যে চলে এ সংঘর্ষ। দুই পক্ষ ঢাল, সরকি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে-অপরের ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। এ সময় এলাকায় রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ বেশ কিছু দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ইসমাইল মুন্সি ও চুন্নু মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দিনগত রাত সাড়ে বারটার দিকে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মধ্যরাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত ১২ জন আহত হন। এর জের ধরে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়টি নিশ্চিত করে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঈদের নামাজ শেষে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।