খুঁজুন
সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন, ১৪৩২

ট্রাম্পকাণ্ডে টালমাটাল বৈশ্বিক রাজনীতি

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৪ এএম
ট্রাম্পকাণ্ডে টালমাটাল বৈশ্বিক রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন এবং এমন বিষয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। অভিষেকের প্রথম দিনেই দেওয়া ঘোষণা—‘কোনো কিছুই আমাদের পথে (বাধা হয়ে) দাঁড়াতে পারবে না’—এখন আর সেই বক্তব্য নিছক রাজনৈতিক বলে মনে হচ্ছে না। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা যেন বাস্তব নীতির রূপ নিচ্ছে।

ট্রাম্প তার অভিষেক ভাষণে উনিশ শতকের ‘ম্যানিফেস্ট ডেসটিনি’ মতবাদের উল্লেখ করেন, যে ধারণা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রকে ঈশ্বরপ্রদত্ত দায়িত্ব হিসেবে নিজেদের প্রভাব ও ভূখণ্ড বিস্তার করতে হবে। প্রথমে পানামা খাল ‘ফিরিয়ে নেওয়ার’ কথা, আর এখন গ্রিনল্যান্ড নিয়ে সরাসরি মালিকানার দাবি—এ ধারাবাহিকতা বিশ্বনেতাদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে।

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র ডেনমার্কের অংশ এবং সেখানে বসবাসকারী জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সামরিক বা রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকি সাম্প্রতিক মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন। গত এক শতাব্দীতে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট এত প্রকাশ্যে মিত্রদেশের ভূখণ্ড দখলের কথা বলেননি। এই অবস্থান শুধু আন্তর্জাতিক আইন নয়, বরং ন্যাটোর মতো বহুপক্ষীয় জোটের ভিত্তিকেও প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

বিশ্ব রাজনীতিতে ট্রাম্পকে এখন অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ‘আমূল পরিবর্তনকারী’ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখছেন। তার সমর্থকরা ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিকে সাহসী ও বাস্তববাদী বলে প্রশংসা করছেন। কিন্তু ইউরোপের রাজধানীগুলোয় বিশেষ করে প্যারিস, বার্লিন ও কোপেনহেগেনে উদ্বেগ স্পষ্ট। অন্যদিকে মস্কো ও বেইজিং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে— এই ভাঙন তাদের কৌশলগত সুযোগ বাড়াতে পারে।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ দাভোস অর্থনৈতিক ফোরামে সতর্ক করে বলেন, বিশ্ব এমন এক দিকে যাচ্ছে যেখানে নিয়ম নয়, বরং শক্তির শাসন কার্যকর হবে। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত স্পষ্ট—ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র সেই পরিবর্তনের প্রধান চালিকাশক্তি।

গ্রিনল্যান্ড ইস্যু ঘিরে বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কাও বাড়ছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন পাল্টা শুল্ক আরোপের প্রস্তুতির কথা বলছে। এমনকি চরম পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র যদি বলপ্রয়োগের পথে যায়, তাহলে ৭৬ বছরের পুরোনো ন্যাটো জোট টিকে থাকবে কি না—সে প্রশ্নও উঠেছে।

ট্রাম্পের সমর্থকরা অবশ্য জাতিসংঘ ও বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার ব্যর্থতার কথা তুলে ধরে এসব পদক্ষেপকে ন্যায্যতা দিচ্ছেন। রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান র্যান্ডি ফাইন গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিল উত্থাপন করে বলেন, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে, তাই তার নিয়ম মানার প্রয়োজন নেই।

ট্রাম্পের কূটনৈতিক কৌশল বরাবরই অপ্রত্যাশিত। কখনো তিনি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের কথা বলেন, আবার পরক্ষণেই কঠোর হুমকি দেন। ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে একসময় ইউরোপের সঙ্গে ঐক্য দেখালেও পরে তার অবস্থান বদলেছে। কখনো রাশিয়ার প্রতি নরম, কখনো ইউক্রেনপন্থি—এই দোলাচল মিত্রদের বিভ্রান্ত করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ট্রাম্পের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, প্রেসিডেন্ট গতানুগতিক রাজনীতিবিদের মতো নন এবং তিনি যা বলেন, তা বাস্তবায়ন করেন। রুবিও জোর দিয়ে বলছেন, গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্প সামরিক পদক্ষেপ নয়, বরং কেনার পথ খুঁজছেন। তবে ট্রাম্প নিজেই যখন বলেন, ‘আমার এটার মালিকানা চাই’ তখন সেই আশ্বাস অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে।

বিশ্লেষকরা ট্রাম্পের কৌশলকে শক্তি ও লেনদেননির্ভর বলে আখ্যা দিচ্ছেন। দ্য ইকোনমিস্টের সম্পাদক জ্যানি মিনটন বেডোসের ভাষায়, ট্রাম্প জোট বা মূল্যবোধে বিশ্বাস করেন না; তিনি কেবল শক্তির ভাষা বোঝেন।

মধ্যপ্রাচ্যে ট্রাম্প কিছু কূটনৈতিক সাফল্য দেখিয়েছেন, গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি তার উদাহরণ। তবে এসব উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদি শান্তি আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তার নীতিতে কখনো হস্তক্ষেপবিরোধী বক্তব্য, আবার কখনো আগ্রাসী আচরণ—এই দ্বৈততা বিশ্বকে বিভ্রান্ত করছে।

ইউরোপের দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন কৌশল নিচ্ছে। ফ্রান্স কঠোর অবস্থান নিচ্ছে, যুক্তরাজ্য সম্পর্ক বজায় রেখে ক্ষতি কমাতে চাইছে, ইতালি সমঝোতার ভাষা ব্যবহার করছে। অন্যদিকে কানাডা বিকল্প পথ খুঁজছে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির চীন সফর স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরশীলতা কমানোর চিন্তা জোরালো হচ্ছে।

দাভোসে কার্নি বলেন, বিশ্ব এখন কোনো রূপান্তরের মধ্য দিয়ে নয়, বরং একটি ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ বক্তব্যই বর্তমান সময়ের সবচেয়ে যথাযথ সারাংশ।

ট্রাম্প নিজে যখন বলেন, তাকে থামাতে পারে কেবল তার নিজের মন ও নৈতিকতা, তখন বিশ্ববাসীর উদ্বেগ আরও বাড়ে। কারণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যেখানে নিয়ম, প্রতিষ্ঠান ও পারস্পরিক আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে ছিল, সেখানে একজন ব্যক্তির ইচ্ছাই যদি প্রধান নিয়ামক হয়ে ওঠে, তবে সেই ব্যবস্থা যে কতটা টেকসই থাকবে—তা নিয়েই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৯:৪৪ পিএম
১৫ বছর পর আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূরের বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার

সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দেওয়া বরখাস্তের আদেশ প্রত্যাহার করেছে সরকার। এ বিষয়ে সোমবার (৯ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার (পশ্চিম) কোহিনূর মিয়ার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে। পাশাপাশি তিনি বিধি অনুযায়ী সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দুটি বিভাগীয় মামলা হয়েছিল। এ কারণে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণের গুরুদণ্ডও দেওয়া হয়। পরে তিনি ফৌজদারী মামলা দুটির অভিযোগ থেকে আদালতের মাধ্যমে নির্দোষ প্রমাণ হয়ে খালাস পান।

এছাড়া তার গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন রাষ্ট্রপতি মঞ্জুর করায় আরোপিত চাকরি থেকে বরখাস্তের আদেশটি বাতিল করা হয়। তাই কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া বিভাগীয় মামলায় ২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি জারি করা প্রজ্ঞাপনটি বাতিল করা হলো। একই সঙ্গে তার বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হলো এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্য সুবিধা পাবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

 

বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর ও লাবলু মিয়া, সালথা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম
বয়স ৮৭, তবু থামেননি—পুকুরপাড়ে বসেই চলছে অকিল শীলের সেলুন

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি। নেই কোনো ঘর, নেই আধুনিক সেলুনের ঝাঁ চকচকে সাজসজ্জা। তবু এই পুকুরপাড়েই প্রতিদিনের মতো বসে মানুষের চুল-দাড়ি কাটেন ৮৭ বছর বয়সী অকিল শীল। হাতে পুরোনো কাঁচি আর ক্ষুর—এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই তিনি টানা ৬৬ বছর ধরে মানুষের সেবা করে যাচ্ছেন।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় গ্রামেও এখন গড়ে উঠেছে অসংখ্য সেলুন। উন্নত চেয়ার, আয়না, বৈদ্যুতিক ট্রিমার আর সাজানো দোকান—সবই আছে সেখানে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারের এই পুকুরপাড়ে বসা বৃদ্ধ নাপিতের কাছে এখনও ভিড় করেন অনেকেই। কারণ তাঁর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু বছরের স্মৃতি, বিশ্বাস আর গ্রামীণ জীবনের এক সরল অধ্যায়।

শৈশবেই পেশায় যুক্ত:

অকিল শীলের বাড়ি পাশের নগরকান্দা উপজেলার সদর গ্রামের চৌমুখা এলাকায়। তাঁর পিতা হরিবদন শীল ছিলেন পেশায় নাপিত। ছোটবেলা থেকেই বাবার পাশে বসে তিনি এই কাজ শেখেন। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। তাই কৈশোরেই জীবিকার তাগিদে পেশাটিকে বেছে নিতে হয় তাকে।

প্রথমদিকে বাবার সঙ্গে বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন তিনি। পরে ধীরে ধীরে নিজেই কাজ শুরু করেন। প্রায় ৬৬ বছর আগে মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে বসেই তিনি নিজের কর্মজীবনের যাত্রা শুরু করেন। সেই শুরু থেকে আজও একই জায়গায় বসেই কাজ করে যাচ্ছেন অকিল শীল।

হাটের দিনেই জমে ওঠে সেলুন:

মাঝারদিয়া বাজারে সপ্তাহে দুই দিন হাট বসে। সাধারণত হাটের দিন সকাল থেকেই পুকুরপাড়ে চলে আসেন অকিল শীল। সঙ্গে থাকে একটি ছোট কাঠের পিঁড়ি, পুরোনো কাঁচি, ক্ষুর আর কয়েকটি প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম।

পুকুরপাড়ে পিঁড়ি পেতে বসেই শুরু হয় তাঁর দিনের কাজ। গ্রামের মানুষজন একে একে এসে বসেন তাঁর সামনে। কেউ দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন, কেউ আবার সিরিয়াল ধরে বসে থাকেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বয়সের ভারে শরীর কিছুটা নুয়ে পড়লেও কাজের প্রতি তাঁর আগ্রহে কোনো ঘাটতি নেই। মনোযোগ দিয়ে ধীরে ধীরে কাঁচি চালিয়ে চুল কাটছেন তিনি। মাঝে মাঝে ক্ষুর দিয়ে দাড়িও ছেঁটে দেন।

এই পুকুরপাড়ের ছোট্ট জায়গাটিই যেন তাঁর সেলুন, আবার কর্মজীবনের স্মৃতিবহ স্থান।

গ্রাহকদের কাছে প্রিয় ‘অকিল দা’:

স্থানীয় অনেকেই এখনও আধুনিক সেলুন ছেড়ে অকিল শীলের কাছেই চুল কাটতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। কারণ তাঁদের শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে আছে এই বৃদ্ধ নাপিতের সঙ্গে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী মাতুব্বর বলেন, “আমি সেলুনে চুল কাটাই না। ছোটবেলা থেকে অকিল দার কাছেই চুল কাটাই। এখন বয়স হয়েছে, তবু তাঁর হাতের কাঁচির ওপর ভরসা আছে।”

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম বলেন, “ওনার কাছে ধনী-গরিব সবাই চুল কাটান। কেউ তাকে অবহেলা করে না। বরং অনেকেই গল্প করতে করতে চুল কাটান। ওনার কাছে চুল কাটাতে অন্যরকম একটা আনন্দ আছে।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, অকিল শীল শুধু একজন নাপিত নন, তিনি যেন বাজারের একটি জীবন্ত ইতিহাস।

সামান্য আয়েই চলে সংসার:

অকিল শীল জানান, বর্তমানে তিনি প্রতি জনের চুল কাটার জন্য ৫০ টাকা নেন। হাটের দিনে তাঁর কাছে গড়ে ২০ থেকে ২৫ জন গ্রাহক আসেন। সেই হিসেবে প্রতিদিন খুব বেশি আয় হয় না।

তবুও এই সামান্য আয়ের ওপরই ভর করে তিনি নিজের সংসার চালানোর চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই এই কাজ করছি। তখন বাজারে কোনো সেলুন ছিল না। পুকুরপাড়ে বসেই মানুষের চুল কেটে সংসার চালিয়েছি। এখন অনেক সেলুন হয়েছে, তবুও পুরোনো গ্রাহকেরা আসে।”

বয়সের কারণে কাজ করা কঠিন হলেও তিনি এখনো থামতে চান না।

অকিল শীল বলেন, “বয়স তো অনেক হয়েছে। শরীরও আগের মতো শক্তি পায় না। কিন্তু কাজ না করলে মন ভালো লাগে না। তাই যতদিন পারি কাজ করেই যেতে চাই।”

পরিবারের কেউ নেননি পেশা:

অকিল শীলের পাঁচ ছেলে-মেয়ে রয়েছে। তবে তাঁদের কেউই বাবার পেশাকে অনুসরণ করেননি। সবাই ভিন্ন ভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো জোর করিনি। তারা যার যার মতো কাজ করছে। আমি আমার কাজ নিয়েই খুশি।”

তবে তাঁর জীবনের এই দীর্ঘ কর্মযাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ ঐতিহ্যের এক প্রতীক:

স্থানীয়দের মতে, মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড় মানেই অকিল শীল। বহু বছর ধরে তিনি এই জায়গাটিকে নিজের কর্মস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

একসময় গ্রামে এভাবেই খোলা আকাশের নিচে বসে নাপিতেরা মানুষের চুল-দাড়ি কাটতেন। আধুনিকতার ঢেউয়ে সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে গেছে। কিন্তু মাঝারদিয়া বাজারে এখনও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ধরে রেখেছেন অকিল শীল।

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখছি উনি এখানে বসে চুল কাটছেন। বাজারের অনেক পরিবর্তন হয়েছে, দোকানপাট বেড়েছে, কিন্তু উনার জায়গা বদলায়নি।”

কাঁচির টুংটাং শব্দে লেখা জীবনের গল্প:

পুকুরপাড়ে বসে কাঁচির টুংটাং শব্দ তুলতে তুলতে যেন নিজের জীবনের গল্পই লিখে চলেছেন অকিল শীল।

গ্রামীণ জীবনের সরলতা, পরিশ্রম আর আত্মমর্যাদার এক অনন্য উদাহরণ তিনি। বয়সের ভার, আধুনিকতার চাপ—কিছুই তাকে থামাতে পারেনি।

হাটের দিনগুলোতে এখনো মাঝারদিয়া বাজারের পুকুরপাড়ে দেখা যায় সেই পরিচিত দৃশ্য—একটি ছোট পিঁড়ি, হাতে কাঁচি ও ক্ষুর, আর সামনে বসা গ্রাহক।

সময়ের স্রোতে অনেক কিছু বদলে গেলেও, অকিল শীল যেন এখনো ধরে রেখেছেন সেই পুরোনো দিনের গল্প। তাঁর কাঁচির টুংটাং শব্দেই যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে গ্রামীণ বাংলার এক হারিয়ে যাওয়া অধ্যায়।

ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

সোহাগ মাতুব্বর, ভাঙ্গা:
প্রকাশিত: সোমবার, ৯ মার্চ, ২০২৬, ৬:২৫ পিএম
ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের উদ্যোগে প্রশিক্ষণার্থীদের নিয়ে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় ভাঙ্গা উপজেলার হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের মিলনায়তনে এ আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাসপাতালের চেয়ারম্যান সহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। দক্ষ ও মানবিক মনোভাবসম্পন্ন সেবাকর্মী তৈরি করতে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি নৈতিক ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চাও প্রয়োজন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে ভবিষ্যতে মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান।

ইফতার মাহফিলে হাইলাইট চক্ষু হাসপাতাল কেয়ারগিভিং সেন্টারের বিভিন্ন ট্রেডের প্রশিক্ষক, প্রশিক্ষণার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। ইফতারের আগে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে রমজানের তাৎপর্য, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা নিয়ে বক্তব্য রাখেন উপস্থিত অতিথিরা।

পরে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং হাসপাতালের সার্বিক উন্নতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় বিশ্বব্যাপী মুসলমানদের কল্যাণ এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও মঙ্গল কামনা করা হয়।

অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীরা জানান, এ ধরনের আয়োজন তাদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। একই সঙ্গে রমজানের পবিত্রতা ও সামাজিক মূল্যবোধ সম্পর্কে নতুন করে অনুপ্রাণিত হতে সহায়তা করে।

সর্বশেষে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে ইফতার গ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও প্রশিক্ষণার্থীদের অংশগ্রহণে এ ধরনের সামাজিক ও ধর্মীয় আয়োজন অব্যাহত থাকবে।