খুঁজুন
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মিসাইল ফুরিয়ে আসছে, যুদ্ধ চালাতে পারবে কতদিন?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মিসাইল ফুরিয়ে আসছে, যুদ্ধ চালাতে পারবে কতদিন?

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে তুমুল আলোচনা উঠেছে মার্কিন প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষ টানা ১০ দিন অব্যাহত থাকলে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রভাণ্ডারে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।

আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে ১০ দিনের বেশি সময় ধরে হামলা চললে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদে সংকট তৈরি হতে পারে। এ ছাড়া পেন্টাগন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছে, ইরানে সামরিক অভিযান দীর্ঘায়িত হলে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে দ্রুত কমতে থাকা অস্ত্রভাণ্ডার পুনরায় পূরণের উচ্চ ব্যয়ের হিসাব-নিকাশও রয়েছে।

তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানে অভিযান চালিয়ে যাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে যথেষ্ট মজুদ রয়েছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রের মজুদ ‘মাঝারি ও উচ্চতর মাঝারি গ্রেডে কখনও এত বেশি বা উন্নত ছিল না।’ তার ভাষায়, ‘আমাদের কাছে এই অস্ত্রের কার্যত সীমাহীন সরবরাহ রয়েছে। কেবল এই সরবরাহ ব্যবহার করেই যুদ্ধ ‘চিরকাল’ সফলভাবে চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।’

ইরান যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্রসমূহ

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানে চলমান অভিযানে আকাশ, সমুদ্র, স্থল ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা মিলিয়ে ২০টিরও বেশি অস্ত্রব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বি-১ ও বি-২ বোমারু বিমান, এফ-৩৫ লাইটনিং II, এফ-২২ র‍্যাপ্টর, এফ-১৫ এবং ইএ-১৮জি গ্রোলার যুদ্ধবিমান। পাশাপাশি ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন ও দূরপাল্লার স্ট্রাইক সিস্টেম যেমন লুকাস ওয়ান-ওয়ে ড্রোন, এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন, এম-১৪২ হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম এবং টমাহক ক্রুজ মিসাইল।

অভিযান শুরুর সময় মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল দুটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী- ইউএসএস আবরাহাম লিঙ্কন এবং ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড।

কোন অস্ত্র ঘাটতির আশঙ্কা

ইসরায়েল ও ইউক্রেনের মতো মিত্রদের টেকসই সামরিক সহায়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের ওপর চাপ বেড়েছে। সংঘর্ষ দীর্ঘায়িত হলে সবচেয়ে বেশি ঘাটতি দেখা দিতে পারে উচ্চমানের নির্ভুল অস্ত্র ও উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থায়—বিশেষত থাড সিস্টেমের মতো প্রতিরক্ষা মিসাইলের।

গত বছর ১২ দিনের ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের শেষ দিকে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ওয়াশিংটন ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দেয়। সে সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলে তাদের উন্নত থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দুটি ব্যাটারি মোতায়েন করে। পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, ইরান থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ১৫০টির বেশি থাড মিসাইল নিক্ষেপ করা হয়েছিল—যা দেশটির মোট মজুদের প্রায় ২৫ শতাংশ।

একটি থাড ব্যাটারিতে সাধারণত ৯৫ জন সৈন্য, ছয়টি ট্রাক-মাউন্টেড লঞ্চার, ৪৮টি প্রতিরক্ষা মিসাইল (প্রতিটি লঞ্চারে আটটি), একটি রাডার এবং একটি অগ্নি-নিয়ন্ত্রণ ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে নয়টি সক্রিয় থাড ব্যাটারি রয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংঘর্ষকালে বিপুল পরিমাণ জাহাজভিত্তিক প্রতিরক্ষা মিসাইলও ব্যবহার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জয়েন্ট ডাইরেক্ট অ্যাটাক মিনিশন (JDAM)—যা জিপিএস-নির্দেশিত কিটের মাধ্যমে সাধারণ বোমাকে নির্ভুল ‘স্মার্ট’ অস্ত্রে রূপান্তরিত করে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চমানের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া, চীন বা উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সীমিত, উচ্চ তীব্রতার হামলা মোকাবিলার জন্য নকশা করা- সস্তা ক্ষেপণাস্ত্রের দীর্ঘমেয়াদি ব্যারেজ প্রতিহত করার জন্য নয়। ফলে সময়ের সঙ্গে উন্নত প্রতিরক্ষা মিসাইলের সীমিত মজুদ দ্রুত নিঃশেষ হওয়ার আশঙ্কা থাকে। প্রতিটি প্রতিরক্ষা মিসাইলের দাম কয়েক লক্ষ থেকে কয়েক মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে, যেখানে প্রতিপক্ষের ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় তুলনামূলকভাবে কয়েক হাজার ডলার।

অস্ত্র সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র কী করবে

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র অন্য অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র পুনর্মোতায়েন বা উৎপাদন বাড়াতে পারে। স্টিমসন সেন্টারের সিনিয়র ফেলো ক্রিস্টোফার প্রেবল বলেন, ট্রিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেটের কারণে ওয়াশিংটন যুদ্ধের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম হলেও প্রকৃত সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে ইন্টারসেপ্টর মজুদে—বিশেষত প্যাট্রিয়ট মিসাইল সিস্টেম এবং এমএস-৬ ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষেত্রে।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব ইন্টারসেপ্টরের কিছু ইউক্রেনকে রাশিয়ার হামলা থেকে রক্ষায় বরাদ্দ ছিল। অন্যগুলো ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে, যেখানে আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেগুলো গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তরিত হলে অন্য অঞ্চলের প্রতিরোধ সক্ষমতা দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

চলমান যুদ্ধের ব্যয় কত

পেন্টাগন অভিযানের মোট ব্যয় প্রকাশ করেনি। তবে অনুমান বলছে, ব্যয় দ্রুত বাড়ছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইরানে অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। হামলার আগের প্রস্তুতিতে অতিরিক্ত ৬৩০ মিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করা হয়—যার মধ্যে ছিল বিমান চলাচল, এক ডজনের বেশি নৌজাহাজ মোতায়েন এবং আঞ্চলিক সম্পদের সংহতকরণ।

সেন্টার ফর আ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি-এর হিসাব অনুযায়ী, ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ডের মতো একটি ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন প্রায় ৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়।

সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে অস্ত্রভাণ্ডার, ব্যয় ও কৌশলগত ভারসাম্য—তিনটিই যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় পরীক্ষায় পরিণত হতে পারে।

সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া

মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

অর্থনীতি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:১২ পূর্বাহ্ণ
মধ্যবিত্তদের জন্য আবাসন ঋণে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংকের যে সুখবর?

মধ্যবিত্তদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নিজের একটি ফ্ল্যাট কেনার সুযোগ দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন সহজ করতে বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

একই সঙ্গে সিঙ্গেল ডিজিট সুদে (১০ শতাংশের নিচে) দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু এবং বিশেষ হাউজিং তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছেন আবাসন খাতের উদ্যোক্তারা।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)-এর একটি প্রতিনিধি দল।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজালের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে আবাসন খাতের বর্তমান পরিস্থিতি, বিদ্যমান সংকট, বিনিয়োগের পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব নেতারা বলেন, প্রথমবারের মতো ফ্ল্যাট ক্রেতাদের জন্য স্বল্পসুদে ও সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা গেলে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আবাসনের স্বপ্ন পূরণ হবে। একইসঙ্গে দেশের অন্যতম বড় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকারী এই খাত নতুন গতি পাবে।

রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট ড. আলী আফজাল বলেন, স্বল্পসুদের দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ চালু করা গেলে আবাসন খাত যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য নিজস্ব বাসস্থান অর্জনও সহজ হবে।

অন্যদিকে রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাজধানী ঢাকার ওপর চাপ কমাতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা জরুরি। এ জন্য স্বল্পসুদের হাউজিং ঋণের সুযোগ সারা দেশে সম্প্রসারণ করতে হবে।

জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নে আবাসন খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি উল্লেখ করেন, হাউজিং খাতের ঋণ ব্যাংকিং খাতের অন্যতম নিরাপদ ঋণ হওয়ায় অন্যান্য অনেক খাতের তুলনায় এর সুদের হার তুলনামূলক কম থাকে। বর্তমানে অনেক ক্ষেত্রে আবাসন ঋণের সুদের হার অন্যান্য ঋণের চেয়ে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত কম রয়েছে বলেও তিনি জানান।

গভর্নর জানান, দীর্ঘমেয়াদি আবাসন ঋণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বন্ডভিত্তিক অর্থায়ন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের জোগান বাড়বে এবং সাধারণ মানুষের জন্য গৃহঋণ গ্রহণ আরও সহজ হবে।

বৈঠকে রিহ্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট-১ মোহাম্মদ আক্তার বিশ্বাস, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ আবু খালিদ মো. বরকত উল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ এ.এফ.এম. ওবায়দুল্লাহ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফিন্যান্স) ড. মো. হারুন অর রশিদ এবং পরিচালক তাসনোভা মাহবুব সালাম উপস্থিত ছিলেন।

 

হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

তথ্যপ্রযুক্তি ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ
হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ও রিস্টোর সমস্যার সমাধানে কী করবেন?

ব্যক্তিগত ও পেশাগত যোগাযোগে বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপ অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। প্রতিদিন এ প্ল্যাটফর্মে বিপুল পরিমাণ বার্তা, ছবি, ভিডিও ও গুরুত্বপূর্ণ নথি আদান-প্রদান করা হয়। তবে ফোন হারিয়ে যাওয়া, চুরি হওয়া বা নতুন ডিভাইসে পরিবর্তনের সময় এসব তথ্য হারানোর আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেক ব্যবহারকারী নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ করে তথ্য নিরাপদে সংরক্ষণ করেন।

তবে কখনও কখনও প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ বা রিস্টোর প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কয়েকটি সহজ পদক্ষেপ অনুসরণ করে সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

প্রথমেই ফোনটি রিস্টার্ট করে দেখতে পারেন, কারণ অনেক সাময়িক ত্রুটি এভাবে দূর হয়ে যায়। পাশাপাশি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিক আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। দুর্বল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক বা মোবাইল ডেটা ব্যবহার করা যেতে পারে।

এছাড়া ফোনে পর্যাপ্ত স্টোরেজ ও পর্যাপ্ত চার্জ থাকা জরুরি। প্রয়োজনে অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে জায়গা খালি করতে হবে এবং ফোন চার্জে রাখতে হবে। সমস্যা অব্যাহত থাকলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাপটি ‘ফোর্স স্টপ’ করে পুনরায় চালু করা যেতে পারে। ডুয়াল সিম ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহৃত নম্বরের সিমটি সক্রিয় আছে কি না সেটিও যাচাই করা প্রয়োজন।

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগল প্লে সার্ভিসেস আপডেট রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ হোয়াটসঅ্যাপের ব্যাকআপ ব্যবস্থা গুগল ড্রাইভের সঙ্গে সংযুক্ত। পুরোনো সংস্করণের কারণে ব্যাকআপে সমস্যা দেখা দিলে সেটিংস থেকে গুগল প্লে সার্ভিসেস সর্বশেষ সংস্করণে হালনাগাদ করতে হবে। প্রয়োজন হলে হোয়াটসঅ্যাপ আনইনস্টল করে পুনরায় ইনস্টল করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

ব্যাকআপের সময় কোনো ত্রুটি বার্তা দেখা দিলে অ্যাপের প্রয়োজনীয় পারমিশনগুলো সক্রিয় আছে কি না তা পরীক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে স্টোরেজ বা ছবি ও ভিডিও ব্যবহারের অনুমতি চালু থাকা জরুরি। পাশাপাশি গুগল অ্যাকাউন্ট সিঙ্ক করে নেওয়া যেতে পারে। তাতেও কাজ না হলে গুগল অ্যাকাউন্টটি ফোন থেকে সরিয়ে আবার যুক্ত করে হোয়াটসঅ্যাপে পুনরায় সেটআপ করতে হবে।

সবশেষে, কোনো কারণে ব্যাকআপ ফাইল ক্ষতিগ্রস্ত বা ‘করাপ্টেড’ হয়ে গেলে সেটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। সাধারণত ব্যাকআপ চলাকালে ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়া, অ্যাপ হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ক্ষতিকর ফাইলের কারণে এমন সমস্যা দেখা দেয়। তাই ব্যাকআপ নেওয়ার সময় সবসময় স্থিতিশীল ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

সূত্র : যুগান্তর

 

আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ
আম কাটার আগে কেন পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি?

বাজারে হিমসাগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির আম পাওয়া যাচ্ছে। আমের এই মৌসুমে সবার বাসায়ই আম থাকে। অনেকে তিন বেলায় প্রিয় ফলটি খেতে ভালোবাসেন। পাকা আম কাটার আগে অনেকেই পানিতে ভিজিয়ে রাখেন না। এটি ভুল। আম কাটার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখার উপকারিতার কথা বলা হয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়’-এর এক প্রতিবেদনে। 

পাকা আম কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন কেন?

আম পরিষ্কারের জন্য পানিতে ভিজিয়ে রাখা জরুরি। শুধু ধুয়ে নিলে খোসায় থাকা জীবাণু পরিষ্কার হয় না। গাছের ফলন বৃদ্ধির জন্য এবং পোকামাকড় তাড়ানোর জন্য রাসায়নিক সার ও কীটনাশক প্রয়োগ করা হয়। সেগুলো আমের খোসাতে থেকে যায়। আম পানিতে  ভিজিয়ে রাখলে সেই সব কীটনাশক, রাসায়নিক বেরিয়ে যায়।

কীটনাশক সাফ হলেও আমে থাকা অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্টও বিপজ্জনক হতে পারে। আমের খোসায় ফাইটিক অ্যাসিড নামের অ্যান্টি-নিউট্রিয়েন্ট রয়েছে। এই ধরনের উপাদান আমের পুষ্টি শোষণে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তাই আম খেয়েও এর কোনও পুষ্টিগুণ পাবেন না। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ফাইটিক অ্যাসিডের পরিমাণ কমে যায়। এতে আমের ভিটামিন এবং খনিজ শরীর সহজে শোষণ করতে পারে।

ফাইটিক অ্যাসিডের পাশাপাশি আমের খোসায় এমন অনেক উপাদান থাকে যেগুলি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাছাড়া আম খেলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পায় এবং পেটের গণ্ডগোল দেখা দেয়। আম খাওয়ার আগে কিছুক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো যায়।

আমের বোঁটা থেকে আঠালো কষ বের হয়। সেগুলো শুধু পানি দিয়ে ধুলে পরিষ্কার হয় না। আবার ওই কষ ত্বকের সংস্পর্শে এলে, ঠোঁটে লাগলে চুলকানি, র‍্যাশ হয়ে থাকে। আবার কষ খেয়ে ফেললে গলা চুলকায়। আম পানিতে ভিজিয়ে রাখলে ওই কষ সম্পূর্ণরূপে পরিষ্কার হয়ে যায়।

কতক্ষণ আম পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন?

খাওয়ার আগে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখা উচিত। হাতে কম সময় থাকলে অন্তত ৩০ মিনিট ভিজিয়ে রাখুন। অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা পানিতে নয়, ঘরের তাপমাত্রায় থাকা পানিতে ভেজানো উচিত।

সূত্র: এই সময়