খুঁজুন
, ,

খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

“আমরা সর্বশক্তি দিয়ে, দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে, মুসলমান সম্প্রদায় এবং বিশ্বের স্বাধীন জনগণের সমর্থন নিয়ে এই ‘ভয়ানক অপরাধ’ এর দোষীদের আফসোস করতে বাধ্য করব”- আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়।

মি. পেজেশকিয়ান এও বলেছেন যে মি. খামেনি ৩৭ বছর ধরে “প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার সঙ্গে ইসলামি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার মৃত্যুর পরে ইরান এখন এক কঠিন সময় পার করছে”।

যদিও ৮৬ বছর বয়সী মি. খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন, তবে ইরানের বাইরে পাকিস্তানের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার অসংখ্য সমর্থক আছেন।

ভারতের শিয়া সম্প্রদায়ও তাকেই নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা বলে মান্য করে।

ইরাক, পাকিস্তান, সিরিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে মিছিল করার সময়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে মি. খামেনির ছবি হাতে সেগুলোতে শামিল হতে দেখা গেছে।

বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

অতীতে, ইরান আর ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে হেজবুল্লাহ আর হুতি বিদ্রোহীদের মতো অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো ইরানকে সমর্থন করেছে। কিন্তু গত দুই বছরে এইসব গোষ্ঠীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকা আর ইসরায়েলের সামরিকবাহিনীগুলো।

আমেরিকার ‘নিউ লাইন্স ইনস্টিটিউট’-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির ওপরে গভীর নজর রাখা বিশেষজ্ঞ ডা. কামরান বুখারি মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীদের জন্য এক বিপদসংকেত বয়ে আনতে পারে।

তিনি বলছিলেন, “তবে সেটা নির্ভর করবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস এবং তাদের কুদস ফোর্সের এখন কতটা ক্ষমতা রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের যে-সব প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো চলে, তারাই বা কতটা সক্ষম রয়েছে- এসব বিষয়ের ওপরে”।

“হেজবুল্লাহর গোটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল, আর সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু ইরান এদের সহায়তা করতে কিছুই করে উঠতে পারেনি,” বলছিলেন মি. বুখারি।

তিনি মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যুর জন্য বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের কষ্ট ঠিকই হবে, কিন্তু ইরাক, লেবানন আর সিরিয়ার মতো দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার তুলনায় আয়াতুল্লাহ সিস্তানিকে অনেক বেশি মানুষ মেনে চলেন “আর তিনি আবার ধর্মগুরুদের রাজনীতিতে যোগদান পছন্দ করেন না”।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আরেক বিশ্লেষক, হিব্রু ইউনিভার্সিটির এশীয়, ইসলামি এবং মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স এরকম একটা সম্ভাবনার কথা বলছিলেন যে হিজবুল্লাহ এরকম একটা পরিস্থিতিতে হয়ত মূক দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।

তার কথায়, এরকমও হতে পারে যে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক বা তার বাইরে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপরে হামলা শুরু করে দিল।

তবে তিনি এটা মনে করেন যে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পরে হেজবুল্লাহসহ ইরান সমর্থিত নানা গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এই মুহূর্তে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলিয়ে দিতে পারবে না।

তার কথায়, “মুসলিম বিশ্বের কোনো অংশ মি. খামেনির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ভূমিকার সমর্থন নিশ্চয়ই করেন, কিন্তু আমার মনে হয় না যে তারা সবাই মি. খামেনির মৃত্যুর পরে চোখের জল ফেলবেন। বিশেষ করে সিরিয়া, লেবানন বা উপসাগরীয় অঞ্চলের সেইসব দেশের মানুষ, যারা সেখানে ইরানের হস্তক্ষেপের ফলে সমস্যায় পড়েছেন”।

খামেনির মৃত্যুর প্রভাব ইরান সরকারের ওপরে কতটা পড়বে?

বিশ্লেষকরা মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যুতে ইরানের বর্তমান সরকারের কাজকর্ম পুরোপুরি যে থমকে যাবে, তা নয়। কিন্তু “তা কখনই আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না”।

ড. কামরান বুখারি বলছিলেন, “সর্বোচ্চ নেতা সরকারের কাজকর্মের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান করতেন, যদিও বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং সরকারের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য তিনি পুরোপুরি রেভলিউশনারি গার্ডস বা ইরানের সেনাবাহিনীর ওপরেই নির্ভর করছিলেন”।

তিনি মনে করেন যে রেভলিউশনারি গার্ডস এখন আগের তুলনায় কম শক্তিশালী অবস্থায় আছে।

“মি. খামেনির মৃত্যু এটা যুগের অবসান। এর পর থেকে বর্তমান প্রশাসন আপাতত ভেঙে না পড়লেও তাতে পরিবর্তন তো আসবেই,” বলছিলেন ড. বুখারি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলে দিয়েছিলেন যে ইরানে তিনি ঠিক কীরকম প্রশাসন দেখতে চান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা জানতে পারছি যে রেভলিউশনারি গার্ডসের কিছু সদস্য এবং পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এখন আর লড়াই করতে চাইছেন না এবং আমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চান”।

মি. ট্রাম্প এই আশাও প্রকাশ করেছিলেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘দেশপ্রেমিক জনগণের” সঙ্গে মিলে দেশটিকে আরও একবার মহান করে গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের জীবৎকালে সবসময়েই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকাকে অবিশ্বাসের চোখে দেখতেন এবং গবেষকরা মনে করেন যে তার মৃত্যুর পরে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স বলছিলেন, “মি. খামেনি বেঁচে থাকার সময়ে ইরানে কোনো পরিবর্তন সফল করা বা আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু ভবিষ্যতে এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের স্বাধীনতা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার থাকবে”।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন আসবে, তা তো ভবিষ্যতই বলবে। কিন্তু মি. খামেনির মৃত্যু অন্য কয়েকটি দেশের জন্য নিশ্চিতভাবেই সমস্যা তৈরি করবে।

কীভাবে খামেনিকে স্মরণ করবেন তার অনুসারীরা?

বিশ্বের নানা দিকে ইরানের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর ওপরে গবেষণা করেন ফিলিপ স্মিথ।

তিনি বলছিলেন, “আপনি যখন ইসলামি বিপ্লবের মৌলবাদী মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করবেন, তখন ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’ বা ইসলামি ধর্মীয় নেতৃত্বের সর্বময় কতৃত্বের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই মতাদর্শ একদিকে যেমন ধর্মীয়, তেমনই রাজনৈতিক আবার সামাজিকও বটে।

“রেভলিউশনারী গার্ডস জানে যে এই নীতিগুলো প্রণয়ন করলে মানুষকে সামাজিকসহ নানা দিক থেকেই সক্রিয় করা যাবে,” বলছিলেন মি. স্মিথ।

তার কথায়, “সমস্যা হচ্ছে মি. খামেনি সমগ্র মুসলিম সমাজের নেতা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সত্যিকার অর্থে আয়াতুল্লাহ ছিলেন না এবং আয়াতুল্লাহ সিস্তানির থেকে তার মর্যাদা কিছুটা কমই ছিল”।

ফিলিপ স্মিথ বলছিলেন যে জনগণকে সংগঠিত করার জন্য ইরান ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’-র মতাদর্শ ব্যবহার করেছে, আবার তার দেশের সীমানার বাইরেও রাজনৈতিক কারণে তা ব্যবহার করেছে তেহরান।

“এই মতাদর্শ ব্যবহার করেই তারা লেবাননে হিজবুল্লাহ গড়ে তুলেছে, ইরাকে ‘কতায়েব সৈয়দ আল-শুহদা’র মতো গোষ্ঠী বা পাকিস্তানের ‘লস্কর-এ-জৈনবিয়ুন’কে তারা সমর্থন দিয়ে গেছে।

মি. খামেনি বিশ্বের সব শিয়ার আধ্যাত্মিক নেতা নাও হতে পারেন, তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে তার মৃত্যু তার অনুসারীদের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

অধ্যাপক সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স বলছিলেন, “পাকিস্তান, ভারত, ইরাক ও লেবাননের মানুষ হয়ত তাদের জীবনে মি. খামেনির ধর্মীয় আদেশগুলো অনুসরণ করেন না, কিন্তু এইসব দেশেই তার অনুসারীদের মধ্যে একটা গর্ব ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তাকে মানুষ স্মরণ করবেন”।

সূত্র : বিবিসি নিউজ উর্দু

ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি-স্বর্ণালংকার চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:০৩ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে মন্দিরের তালা কেটে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি-স্বর্ণালংকার চুরি

ফরিদপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ী এলাকার ২নং উত্তর কালীবাড়ী মন্দিরে এক দুঃসাহসিক চুরির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন এই মন্দির থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তি, আনুমানিক ৭-৮ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১০ ভরি রূপার সামগ্রীসহ মূল্যবান ধর্মীয় সরঞ্জাম চুরি হয়ে গেছে।

​এ ঘটনায় রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মন্দিরের সেবায়েত ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কুশল চক্রবর্তী কোতয়ালী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নিত্যপূজা শেষে মন্দির ও কেচি গেটে তালা লাগিয়ে বাড়ি যান সেবায়েত দেবী প্রসাদ চক্রবর্তী (পানু)। পরদিন রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে তিনি আবারও পূজা দিতে এসে দেখেন মন্দিরের মূল ফটকসহ ভেতরের সবকটি তালা কাটা। ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, কষ্টিপাথরের মূল কালীমূর্তিটি গায়েব। এছাড়া মূর্তির গায়ে থাকা প্রায় ৭-৮ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার, পিতলের তৈরি বিষ্ণু, রাধাকৃষ্ণ ও মনসা মূর্তি এবং মহাদেবের শিবলিঙ্গের সঙ্গে থাকা ৮-১০ ভরির রূপার সাপ চুরি হয়ে গেছে।

​পরবর্তীকালে আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে মন্দিরের পাশের একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে কষ্টিপাথরের কালীমূর্তির পায়ের পাতার অংশ এবং মহাদেবের অংশটি ভাঙা অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর কোনো সন্ধান মেলেনি। মন্দির কর্তৃপক্ষের ধারণা, শনিবার রাত সাড়ে ১০টা থেকে রোববার ভোর সাড়ে ৫টার মধ্যে যেকোনো সময় এ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

​খবর পেয়ে ফরিদপুরের পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমীর হোসেন এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

​এ বিষয়ে ফরিদপুরের কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, “মন্দিরে চুরির খবর পেয়েই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেফতার এবং চুরি হওয়া মূর্তি ও মালামাল উদ্ধারে পুলিশ ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুতই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘর অগোছালো হয় যে অভ্যাসে?

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
ঘর অগোছালো হয় যে অভ্যাসে?

পরিপাটি একটি ঘরে ঢুকলেই মনটা যেন একটু শান্ত হয়ে আসে। ঘর খুব দামি আসবাবে সাজানো না হলেও পরিচ্ছন্নতা ও গোছানো পরিবেশ তার সৌন্দর্য অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়।

বিপরীতে, চারপাশে কাপড়ের স্তূপ, এলোমেলো বই, ব্যবহৃত কাপ-প্লেট কিংবা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ছোটখাটো জিনিস ঘরের সৌন্দর্য নষ্ট করার পাশাপাশি অস্বস্তিও তৈরি করতে পারে।

অনেকেই ভাবেন, ঘর পরিষ্কার রাখতে হলে প্রতিদিন অনেকটা সময় দিতে হবে।

আসলে নিয়মিত বড়সড় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার চেয়ে কিছু ছোট অভ্যাস পরিবর্তন করাই বেশি কার্যকর। প্রতিদিনের ব্যবহারে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন হলেই ঘর অনেকটা গোছানো রাখা সম্ভব।

চেয়ারকে কাপড় রাখার জায়গা বানাবেন না

বাইরে থেকে এসে পোশাক খুলে চেয়ারে রেখে দেওয়ার অভ্যাস অনেকেরই। একটি-দুটি পোশাক থেকে ধীরে ধীরে সেটিই কাপড়ের স্তূপে পরিণত হয়।

ফলে গোছানো ঘরও মুহূর্তে এলোমেলো দেখাতে শুরু করে।

ব্যবহৃত পোশাক খুলে সঙ্গে সঙ্গে ঠিক করুন সেটি ধোয়ার জন্য যাবে, নাকি আবার পরা যাবে। ধোয়ার কাপড় নির্দিষ্ট ঝুড়ি বা স্থানে রাখুন। আর পরিষ্কার পোশাক ভাঁজ করে আলমারি বা নির্দিষ্ট জায়গায় তুলে রাখুন।

পোশাকের জন্য নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন

আলমারিতে জায়গার সংকট থাকলে ঘরের একটি সুবিধাজনক অংশে ছোট র‌্যাক, হুক বা হ্যাঙ্গার ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে প্রতিদিনের ব্যবহারের পোশাক আলাদা করে রাখা সহজ হয়।

যে জিনিসের নির্দিষ্ট জায়গা থাকে, সেটি ব্যবহারের পর আবার সেখানে ফেরত রাখার অভ্যাসও তৈরি হয়। এতে ঘরে অপ্রয়োজনীয়ভাবে কাপড় ছড়িয়ে থাকার প্রবণতা কমে।

ঘুম থেকে উঠে বিছানা গুছিয়ে নিন

সকালে ঘুম থেকে উঠে বিছানা যেমন আছে তেমনই রেখে দেওয়া পুরো ঘরের চেহারাটাই বদলে দিতে পারে। বিছানা অগোছালো থাকলে পরিষ্কার ঘরও এলোমেলো মনে হয়। তাই দিনের শুরুতেই চাদর ঠিক করে বালিশগুলো গুছিয়ে রাখুন। এতে খুব বেশি সময় লাগে না, অথচ ঘরের সামগ্রিক পরিবেশ অনেক বেশি পরিপাটি দেখায়। দিনের শুরুতে একটি ছোট কাজ শেষ করার মানসিক স্বস্তিও পাওয়া যায়।

ছোট জিনিসের জন্য নির্দিষ্ট একটি জায়গা বানান

চাবি, রিমোট, কলম, চার্জার, প্রসাধনী কিংবা নানা ধরনের ছোটখাটো জিনিস কোথাও রেখে দেওয়ার অভ্যাস থেকেই ঘরে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।

এসব জিনিসের জন্য একটি ছোট বাক্স, ঝুড়ি, ড্রয়ার কিংবা ঢাকনাযুক্ত ট্রে ব্যবহার করতে পারেন। ব্যবহারের পর জিনিসটি নির্দিষ্ট জায়গায় ফিরিয়ে রাখলেই টেবিল ও ঘরের অন্যান্য অংশ অনেক বেশি পরিষ্কার থাকবে।

ব্যবহারের পর জিনিস যেখানে থাকার কথা, সেখানে রাখুন

চা বা কফি খাওয়ার পর কাপ টেবিলেই পড়ে থাকা, খালি পানির বোতল ঘরে জমিয়ে রাখা কিংবা খাবারের প্লেট-বাটি ব্যবহারের পর সরিয়ে না নেওয়া, এসব ছোট অভ্যাসই ঘর দ্রুত অগোছালো করে ফেলে।

একটি সহজ নিয়ম মেনে চলতে পারেন, যে জিনিস যেখানে থাকার কথা, কাজ শেষ হওয়ার পর সেটি সেখানেই ফিরিয়ে রাখুন। কাপ রান্নাঘরে, নোংরা বাসন নির্দিষ্ট স্থানে এবং খালি বোতল বা আবর্জনা যথাস্থানে রাখার অভ্যাস করুন।

পরিষ্কার ঘরের রহস্য বড় কাজে নয়, ছোট অভ্যাসে

ঘর সব সময় ঝকঝকে রাখতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরিষ্কার করার প্রয়োজন নেই। বরং প্রতিদিনের ছোট ছোট কাজ সময়মতো করে ফেলাই সবচেয়ে সহজ উপায়। কাপড় জমতে না দেওয়া, সকালে বিছানা গুছিয়ে নেওয়া, ছোট জিনিস এক জায়গায় রাখা এবং ব্যবহারের পর জিনিস যথাস্থানে ফিরিয়ে দেওয়ার অভ্যাস তৈরি করতে পারলেই ঘর অনেক বেশি পরিপাটি থাকবে।

মনে রাখুন, অগোছালো ঘর একদিনে তৈরি হয় না, দপ্রতিদিনের ছোট ছোট অবহেলাতেই তার শুরু। একইভাবে, গোছানো ঘরও তৈরি হয় প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্নে।

ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫৮ অপরাহ্ণ
ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্পের ‘মহা তাঁবু জলসা’

‘যোগ্য গাইড, যোগ্য নেতৃত্ব’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফরিদপুরে জেলা গাইড ক্যাম্প-২০২৬-এর বর্ণাঢ্য ‘মহা তাঁবু জলসা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ গার্ল গাইডস অ্যাসোসিয়েশন, ফরিদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

​অনুষ্ঠানে ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, তাঁর সহধর্মিনী ফারজানা খান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিষ্ণু পদ ঘোষাল, বাংলাদেশ গার্ল গাইড অ্যাসোসিয়েশনের জেলা কমিশনার রেহেনা জাহান রানি, উপজেলা কমিশনার মোসাম্মৎ শামসুন্নাহার এবং জেলা সাধারণ সম্পাদক ফিরোজা বেগমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ।

​এর আগে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁবু জলসা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম।

​উদ্বোধনী বক্তব্যে বক্তারা গাইডিং কার্যক্রমের সম্প্রসারণ, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ, অনুশাসন ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। আলোচনা পর্ব শেষে অংশগ্রহণকারী গার্ল গাইডদের অংশগ্রহণে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পরবর্তীতে অতিথিবৃন্দ পুরো গাইড ক্যাম্প ঘুরে দেখেন।

​হালিমা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা রেহেনা প্রিয়ার সঞ্চালনায় আয়োজিত এ ক্যাম্পে ফরিদপুর সদরসহ জেলার ৯টি উপজেলার ২৭টি বিদ্যালয়ের মোট ১৭৫ জন গার্ল গাইড সদস্য অংশ নেয়।