খুঁজুন
শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৫ আষাঢ়, ১৪৩৩

খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ
খামেনির মৃত্যুতে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিম বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

“আমরা সর্বশক্তি দিয়ে, দৃঢ় সংকল্পের সঙ্গে, মুসলমান সম্প্রদায় এবং বিশ্বের স্বাধীন জনগণের সমর্থন নিয়ে এই ‘ভয়ানক অপরাধ’ এর দোষীদের আফসোস করতে বাধ্য করব”- আমেরিকা ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পরে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের পক্ষ থেকে এই বার্তা দেওয়া হয়।

মি. পেজেশকিয়ান এও বলেছেন যে মি. খামেনি ৩৭ বছর ধরে “প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার সঙ্গে ইসলামি গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং তার মৃত্যুর পরে ইরান এখন এক কঠিন সময় পার করছে”।

যদিও ৮৬ বছর বয়সী মি. খামেনি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন, তবে ইরানের বাইরে পাকিস্তানের মতো বিশ্বের অন্যান্য দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তার অসংখ্য সমর্থক আছেন।

ভারতের শিয়া সম্প্রদায়ও তাকেই নিজেদের সর্বোচ্চ নেতা বলে মান্য করে।

ইরাক, পাকিস্তান, সিরিয়া এবং বিশ্বের অন্যান্য মুসলিম দেশে মিছিল করার সময়ে শিয়া সম্প্রদায়ের মানুষকে মি. খামেনির ছবি হাতে সেগুলোতে শামিল হতে দেখা গেছে।

বিশ্বে কী প্রভাব পড়বে?

অতীতে, ইরান আর ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে হেজবুল্লাহ আর হুতি বিদ্রোহীদের মতো অন্যান্য গোষ্ঠীগুলো ইরানকে সমর্থন করেছে। কিন্তু গত দুই বছরে এইসব গোষ্ঠীর ব্যাপক ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হয়েছে আমেরিকা আর ইসরায়েলের সামরিকবাহিনীগুলো।

আমেরিকার ‘নিউ লাইন্স ইনস্টিটিউট’-এর জ্যেষ্ঠ পরিচালক ও মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির ওপরে গভীর নজর রাখা বিশেষজ্ঞ ডা. কামরান বুখারি মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের সহযোগীদের জন্য এক বিপদসংকেত বয়ে আনতে পারে।

তিনি বলছিলেন, “তবে সেটা নির্ভর করবে ইরানের রেভলিউশনারি গার্ডস এবং তাদের কুদস ফোর্সের এখন কতটা ক্ষমতা রয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে তাদের যে-সব প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো চলে, তারাই বা কতটা সক্ষম রয়েছে- এসব বিষয়ের ওপরে”।

“হেজবুল্লাহর গোটা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকেই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েল, আর সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের সরকারের পতন হয়েছে। কিন্তু ইরান এদের সহায়তা করতে কিছুই করে উঠতে পারেনি,” বলছিলেন মি. বুখারি।

তিনি মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যুর জন্য বিশ্বের শিয়া মুসলমানদের কষ্ট ঠিকই হবে, কিন্তু ইরাক, লেবানন আর সিরিয়ার মতো দেশে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার তুলনায় আয়াতুল্লাহ সিস্তানিকে অনেক বেশি মানুষ মেনে চলেন “আর তিনি আবার ধর্মগুরুদের রাজনীতিতে যোগদান পছন্দ করেন না”।

মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক আরেক বিশ্লেষক, হিব্রু ইউনিভার্সিটির এশীয়, ইসলামি এবং মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স এরকম একটা সম্ভাবনার কথা বলছিলেন যে হিজবুল্লাহ এরকম একটা পরিস্থিতিতে হয়ত মূক দর্শক হয়ে বসে থাকবে না।

তার কথায়, এরকমও হতে পারে যে ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ইরাক বা তার বাইরে মার্কিন সেনাবাহিনীর ওপরে হামলা শুরু করে দিল।

তবে তিনি এটা মনে করেন যে ২০২৩ সালের অক্টোবরের পরে হেজবুল্লাহসহ ইরান সমর্থিত নানা গোষ্ঠী দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং এই মুহূর্তে তারা ক্ষমতার ভারসাম্য বদলিয়ে দিতে পারবে না।

তার কথায়, “মুসলিম বিশ্বের কোনো অংশ মি. খামেনির সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী ভূমিকার সমর্থন নিশ্চয়ই করেন, কিন্তু আমার মনে হয় না যে তারা সবাই মি. খামেনির মৃত্যুর পরে চোখের জল ফেলবেন। বিশেষ করে সিরিয়া, লেবানন বা উপসাগরীয় অঞ্চলের সেইসব দেশের মানুষ, যারা সেখানে ইরানের হস্তক্ষেপের ফলে সমস্যায় পড়েছেন”।

খামেনির মৃত্যুর প্রভাব ইরান সরকারের ওপরে কতটা পড়বে?

বিশ্লেষকরা মনে করেন যে মি. খামেনির মৃত্যুতে ইরানের বর্তমান সরকারের কাজকর্ম পুরোপুরি যে থমকে যাবে, তা নয়। কিন্তু “তা কখনই আর আগের অবস্থায় ফিরতে পারবে না”।

ড. কামরান বুখারি বলছিলেন, “সর্বোচ্চ নেতা সরকারের কাজকর্মের একেবারে কেন্দ্রে অবস্থান করতেন, যদিও বেশ কয়েক বছর ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং সরকারের কাজকর্ম পরিচালনার জন্য তিনি পুরোপুরি রেভলিউশনারি গার্ডস বা ইরানের সেনাবাহিনীর ওপরেই নির্ভর করছিলেন”।

তিনি মনে করেন যে রেভলিউশনারি গার্ডস এখন আগের তুলনায় কম শক্তিশালী অবস্থায় আছে।

“মি. খামেনির মৃত্যু এটা যুগের অবসান। এর পর থেকে বর্তমান প্রশাসন আপাতত ভেঙে না পড়লেও তাতে পরিবর্তন তো আসবেই,” বলছিলেন ড. বুখারি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই বলে দিয়েছিলেন যে ইরানে তিনি ঠিক কীরকম প্রশাসন দেখতে চান।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যুর ঘোষণা দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, “আমরা জানতে পারছি যে রেভলিউশনারি গার্ডসের কিছু সদস্য এবং পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এখন আর লড়াই করতে চাইছেন না এবং আমাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে চান”।

মি. ট্রাম্প এই আশাও প্রকাশ করেছিলেন যে ইরানের সামরিক বাহিনী ‘দেশপ্রেমিক জনগণের” সঙ্গে মিলে দেশটিকে আরও একবার মহান করে গড়ে তোলার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিজের জীবৎকালে সবসময়েই পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে আমেরিকাকে অবিশ্বাসের চোখে দেখতেন এবং গবেষকরা মনে করেন যে তার মৃত্যুর পরে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী।

সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স বলছিলেন, “মি. খামেনি বেঁচে থাকার সময়ে ইরানে কোনো পরিবর্তন সফল করা বা আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির কোনো সম্ভাবনাই ছিল না। কিন্তু ভবিষ্যতে এই দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের স্বাধীনতা ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতার থাকবে”।

ইরানের শাসনব্যবস্থায় কী কী পরিবর্তন আসবে, তা তো ভবিষ্যতই বলবে। কিন্তু মি. খামেনির মৃত্যু অন্য কয়েকটি দেশের জন্য নিশ্চিতভাবেই সমস্যা তৈরি করবে।

কীভাবে খামেনিকে স্মরণ করবেন তার অনুসারীরা?

বিশ্বের নানা দিকে ইরানের সমর্থক গোষ্ঠীগুলোর ওপরে গবেষণা করেন ফিলিপ স্মিথ।

তিনি বলছিলেন, “আপনি যখন ইসলামি বিপ্লবের মৌলবাদী মতাদর্শ নিয়ে আলোচনা করবেন, তখন ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’ বা ইসলামি ধর্মীয় নেতৃত্বের সর্বময় কতৃত্বের বিষয়টি উপেক্ষা করতে পারবেন না। এই মতাদর্শ একদিকে যেমন ধর্মীয়, তেমনই রাজনৈতিক আবার সামাজিকও বটে।

“রেভলিউশনারী গার্ডস জানে যে এই নীতিগুলো প্রণয়ন করলে মানুষকে সামাজিকসহ নানা দিক থেকেই সক্রিয় করা যাবে,” বলছিলেন মি. স্মিথ।

তার কথায়, “সমস্যা হচ্ছে মি. খামেনি সমগ্র মুসলিম সমাজের নেতা হতে চেয়েছিলেন, কিন্তু তিনি সত্যিকার অর্থে আয়াতুল্লাহ ছিলেন না এবং আয়াতুল্লাহ সিস্তানির থেকে তার মর্যাদা কিছুটা কমই ছিল”।

ফিলিপ স্মিথ বলছিলেন যে জনগণকে সংগঠিত করার জন্য ইরান ‘ওয়ালিয়াত-এ-ফাকিহ’-র মতাদর্শ ব্যবহার করেছে, আবার তার দেশের সীমানার বাইরেও রাজনৈতিক কারণে তা ব্যবহার করেছে তেহরান।

“এই মতাদর্শ ব্যবহার করেই তারা লেবাননে হিজবুল্লাহ গড়ে তুলেছে, ইরাকে ‘কতায়েব সৈয়দ আল-শুহদা’র মতো গোষ্ঠী বা পাকিস্তানের ‘লস্কর-এ-জৈনবিয়ুন’কে তারা সমর্থন দিয়ে গেছে।

মি. খামেনি বিশ্বের সব শিয়ার আধ্যাত্মিক নেতা নাও হতে পারেন, তবে এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে তার মৃত্যু তার অনুসারীদের জীবনে প্রভাব ফেলবে।

অধ্যাপক সিমোন ওল্ফগ্যাং ফুক্স বলছিলেন, “পাকিস্তান, ভারত, ইরাক ও লেবাননের মানুষ হয়ত তাদের জীবনে মি. খামেনির ধর্মীয় আদেশগুলো অনুসরণ করেন না, কিন্তু এইসব দেশেই তার অনুসারীদের মধ্যে একটা গর্ব ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে তাকে মানুষ স্মরণ করবেন”।

সূত্র : বিবিসি নিউজ উর্দু

ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর:
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ণ
ফরিদপুরের মধুমতী নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনে অভিযান, বাল্কহেড-ড্রেজার জব্দ

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মধুমতী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেল ৩টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের গয়েশপুর ঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন মধুখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত। এলাকাটি মধুখালী উপজেলা এবং মাগুরা সদর উপজেলার সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থিত।

জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র মধুমতী নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে আসছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের সময় প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রমাণ পাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে নড়াইল জেলার বুড়িখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. বেলায়েত মোল্লা (৪৫)কে আটক করা হয়। তিনি মো. হান্নান মোল্লার ছেলে।

পাশাপাশি বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত একটি বাল্কহেড, একটি ড্রেজার ও একটি আনলোডার মেশিন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে জব্দকৃত যন্ত্রপাতি কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরানের জিম্মায় রাখা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানা হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযান শেষে এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট প্রতিক দত্ত বলেন, “নদী ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অবস্থান কঠোর। যারা আইন অমান্য করে নদী থেকে বালু উত্তোলন করবে, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।”

তিনি আরও জানান, মধুখালী উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ভূমি দখল, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২৯ পূর্বাহ্ণ
একসঙ্গে কতটা লিচু খেলে বিপদ হতে পারে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞ

সুস্বাদু, রসালো আর সুগন্ধে অতুলনীয় লিচু গ্রীষ্মকালের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। তবে এই লোভনীয় ফলের আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে এক মরণঘাতী ঝুঁকি, যা অনেকেরই অজানা। বিশেষ করে খালি পেটে অতিরিক্ত লিচু খাওয়া প্রাণঘাতী হতে পারে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক মাইকেল গ্রেগারের মতে, লিচুর এই বিষক্রিয়া এবং এর নিরাপদ মাত্রা সম্পর্কে আমাদের সচেতন হওয়া জরুরি।

লিচুর আড়ালে লুকিয়ে থাকা ‘বিষ’

লিচুতে ‘মিথাইলিন সাইক্লোপ্রোপাইল-গ্লাইসিন’ নামক একটি প্রাকৃতিক টক্সিন বা বিষ থাকে, যা ‘হাইপোগ্লাইসিন’ (hypoglycin) জাতীয় টক্সিনের মতোই। এই বিষটি শরীরের যকৃৎ বা লিভারকে রক্তে শর্করা বা সুগার তৈরিতে বাধা দেয়। ফলে শরীরে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে অনেক কমে গিয়ে বিপত্তি ঘটে।

কেন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?

ভারত ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোতে লিচু কাটার মৌসুমে শিশুদের মধ্যে এক রহস্যময় মস্তিষ্কের রোগ বা ‘এনসেফালোপ্যাথি’ দেখা যেত, যাকে স্থানীয়ভাবে ‘নাইটমেয়ার’ বলা হতো।

গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু পুষ্টিহীনতায় ভুগছিল এবং দীর্ঘ সময় না খেয়ে বা খালি পেটে লিচু বাগান থেকে প্রচুর লিচু খেয়েছিল, তাদের শরীর এই বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়। রক্তে শর্করা মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় শিশুরা খিঁচুনি এবং মস্তিষ্কের সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে মারাও যেত।

একসঙ্গে কয়টি লিচু নিরাপদ?

বিশেষজ্ঞদের গবেষণায় লিচু খাওয়ার নির্দিষ্ট সীমার কথা উল্লেখ করা হয়েছে—

শিশুদের জন্য: চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের জন্য এক বসায় ৩০ থেকে ১০০টি লিচু খাওয়া অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং বিপজ্জনক হতে পারে।

প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য: সুস্থ সবল প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ঝুঁকি কম হলেও সাবধানতা প্রয়োজন। গবেষণার তথ্যানুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির একবারে ২০০টির বেশি লিচু খাওয়া উচিত নয়। তবে একজন সাধারণ ওজনের পুরুষ প্রায় ৪৫টি লিচু খেলেও তার রক্তে টক্সিনের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায় না বলে একটি পরীক্ষায় দেখা গেছে।

নিরাপদ থাকার উপায়

বিশেষজ্ঞরা লিচুর বিষক্রিয়া থেকে বাঁচতে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন:

খালি পেটে লিচু নয়: কখনো খালি পেটে বা দীর্ঘক্ষণ না খেয়ে থাকার পর লিচু খাবেন না।

শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা: শিশুদের রাতে অবশ্যই ভালো করে খাবার খাইয়ে ঘুমাতে দেওয়া উচিত। রাতে খাবার না খেয়ে থাকলে পরের দিন সকালে তাদের লিচু খেতে দেওয়া একেবারেই অনুচিত।

পরিমিত খাওয়ার অভ্যাস: লিচু সুস্বাদু হলেও একবারে অতিরিক্ত পরিমাণ না খেয়ে অল্প পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস করা উচিত।

পুষ্টিকর খাবার: পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে লিচু খাওয়ার ব্যাপারে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

লিচু একটি চমৎকার পুষ্টিকর ফল যদি তা নিয়ম মেনে এবং সঠিক পরিমাণে খাওয়া হয়। সামান্য একটু সতর্কতা আপনার এবং আপনার পরিবারের জন্য এই গ্রীষ্মের আনন্দকে নিরাপদ রাখতে পারে।

তথ্যসূত্র: নিউট্রেশন ফ্যাক্ট

কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

চাকরি ডেস্ক
প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬, ৮:২০ পূর্বাহ্ণ
কর্মক্ষেত্রে বিষাক্ত বস চিনবেন যেভাবে?

কর্মক্ষেত্রে কাজের পাশাপাশি মানসিক স্বস্তিও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তবে কর্মজীবনে এমন বস বা ঊর্ধ্বতন থাকেন, যার আচরণ কর্ম পরিবেশকে অস্বস্তিকর করে তোলে।

কখনও অকারণে কঠোর সমালোচনা, কখনও অসম্মানজনক আচরণ, আবার কখনও কর্মীর ব্যক্তিগত সীমারেখা উপেক্ষা।

এসব কারণে ধীরে ধীরে কর্মীদের আত্মবিশ্বাস কমে যেতে পারে। দীর্ঘদিন এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, মানসিক চাপ, এমনকি অবসাদও দেখা দিতে পারে।

একাধিক বিশেষজ্ঞ মনে করেন- বিষাক্ত নেতৃত্ব শুধু কাজের ক্ষতি করে না, মানসিক সুস্থতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।

অফিসে সুস্থ নেতৃত্বের অধিকারী কর্মকর্তা নিজে কী চান, কীভাবে কাজ করতে হবে বা কোন লক্ষ্য অর্জন করতে হবে— তা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেন। তবে বিষাক্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রায়ই নিজের সিদ্ধান্ত বদলান।

একদিন যে কাজের প্রশংসা করেন, পরদিন একই কাজের জন্য তীব্র সমালোচনা করেন। কখন তিনি রেগে যাবেন বা কোন বিষয় নিয়ে অসন্তুষ্ট হবেন, তা কর্মীরা বুঝে উঠতে পারেন না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইয়েশিভা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও ক্লিনিক্যাল মনোবিজ্ঞানী সাবরিনা রোমানোফ রিয়েলসিম্পল ডটকম-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলেন, “এমন কর্মকর্তার অধীনে কাজ করলে কর্মীরা সব সময় সতর্ক অবস্থায় থাকেন। তারা প্রতিটি কথাবার্তা বা কাজের আগে ভাবেন, এতে আবার কোনো সমস্যা তৈরি হবে কি না। এই অনিশ্চয়তা ধীরে ধীরে মানসিক ক্লান্তি বাড়িয়ে দেয়।”

ক্ষমতার অপব্যবহার

অনেক সময় কিছু কর্মকর্তা, নিজের অবস্থানকে ব্যবহার করে কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করেন। কারও সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখেন, আবার কাউকে অকারণে ছোট করেন।

ব্যক্তিগতভাবে বলা কোনো কথা পরে অন্যদের সামনে তুলে ধরেন কিংবা সহকর্মীদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে দেন।

মার্কিন মানসিক স্বাস্থ্য পরামর্শক ট্রেসি ভাদাকুমচেরির মতে, “যদি কোনো কর্মকর্তা নিয়মিত অন্য সহকর্মীদের সম্পর্কে নেতিবাচক মন্তব্য করেন, তবে সেটিও সতর্ক হওয়ার লক্ষণ। কারণ একইভাবে অন্যদের কাছেও তিনি আপনার বিষয়ে নেতিবাচক কথা বলতে পারেন।”

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী ও পারিবারিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “অনেক ক্ষেত্রে কর্মীদের ভালো কাজের কৃতিত্ব নিজের নামে নিয়ে নেন বিষাক্ত কর্মকর্তা। অথবা গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে দূরে রাখেন। এতে কর্মীরা ধীরে ধীরে নিজেদের অযোগ্য ভাবতে শুরু করেন।

ব্যক্তিগত সীমারেখার প্রতি সম্মান না দেখানো

সুস্থ কর্মপরিবেশে ব্যক্তিগত জীবন ও কর্মজীবনের মধ্যে একটি ভারসাম্য থাকে। তবে বিষাক্ত বস অনেক সময় কর্মীদের ছুটির দিনেও কাজের নির্দেশ দেন। রাতের বেলায় বারবার বার্তা পাঠান বা ব্যক্তিগত সমস্যার প্রতি কোনো সহানুভূতি দেখান না।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “ভালো নেতৃত্বের বস, কাজের পাশাপাশি কর্মীর ব্যক্তিগত প্রয়োজনের প্রতিও সম্মান দেখান। তবে বিষাক্ত বস মনে করেন, কর্মীর পুরো সময়ই যেন প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ।”

অনেক সময় সভার মধ্যেই কর্মীর ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে মন্তব্য করা বা অপ্রয়োজনীয় প্রশ্ন করাও এই ধরনের আচরণের অংশ হতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব

কর্মস্থলের চাপ সাময়িক হতে পারে। তবে প্রতিদিন অপমান, ভয় বা অনিশ্চয়তার মধ্যে কাজ করতে হলে, এর প্রভাব শরীর ও মনে দীর্ঘদিন থেকে যায়।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন পরিবেশে কাজ করলে উদ্বেগ, আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি, হতাশা এবং কর্মস্থলে যাওয়ার আগেই ভীতির অনুভূতি তৈরি হতে পারে।”

অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপের কারণে হজমের সমস্যা, মাথাব্যথা কিংবা শরীরের দীর্ঘস্থায়ী ব্যথাও দেখা দেয়।

সাবরিনা রোমানোফের মতে, “কর্মস্থলের সম্পর্ক অনেকটা পরিবারের মতো। সেখানে বস অনেক সময় অভিভাবকের মতো ভূমিকায় থাকেন। ফলে তার ধারাবাহিক সমালোচনা বা অবমূল্যায়ন মানুষের পুরানো মানসিক ক্ষতকে আবারও জাগিয়ে তুলতে পারে।”

নিজেকে দোষারোপ না করা

এ ধরনের পরিস্থিতিতে অনেক কর্মী ভাবতে শুরু করেন, হয়ত সমস্যাটা তাদের মধ্যেই রয়েছে।

তবে প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি প্রতিদিন কর্মস্থলে যাওয়ার আগে ভয়, উদ্বেগ বা অস্বস্তি তৈরি হয়, তবে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়।”

সাবরিনা রোমানোফও মনে করেন, “নিজের সহ্য করার সীমা কোথায়, তা পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। কঠোর ব্যবস্থাপনা আর মানসিক নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। সেই সীমা অতিক্রম হলে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।”

ঘটনাগুলো লিখে রাখা

কোন দিন কী ঘটেছে, কে উপস্থিত ছিলেন, কী ধরনের মন্তব্য করা হয়েছে— এসব তথ্য লিখে রাখা প্রয়োজন হতে পারে।

সাবরিনা রোমানোফ বলেন, “লিখিত তথ্য শুধু ভবিষ্যতে প্রয়োজনেই কাজে আসে না, বরং নিজের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে সন্দেহ তৈরি হলেও বাস্তবতা মনে করিয়ে দেয়। ইলেকট্রনিক বার্তা বা লিখিত নির্দেশ সংরক্ষণ করাও উপকারী হতে পারে।”

আলাপ সীমিত রাখা

ট্রেসি ভাদাকুমচেরির পরামর্শ, “প্রয়োজন ছাড়া ব্যক্তিগত আলোচনা না করে কাজের বিষয়েই কথোপকথন সীমাবদ্ধ রাখা ভালো। এতে অপ্রয়োজনীয় বিরোধ কমে আসে।”

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “নিজের সময়, কাজের পরিমাণ এবং দায়িত্ব সম্পর্কে যতটা সম্ভব স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া উচিত। যদিও সব কর্মক্ষেত্রে তা সহজ নয়, তবু সীমারেখা তৈরির চেষ্টা প্রয়োজন।

সহায়তা চাইতে দ্বিধা না করা

কর্মস্থলের চাপ একা বহন করা সব সময় সম্ভব হয় না। পরিবার, বিশ্বস্ত সহকর্মী কিংবা মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সহজ হতে পারে।

প্যাট্রিস লে গোয় বলেন, “এমন মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখুন, যারা নিজের সক্ষমতার কথা মনে করিয়ে দেন। এতে আত্মবিশ্বাস ধরে রাখা সহজ হয়।”

ট্রেসি ভাদাকুমচেরি অবশ্য সতর্ক করে বলেন, “প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ে অভিযোগ করার আগে, সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া সম্পর্কেও ভেবে নেওয়া উচিত।”